লেখা:

রাজধানী ঢাকা থেকে খুব বেশি দূরে না হলেও গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বামনঘোনা গ্রামটি নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বেশ পিছিয়ে। কাঁচা রাস্তা, বর্ষায় কাদা—সব মিলিয়ে এক সাধারণ গ্রাম্য চিত্র। মাঠে মাঠে এখন ফসল, কৃষকদের কাজের চাপ কিছুটা কম। তাই পড়ন্ত বিকেলে চায়ের দোকান বা বাড়ির উঠোনে বসে বয়োজ্যেষ্ঠদের আড্ডা জমে ওঠে। কিন্তু আড্ডার বিষয়বস্তু এখন আর ফসল, আবহাওয়া বা স্থানীয় রাজনীতি নয়; বরং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন শুধুই ‘যুদ্ধ’।
“নেতানিয়াহু কি মারা গেছে?”, “যুদ্ধ কবে থামবে?”, “তেলের দামের কী হবে?”—এসব কথাই এখন ভাসছে গ্রামের বাতাসে। হাতে থাকা চীনা স্মার্টফোন আর দুর্বল থ্রি-জি/ফোর-জি নেটওয়ার্ক সম্বল করেই ৫,০০০ কিলোমিটার দূরের এক যুদ্ধকে তারা যেন নিজেদের উঠোনে নিয়ে এসেছেন। যুদ্ধটা বাংলাদেশে হচ্ছে না, হচ্ছে সুদূর মধ্যপ্রাচ্যে। কিন্তু বামনঘোনার মতো গ্রামগুলোতে এই যুদ্ধের আঁচ যেন খুব কাছ থেকেই অনুভব করা যাচ্ছে।
গ্রামের বারান্দায় বসে মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম তার স্মার্টফোনে ইউটিউবে যুদ্ধের খবর দেখছিলেন। স্ক্রিনে ভাসছিল মিসাইল, ধোঁয়া আর ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের ব্রেকিং নিউজ। বাংলাদেশের আর দশটা গ্রামীণ পরিবারের মতো আজহারুলের পরিবারও প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল। তার বড় ছেলে সিঙ্গাপুরে এবং ছোট ছেলে রাকিব হোসেন ২০২৩ সাল থেকে সৌদি আরবের রিয়াদের একটি পেট্রোল পাম্পে কাজ করেন। সম্প্রতি ছুটিতে দেশে এসে বিয়ে করেছেন রাকিব, ফিরে যাওয়ার কথা ২০২৬ সালের এপ্রিলে। কিন্তু যুদ্ধের খবর তার এই আনন্দঘন ছুটিটাকে ম্লান করে দিয়েছে।
রাকিবের ভাষায়, “এটা এক নতুন দুশ্চিন্তা। বছরে ৩৬৫ দিন, দিনে ১২ ঘণ্টা কাজ করি। অনেক সময় পাম্প থেকে তেল নিয়ে মানুষ টাকা না দিয়েই পালিয়ে যায়, সেই ক্ষতিপূরণ আমাকেই দিতে হয়। মাসে মাত্র ৫০ হাজার টাকা কামাই। এখন যদি যুদ্ধের কারণে কোম্পানি বন্ধ হয়ে যায় বা দেশে পাঠিয়ে দেয়, তবে আমার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে।”
আজহারুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর জন্য এই যুদ্ধ কেবল ফোনের পর্দার কোনো খবর নয়, বরং তা যেন তাদের ঘরের ভেতরের এক জীবন্ত আতঙ্ক। তিনি বলেন, “শুনছি এর মধ্যেই কয়েক জায়গায় হামলা হয়েছে। অনেক টাকা ধারদেনা করে ছেলেদের বিদেশ পাঠিয়েছি। এখন যদি তাদের কিছু হয়ে যায়, তবে আমাদের কী হবে? এই গ্রামে তো আয়ের কোনো ভালো পথ নেই। কৃষিকাজ বা গার্মেন্টস—কোথাও পেট চালানোর মতো টাকা মেলে না।”
আজহারুল ইসলামের এই গল্প শুধু বামনঘোনা গ্রামের নয়। পুরো বাংলাদেশের লাখো পরিবারের গল্প এটি। মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে প্রায় ৭০ লাখ বাংলাদেশি কাজ করেন। শুধু সৌদি আরবেই আছেন ৩৫ লাখ। নির্মাণশ্রমিক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা পেট্রোল পাম্পের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ও কম বেতনের কাজ করলেও, তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সই দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে।
আজ গ্রামের যে টিনের চালটি পাকা হয়েছে, কিংবা যে কৃষক পরিবারের সন্তানটি স্কুল থেকে ঝরে না পড়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে—তার পেছনে রয়েছে দুবাই, রিয়াদ বা মাস্কাটে ঘাম ঝরানো কোনো আপনজনের কষ্টার্জিত অর্থ। কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, টাঙ্গাইলের মতো জেলাগুলোর ঘরে ঘরে আজ প্রবাসীদের পাঠানো টাকায় সংসার চলে।
