স্ট্রিম প্রতিবেদক

রাজধানীর রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সমন্বিত উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। তবে টানা ৪ দিনের এই অভিযান অনেকটা ভেস্তে গেছে। উচ্ছেদ করা জায়গাগুলো মুহূর্তেই আবার দখলে নিয়েছেন হকার ও ব্যবসায়ীরা; সেখানে আগের মতোই চলছে তাঁদের ব্যবসা।
রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে সায়েন্সল্যাব মোড় থেকে নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাত উদ্ধারে অভিযান চালায় ট্রাফিক রমনা বিভাগ। এই অভিযানে অবৈধভাবে পার্কিং করা বাইকের বিরুদ্ধে ৫২টি ভিডিও মামলা ও ১৫টি তাৎক্ষণিক মামলা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ফুটপাত দখলের দায়ে ৮২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, একদিকে ট্রাফিক পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে, অন্যদিকে আবার ফুটপাত ও রাস্তা দখলে নিচ্ছেন হকাররা। ভেঙে দেওয়া দোকানপাট মেরামত করে আবারও বসেছে দোকান। অভিযানের খবর শুনে ফুটপাত থেকে মালামাল, চৌকি ও টেবিল সরিয়ে রাখছেন হকাররা। সায়েন্স ল্যাব মোড়ে যে কয়েকটি দোকান পাওয়া গেল, সেসব ভেঙে দিয়ে আভিযানিক দলটি নিউমার্কেটের দিকে এগোচ্ছিল; ঠিক তখনই তার পেছনে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে আবার দোকান বসাতে দেখা যায় তাঁদের। অন্যদিকে দোকান উঠিয়ে জব্দ করা চৌকি ও টেবিল পুলিশের গাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও চোখে পড়েছে।

গত ১ এপ্রিল থেকে চালানো ৪ দিনের অভিযান রোববার শেষ হয়েছে। কিন্তু অভিযান চালানো জায়গাগুলোতে আগের মতোই দোকান বসেছে। ফুটপাতে হাঁটতে পারছেন না সাধারণ মানুষ; রাস্তায় চলছে অবৈধ পার্কিং। শুধু নিউমার্কেট নয়, রাজধানীর মগবাজার, বাংলামটর, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, গুলিস্তান, আনন্দবাজার, বঙ্গবাজার, পান্থপথ, গ্রিন রোড, দৈনিক বাংলা, ফকিরাপুল, নাইটিঙ্গেল মোড়, খিলগাঁও ক্রসিং, মালিবাগ রেলগেট, ফার্মগেট, ইন্দিরা রোড ও কারওয়ান বাজার এলাকা ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউমার্কেট এলাকার একজন হকার স্ট্রিমকে বলেন, ‘ঢাকা হকার ছাড়া চলবে না। এবং এই হকারদের ফুটপাতেই বসতে হবে। আজকে অভিযান চলছে। কালই হয়তো ঠিক হয়ে যাবে। আশা করি আবার বসতে পারব।’
তবে ডিএমপি ট্রাফিক পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের দাবি, তাঁদের উচ্ছেদ অভিযান কার্যকরী হয়েছে। আজ নিউমার্কেট এলাকায় অভিযান শেষে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইমরান আহমেদ বলেন, ‘আমাদের উচ্ছেদ অভিযান যদি কার্যকরী না হতো তাহলে গুলিস্তান কীভাবে ফাঁকা হলো? আমরা ঢাকা মেডিকেলের সামনে অভিযান করেছি, এখন ঢাকা মেডিকেলের দিকে ফাঁকা।’
পুলিশের গাড়ি থেকে জব্দ করা মালামাল নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে ডিএমপির ট্রাফিক রমনা বিভাগের এডিসি কাজী রুমানা নাসরিন বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি ওরা মালামাল নিয়ে চলে যাক। আমরা ওদের মালামালের ক্ষতি করতে চাই না। আমরাই বলেছি, আপনারা মালামাল নিয়ে যান। তবে আমরা যে অভিযানগুলো অব্যাহত রেখেছি, এটা সামনেও রাখব। কোনো ব্যবসায়ী যেন রাস্তার ওপর ব্যবসা না করেন।’

স্থায়ী বন্দোবস্তের দাবি
