ক্ষমতার শীর্ষে অস্থির মন: ট্রাম্প পর্বের বিপজ্জনক পাঠ

প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬, ২১: ০৬
মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একটি দল এক সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মানসিক মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছিলেন। স্ট্রিম গ্রাফিক

বিশ্ব রাজনীতি কখনো কখনো ব্যক্তির হাতে বন্দি হয়ে পড়ে। তখন নীতি হারায়; প্রাধান্য পায় মেজাজ। প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়; ব্যক্তিত্ব ফুলে ওঠে। এই বাস্তবতা নতুন নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তা আরও নগ্নভাবে সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে তার মানসিক স্থিতি নিয়ে বিতর্ক সেই কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। এটি কেবল একজন নেতার ব্যক্তিগত প্রশ্ন নয়। এটি ক্ষমতার প্রকৃতি নিয়ে মৌলিক প্রশ্ন।

রাজনীতিতে অস্থির মেজাজ নতুন কিছু নয়। ইতিহাসে বহু নেতা আবেগপ্রবণ ছিলেন। কেউ ছিলেন রাগী। কেউ ছিলেন অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু আধুনিক বিশ্বে সমস্যা ভিন্ন। আজ একজন নেতার সিদ্ধান্তে বাজার কেঁপে ওঠে। যুদ্ধ শুরু হয়। জ্বালানি সরবরাহ থেমে যায়। পারমাণবিক ঝুঁকি বাড়ে। ফলে ব্যক্তিগত অস্থিরতা আর ব্যক্তিগত থাকে না। বৈশ্বিক ঝুঁকিতে পরিণত হয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই প্রশ্ন উঠছে। সমালোচকরা বলছেন, তিনি মানসিকভাবে অস্থির। কেউ বলছেন নার্সিসিস্ট। কেউ বলছেন বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন। আবার অনেকে বলছেন, এটি মানসিক রোগ নয়; রাজনৈতিক কৌশল। এটি চরিত্রগত আগ্রাসন। এই বিতর্কের মধ্যেই মূল প্রশ্নটি দাঁড়িয়ে যায়, একজন ক্ষমতাবান নেতা যদি আত্মমুগ্ধ হন, তাহলে রাষ্ট্র কীভাবে পরিচালিত হয়?

অনেক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ট্রাম্পকে বিপজ্জনক বলে সতর্ক করেছিলেন। ‘দ্য ডেঞ্জারাস কেস অব ডোনাল্ড ট্রাম্প’ বইয়ের লেখকরা বলেছিলেন, তার আচরণ রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের যুক্তি ছিল সরল। তিনি আবেগপ্রবণ। সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না। তিনি বাস্তবতার বদলে নিজের বয়ান বিশ্বাস করেন। এসব বৈশিষ্ট্য রাষ্ট্র পরিচালনায় বিপজ্জনক।

অন্যদিকে কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্ক থেকেছেন। তারা বলেছেন, খারাপ আচরণ মানেই মানসিক অসুস্থতা নয়। ড. অ্যালেন ফ্রান্সেসের মতো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ট্রাম্পের আচরণ অভদ্র; আক্রমণাত্মক। কিন্তু ক্লিনিক্যাল রোগ বলা যাবে না। তিনি এটিকে ব্যক্তিত্বের সমস্যা হিসেবে দেখেন। এই বিতর্ক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে বোঝা যায়, প্রশ্নটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের নয়। প্রশ্নটি রাজনৈতিক আচরণের।

অনেক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ট্রাম্পকে বিপজ্জনক বলে সতর্ক করেছিলেন। ‘দ্য ডেঞ্জারাস কেস অব ডোনাল্ড ট্রাম্প’ বইয়ের লেখকরা বলেছিলেন, তার আচরণ রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের যুক্তি ছিল সরল। তিনি আবেগপ্রবণ।