স্মার্টফোনের কল্যাণে এই বৈশ্বিক রাজনীতি এখন আর শুধু রাজধানী বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে সীমাবদ্ধ নেই। গ্রামের চায়ের দোকানেও এখন আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি নিয়ে তর্ক হয়। ফিলিস্তিন ইস্যু বা মুসলিম বিশ্বের প্রতি আবেগের পাশাপাশি তাদের মূল চিন্তার জায়গাটি হলো জীবন ও জীবিকা। ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে হামলায় বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধার প্রাণহানির খবর তাদের আরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
তাছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ মানেই তেলের দাম বৃদ্ধি। আর তেলের দাম বাড়লে দেশে পরিবহন খরচ, সারের দাম এবং শেষমেশ চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুর দাম বেড়ে যায়। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ছোড়া একটি মিসাইল কীভাবে বাংলাদেশের কোনো এক গণ্ডগ্রামের বাজারের চালের দাম বাড়িয়ে দেয়, তা এখন গ্রামের সাধারণ মানুষও বোঝেন।
টাঙ্গাইলের সখীপুরের প্রবাসী শ্রমিক শাখাওয়াত মিয়া আরব আমিরাত থেকে ফোনে ঠিক এই শঙ্কার কথাই জানালেন। তিনি বলেন, “আমরা রাজনীতি খুব একটা বুঝি না, কিন্তু হিসাবটা সোজা। যুদ্ধ মানে তেলের দাম বাড়া, আর তেলের দাম বাড়া মানে সবকিছুর দাম বাড়া। পরিস্থিতি খারাপ হলে আমাদের চাকরি হারাতে হবে। রাতের বেলা ঘুমাতে ভয় করে, কখন যে বোমা এসে পড়ে!”
বৈশ্বিক রাজনীতির মানচিত্রে হয়তো বাংলাদেশের এই ছোট গ্রামগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই। এখানকার ভাঙাচোরা রাস্তা আর ধীরগতির ইন্টারনেটের খবর কেউ রাখে না। কিন্তু প্রতিদিন বিকেলে এই গ্রামের মানুষগুলোই ছোট স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বিশ্বনেতাদের গতিবিধি আর তেলের দাম নিয়ে উদ্বিগ্ন হন।
ভৌগোলিক দূরত্বে মধ্যপ্রাচ্য হয়তো হাজার মাইল দূরে, কিন্তু বাস্তবতায় তা বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামের খুব কাছের। কারণ, ওই উত্তপ্ত মরুভূমির বুকেই লুকিয়ে আছে এই গ্রামের মানুষগুলোর বেঁচে থাকার রসদ। তাই মধ্যপ্রাচ্যে যখন যুদ্ধের দামামা বাজে, তখন হাজার মাইল দূরের বাংলাদেশের গ্রামগুলোতেও শুরু হয় নীরব এক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।
(সংক্ষেপিত)
লেখক: সাকলাইন রিজভী
(দ্য ডিপ্লোম্যাট থেকে লেখাটি ভাষান্তর করেছেন মুজাহিদুল ইসলাম)

রাজধানী ঢাকা থেকে খুব বেশি দূরে না হলেও গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বামনঘোনা গ্রামটি নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বেশ পিছিয়ে। কাঁচা রাস্তা, বর্ষায় কাদা—সব মিলিয়ে এক সাধারণ গ্রাম্য চিত্র। মাঠে মাঠে এখন ফসল, কৃষকদের কাজের চাপ কিছুটা কম। তাই পড়ন্ত বিকেলে চায়ের দোকান বা বাড়ির উঠোনে বসে বয়োজ্যেষ্ঠদের আড্ডা জমে ওঠে। কিন্তু আড্ডার বিষয়বস্তু এখন আর ফসল, আবহাওয়া বা স্থানীয় রাজনীতি নয়; বরং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন শুধুই ‘যুদ্ধ’।
“নেতানিয়াহু কি মারা গেছে?”, “যুদ্ধ কবে থামবে?”, “তেলের দামের কী হবে?”—এসব কথাই এখন ভাসছে গ্রামের বাতাসে। হাতে থাকা চীনা স্মার্টফোন আর দুর্বল থ্রি-জি/ফোর-জি নেটওয়ার্ক সম্বল করেই ৫,০০০ কিলোমিটার দূরের এক যুদ্ধকে তারা যেন নিজেদের উঠোনে নিয়ে এসেছেন। যুদ্ধটা বাংলাদেশে হচ্ছে না, হচ্ছে সুদূর মধ্যপ্রাচ্যে। কিন্তু বামনঘোনার মতো গ্রামগুলোতে এই যুদ্ধের আঁচ যেন খুব কাছ থেকেই অনুভব করা যাচ্ছে।
