স্ট্রিম ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, রাজনৈতিক উত্তেজনা তত বাড়ছে। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ফলাফল ঘোষণা হবে ৪ মে। রাজ্যের ২৯৪ আসনের লড়াইয়ে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস এবং শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপি।
বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস লড়াইয়ের ময়দানে থাকলেও তারা খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না। নির্বাচনের আগে একাধিক জনমত জরিপ বা ওপিনিয়ন পোল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেস হয়তো আবারও ক্ষমতায় আসছে। তবে এবারের জয় আর আগের মতো সহজ হবে না।
সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস আবারও সরকার গঠন করতে পারে। সিএনএন-নিউজ১৮-এর ‘ভোটভাইব’-এর জরিপ মতে, তৃণমূল ১৭৪ থেকে ১৮৪ আসন পেতে পারে।
অন্যদিকে বিজেপি ১০৮ থেকে ১১৮ আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। সে হিসেবে তৃণমূল অনায়াসেই চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসবে। ‘ভোটভাইব’-এর আগের জরিপে তৃণমূলের আসন সংখ্যা আরও বেশি হবে—এমন তথ্য উঠে এসেছিল। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূলের সমর্থন কিছুটা কমছে এবং বিজেপির সমর্থন বাড়ছে।
২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল ২১৫ আসন নিয়ে বিশাল জয় পেয়েছিল। বিজেপি পেয়েছিল ৭৭ আসন। নতুন জরিপগুলো বলছে, তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরলেও তাদের আসন সংখ্যা আগের চেয়ে কমবে। আর বিজেপি আরও শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
আরেকটি জরিপ সংস্থা ‘ম্যাট্রিক্স-আইএএনএস’-এর ফলাফলও প্রায় একই রকম। তাদের মতে, তৃণমূল ১৫৫ থেকে ১৭০ আসন পেতে পারে। আর বিজেপি পেতে পারে ১০০ থেকে ১১৫টি আসন। ভোটের শতাংশের হিসাবেও লড়াইটা বেশ হাড্ডাহাড্ডি। তৃণমূল পেতে পারে ৪৩ থেকে ৪৫ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে বিজেপি পেতে পারে ৪১ থেকে ৪৩ শতাংশ ভোট।
আসন সংখ্যার দিক দিয়ে লড়াই যতই তীব্র হোক না কেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তায় এখনো ভাটা পড়েনি। জরিপ অনুযায়ী ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার মমতাকে আবারও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ সমর্থন। কংগ্রেসের অধীর রঞ্জন চৌধুরী এবং সিপিএমের মোহাম্মদ সেলিম এই দৌড়ে অনেক পিছিয়ে আছেন।
রোববার (৫ এপ্রিল) কোচবিহারে বিধানসভার নির্বাচনী প্রচারে আশঙ্কা প্রকাশ করে মোদি বলেন, ‘ভয়াবহভাবে বদলেছে জনবিন্যাস। বাংলার নিরাপত্তা বিঘ্নিত। তাই ভারত সরকার অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করছে। ভারতই নয়, দুনিয়ার সমস্ত বড় বড় দেশ তাই করছে। শুধু বাংলার তৃণমূল সরকার অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের স্বার্থে অনুপ্রবেশকারীদের জন্য দরজা খুলে দিয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের অধিকার খর্ব হচ্ছে। কিন্তু আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি—বিজেপি সরকার আসার পর এই অনুপ্রবেশ ঠেকানো হবে।’
সোমবার (৬ এপ্রিল) গভীর রাতে ভুয়া ভোটার ও নথিপত্রের অভাবের অভিযোগে আসন্ন নির্বাচনে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ৯১ লাখ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের নামে প্রহসন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
জরিপের তথ্যমতে, নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পেছনে বেশ কিছু বিষয় কাজ করছে। ৩৫ দশমিক ১ শতাংশ ভোটারের কাছে বেকারত্ব এবং উন্নয়নই সবচেয়ে বড় ইস্যু। এর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নারীদের নিরাপত্তা, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সমস্যা এবং মূল্যস্ফীতিও ভোটারদের ভাবাচ্ছে। সরকারি প্রকল্পগুলো নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। ৫৩ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন, যুবকদের জন্য নেওয়া সরকারি উদ্যোগগুলো বেকারত্ব দূর করতে ব্যর্থ হয়েছে।