পুরস্কারপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ পল ক্রুগম্যান এক সময় মন্তব্য করেছিলেন, ট্রাম্প ‘নিঃসন্দেহে মানসিকভাবে অসুস্থ’। তিনি চিকিৎসক নন। কিন্তু তার বক্তব্য রাজনৈতিক সংকেত দেয়। অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, এটি অনিশ্চয়তার রাজনীতি। যেখানে সিদ্ধান্ত যুক্তির বদলে আবেগে নেওয়া হয়। বাজার এমন নেতৃত্বে ভয় পায়। বিনিয়োগ থেমে যায়। নীতির ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়ে।

জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ জন গার্টনার ট্রাম্পের মানসিক অবস্থা নিয়ে জনগণকে সতর্ক করেছিলেন। তার বক্তব্য ছিল কঠোর। বলেছিলেন, সমস্যাটি গুরুতর। একজন কমান্ডার ইন চিফের ক্ষেত্রে এটি উদ্বেগজনক। কারণ এই পদে বসে মানুষ যুদ্ধের নির্দেশ দিতে পারে। পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

কিছু গণমাধ্যম ট্রাম্পের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে বলেছিল, তিনি প্যারানয়া ও বিভ্রমের মধ্যে রয়েছেন। অবৈধ ভোটের দাবি। বাস্তবতা অস্বীকার। শপথ অনুষ্ঠানের জনসমাগম নিয়ে বিতণ্ডা। এসব আচরণ শিশুসুলভ। একই সঙ্গে বিপজ্জনক। কারণ এটি ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত।

মনোবিজ্ঞানীরা ‘ম্যালিগন্যান্ট নার্সিসিজম’ শব্দ ব্যবহার করেছেন। এর অর্থ আত্মমুগ্ধতা, আগ্রাসন, সহানুভূতির অভাব। এই বৈশিষ্ট্যগুলো একত্রে থাকলে নেতা সমালোচনা সহ্য করেন না। বিরোধীদের শত্রু মনে করেন। প্রতিষ্ঠানকে বাধা হিসেবে দেখেন। তখন গণতন্ত্র দুর্বল হয়।

রাজনৈতিক বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়ে সতর্ক করেছেন। ম্যাক্স ওয়েবার বলেছিলেন, ক্যারিশমাটিক নেতৃত্ব শক্তিশালী। কিন্তু তা প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে। কারণ ক্যারিশমা নিয়ম মানে না। তা ব্যক্তির ওপর দাঁড়ায়। ফলে ব্যক্তি দুর্বল হলে রাষ্ট্রও দুর্বল হয়।

কিছু গণমাধ্যম ট্রাম্পের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে বলেছিল, তিনি প্যারানয়া ও বিভ্রমের মধ্যে রয়েছেন। অবৈধ ভোটের দাবি। বাস্তবতা অস্বীকার। শপথ অনুষ্ঠানের জনসমাগম নিয়ে বিতণ্ডা। এসব আচরণ শিশুসুলভ। একই সঙ্গে বিপজ্জনক। কারণ এটি ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত।

হান্না আরেন্ট বলেছিলেন, ক্ষমতার সঙ্গে বাস্তবতা বিচ্ছিন্ন হলে বিপদ বাড়ে। তিনি দেখিয়েছিলেন, নেতারা যখন নিজেদের তৈরি কল্পনা বিশ্বাস করতে শুরু করেন, তখন নীতির বদলে প্রচারণা চলে। রাষ্ট্র তখন সত্য হারায়। সিদ্ধান্ত হয় আবেগে।

ট্রাম্পের আচরণে সেই প্রবণতা দেখা গেছে বলে সমালোচকরা দাবি করেন। উদাহরণ হিসেবে সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো উল্লেখ করা যায়। হরমুজ প্রণালিকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ বলা। পরে ভুল স্বীকার না করা। আবার একই কথা পুনরাবৃত্তি করা। এটি কেবল ভাষাগত ভুল নয়। এটি আত্মমুগ্ধতার প্রতিফলন। যেখানে নেতা নিজেকে কেন্দ্র করে পৃথিবী দেখেন।

আরও উদ্বেগজনক তার যুদ্ধসংক্রান্ত বক্তব্য। ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি। হাজারো লক্ষ্যবস্তুর তালিকা ঘোষণা। আবার একই সঙ্গে আলোচনা চলছে বলা। এই দ্বৈততা নীতির নয়। এটি মেজাজের রাজনীতি। এতে উত্তেজনা বাড়ে। কূটনীতি দুর্বল হয়।