গ্রামের বারান্দায় বসে মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম তার স্মার্টফোনে ইউটিউবে যুদ্ধের খবর দেখছিলেন। স্ক্রিনে ভাসছিল মিসাইল, ধোঁয়া আর ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের ব্রেকিং নিউজ। বাংলাদেশের আর দশটা গ্রামীণ পরিবারের মতো আজহারুলের পরিবারও প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল। তার বড় ছেলে সিঙ্গাপুরে এবং ছোট ছেলে রাকিব হোসেন ২০২৩ সাল থেকে সৌদি আরবের রিয়াদের একটি পেট্রোল পাম্পে কাজ করেন। সম্প্রতি ছুটিতে দেশে এসে বিয়ে করেছেন রাকিব, ফিরে যাওয়ার কথা ২০২৬ সালের এপ্রিলে। কিন্তু যুদ্ধের খবর তার এই আনন্দঘন ছুটিটাকে ম্লান করে দিয়েছে।
রাকিবের ভাষায়, “এটা এক নতুন দুশ্চিন্তা। বছরে ৩৬৫ দিন, দিনে ১২ ঘণ্টা কাজ করি। অনেক সময় পাম্প থেকে তেল নিয়ে মানুষ টাকা না দিয়েই পালিয়ে যায়, সেই ক্ষতিপূরণ আমাকেই দিতে হয়। মাসে মাত্র ৫০ হাজার টাকা কামাই। এখন যদি যুদ্ধের কারণে কোম্পানি বন্ধ হয়ে যায় বা দেশে পাঠিয়ে দেয়, তবে আমার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে।”
আজহারুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর জন্য এই যুদ্ধ কেবল ফোনের পর্দার কোনো খবর নয়, বরং তা যেন তাদের ঘরের ভেতরের এক জীবন্ত আতঙ্ক। তিনি বলেন, “শুনছি এর মধ্যেই কয়েক জায়গায় হামলা হয়েছে। অনেক টাকা ধারদেনা করে ছেলেদের বিদেশ পাঠিয়েছি। এখন যদি তাদের কিছু হয়ে যায়, তবে আমাদের কী হবে? এই গ্রামে তো আয়ের কোনো ভালো পথ নেই। কৃষিকাজ বা গার্মেন্টস—কোথাও পেট চালানোর মতো টাকা মেলে না।”
আজহারুল ইসলামের এই গল্প শুধু বামনঘোনা গ্রামের নয়। পুরো বাংলাদেশের লাখো পরিবারের গল্প এটি। মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে প্রায় ৭০ লাখ বাংলাদেশি কাজ করেন। শুধু সৌদি আরবেই আছেন ৩৫ লাখ। নির্মাণশ্রমিক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা পেট্রোল পাম্পের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ও কম বেতনের কাজ করলেও, তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সই দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে।
আজ গ্রামের যে টিনের চালটি পাকা হয়েছে, কিংবা যে কৃষক পরিবারের সন্তানটি স্কুল থেকে ঝরে না পড়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে—তার পেছনে রয়েছে দুবাই, রিয়াদ বা মাস্কাটে ঘাম ঝরানো কোনো আপনজনের কষ্টার্জিত অর্থ। কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, টাঙ্গাইলের মতো জেলাগুলোর ঘরে ঘরে আজ প্রবাসীদের পাঠানো টাকায় সংসার চলে।
স্মার্টফোনের কল্যাণে এই বৈশ্বিক রাজনীতি এখন আর শুধু রাজধানী বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে সীমাবদ্ধ নেই। গ্রামের চায়ের দোকানেও এখন আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি নিয়ে তর্ক হয়। ফিলিস্তিন ইস্যু বা মুসলিম বিশ্বের প্রতি আবেগের পাশাপাশি তাদের মূল চিন্তার জায়গাটি হলো জীবন ও জীবিকা। ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে হামলায় বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধার প্রাণহানির খবর তাদের আরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
তাছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ মানেই তেলের দাম বৃদ্ধি। আর তেলের দাম বাড়লে দেশে পরিবহন খরচ, সারের দাম এবং শেষমেশ চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুর দাম বেড়ে যায়। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ছোড়া একটি মিসাইল কীভাবে বাংলাদেশের কোনো এক গণ্ডগ্রামের বাজারের চালের দাম বাড়িয়ে দেয়, তা এখন গ্রামের সাধারণ মানুষও বোঝেন।
টাঙ্গাইলের সখীপুরের প্রবাসী শ্রমিক শাখাওয়াত মিয়া আরব আমিরাত থেকে ফোনে ঠিক এই শঙ্কার কথাই জানালেন। তিনি বলেন, “আমরা রাজনীতি খুব একটা বুঝি না, কিন্তু হিসাবটা সোজা। যুদ্ধ মানে তেলের দাম বাড়া, আর তেলের দাম বাড়া মানে সবকিছুর দাম বাড়া। পরিস্থিতি খারাপ হলে আমাদের চাকরি হারাতে হবে। রাতের বেলা ঘুমাতে ভয় করে, কখন যে বোমা এসে পড়ে!”