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় গত ২ এপ্রিল অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে দেখা গেছে, অভিযান শুরু হওয়ার আগেই দোকানপাট নিয়ে সরে গেছেন ফুটপাত দখলকারীরা। ডিএমপির আভিযানিক দল সরে যাওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যে আবার দোকান বসিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তাঁরা। ওই এলাকায় রিকশা ও ভ্যানের কাজ করেন শুক্কুর আলী। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমার দোকান তো ছোট। শুধু এই মালপত্রের বাক্স আর আমার হাত-পা। আমারেও উঠায়ে দিছে। কিন্তু উঠায়ে দেওয়ার পরই আবার এখানে সব দোকান বসে গেছে। আমি সেদিন আর বসি নাই। একদিন পরে এসেছি।’
ঢাকা মেডিকেল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ওই এলাকার ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে বসেছে অন্তত ৫০০ দোকান। এসব দোকানে বিক্রি হচ্ছে চা, সিগারেট, ফল, খাবার, ডাব, পান ও শরবতসহ অসংখ্য জিনিস। মূলত ঢাকা মেডিকেলে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের ঘিরেই চলে তাঁদের ব্যবসা। এসব ব্যবসায়ীদের দাবি, বড় সংখ্যার এই ব্যবসায়ীদের যেন স্থায়ী ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়; তাহলে তাঁরা আর রাস্তা দখল করে দোকান বসাবেন না।
ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের গেটের সামনে ডাব বিক্রি করেন ওসমান গণি। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘রাস্তা বা ফুটপাত দখল করা তো ভালো কিছু না। এটা আমরা বুঝি। কিন্তু আমাদের তো কিছু করার নাই। আমাদের কোনো জায়গা নাই যে দোকান বসাবো। পরিবার আর পেটের কথা ভেবে বাধ্য হয়ে এখানেই বসতে হয় বারবার।’ একই এলাকায় চা দোকান চালান মোহাম্মদ রহমতউল্লাহ। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘আমি গত ১২ বছরের ওপর এই জায়গায় দোকান করি। কিন্তু দোকান করার কোনো স্থায়ী জায়গা আমাগো নাই। এর মধ্যে সিটি করপোরেশন ও পুলিশ আইসা অভিযান চালায়। তখন আমরা দোকান নিয়ে চলে যাই। তাঁরা চলে যাওয়ার আধা ঘণ্টা বা ১ ঘণ্টা পর আমরা আবার দোকান নিয়ে ফিরে আসি। দোকান নিয়ে ধরা খাইলে আমাগো গাড়ি ধইরা নিয়ে যায়। তারপর জরিমানা করে, জেল দেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘পেটের দায়ে আমরা এখানে দোকানপাট করতাছি। এই একটা দোকান দিয়া আমার একটা ফ্যামিলি চলে। ঢাকা মেডিকেলের দুই গেটে ৫০০-এর ওপর দোকান আছে। সবার ফ্যামিলি চলে একটা দোকান দিয়া। কিন্তু আমাগো কোনো একটা স্পেস দেয় না। যদি প্রতিদিন দোকান উঠায় দেয় তাহলে আমরা কই যামু বলেন? আমাদের যাওয়ার কোনো রাস্তা নাই। সিটি নির্বাচনে যে মেয়রই আসুক, আমি চাই আমাদের সুষ্ঠু কোনো একটা স্থান দেওয়া হোক; যাতে আমরা নির্ধারিতভাবে এই জায়গায় দোকানপাট করতে পারি।’

অভিযান ‘লোক দেখানো’
ডিএমপির তথ্যমতে, ট্রাফিক বিভাগের সমন্বিত উচ্ছেদ অভিযানে গত ১ এপ্রিল ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা জরিমানা ও ২৩ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২ এপ্রিল ২ লাখ ৬১ হাজার টাকা জরিমানা ও ৫১ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ৪ এপ্রিলের অভিযানে জরিমানার সংখ্যা ৩ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ টাকা ও কারাদণ্ড ১৩ জন। সর্বশেষ আজ ৫ এপ্রিল জরিমানা করা হয় ৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা এবং ৯ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