রাজনৈতিক তত্ত্বে এটিকে বলা হয় ‘ইমপালসিভ লিডারশিপ’। অর্থাৎ হঠাৎ সিদ্ধান্ত। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। এতে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল থাকে না। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক অনিশ্চিত হয়। মিত্ররা বিভ্রান্ত হয়। প্রতিপক্ষ আগ্রাসী হয়।

ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি বৈশিষ্ট্য ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রতীক তৈরির প্রবণতা। নিজের নামে স্থাপনা। নিজের ব্র্যান্ড। নিজের স্বাক্ষরযুক্ত ডলার। এমনকি স্মারক স্বর্ণমুদ্রা। এসব পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে তুচ্ছ মনে হতে পারে। কিন্তু প্রতীক গুরুত্ববহ। এগুলো দেখায়, রাষ্ট্রের ওপর ব্যক্তিকে তোলা হচ্ছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা এটিকে ব্যক্তিপূজার রাজনীতি বলেন। যেখানে প্রতিষ্ঠান নয়, নেতা প্রধান। ইতিহাসে এমন উদাহরণ অনেক। ব্যক্তিপূজা বাড়লে সমালোচনা কমে। সিদ্ধান্তে ভারসাম্য থাকে না। ক্ষমতার অপব্যবহার বাড়ে।

মার্কিন গণতন্ত্র শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান দিয়ে গড়া। কিন্তু শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানও চাপের মুখে পড়ে। যখন নেতা প্রতিষ্ঠানকে অতিক্রম করতে চান। তখন সংঘাত তৈরি হয়। বিচার বিভাগ, কংগ্রেস, গণমাধ্যম সবাই চাপ অনুভব করে।

ট্রাম্প সমর্থকরা এই সমালোচনাকে ‘ট্রাম্প ডিরেঞ্জমেন্ট সিনড্রোম’ বলেন। তাদের যুক্তি, সমালোচকরা অতিরঞ্জিত করছেন। তারা ট্রাম্পকে রাজনৈতিক কারণে আক্রমণ করছেন। এই যুক্তিও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। রাজনীতিতে অতিরঞ্জন থাকে। বিরোধীরা আক্রমণ করে। কিন্তু প্রশ্ন থাকে। কেন এত বিশেষজ্ঞ একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করছেন? কেন আচরণের ধারাবাহিকতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে? কেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে? এই প্রশ্নগুলোকে রাজনৈতিক আক্রমণ বলে এড়িয়ে যাওয়া যায় না।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একটি দল এক সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মানসিক মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, আবেগপ্রবণতা, অতিসংবেদনশীলতা, বাস্তবতাবিচ্ছিন্ন বক্তব্য— এগুলো দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এই সতর্কতা ছিল নীতিগত। ব্যক্তিগত নয়।

রাজনৈতিক বিজ্ঞানে একটি ধারণা আছে— ‘পার্সোনালিস্ট রুল’। যেখানে রাষ্ট্র নীতির বদলে ব্যক্তির মেজাজে চলে। এতে নীতির ধারাবাহিকতা থাকে না। সিদ্ধান্ত দ্রুত বদলায়। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক অস্থির হয়। অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিশ্ব রাজনীতি ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। শক্তিশালী নেতাদের উত্থান হচ্ছে। আবেগী ভাষা জনপ্রিয় হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান দুর্বল হচ্ছে। ট্রাম্প সেই প্রবণতার প্রতীক। তার সাফল্য অন্যদের উৎসাহিত করছে। এটি গণতন্ত্রের জন্য সতর্ক বার্তা।

ট্রাম্পের সময় সেই লক্ষণ অনেকেই দেখেছেন। এক দিন কঠোর শুল্ক। আরেক দিন তা শিথিল। এক দিন যুদ্ধের হুমকি। পর দিন আলোচনা। এই ওঠানামা বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ায়। কূটনীতিতে বিভ্রান্তি তৈরি করে।