বৈশ্বিক রাজনীতির মানচিত্রে হয়তো বাংলাদেশের এই ছোট গ্রামগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই। এখানকার ভাঙাচোরা রাস্তা আর ধীরগতির ইন্টারনেটের খবর কেউ রাখে না। কিন্তু প্রতিদিন বিকেলে এই গ্রামের মানুষগুলোই ছোট স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বিশ্বনেতাদের গতিবিধি আর তেলের দাম নিয়ে উদ্বিগ্ন হন।
ভৌগোলিক দূরত্বে মধ্যপ্রাচ্য হয়তো হাজার মাইল দূরে, কিন্তু বাস্তবতায় তা বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামের খুব কাছের। কারণ, ওই উত্তপ্ত মরুভূমির বুকেই লুকিয়ে আছে এই গ্রামের মানুষগুলোর বেঁচে থাকার রসদ। তাই মধ্যপ্রাচ্যে যখন যুদ্ধের দামামা বাজে, তখন হাজার মাইল দূরের বাংলাদেশের গ্রামগুলোতেও শুরু হয় নীরব এক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।
(সংক্ষেপিত)
লেখক: সাকলাইন রিজভী
(দ্য ডিপ্লোম্যাট থেকে লেখাটি ভাষান্তর করেছেন মুজাহিদুল ইসলাম)

বিশ্ব রাজনীতি কখনো কখনো ব্যক্তির হাতে বন্দি হয়ে পড়ে। তখন নীতি হারায়; প্রাধান্য পায় মেজাজ। প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়; ব্যক্তিত্ব ফুলে ওঠে। এই বাস্তবতা নতুন নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তা আরও নগ্নভাবে সামনে এসেছে।
৬ ঘণ্টা আগে
একুশ শতকের তৃতীয় দশকে বিশ্বরাজনীতি এক অভূতপূর্ব সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে ইউক্রেন থেকে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশগুলো তাদের অস্ত্রের ভান্ডার ও অর্থনীতিকে বিসর্জন দিচ্ছে। একদিকে কামানের গর্জন আর ক্ষেপণাস্ত্রের ঝিলিক যখন পরাশক্তিগুলোকে যুদ্ধের চোরাবালিতে নিমজ্জিত করছে, ঠিক তখনই হয়তো বেইজিংয়
১৪ ঘণ্টা আগে
আমরা এখন পারস্য উপসাগরের নীল জলে। কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশ মিলিটারি কনটিনজেন্টের একদল সামরিক কর্মকর্তা ফেরিতে করে কুয়েত থেকে ২০ কিলোমিটার দূরবর্তী ফাইলাকা দ্বীপে ভ্রমণে চলেছি। ২০১০-এর জানুয়ারি। আমাদের পূর্ব দিকে ইরান। সেই দেশ থেকে উড়ে এসে একদল সাদা সীগাল আমাদের স্বাগত জানায়।
১ দিন আগে
‘সত্যেন’ নামের আক্ষরিক অর্থ—সত্যের প্রতি নিষ্ঠাবান ব্যক্তি; যিনি সত্যকে ধারণ করেন কিংবা যাঁর কাছে সত্যই পরম আরাধ্য। আমাদের সত্যেন সেন তাঁর নামের এই আক্ষরিক অর্থের এক জীবন্ত ও মূর্ত উদাহরণ।
১ দিন আগে