তিন ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠানের তথ্য

তারেক রহমান ও বিএনপির বিরুদ্ধে অপতথ্য সবচেয়ে বেশি

প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৩: ১৫
স্ট্রিম গ্রাফিক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অপতথ্যের ছড়াছড়ি। ছাত্র সংসদ, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরেও সমানে ছড়ানো হচ্ছে অপতথ্য কিংবা বিকৃত তথ্য। এর মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা হচ্ছে, যা ফ্যাক্টচেক রিপোর্টেও স্পষ্ট।

রিউমর স্ক্যানার, ডিসমিসল্যাব ও দ্য ডিসেন্টের প্রকাশিত এক মাসের (১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মার্চ) মোট ৬২৮টি প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়– ব্যক্তি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। রাজনৈতিক দল হিসেবেও শীর্ষে বিএনপি। দলটির বিরুদ্ধে এই সময়ে মোট ১৮১টি অপতথ্যের রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এই তালিকায় জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে ৮৩, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৬৩ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিরুদ্ধে হয়েছে ৫১টি রিপোর্ট। ভুয়া মন্তব্য, সম্পাদিত ফটোকার্ড, পুরোনো ভিডিও এবং ভিন্ন ঘটনার দৃশ্য নতুন দাবি করে অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে, যা এই তিন প্রতিষ্ঠানের ফ্যাক্টচেকে উঠে এসেছে।

এ ব্যাপারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাঈদ আল-জামান বলেন, কতিপয় রাজনীতিক স্থায়ীভাবে অপতথ্যের শিকার হচ্ছেন। কারণ জনমানুষ তাদের চেনে এবং এই সম্পর্কিত তথ্যের প্রচার, প্রসার ও প্রভাব ব্যাপক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। একসঙ্গে অপতথ্য এখন ডিজিটাল যুগে প্রতিপক্ষকে ঘায়েলের সহজতম অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। বানোয়াট গল্পের সঙ্গে চটুল উপাদান যুক্ত করে জনপরিসরে ছাড়লে তা অনেকে সহজেই গ্রহণ করে।

তিনি বলেন, এই প্রবণতা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরাও জানে। এই কারণে অল্প পরিশ্রমে, স্বল্প খরচে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে অপতথ্যের ক্যাম্পেইন চালানো বর্তমান রাজনীতিতে একটি সাধারণ অভ্যাস হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বড় বিপদ এআই যুগে সত্য আর মিথ্যা আলাদা করা কঠিন হয়ে উঠছে। অপতথ্যে সমাজে পারস্পরিক আস্থার ভিত্তি দুর্বল করছে। মানুষের সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য ইন্দ্রিয় চোখ। কিন্তু এআইনির্ভর অপতথ্য সেটিকেও অনিশ্চিত করে দিচ্ছে। কার্যকর এআই ডিটেকশন পদ্ধতির অভাব এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি হয়ে উঠছে মানুষের চিন্তা ও বিচার করার সক্ষমতা।

ফ্যাক্টচেকের তথ্য বিশ্লেষণ কেন

তথ্য বিশ্লেষণে স্ট্রিম ডকুমেন্টভিত্তিক কনটেন্ট অ্যানালাইসিস পদ্ধতি অনুসরণ করেছে। উপাত্ত সংকলনের সময় ডুপ্লিকেট, একই ধরন বা একই ঘটনা, দাবি ও ভিজ্যুয়ালের পুনরাবৃত্তি রয়েছে– এমন রিপোর্ট বাদ দিয়ে একটি স্বতন্ত্র অবয়ব দেওয়ার চেষ্টা রয়েছে বিশ্লেষণে।

প্রতিটি রিপোর্টকে ব্যক্তি, দল, অপতথ্যের ধরন ও রাজনৈতিক প্রসঙ্গ অনুযায়ী শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। অপতথ্যের ধরন নির্ধারণে ভুয়া মন্তব্য, সম্পাদিত ফটোকার্ড, ভিত্তিহীন দাবি, এআইনির্মিত ছবি বা ভিডিও, পুরোনো ছবি বা ভিডিও নতুন প্রেক্ষাপটে প্রচার এবং ভিন্ন ঘটনার দৃশ্য নতুন দাবি হিসেবে ব্যবহারের মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

ব্যক্তি পর্যায়ে অপতথ্য

ব্যক্তি পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এক মাসে সবচেয়ে বেশি অপতথ্য ছড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে, ৫৭টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছড়ানো হয়েছে সম্পাদিত ফটোকার্ড ২১টি। এরপর রয়েছে ১৪টি ভুয়া মন্তব্য এবং ভিত্তিহীন তথ্যভিত্তিক দাবি আটটি।

বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন মাধ্যম। কখনো ভুয়া উদ্ধৃতি, কখনো গণমাধ্যমের নামে বানানো কার্ড, কখনো এআইনির্ভর ভিজ্যুয়াল; আবার কখনো মনগড়া তথ্যের মোড়ক সামনে আনা হয়েছে। এই মধ্যে ছিল ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে জড়িয়ে সময় টিভির নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড, শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের এআইনির্মিত ভিডিও এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে শেখ মুজিবুর রহমানের পোট্রেট এআই দিয়ে বানানো ছবি। (,,)

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯টি প্রতিবেদন করা হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে। এক্ষেত্রে এআইনির্মিত ৫টি ছবি, সম্পাদিত ফটোকার্ড ৪, ভুয়া মন্তব্য ৩ এবং ভিত্তিহীন তথ্যভিত্তিক দাবি পাওয়া গেছে ৩টি। এর মধ্যে কালবেলার নামে ভুয়া ফটোকার্ড, পুলিশ হত্যার তদন্ত নিয়ে ভিত্তিহীন মন্তব্য এবং তাঁকে রাষ্ট্রপতি না করায় আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের মতো দাবিও রয়েছে। (,,)

এরপরই আছেন ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁকে নিয়ে ছড়ানো তথ্যের ওপর ১৭টি ফ্যাক্টচেকিং প্রতিবেদন হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি সম্পাদিত ফটোকার্ড, ৩টি এআইনির্মিত ভিডিও, ভিত্তিহীন দাবির ৩টি, পুরোনো ভিডিও নতুন হিসেবে প্রচার করা ২টি এবং দুটি ভুয়া মন্তব্য ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। ছড়ানো হয়েছে শেখ হাসিনার মূর্তি তৈরির দৃশ্য দাবিতে এআইনির্মিত ভিডিও, ২৬ মার্চ দেশে ফিরছেন দাবিতে প্রথম আলোর নামে ভুয়া ফটোকার্ড এবং তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের দাবিতে এআইনির্মিত ভিডিও। (,,)

এ ছাড়া বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে ছড়ানো অপতথ্য নিয়ে ১৪টি প্রতিবেদন হয়েছে। এর মধ্যে ১২টিই ছিল ভুয়া মন্তব্য বা মনগড়া উদ্ধৃতি। (,২,)

বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে নিয়ে ছড়ানো ভুয়া তথ্যের ওপর ১২টি রিপোর্ট হয়েছে, যার মধ্যে ৯টি ছিল সম্পাদিত ফটোকার্ড। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের নামে সম্পাদিত ভিজ্যুয়াল কার্ড ছিল সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে রয়েছে– শেখ হাসিনাকে নিয়ে তাঁর মন্তব্য দাবিতে যমুনা টিভির সম্পাদিত ফটোকার্ড, বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন নিয়ে বার্তা বাজারের সম্পাদিত ফটোকার্ড এবং আইডি হ্যাক নিয়ে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সম্পাদিত ফটোকার্ড। (,,)

দলভিত্তিক অপতথ্য

রাজনৈতিক দল টার্গেট করেও ছড়ানো হয়েছে অপতথ্য। এক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন বিএনপিকে নিয়ে ছড়ানো হয়েছে সবচেয়ে বেশি। সিলেটে বিএনপি নেতার হামলার দাবিতে ভিন্ন ঘটনার ছবি ব্যবহার, ভারতের একটি ভিডিওকে মৌলভীবাজারে যুবদল নেতার হামলার ঘটনা বলে প্রচার, জুলাই শহীদের স্ত্রীকে ছাত্রদল নেতার ধর্ষণ নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর প্রমাণ মিলেছে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে। ছিল আমার দেশের নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচারও। (,,,)

এরপরই রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তাদের ক্ষেত্রে অপতথ্য ছড়াতে অর্থ লেনদেন, সহিংসতা, ধর্মীয় উত্তেজনা, মন্দির-সংক্রান্ত বিরোধ, শিবির-সংশ্লিষ্টতা এবং নেতাদের বক্তব্য বিকৃত করে প্রচার করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, ফ্যামিলি কার্ডের নামে অর্থ আদায়ে জামায়াত নেতার সম্পৃক্ততার অসত্য দাবি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মন্দির দখলের চেষ্টার অভিযুক্তকে জামায়াত নেতা বলা কিংবা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ায় বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের দাবিতে পুরোনো ভিডিও ছড়ানো হয়েছে। (,,)

আওয়ামী লীগ নিয়েও ছড়ানো হয়েছে ভুয়া তথ্য। এক্ষেত্রে শেখ হাসিনা, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগের মাঠে ফেরা এবং পুরোনো খবর বা ভিডিওকে নতুন প্রেক্ষাপটের বলে চালানো হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীতে আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক মিছিলের দাবিতে চট্টগ্রামের পুরোনো ভিডিও প্রচার, ছাত্রলীগ নেত্রীর অশালীন ছবি দাবিতে ভারতীয় নারীর ছবি এবং বরিশালে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিলের দাবিতে এআই-তৈরি ছবি প্রচার। (,,)

