leadT1ad

তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসনে দ্বিমুখী লড়াইয়ের আভাস

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বগুড়া

স্ট্রিম গ্রাফিক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া সদর আসনে উপনির্বাচনে আগামী ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটের মাঠে সরব মূলত বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থী। স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, এই উপনির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মধ্যে। উভয় প্রার্থী নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন ভোটারদের কাছে, বিজয়ের প্রত্যাশা করছেন বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী।

ইতিহাস-ঐতিহ্যের শহর বগুড়ার সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ৪১ বগুড়া-৬ আসন। স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষি ও ব্যবসা নির্ভর এই আসনটি বিএনপির দুর্গখ্যাত। আর এ কারণেই গত ১৭ বছর ছিল অবহেলা আর বঞ্চনার শিকার। উন্নয়নের ছোঁয়া-বঞ্চিত উপজেলার রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভার্টসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষা-দীক্ষায় এগিয়ে থাকলেও বেকারত্বের হার বেড়েছে কর্মসংস্থানের অভাবে। প্রায় দেড়শ বছরের প্রাচীন দেশের অন্যতম বড় বগুড়া পৌরসভা আয়তনের সঙ্গে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও বাড়েনি নাগরিক সুবিধা। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি সিটি করপোরেশনও বাস্তবায়ন হয়নি।

Ad 300x250

করতোয়ার নদীর তীরে গড়ে ওঠা বগুড়া সদর উপজেলার ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩০৭ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৯ হাজার ৯২৩ ও নারী ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৭৪ জন। তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) ভোটার ১০টি। পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন ৩ হাজার ৭৩৬ জন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হন। তিনি ঢাকা-১৭ আসনটি রেখে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দিলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয় এবং সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপনির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

উপনির্বাচনে বিএনপি থেকে দলের জেলা সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী। আর জামায়াতে ইসলামী থেকে শহর জামায়াতের আমির আবিদুর রহমান সোহেল ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির আল আমিন তালুকদার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

উপনির্বাচন হলেও ভোটার, প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনার কমতি নেই। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে প্রচারণা, প্রার্থী ও সমর্থকরা যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা সভাপতি, অধ্যক্ষ প্রকৌশলী সাহাবুদ্দিন সৈকত বলেন, ‘গেল ১৭ বছর যেমন এই এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি, তেমনি ভোটাধিকার থেকেও বঞ্চিত বগুড়ার জনসাধারণ। উন্নয়ন বঞ্চিত ও অবহেলার শিকার ভোটাররা সুষ্ঠ নির্বাচন আর উন্নয়ন চায়।’

স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা তাহমিনা পারভীন শ্যামলী বলেন, ‘যানজট নিরসন, বেকারত্ব দূরীকরণ, যাতায়াত ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ সার্বিক উন্নয়নে অগ্রনী ভূমিকা রাখবে এমন প্রার্থীর প্রতি আস্থা রাখবেন।’

ব্যবসায়ী পরিমল প্রসাদ রাজ বলেন, ‘বাণিজ্যিক শহর বগুড়ার সুনাম ফিরিয়ে আনতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে কাজ করবেন, এমন নেতৃত্ব বেছে নেবেন সচেতন বগুড়ার মানুষ।’

উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রার্থীরা যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, ‘বিজয়ী হলে বগুড়া সিটি কর্পোরেশন বাস্তবায়নসহ যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বগুড়াকে বাসযোগ্য করতে আধুনিক সুবিধা এবং সন্ত্রাস মাদক ও দুর্নীতি মুক্ত নিরাপদ বগুড়া গড়তে চাই। বিপুল ভোটে বিজয়ের প্রত্যাশা করেন তিনি।

বিএনপি প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা বলেন, ‘বগুড়া সদর আসন থেকে এর আগে আপোসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান বিজয়ী হয়েছেন। এটা জিয়া পরিবারের আসন, যা মর্যাদার আসন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তারেক রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে আমি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি।’

‘ক্লিন বগুড়া, গ্রিন বগুড়া’ গড়তে ধানের শীষের বিকল্প নেই দাবি করে তিনি বলেন, ‘বগুড়ার মানুষ উন্নয়ন চায়। এজন্য বিগত সময়ের মতো উপনির্বাচনেও বিপুল ভোটে ধানের শীষ বিজয়ী হবে।’ বগুড়ার মানুষের সার্বিক উন্নয়নে তিনি কাজ করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন।

সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মো. ফজলুল করিম বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যদের নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে সদর উপজেলা। অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।’

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল পান ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। দুটি আসনে নির্বাচিত হওয়ায় তিনি বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দিলে শূন্য ঘোষণা করা হয়।

Ad 300x250Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত
leadT1ad

সম্পর্কিত

leadT1ad
leadT1ad