স্ট্রিম প্রতিবেদক

বাংলাদেশের মাটির সঙ্গে মিশে থাকা খেলা ‘হাডুডু’। সেই হাডুডুই ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে ‘কাবাডি’ নামে জাতীয় খেলার স্বীকৃতি পায়। কিন্তু আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে, যে খেলা বাঙালির পরিচয় বহন করে, সেই কাবাডি কি ক্রিকেট বা ফুটবলের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে?
১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন গঠিত হওয়ার পর ওই বছরের ২৮ মার্চ ভারতের সঙ্গে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। গত শতকের আশি ও নব্বইয়ের দশকে কাবাডিতে বাংলাদেশ ছিল এক অন্যতম অপরাজেয় শক্তি। এশীয় কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে ১৯৮০ ও ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সিলভার পদক জেতে। এছাড়া ১৯৯০, ১৯৯৪ ও ২০০২ সালের এশিয়ান গেমসেও সিলভার পদক জয় ছিল দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন।
কিন্তু এখন কাবাডির জৌলুস নিভু নিভু কেন? এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগ স্ট্রিমকে বলেন, ‘প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কাবাডির বাজেটের বিস্তর ফারাক রয়েছে। যেখানে ভারত ‘‘প্রো কাবাডি লিগের’’ একটি টুর্নামেন্টেই ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকা খরচ করে, সেখানে বাংলাদেশ সরকার থেকে কাবাডি ফেডারেশনের বার্ষিক বাজেট মাত্র ৮৫ লাখ টাকা। এই বিশাল বৈষম্যই মূলত বিশ্বমঞ্চে ভারতের চেয়ে আমাদের পিছিয়ে থাকার প্রধান কারণ।’
বর্তমানে ফেডারেশন নিজস্ব স্পন্সর এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো আয়োজন করছে বলেও জানান তিনি।
আগে সাফল্য পেলেও এখন কেন বাংলাদেশ স্বর্ণ বা রৌপ্য জয় করতে পারছে না, এমন প্রশ্নে কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এর মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন—অর্থায়ন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাব। এস এম নেওয়াজ সোহাগ বলেন, ‘বেসিক্যালি আমাদের মেডেলগুলো এসেছিল আশির দশকে যখন প্রতিযোগী দেশ কম ছিল। কিন্তু এখন অন্যান্য দেশ তাদের বাজেট এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে, যা থেকে আমরা পিছিয়ে পড়েছি।’
এস এম নেওয়াজ সোহাগ বলেন, ‘ক্রিকেট বা ফুটবলে খেলোয়াড়েরা বিভিন্ন ঘরোয়া টুর্নামেন্টস বা ন্যাশনালে একটি ভালো ম্যাচ খেলে রাতারাতি খ্যাতি পেলেও সেই সু্যোগ থেকে বরাবরই বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশের কাবাডি খেলোয়াড়েরা। তাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ফেডারেশন এখন ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলের কথা ভাবছে।’