তবে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খানের মতে, এসব অভিযান লোক দেখানো। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘এই প্রসেসটা আমরা দীর্ঘদিন ধরেই দেখে আসছি। যখনই উচ্ছেদ করা হয় তার কয়েক ঘণ্টা পরে ফেরত আসে। এবং যারা উচ্ছেদ হয় তারাও জানে যে একদিন পরে কেউ আর দ্বিতীয়বার উচ্ছেদ করতে আসবে না। বরং হকারদের উচ্ছেদ না করে সরকারের উচিত ছিল, ঢাকা শহরে হকার যারা চালায়, হকার যারা ডিল করে, হকারদের কাছ থেকে যারা মাসিক মাসোয়ারা নেয়—সবার আগে এই চক্রটাকে ধরা।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমে এই চক্রের মূল হোতাদের ধরে পরে নেক্সট ফেজে হকারদের ভাবতে হবে কীভাবে তোলা যায় এবং কীভাবে পুনর্বাসন করা যায়। তাহলে এটা হবে ভালো সিগন্যাল যে, সরকার সত্যিকার অর্থেই হকার উচ্ছেদে আন্তরিক। কিন্তু সেই চক্রটাকে তো কোনো সরকার ধরে নাই। কেউ নামও নেয় না যে, ঢাকা শহরে হকার নিয়ে শত শত কোটি টাকার বাণিজ্য হয়। বরং আমরা দেখি, ডাণ্ডাবাড়ি পড়ে এই হকারের ওপর। তাঁদের জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়।’ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা ওই চক্রটিকে চিহ্নিত করার সাহস এবং তাঁদের সত্যিকার অর্থে আইনের আওতায় আনার সাহস না দেখাব, ততক্ষণ পর্যন্ত এই হকারদের এই চক্রটাই উৎসাহ দেবে। এই চক্রটাকে না ধরলে এই হকার উচ্ছেদ সবসময় একটা নাটকের মতো হবে। সেই নাটক দীর্ঘ সময় ধরে মঞ্চস্থ হয়ে আসছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, হকারদের নিয়ে আমরা কখনও কোনো কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান (সমন্বিত পরিকল্পনা) দেখি নাই। পুরো শহর জুড়ে কোথায় উচ্ছেদ করব, কোথায় তাঁকে পিরিওডিক্যালি (পর্যায়ক্রমে) বসতে দিব, তার বিকল্প কর্মসংস্থান কী হবে—এসব ভাবতে হবে। এই পরিকল্পনা ছাড়া বিচ্ছিন্ন উচ্ছেদ অভিযান একদমই শূন্যের পর্যায়ের এবং শেষ পর্যন্ত লোক দেখানো।’ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘পৃথিবীর কোথাও ফুটপাত বেচাবিক্রির জায়গা না। কিন্তু মানবিক দিক থেকেও তাঁদের পুনর্বাসনের চিন্তাগুলো করা উচিত। তার বায়োমেট্রিক আইডেন্টিফিকেশন লাগবে। আইডি কার্ড সিস্টেম করা লাগবে এবং তাঁরা যে টাকাটা দিচ্ছে সেটা যেন দলীয় চাঁদাবাজ না পেয়ে রাষ্ট্র পায়। রাষ্ট্র পেলে রাষ্ট্র এই টাকাটা তাঁদের পুনর্বাসন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কাজে লাগাতে পারবে। এই পরিকল্পনা ছাড়া হুট করে দুইটা ডাণ্ডাবাড়ি মারলেন, এটা দিয়ে হবে না এবং হচ্ছেও না।’
এদিকে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘আগামী এক সপ্তাহ উচ্ছেদ হবে না। যে সমস্ত জায়গাগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছিল, সেই সমস্ত জায়গাগুলোকে ধরে রাখা হবে। আমরা এগুলো কনফার্ম করে এক সপ্তাহ পরে এটাকে মূল্যায়ন করে পরবর্তী ধাপে অভিযান শুরু করব।’

রাজধানীর রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সমন্বিত উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। তবে টানা ৪ দিনের এই অভিযান অনেকটা ভেস্তে গেছে। উচ্ছেদ করা জায়গাগুলো মুহূর্তেই আবার দখলে নিয়েছেন হকার ও ব্যবসায়ীরা; সেখানে আগের মতোই চলছে তাঁদের ব্যবসা।
রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে সায়েন্সল্যাব মোড় থেকে নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাত উদ্ধারে অভিযান চালায় ট্রাফিক রমনা বিভাগ। এই অভিযানে অবৈধভাবে পার্কিং করা বাইকের বিরুদ্ধে ৫২টি ভিডিও মামলা ও ১৫টি তাৎক্ষণিক মামলা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ফুটপাত দখলের দায়ে ৮২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, একদিকে ট্রাফিক পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে, অন্যদিকে আবার ফুটপাত ও রাস্তা দখলে নিচ্ছেন হকাররা। ভেঙে দেওয়া দোকানপাট মেরামত করে আবারও বসেছে দোকান। অভিযানের খবর শুনে ফুটপাত থেকে মালামাল, চৌকি ও টেবিল সরিয়ে রাখছেন হকাররা। সায়েন্স ল্যাব মোড়ে যে কয়েকটি দোকান পাওয়া গেল, সেসব ভেঙে দিয়ে আভিযানিক দলটি নিউমার্কেটের দিকে এগোচ্ছিল; ঠিক তখনই তার পেছনে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে আবার দোকান বসাতে দেখা যায় তাঁদের। অন্যদিকে দোকান উঠিয়ে জব্দ করা চৌকি ও টেবিল পুলিশের গাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও চোখে পড়েছে।

গত ১ এপ্রিল থেকে চালানো ৪ দিনের অভিযান রোববার শেষ হয়েছে। কিন্তু অভিযান চালানো জায়গাগুলোতে আগের মতোই দোকান বসেছে। ফুটপাতে হাঁটতে পারছেন না সাধারণ মানুষ; রাস্তায় চলছে অবৈধ পার্কিং। শুধু নিউমার্কেট নয়, রাজধানীর মগবাজার, বাংলামটর, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, গুলিস্তান, আনন্দবাজার, বঙ্গবাজার, পান্থপথ, গ্রিন রোড, দৈনিক বাংলা, ফকিরাপুল, নাইটিঙ্গেল মোড়, খিলগাঁও ক্রসিং, মালিবাগ রেলগেট, ফার্মগেট, ইন্দিরা রোড ও কারওয়ান বাজার এলাকা ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউমার্কেট এলাকার একজন হকার স্ট্রিমকে বলেন, ‘ঢাকা হকার ছাড়া চলবে না। এবং এই হকারদের ফুটপাতেই বসতে হবে। আজকে অভিযান চলছে। কালই হয়তো ঠিক হয়ে যাবে। আশা করি আবার বসতে পারব।’
তবে ডিএমপি ট্রাফিক পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের দাবি, তাঁদের উচ্ছেদ অভিযান কার্যকরী হয়েছে। আজ নিউমার্কেট এলাকায় অভিযান শেষে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইমরান আহমেদ বলেন, ‘আমাদের উচ্ছেদ অভিযান যদি কার্যকরী না হতো তাহলে গুলিস্তান কীভাবে ফাঁকা হলো? আমরা ঢাকা মেডিকেলের সামনে অভিযান করেছি, এখন ঢাকা মেডিকেলের দিকে ফাঁকা।’
পুলিশের গাড়ি থেকে জব্দ করা মালামাল নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে ডিএমপির ট্রাফিক রমনা বিভাগের এডিসি কাজী রুমানা নাসরিন বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি ওরা মালামাল নিয়ে চলে যাক। আমরা ওদের মালামালের ক্ষতি করতে চাই না। আমরাই বলেছি, আপনারা মালামাল নিয়ে যান। তবে আমরা যে অভিযানগুলো অব্যাহত রেখেছি, এটা সামনেও রাখব। কোনো ব্যবসায়ী যেন রাস্তার ওপর ব্যবসা না করেন।’

স্থায়ী বন্দোবস্তের দাবি
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় গত ২ এপ্রিল অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে দেখা গেছে, অভিযান শুরু হওয়ার আগেই দোকানপাট নিয়ে সরে গেছেন ফুটপাত দখলকারীরা। ডিএমপির আভিযানিক দল সরে যাওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যে আবার দোকান বসিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তাঁরা। ওই এলাকায় রিকশা ও ভ্যানের কাজ করেন শুক্কুর আলী। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমার দোকান তো ছোট। শুধু এই মালপত্রের বাক্স আর আমার হাত-পা। আমারেও উঠায়ে দিছে। কিন্তু উঠায়ে দেওয়ার পরই আবার এখানে সব দোকান বসে গেছে। আমি সেদিন আর বসি নাই। একদিন পরে এসেছি।’
