বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনা

যুক্তরাষ্ট্রে পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশি গবেষক আল-আমিন

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২১: ৫৬
গবেষক ড. আব্দুল্লাহ আল-আমিন। স্ট্রিম ছবি

শহরাঞ্চলে বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনা ও বন্যা মোকাবিলা বিষয়ে গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াটার রিসোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন অফ দ্য ডেলওয়্যার রিভার বেসিন (ডব্লিউআরএ) অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন বাংলাদেশি ড. আব্দুল্লাহ আল-আমিন। পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার।

ডব্লিউআরএ গত ২ এপ্রিল এই পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। এতে ডেলওয়্যার নদীর অববাহিকায় (নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, পেনসিলভেনিয়া ও ডেলওয়্যার অঙ্গরাজ্য বিস্তৃত) বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনায় উদ্ভাবনী ও সমন্বিত গবেষণার জন্য আব্দুল্লাহ আল-আমিনকে ‘ইয়াং লিডার্স অ্যাওয়ার্ড’-এর জন্য মনোনীত করা হয়। আগামী ২৩ এপ্রিল ফিলাডেলফিয়ার ফেয়ারমাউন্ট ওয়াটার ওয়ার্কসে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।

Ad 300x250

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশ বিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরধারী আব্দুল্লাহ আল-আমিন যুক্তরাষ্ট্রের টেম্পল ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর পিএইচডি গবেষণার মূল বিষয় ছিল– বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনা ও নগর বন্যা নিয়ন্ত্রণ।

ফিলাডেলফিয়া ওয়াটার ডিপার্টমেন্টে কর্মরত আব্দুল্লাহ আল-আমিন স্ট্রিমকে বলেন, নগরাঞ্চলের বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনা অন্যতম জটিল প্রক্রিয়া। কারণ, কংক্রিট ও পাকা সড়কের কারণে নগরে বৃষ্টির পানি সহজে ভূগর্ভে যেতে পারে না। এতে জলাবদ্ধতা ও অনেক সময় বন্যার সৃষ্টি হয়। আবার বৃষ্টির পানিতে পয়বর্জ্য ও কারখানার কেমিক্যাল মিশলে তার সংস্পর্শে গেলে বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। নদীতে গেলে জলজ বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হয়। এ ছাড়া কেমিক্যাল রিঅ্যাকশনের ফলে অবকাঠামোরও বড় ধরনের ক্ষতি হয়।

নিজের গবেষণার বিষয়ে তিনি বলেন, নগরে বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনায় তিনি ‘বায়োরিটেনশন ইনস্টলেশন’ বা জৈব স্থাপনা ব্যবহার করেছেন, যেখানে বিশেষভাবে তৈরি মাটির মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। এটি ভূগর্ভে পানি প্রবেশ বৃদ্ধি করে, ভূগর্ভস্থ পানির রিজার্ভ বাড়ায় এবং রাস্তার দূষিত পানির প্রবাহজনিত জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি কমায়।

বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা ও পানি দূষণের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের রাজধানীতেও এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা সম্ভব জানিয়ে আব্দুল্লাহ বলেন, সীমিত স্থান ব্যবহার করে জলাবদ্ধতা ও বন্যা কমাতে এই গবেষণা। তাই ঢাকার মতো ক্রমবর্ধমান শহরে এটি কার্যকর সমাধান হতে পারে। সেক্ষেত্রে ঢাকায় অবকাঠামোগত ক্ষতি, সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও খাল সুরক্ষায় সরকারের কোটি কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। জনস্বাস্থ্য ও জলজ সম্পদও রক্ষা পাবে।

leadT1ad

সম্পর্কিত

leadT1ad
leadT1ad