ভোটের ধরনেও সামাজিক বিভাজন স্পষ্ট। মুসলিম ভোটাররা ব্যাপকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করছেন। অন্যদিকে তফসিলি জাতি ও উপজাতি এবং উচ্চবর্ণের হিন্দু ভোটারদের মধ্যে বিজেপির সমর্থন বেশি।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে এবার রাজনীতি কেবল উন্নয়ন বা দুর্নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসও এবার বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘মাছে ভাতে বাঙালি’—এই চিরচেনা প্রবাদ এখন রাজনীতির মাঠে মোক্ষম অস্ত্র। তৃণমূল কংগ্রেস মাছকে বাঙালি পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছে। তারা বলছে, বিজেপি যদি ক্ষমতায় আসে, তবে তারা মাছ ও মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করবে।
পুরুলিয়ার এক জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘তারা আপনাদের মাছ খেতে দেবে না। মাংস বা ডিম খেতে দেবে না। বাংলায় কথা বলতে দেবে না। বাংলায় কথা বললে তারা আপনাদের “বাংলাদেশি” বলবে।’ তিনি বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রীর ‘খোলা বাজারে মাছ-মাংস বিক্রি করা যাবে না’ মন্তব্যের উদাহরণ টেনে আরও বলেন, ‘তাহলে কি গরিব বিক্রেতারা শপিং মলে গিয়ে মাছ বিক্রি করবেন?’
তৃণমূলের প্রচারণায় ইলিশ, চিংড়ি, পাবদার মতো মাছের নাম ঘুরেফিরে আসছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সুস্বাদু খাবারের ছবি পোস্ট করছে। তারা বোঝাতে চাইছে যে বিজেপি মূলত উত্তর ভারতের হিন্দিভাষী ও নিরামিষভোজীদের দল। বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের কোনো যোগসূত্র নেই।
তৃণমূলের এই প্রচারণায় বিজেপি বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে। তারা বারবার বোঝানোর চেষ্টা করছে যে, মাছ বা মাংস নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। কিন্তু তৃণমূলের তৈরি করা ভয় ভোটারদের মনে এতটাই গেঁথে গেছে যে বিজেপি নেতারা এখন মাছ হাতে নিয়ে প্রচারণায় নামছেন। বিধাননগরের বিজেপি প্রার্থী একটি পাঁচ কেজি ওজনের কাতলা মাছ হাতে নিয়ে এলাকায় ঘুরেছেন। পান্ডবেশ্বরের প্রার্থীও মাছের ঝুড়ি নিয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
বিজেপি নেতারা বলছেন, মাছ খাওয়া বাঙালির ঐতিহ্য। তারা এতে কখনো বাধা দেবেন না। কিন্তু ভারতের অন্য কিছু রাজ্যে বিজেপির শাসনকালে মাংস বিক্রি নিয়ে যে কড়াকড়ি দেখা গেছে, তা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছে।
কোচবিহারে নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আরও বলেন, ‘বাংলায় এসেই বুঝে গেছি—তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়ে গেছে। মানুষ এখন শুধুই পরিবর্তন চাইছে। আর তারপর তৃণমূলের পাপের হিসাব করা হবে। বেছে বেছে হিসাব নেওয়া হবে।’
পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচন কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং বাঙালির আত্মপরিচয় ও সংস্কৃতির লড়াই হিসেবে রূপ নিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস তাদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কৌশল দিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বিজেপি নিজেদের বহিরাগত তকমা ঘুচিয়ে বাংলার মানুষের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করছে। জরিপগুলো বলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হয়তো আবারও নবান্নে ফিরবেন। কিন্তু বিজেপির এই জোরালো উত্থান প্রমাণ করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। আগামী ৪ মে ব্যালট বাক্স খুললেই পরিষ্কার হবে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নিল।
তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার, এই সময় এবং দ্য হিন্দু।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, রাজনৈতিক উত্তেজনা তত বাড়ছে। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ফলাফল ঘোষণা হবে ৪ মে। রাজ্যের ২৯৪ আসনের লড়াইয়ে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস এবং শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপি।
বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস লড়াইয়ের ময়দানে থাকলেও তারা খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না। নির্বাচনের আগে একাধিক জনমত জরিপ বা ওপিনিয়ন পোল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেস হয়তো আবারও ক্ষমতায় আসছে। তবে এবারের জয় আর আগের মতো সহজ হবে না।
সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস আবারও সরকার গঠন করতে পারে। সিএনএন-নিউজ১৮-এর ‘ভোটভাইব’-এর জরিপ মতে, তৃণমূল ১৭৪ থেকে ১৮৪ আসন পেতে পারে।