এনসিপিও শিকার হয়েছে বিভিন্ন অপতথ্যের। নেতাদের ভুয়া মন্তব্য প্রচার, সম্পাদিত ফটোকার্ড, আর্থিক অনিয়মের ইঙ্গিত, গ্রেপ্তার গুজব, সহিংসতা এবং অস্ত্র উদ্ধারের মতো দাবি দেখা গেছে। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নামে পুলিশ হত্যা তদন্ত প্রসঙ্গে ভুয়া মন্তব্য, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তারের গুজব এবং দক্ষিণাঞ্চলের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহর বাসায় সেনা অভিযান ও অস্ত্র উদ্ধারের ভুয়া দাবি ছড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতুকে নিয়ে সম্পাদিত ফটোকার্ড এবং আসিফ মাহমুদকে উদ্ধৃত করে প্রচারিত সম্পাদিত ফটোকার্ড দেখায়, দলটির ক্ষেত্রে ব্যক্তিকেন্দ্রিক অপপ্রচার ছড়ানো হয়েছে। (,,,,)

অপতথ্যের ধরন ও বিস্তার

গত এক মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধসহ দেশি-বিদেশি নানা ইস্যুতে বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিস্তার দেখা গেছে। এই প্রবাহে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে ফটোকার্ড ১০৬টি। এক্ষেত্রে পরিচিত সংবাদমাধ্যমের নাম, লোগো ও ডিজাইন নকল করে ভুয়া তথ্যকে বিশ্বাসযোগ্য করার চেষ্টা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে– বরখাস্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাপসীকে নিয়ে চ্যানেল ২৪-এর নামে ভুয়া ফটোকার্ড এবং ‘জামায়াতে ইসলামীর অনুরোধে হরমুজে বাংলাদেশি জাহাজে বাধা দেবে না ইরান’ শিরোনামে বাংলাভিশনের নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড। (,)

এরপরই রয়েছে ভুয়া মন্তব্য বা মনগড়া উদ্ধৃতি, যার সংখ্যা ১০৩টি। এখানে রাজনৈতিক নেতা, উপদেষ্টা ও জনপরিচিত ব্যক্তিদের নামে এমন বক্তব্য ছড়ানো হয়েছে, যা তারা বাস্তবে দেননি। এর মধ্যে রয়েছে পুলিশ হত্যার বিচার নিয়ে ফজলুর রহমানের নামে ভুয়া মন্তব্য, ‘পুলিশদের পুড়িয়েই আমরা নেতা হয়েছি’ শীর্ষক ব্যারিস্টার ফুয়াদের নামে ভুয়া বক্তব্য এবং ‘রাজাকারের সাথে জোট করা সবাই রাজাকার বলে ধরা হবে’ বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানের নামে ছড়ানো ভুয়া মন্তব্য। (,,)

তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে মিথ্যা তথ্য বা ভিত্তিহীন দাবি ৯৮টি। এই ধরনের কনটেন্টে সরাসরি ভুল তথ্য, বানানো ঘটনা এবং যাচাই ছাড়া দাবিকে সত্য হিসেবে ছড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে চ্যাটজিপিটি নিষিদ্ধে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা, বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার সেনা ইরানে পাঠানোর দাবি। (,)

এআইনির্মিত ছবি দিয়ে ছড়ানো হয়েছে অন্তত ৪১টি অপতথ্য। এই ধরনের ভিজ্যুয়াল কনটেন্টে বাস্তবতার আবহ তৈরি করে সম্পূর্ণ কৃত্রিম ছবি ছড়ানো হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো– ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিহতের দাবিতে বানানো ছবি, ধ্বংসস্তূপ থেকে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দেহ উদ্ধারের ছবি এবং ইরানের হাতে মার্কিন সেনা বন্দির দাবিতে ছড়ানো ছবি। (,,)

পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে পুরোনো ভিডিও নতুন হিসেবে প্রচার, এর সংখ্যা ৩৪টি। এই ধারার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণের মধ্যে রয়েছে ইরানি মসজিদে ইফতারের সময় হামলার দৃশ্য দাবিতে পুরোনো ভিডিও প্রচার, ইরানি সৈন্যদের হাতে ইসরায়েলের সৈন্য আটক দাবিতে পুরোনো ভিডিও ছড়ানো এবং তেল আবিবে নেতানিয়াহুর পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভের পুরোনো ভিডিওকে সাম্প্রতিক ঘটনার ভিডিও হিসেবে প্রচার। (,,)

সম্পর্কিত