ঢাকা মেডিকেল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ওই এলাকার ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে বসেছে অন্তত ৫০০ দোকান। এসব দোকানে বিক্রি হচ্ছে চা, সিগারেট, ফল, খাবার, ডাব, পান ও শরবতসহ অসংখ্য জিনিস। মূলত ঢাকা মেডিকেলে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের ঘিরেই চলে তাঁদের ব্যবসা। এসব ব্যবসায়ীদের দাবি, বড় সংখ্যার এই ব্যবসায়ীদের যেন স্থায়ী ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়; তাহলে তাঁরা আর রাস্তা দখল করে দোকান বসাবেন না।
ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের গেটের সামনে ডাব বিক্রি করেন ওসমান গণি। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘রাস্তা বা ফুটপাত দখল করা তো ভালো কিছু না। এটা আমরা বুঝি। কিন্তু আমাদের তো কিছু করার নাই। আমাদের কোনো জায়গা নাই যে দোকান বসাবো। পরিবার আর পেটের কথা ভেবে বাধ্য হয়ে এখানেই বসতে হয় বারবার।’ একই এলাকায় চা দোকান চালান মোহাম্মদ রহমতউল্লাহ। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘আমি গত ১২ বছরের ওপর এই জায়গায় দোকান করি। কিন্তু দোকান করার কোনো স্থায়ী জায়গা আমাগো নাই। এর মধ্যে সিটি করপোরেশন ও পুলিশ আইসা অভিযান চালায়। তখন আমরা দোকান নিয়ে চলে যাই। তাঁরা চলে যাওয়ার আধা ঘণ্টা বা ১ ঘণ্টা পর আমরা আবার দোকান নিয়ে ফিরে আসি। দোকান নিয়ে ধরা খাইলে আমাগো গাড়ি ধইরা নিয়ে যায়। তারপর জরিমানা করে, জেল দেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘পেটের দায়ে আমরা এখানে দোকানপাট করতাছি। এই একটা দোকান দিয়া আমার একটা ফ্যামিলি চলে। ঢাকা মেডিকেলের দুই গেটে ৫০০-এর ওপর দোকান আছে। সবার ফ্যামিলি চলে একটা দোকান দিয়া। কিন্তু আমাগো কোনো একটা স্পেস দেয় না। যদি প্রতিদিন দোকান উঠায় দেয় তাহলে আমরা কই যামু বলেন? আমাদের যাওয়ার কোনো রাস্তা নাই। সিটি নির্বাচনে যে মেয়রই আসুক, আমি চাই আমাদের সুষ্ঠু কোনো একটা স্থান দেওয়া হোক; যাতে আমরা নির্ধারিতভাবে এই জায়গায় দোকানপাট করতে পারি।’

অভিযান ‘লোক দেখানো’
ডিএমপির তথ্যমতে, ট্রাফিক বিভাগের সমন্বিত উচ্ছেদ অভিযানে গত ১ এপ্রিল ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা জরিমানা ও ২৩ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২ এপ্রিল ২ লাখ ৬১ হাজার টাকা জরিমানা ও ৫১ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ৪ এপ্রিলের অভিযানে জরিমানার সংখ্যা ৩ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ টাকা ও কারাদণ্ড ১৩ জন। সর্বশেষ আজ ৫ এপ্রিল জরিমানা করা হয় ৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা এবং ৯ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