রাজনৈতিক মনোবিজ্ঞানে বলা হয়, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস সিদ্ধান্তকে ঝুঁকিপূর্ণ করে। নেতা মনে করেন, তিনি ভুল করবেন না। ফলে পরামর্শ উপেক্ষিত হয়। দলীয় কাঠামো দুর্বল হয়। সিদ্ধান্ত একক হয়ে পড়ে।

ট্রাম্পের সমালোচকরা বলেন, তার শাসনধারায় এই প্রবণতা ছিল। তিনি প্রতিষ্ঠানকে পাশ কাটিয়ে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিতেন। সামাজিক মাধ্যমে নীতি ঘোষণা করতেন। এটি আধুনিক রাষ্ট্রের জন্য অস্বাভাবিক।

একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকে রাষ্ট্রীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে তোলার অভিযোগ উঠেছে। জনসমাগম নিয়ে বিতর্ক। গণমাধ্যমের সঙ্গে সংঘাত। ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে নীতির কেন্দ্র করা। এসব আচরণ রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ায়।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা এক সময় বলেছিলেন, গণতন্ত্র টিকে থাকে আত্মসংযমে। নেতা নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেন। প্রতিষ্ঠানকে সম্মান করেন। এই আত্মসংযম না থাকলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়।

ট্রাম্প বিতর্ক সেই প্রশ্নই সামনে এনেছে। ক্ষমতাধর ব্যক্তি যদি আত্মসংযম হারান, তাহলে কী হয়? বিশ্ব এখন সেই বাস্তবতা দেখছে। উত্তেজনা বাড়ছে। ভাষা কঠোর হচ্ছে। কূটনীতি সংকুচিত হচ্ছে।

এখানে আরেকটি দিক গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক অসুস্থতা আর খারাপ নেতৃত্ব এক নয়। কেউ অসুস্থ নাও হতে পারেন; কিন্তু তার আচরণ ক্ষতিকর হতে পারে। তাই মূল প্রশ্ন রোগ নির্ণয় নয়। মূল প্রশ্ন আচরণের প্রভাব।

ট্রাম্পের ক্ষেত্রে বিতর্কটি সেখানেই। তিনি অসুস্থ কিনা, সেটি চিকিৎসাবিদ্যার বিষয়। কিন্তু তার আচরণ বিশ্ব রাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করছে কিনা, সেটি রাজনৈতিক প্রশ্ন। এবং এই প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই হ্যাঁ বলছেন।

বিশ্ব রাজনীতি ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। শক্তিশালী নেতাদের উত্থান হচ্ছে। আবেগী ভাষা জনপ্রিয় হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান দুর্বল হচ্ছে। ট্রাম্প সেই প্রবণতার প্রতীক। তার সাফল্য অন্যদের উৎসাহিত করছে। এটি গণতন্ত্রের জন্য সতর্ক বার্তা। কারণ গণতন্ত্র নিয়মে চলে। ব্যক্তি ঘিরে নয়। যখন ব্যক্তি নিয়মের ঊর্ধ্বে ওঠেন, তখন ভারসাম্য ভেঙে যায়। নীতি হয় অনিশ্চিত। রাষ্ট্র হয় অস্থির।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি ব্যক্তি নয়। প্রশ্নটি ক্ষমতার। ক্ষমতা যদি অস্থির মনের হাতে যায়, তাতে ঝুঁকি বাড়ে। যদি আত্মমুগ্ধতা যুক্ত হয়, ঝুঁকি বাড়ে আরও। যদি সমালোচনা সহ্য না করা হয়, ঝুঁকি হয় সর্বোচ্চ।

ট্রাম্প বিতর্ক আমাদের সেই শিক্ষা দিচ্ছে। গণতন্ত্র শুধু নির্বাচন নয়। এটি মানসিক স্থিতি। এটি আত্মসংযম। এটি প্রতিষ্ঠানকে সম্মান করা। এই তিনটি অনুপস্থিত হলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়।

বিশ্ব আজ সেই বাস্তবতা দেখছে। তাই এই বিতর্ক প্রয়োজন। ব্যক্তি নয়; নীতি রক্ষার জন্য। ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার জন্য। ভবিষ্যৎ বিপদ ঠেকানোর জন্য।

লেখক: সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন

সম্পর্কিত