পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত

বিসিবির অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম, সঙ্গীরা বিএনপি নেতাদের স্ত্রী-সন্তান

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২১: ১৪
জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ছবি: সংগৃহীত

আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে প্রধান করে গঠিত হয়েছে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানিয়েছেন এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান। তিনি বলেন, তামিম ইকবালের নেতৃত্বে অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ তিন মাস। এই সময়ের মধ্যে তারা বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন দেবেন।

Ad 300x250

তবে অ্যাডহক কমিটির সদস্যরা নির্বাচন করতে পারবেন কিনা– এমন প্রশ্নের স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি আমিনুল এহসান।

১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটিতে তামিম ইকবাল ছাড়া আছেন সাবেক দুই ক্রিকেটার– মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও আতহার আলী খান। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে চারজন সরাসরি বিএনপি নেতাদের স্ত্রী-সন্তান। তাদের মধ্যে ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বিএনপির সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজের স্ত্রী।

মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সাঈদ ইব্রাহিম আহমদ ও ইসরাফিল খসরু যথাক্রমে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদের ছেলে।

কমিটিতে আরও আছেন বিভিন্ন সময়ে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদে থাকা তানজিল চৌধুরী, সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম ও ফাহিম সিনহা। এদের মধ্যে তানজিল চৌধুরী প্রাইম ব্যাংকের চেয়ারম্যান, মির্জা সালমান ইস্পাহানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান, রফিকুল ইসলাম ইন্দিরা রোড ক্রীড়াচক্রের কর্মকর্তা ও ফাহিম সিনহা একমি ল্যাবরেটরিজের পরিচালক। ফাহিম সিনহা আবার সাবেক বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এবং পরে ফারুক আহমেদ ও আমিনুল ইসলামের বোর্ডেও ছিলেন।

অ্যাডহক কমিটি সদস্যরা। ছবি: টিস্পোর্টস
অ্যাডহক কমিটি সদস্যরা। ছবি: টিস্পোর্টস

সংবাদ সম্মেলনে আমিনুল এহসান গত বছরের অক্টোবরের বিসিবি নির্বাচনে এনএসসির গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন তুলে ধরেন। বিসিবি নির্বাচনে তিনটি ক্যাটাগরি থেকে ২৩ পরিচালক নির্বাচিত হন। এনএসসি থেকে মনোনীত হয়ে আসেন দুজন পরিচালক।

তিনি জানান, সব ক্যাটাগরির নির্বাচনেই অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের কমিটি। তাদের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ২০১৮ সালের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ নীতিমালার ২১ ধারা অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই ধারা অনুযায়ী, এনএসসি তাদের অধীনস্থ কোনো ক্রীড়া সংস্থায় অনিয়ম খুঁজে পেলে যেকোনো ব্যবস্থা নিতে পারে।

বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ায় সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগে আইসিসি থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা আসার সম্ভাবনা নেই বলে জানান আমিনুল এহসান। তিনি বলেন, আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার কথা আইসিসিকে ইমেইলে জানানো হয়েছে।

পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরই বিসিবি কার্যালয় ত্যাগ করেন বিদায়ী সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। দায়িত্ব হারানোর পর তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা কথা বলার চেষ্টা করলেও তিনি রাজি হননি। সাংবাদিকদের এড়িয়ে অনেকটা তাড়াহুড়ো করে গাড়িতে বিসিবি প্রাঙ্গণ ছাড়েন তিনি।

গত বছরের অক্টোবরে বিতর্কিত নির্বাচনের পর ২৫ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও, বিসিবি এমনিতেই নড়বড়ে অবস্থায় ছিল। বর্তমান বোর্ডে টিকে ছিলেন মাত্র ১৭ পরিচালক। দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পার না হতেই বোর্ডের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এবং বোর্ড ভেঙে যাওয়ার শঙ্কায় ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন সাতজন পরিচালক।

এর মধ্যে গত ৪ এপ্রিল বোর্ড সভা শেষে পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেন– ফাইয়াজুর রহমান, শানিয়ান তানিম, মেহরাব আলম ও মনজুর আলম। তাদের আগে বিভিন্ন সময়ে পদত্যাগ করেন ইশতিয়াক সাদেক, আমজাদ হোসেন ও ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল।

অবশ্য বিএনপি সরকার গঠন হওয়ার পর বেশ কিছুদিন ধরে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের সঙ্গে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দূরত্ব তৈরি হচ্ছিল। এ নিয়ে বিসিবির তৎকালীন সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেছিলেন, বাইরের ‘অদৃশ্য শক্তি’ বোর্ডকে কাজ করতে দিচ্ছে না।

leadT1ad

সম্পর্কিত

leadT1ad
leadT1ad