বিপিএলের আদলে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ কি কাবাডিতে তারকা খেলোয়াড় এবং আর্থিক স্বাবলম্বী খেলোয়াড় এনে দিতে পারবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মাঠের লড়াইয়ে নতুন উন্মাদনা ফেরাতে দর্শকদের প্রিয় স্টার পারফর্মার তৈরি এবং খেলোয়াড়দের আর্থিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। আমরা এমন একটি লিগ চাই যা অন্তত ৫ বছরের জন্য টেকসই হবে। যেখানে আইকন বা এ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়রা বিপিএলের মতো কয়েক লাখ টাকা পারিশ্রমিক পাবেন।’
নারী দলের সাফল্য ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ উদ্যোগের কথাও জানান এস এম নেওয়াজ সোহাগ। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৫ জন নারী কাবাডি খেলোয়াড়কে মাসিক ১ লাখ টাকা করে ভাতার ব্যবস্থা করেছেন। এটি কাবাডি অঙ্গনে বড় ধরনের আশার আলো। তবে ফেডারেশনের লক্ষ্য এখন পুরুষ দলকেও এই সুবিধার আওতায় আনা এবং কোচ ও রেফারিদের সম্মানী বৃদ্ধি করা। বর্তমান কমিটির অধীনে গত কয়েক মাসে ২২টি দেশি-বিদেশি টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছে, যার ফলে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।’
নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার তথ্য তুলে ধরে কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সামনে এশিয়ান বিচ গেমস (চীন), যুব বিশ্বকাপ এবং জাপানে এশিয়ান গেমস। ফেডারেশনের বর্তমান লক্ষ্য কেবল অংশগ্রহণ নয়, বরং মেডেল উদ্ধার করা।’
এস এম নেওয়াজ সোহাগ দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমার প্রথম কাজ হচ্ছে পদক উদ্ধার করা। মেডেল নিশ্চিত হলে আমরা রঙ পরিবর্তনের (সোনা বা রুপা) দিকে নজর দেব।’
কাবাডি ফেডারেশনের এই নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় খেলা কাবাডি কেবল একটি খেলা নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতির অংশ। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা, করপোরেট হাউজগুলোর এগিয়ে আসা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকলে এই মাঠ থেকেই আবার উঠে আসবে বিশ্বসেরা সব স্টার খেলোয়াড়। তেমনি মাঠে প্রয়োজন দর্শকদের সাপোর্ট। দর্শক মাঠে ফিরলেই তো লড়াইয়ে বাংলার বাঘেরা আবার গর্জে ওঠার অনুপ্রেরণা পাবে।’

বাংলাদেশের মাটির সঙ্গে মিশে থাকা খেলা ‘হাডুডু’। সেই হাডুডুই ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে ‘কাবাডি’ নামে জাতীয় খেলার স্বীকৃতি পায়। কিন্তু আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে, যে খেলা বাঙালির পরিচয় বহন করে, সেই কাবাডি কি ক্রিকেট বা ফুটবলের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে?
১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন গঠিত হওয়ার পর ওই বছরের ২৮ মার্চ ভারতের সঙ্গে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। গত শতকের আশি ও নব্বইয়ের দশকে কাবাডিতে বাংলাদেশ ছিল এক অন্যতম অপরাজেয় শক্তি। এশীয় কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে ১৯৮০ ও ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সিলভার পদক জেতে। এছাড়া ১৯৯০, ১৯৯৪ ও ২০০২ সালের এশিয়ান গেমসেও সিলভার পদক জয় ছিল দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন।
কিন্তু এখন কাবাডির জৌলুস নিভু নিভু কেন? এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগ স্ট্রিমকে বলেন, ‘প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কাবাডির বাজেটের বিস্তর ফারাক রয়েছে। যেখানে ভারত ‘‘প্রো কাবাডি লিগের’’ একটি টুর্নামেন্টেই ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকা খরচ করে, সেখানে বাংলাদেশ সরকার থেকে কাবাডি ফেডারেশনের বার্ষিক বাজেট মাত্র ৮৫ লাখ টাকা। এই বিশাল বৈষম্যই মূলত বিশ্বমঞ্চে ভারতের চেয়ে আমাদের পিছিয়ে থাকার প্রধান কারণ।’
বর্তমানে ফেডারেশন নিজস্ব স্পন্সর এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো আয়োজন করছে বলেও জানান তিনি।
আগে সাফল্য পেলেও এখন কেন বাংলাদেশ স্বর্ণ বা রৌপ্য জয় করতে পারছে না, এমন প্রশ্নে কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এর মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন—অর্থায়ন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাব। এস এম নেওয়াজ সোহাগ বলেন, ‘বেসিক্যালি আমাদের মেডেলগুলো এসেছিল আশির দশকে যখন প্রতিযোগী দেশ কম ছিল। কিন্তু এখন অন্যান্য দেশ তাদের বাজেট এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে, যা থেকে আমরা পিছিয়ে পড়েছি।’
এস এম নেওয়াজ সোহাগ বলেন, ‘ক্রিকেট বা ফুটবলে খেলোয়াড়েরা বিভিন্ন ঘরোয়া টুর্নামেন্টস বা ন্যাশনালে একটি ভালো ম্যাচ খেলে রাতারাতি খ্যাতি পেলেও সেই সু্যোগ থেকে বরাবরই বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশের কাবাডি খেলোয়াড়েরা। তাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ফেডারেশন এখন ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলের কথা ভাবছে।’

