রাজনৈতিক আদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করার প্রতিশ্রুতি নবনিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬, ২৩: ৩৯
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক আদর্শ থাকলেও রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তা কোনো প্রভাব ফেলবে না। সাংবিধানিক পদে থেকে সম্পূর্ণ নির্মোহভাবে রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।

গত ২৫ মার্চ অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর রোববার (২৯ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন শুরু করেন তিনি। এদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় অধ্যাদেশ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-কেন্দ্রিক আইনি চ্যালেঞ্জ এবং আদালতে সাংবাদিকদের অবাধ তথ্যপ্রবাহসহ নানা আইনি ও সাংবিধানিক বিষয়ে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দলীয় প্রভাবমুক্ত থাকতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আমি সাংবিধানিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল। একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি আমার আদর্শিক অবস্থান সবসময়ই ছিল। কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আমার কোনো রাজনৈতিক আদর্শ আমাকে প্রভাবিত করবে না। আমি সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হয়েছি।

রাষ্ট্র ও সরকারের আইনি কাঠামো ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র একটি বিমূর্ত (অ্যাবস্ট্রাক্ট) সত্তা, যা কাজ করে সরকারের মাধ্যমে। সরকারের নীতি-নৈতিকতা, সততা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে দেশের মানুষ এবং রাষ্ট্রের স্বার্থে যা করা প্রয়োজন, তিনি নির্মোহভাবে তা করে যাবেন।

বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি রাষ্ট্রকাঠামোর তিনটি অঙ্গের (নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগ) স্বকীয়তার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “নির্বাহী বিভাগ তার মতো কাজ করে। এতদিন পার্লামেন্ট ছিল না, এখন পার্লামেন্ট এসেছে এবং পার্লামেন্ট সার্বভৌম। বিচার বিভাগও সার্বভৌম।” নির্বাহী ও আইন বিভাগের কোনো আইনি ভুলত্রুটি সংশোধনের দায়িত্ব বিচার বিভাগের ওপর ন্যস্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলের অধ্যাদেশগুলো সম্পর্কে এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে যেকোনো অধ্যাদেশ হুবহু পাস বা গ্রহণ করার কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই। সরকার চাইলে তা সংশোধন বা সংযোজন করে নতুন আইন প্রণয়ন করতে পারে। বিচার বিভাগের জন্য বর্তমান সরকার ‘সর্বোত্তম’ পদক্ষেপটি নেবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আসন্ন মামলাগুলোর বিষয়ে কোনো চাপ অনুভব করছেন কি না—এমন প্রশ্নে নিজেকে ‘সিজনড লইয়ার’ (অভিজ্ঞ আইনজীবী) হিসেবে অভিহিত করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, “আইনের ব্যাখ্যা দিতে বা সাংবিধানিক কথা বলতে আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো চাপ অনুভব করি না। আমার আজকের এই নিয়োগ পেশাগত উৎকর্ষের একটি স্বীকৃতি।”

বিগত ‘ফ্যাসিবাদী’ আমলেও আইনি লড়াই চালানোর অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সামনের দিনে আইনি কোনো চ্যালেঞ্জ দেখছি না; কারণ নতুন সরকার আইনের শাসনে ও মানুষের মৌলিক মানবাধিকারে বিশ্বাস করে বলে আমি মনে করি।”

আদালতে অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও গণমাধ্যম

আদালত অঙ্গনে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সংকুচিত হওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের উদ্বেগের সঙ্গে একমত পোষণ করেন নবনিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল। ব্যক্তিগত জীবনে সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি অবাধ তথ্যপ্রবাহে বিশ্বাস করেন। তবে একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর অপতথ্য দিয়ে যেন মানুষকে বিভ্রান্ত করা না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান বিচারপতির বিচক্ষণতা ও আপিল বিভাগে বিপুলসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তির বিষয়টি উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সুপ্রিম কোর্ট থেকে সাংবাদিকরা আরও সহজে তথ্য পেলে এসব ইতিবাচক খবর আরও বেশি তুলে ধরতে পারতেন। সাংবাদিকদের এই উদ্বেগের বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরে যৌক্তিক সমাধানের আশ্বাস দেন রাষ্ট্রের এই প্রধান আইন কর্মকর্তা।

সম্পর্কিত