অন্যদিকে বিজেপি ১০৮ থেকে ১১৮ আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। সে হিসেবে তৃণমূল অনায়াসেই চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসবে। ‘ভোটভাইব’-এর আগের জরিপে তৃণমূলের আসন সংখ্যা আরও বেশি হবে—এমন তথ্য উঠে এসেছিল। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূলের সমর্থন কিছুটা কমছে এবং বিজেপির সমর্থন বাড়ছে।
২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল ২১৫ আসন নিয়ে বিশাল জয় পেয়েছিল। বিজেপি পেয়েছিল ৭৭ আসন। নতুন জরিপগুলো বলছে, তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরলেও তাদের আসন সংখ্যা আগের চেয়ে কমবে। আর বিজেপি আরও শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
আরেকটি জরিপ সংস্থা ‘ম্যাট্রিক্স-আইএএনএস’-এর ফলাফলও প্রায় একই রকম। তাদের মতে, তৃণমূল ১৫৫ থেকে ১৭০ আসন পেতে পারে। আর বিজেপি পেতে পারে ১০০ থেকে ১১৫টি আসন। ভোটের শতাংশের হিসাবেও লড়াইটা বেশ হাড্ডাহাড্ডি। তৃণমূল পেতে পারে ৪৩ থেকে ৪৫ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে বিজেপি পেতে পারে ৪১ থেকে ৪৩ শতাংশ ভোট।
আসন সংখ্যার দিক দিয়ে লড়াই যতই তীব্র হোক না কেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তায় এখনো ভাটা পড়েনি। জরিপ অনুযায়ী ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার মমতাকে আবারও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ সমর্থন। কংগ্রেসের অধীর রঞ্জন চৌধুরী এবং সিপিএমের মোহাম্মদ সেলিম এই দৌড়ে অনেক পিছিয়ে আছেন।
রোববার (৫ এপ্রিল) কোচবিহারে বিধানসভার নির্বাচনী প্রচারে আশঙ্কা প্রকাশ করে মোদি বলেন, ‘ভয়াবহভাবে বদলেছে জনবিন্যাস। বাংলার নিরাপত্তা বিঘ্নিত। তাই ভারত সরকার অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করছে। ভারতই নয়, দুনিয়ার সমস্ত বড় বড় দেশ তাই করছে। শুধু বাংলার তৃণমূল সরকার অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের স্বার্থে অনুপ্রবেশকারীদের জন্য দরজা খুলে দিয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের অধিকার খর্ব হচ্ছে। কিন্তু আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি—বিজেপি সরকার আসার পর এই অনুপ্রবেশ ঠেকানো হবে।’
সোমবার (৬ এপ্রিল) গভীর রাতে ভুয়া ভোটার ও নথিপত্রের অভাবের অভিযোগে আসন্ন নির্বাচনে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ৯১ লাখ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের নামে প্রহসন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
জরিপের তথ্যমতে, নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পেছনে বেশ কিছু বিষয় কাজ করছে। ৩৫ দশমিক ১ শতাংশ ভোটারের কাছে বেকারত্ব এবং উন্নয়নই সবচেয়ে বড় ইস্যু। এর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নারীদের নিরাপত্তা, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সমস্যা এবং মূল্যস্ফীতিও ভোটারদের ভাবাচ্ছে। সরকারি প্রকল্পগুলো নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। ৫৩ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন, যুবকদের জন্য নেওয়া সরকারি উদ্যোগগুলো বেকারত্ব দূর করতে ব্যর্থ হয়েছে।
ভোটের ধরনেও সামাজিক বিভাজন স্পষ্ট। মুসলিম ভোটাররা ব্যাপকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করছেন। অন্যদিকে তফসিলি জাতি ও উপজাতি এবং উচ্চবর্ণের হিন্দু ভোটারদের মধ্যে বিজেপির সমর্থন বেশি।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে এবার রাজনীতি কেবল উন্নয়ন বা দুর্নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসও এবার বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘মাছে ভাতে বাঙালি’—এই চিরচেনা প্রবাদ এখন রাজনীতির মাঠে মোক্ষম অস্ত্র। তৃণমূল কংগ্রেস মাছকে বাঙালি পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছে। তারা বলছে, বিজেপি যদি ক্ষমতায় আসে, তবে তারা মাছ ও মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করবে।
পুরুলিয়ার এক জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘তারা আপনাদের মাছ খেতে দেবে না। মাংস বা ডিম খেতে দেবে না। বাংলায় কথা বলতে দেবে না। বাংলায় কথা বললে তারা আপনাদের “বাংলাদেশি” বলবে।’ তিনি বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রীর ‘খোলা বাজারে মাছ-মাংস বিক্রি করা যাবে না’ মন্তব্যের উদাহরণ টেনে আরও বলেন, ‘তাহলে কি গরিব বিক্রেতারা শপিং মলে গিয়ে মাছ বিক্রি করবেন?’