বিপিএলের আদলে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ কি কাবাডিতে তারকা খেলোয়াড় এবং আর্থিক স্বাবলম্বী খেলোয়াড় এনে দিতে পারবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মাঠের লড়াইয়ে নতুন উন্মাদনা ফেরাতে দর্শকদের প্রিয় স্টার পারফর্মার তৈরি এবং খেলোয়াড়দের আর্থিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। আমরা এমন একটি লিগ চাই যা অন্তত ৫ বছরের জন্য টেকসই হবে। যেখানে আইকন বা এ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়রা বিপিএলের মতো কয়েক লাখ টাকা পারিশ্রমিক পাবেন।’
নারী দলের সাফল্য ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ উদ্যোগের কথাও জানান এস এম নেওয়াজ সোহাগ। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৫ জন নারী কাবাডি খেলোয়াড়কে মাসিক ১ লাখ টাকা করে ভাতার ব্যবস্থা করেছেন। এটি কাবাডি অঙ্গনে বড় ধরনের আশার আলো। তবে ফেডারেশনের লক্ষ্য এখন পুরুষ দলকেও এই সুবিধার আওতায় আনা এবং কোচ ও রেফারিদের সম্মানী বৃদ্ধি করা। বর্তমান কমিটির অধীনে গত কয়েক মাসে ২২টি দেশি-বিদেশি টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছে, যার ফলে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।’
নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার তথ্য তুলে ধরে কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সামনে এশিয়ান বিচ গেমস (চীন), যুব বিশ্বকাপ এবং জাপানে এশিয়ান গেমস। ফেডারেশনের বর্তমান লক্ষ্য কেবল অংশগ্রহণ নয়, বরং মেডেল উদ্ধার করা।’
এস এম নেওয়াজ সোহাগ দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমার প্রথম কাজ হচ্ছে পদক উদ্ধার করা। মেডেল নিশ্চিত হলে আমরা রঙ পরিবর্তনের (সোনা বা রুপা) দিকে নজর দেব।’
কাবাডি ফেডারেশনের এই নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় খেলা কাবাডি কেবল একটি খেলা নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতির অংশ। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা, করপোরেট হাউজগুলোর এগিয়ে আসা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকলে এই মাঠ থেকেই আবার উঠে আসবে বিশ্বসেরা সব স্টার খেলোয়াড়। তেমনি মাঠে প্রয়োজন দর্শকদের সাপোর্ট। দর্শক মাঠে ফিরলেই তো লড়াইয়ে বাংলার বাঘেরা আবার গর্জে ওঠার অনুপ্রেরণা পাবে।’
.png)
.png)

একসময় বিকেল মানেই ছিল খেলার মাঠে শিশু-কিশোরদের কোলাহল, হাসি আর দৌড়ঝাঁপের উত্তেজনা। গ্রামের খোলা মাঠ, উঠান কিংবা পাড়ার ফাঁকা জায়গা হয়ে উঠত খেলাধুলার স্বর্গ। নব্বই দশকের শেষভাগে যেসব শিশুর জন্ম, তারাই জানে দুপুরের তীব্র রোদ শেষে বিকেল গড়ালে গ্রামের পাড়ায় পাড়ায় ছেলেমেয়েদের বাহারি খেলার আসর বসত।
৭ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আরও চার পরিচালক পদত্যাগ করেছেন। গতকাল শনিবার (৪ এপ্রিল) বোর্ড সভার পর তারা একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
১ দিন আগে
আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপ। প্রতি চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়াটাও এক ধরনের গৌরব। তবে এখন পর্যন্ত এমন কিছু দেশ রয়েছে, যারা কখনও বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ পায়নি।
২ দিন আগে
টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে ভারতকে পরাজিত করে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মালদ্বীপের রাজধানী মালের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা গোলশূন্য ড্র থাকার পর ম্যাচটি পেনাল্টি শুটআউটে গড়ায়।
৩ দিন আগে