তবে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খানের মতে, এসব অভিযান লোক দেখানো। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘এই প্রসেসটা আমরা দীর্ঘদিন ধরেই দেখে আসছি। যখনই উচ্ছেদ করা হয় তার কয়েক ঘণ্টা পরে ফেরত আসে। এবং যারা উচ্ছেদ হয় তারাও জানে যে একদিন পরে কেউ আর দ্বিতীয়বার উচ্ছেদ করতে আসবে না। বরং হকারদের উচ্ছেদ না করে সরকারের উচিত ছিল, ঢাকা শহরে হকার যারা চালায়, হকার যারা ডিল করে, হকারদের কাছ থেকে যারা মাসিক মাসোয়ারা নেয়—সবার আগে এই চক্রটাকে ধরা।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমে এই চক্রের মূল হোতাদের ধরে পরে নেক্সট ফেজে হকারদের ভাবতে হবে কীভাবে তোলা যায় এবং কীভাবে পুনর্বাসন করা যায়। তাহলে এটা হবে ভালো সিগন্যাল যে, সরকার সত্যিকার অর্থেই হকার উচ্ছেদে আন্তরিক। কিন্তু সেই চক্রটাকে তো কোনো সরকার ধরে নাই। কেউ নামও নেয় না যে, ঢাকা শহরে হকার নিয়ে শত শত কোটি টাকার বাণিজ্য হয়। বরং আমরা দেখি, ডাণ্ডাবাড়ি পড়ে এই হকারের ওপর। তাঁদের জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়।’ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা ওই চক্রটিকে চিহ্নিত করার সাহস এবং তাঁদের সত্যিকার অর্থে আইনের আওতায় আনার সাহস না দেখাব, ততক্ষণ পর্যন্ত এই হকারদের এই চক্রটাই উৎসাহ দেবে। এই চক্রটাকে না ধরলে এই হকার উচ্ছেদ সবসময় একটা নাটকের মতো হবে। সেই নাটক দীর্ঘ সময় ধরে মঞ্চস্থ হয়ে আসছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, হকারদের নিয়ে আমরা কখনও কোনো কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান (সমন্বিত পরিকল্পনা) দেখি নাই। পুরো শহর জুড়ে কোথায় উচ্ছেদ করব, কোথায় তাঁকে পিরিওডিক্যালি (পর্যায়ক্রমে) বসতে দিব, তার বিকল্প কর্মসংস্থান কী হবে—এসব ভাবতে হবে। এই পরিকল্পনা ছাড়া বিচ্ছিন্ন উচ্ছেদ অভিযান একদমই শূন্যের পর্যায়ের এবং শেষ পর্যন্ত লোক দেখানো।’ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘পৃথিবীর কোথাও ফুটপাত বেচাবিক্রির জায়গা না। কিন্তু মানবিক দিক থেকেও তাঁদের পুনর্বাসনের চিন্তাগুলো করা উচিত। তার বায়োমেট্রিক আইডেন্টিফিকেশন লাগবে। আইডি কার্ড সিস্টেম করা লাগবে এবং তাঁরা যে টাকাটা দিচ্ছে সেটা যেন দলীয় চাঁদাবাজ না পেয়ে রাষ্ট্র পায়। রাষ্ট্র পেলে রাষ্ট্র এই টাকাটা তাঁদের পুনর্বাসন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কাজে লাগাতে পারবে। এই পরিকল্পনা ছাড়া হুট করে দুইটা ডাণ্ডাবাড়ি মারলেন, এটা দিয়ে হবে না এবং হচ্ছেও না।’
এদিকে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘আগামী এক সপ্তাহ উচ্ছেদ হবে না। যে সমস্ত জায়গাগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছিল, সেই সমস্ত জায়গাগুলোকে ধরে রাখা হবে। আমরা এগুলো কনফার্ম করে এক সপ্তাহ পরে এটাকে মূল্যায়ন করে পরবর্তী ধাপে অভিযান শুরু করব।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) আয়োজিত ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি: সংকটের পথে দেশ’ শীর্ষক সেমিনারকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সেমিনারের ভেন্যু পরিবর্তন, রাকসুর অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে ছাত্রদলের আপত্তিতে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছ
২ ঘণ্টা আগে
ঝিনাইদহের মহেশপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাগানমাঠ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
৩ ঘণ্টা আগে
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতনকাঠামোর সুপারিশ নিয়ে আরও বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
৪ ঘণ্টা আগে
পহেলা বৈশাখের অন্যতম আকর্ষণ মঙ্গল শোভাযাত্রা বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান জনস্বার্থে এই রিট দায়ের করেন।
৪ ঘণ্টা আগে