তৃণমূলের প্রচারণায় ইলিশ, চিংড়ি, পাবদার মতো মাছের নাম ঘুরেফিরে আসছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সুস্বাদু খাবারের ছবি পোস্ট করছে। তারা বোঝাতে চাইছে যে বিজেপি মূলত উত্তর ভারতের হিন্দিভাষী ও নিরামিষভোজীদের দল। বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের কোনো যোগসূত্র নেই।
তৃণমূলের এই প্রচারণায় বিজেপি বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে। তারা বারবার বোঝানোর চেষ্টা করছে যে, মাছ বা মাংস নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। কিন্তু তৃণমূলের তৈরি করা ভয় ভোটারদের মনে এতটাই গেঁথে গেছে যে বিজেপি নেতারা এখন মাছ হাতে নিয়ে প্রচারণায় নামছেন। বিধাননগরের বিজেপি প্রার্থী একটি পাঁচ কেজি ওজনের কাতলা মাছ হাতে নিয়ে এলাকায় ঘুরেছেন। পান্ডবেশ্বরের প্রার্থীও মাছের ঝুড়ি নিয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
বিজেপি নেতারা বলছেন, মাছ খাওয়া বাঙালির ঐতিহ্য। তারা এতে কখনো বাধা দেবেন না। কিন্তু ভারতের অন্য কিছু রাজ্যে বিজেপির শাসনকালে মাংস বিক্রি নিয়ে যে কড়াকড়ি দেখা গেছে, তা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছে।
কোচবিহারে নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আরও বলেন, ‘বাংলায় এসেই বুঝে গেছি—তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়ে গেছে। মানুষ এখন শুধুই পরিবর্তন চাইছে। আর তারপর তৃণমূলের পাপের হিসাব করা হবে। বেছে বেছে হিসাব নেওয়া হবে।’
পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচন কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং বাঙালির আত্মপরিচয় ও সংস্কৃতির লড়াই হিসেবে রূপ নিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস তাদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কৌশল দিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বিজেপি নিজেদের বহিরাগত তকমা ঘুচিয়ে বাংলার মানুষের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করছে। জরিপগুলো বলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হয়তো আবারও নবান্নে ফিরবেন। কিন্তু বিজেপির এই জোরালো উত্থান প্রমাণ করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। আগামী ৪ মে ব্যালট বাক্স খুললেই পরিষ্কার হবে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নিল।
তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার, এই সময় এবং দ্য হিন্দু।

ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পরপরই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের ডিজিটাল স্বাস্থ্য উদ্যোগ হিসেবে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেয়। এটি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেরও অংশ, যার মাধ্যমে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছে।
৬ ঘণ্টা আগে
লেবানন আর শুধু একটি সীমান্ত সংঘাতের ক্ষেত্র নয়, এটি পরিণত হয়েছে বৃহত্তর আঞ্চলিক শক্তির দ্বন্দ্বের গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্টে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশটির সাধারণ মানুষ।
১ দিন আগে
ইরানের একমাত্র সচল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বুশেহর সাম্প্রতিক ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র হামলার শিকার হয়েছে। পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা কেবল ইরান নয়, বরং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে
১ দিন আগে
বাংলাদেশের নারী ফুটবলের কথা উঠলেই একটি গ্রামের নাম সবাই বলেন। সেটি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার ছোট্ট গ্রাম ‘কলসিন্দুর’। এই গ্রাম থেকেই উঠে এসেছে মারিয়া মান্দা, আঁখি খাতুন, শামসুন্নাহার জুনিয়রের মতো একঝাঁক ফুটবলার, যারা আজ দেশের গর্ব।
১ দিন আগে