চুরি ধরে ফেলায় মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করেন আয়েশা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ঝালকাঠি

প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৯: ১৬
নলছিটির কয়ারচর এলাকায় গ্রেপ্তার আয়েশা আক্তার ও তাঁর স্বামী জালাল সিকদার। সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গৃহকর্তার বাসার মালপত্র চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় ধরে ফেলায় মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করেন গৃহকর্মী আয়েশা আক্তার (২০)। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে এমন তথ্য দিয়েছেন তিনি। আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের কয়ারচর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ। অভিযানে আয়েশার স্বামী জামাল সিকদার রাব্বিকেও আটক করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের বহুতল ভবনের সপ্তম তলার ফ্ল্যাটে মা ও মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন শিক্ষক আ জ ম আজিজুল ইসলামের স্ত্রী লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তাঁদের স্কুল পড়ুয়া মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫)। এ ঘটনা সোমবার রাতেই মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করার পর গ্রেপ্তার অভিযানে নামে পুলিশ।

অভিযানে অংশ নেওয়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সহিদুল ইসলাম মাসুম সাংবাদিকদের বলেন, ‘গৃহকর্তার কক্ষ থেকে কিছু মালামাল চুরি করার পর ধরে ফেলায় সেখানে গৃহকর্মী আয়েশার সঙ্গে বাড়ির লোকজনের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে লায়লা আফরোজ ও তাঁর মেয়ে নবম শ্রেণি পড়ুয়া নাফিসা লাওয়ালকে হত্যা করেন তিনি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে আয়েশাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে তিনি এসব কথা বলেন।

অভিযানে তেজগাঁও বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুনও উপস্থিত ছিলেন। পরে আয়েশা ও তাঁর স্বামীকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন পুলিশ সদস্যরা।

পুলিশ জানিয়েছে, আয়েশা নরসিংদীর সলিমগঞ্জ এলাকার রবিউল ইসলামের মেয়ে। হত্যাকাণ্ডের পর নলছিটির দপদপিয়া ইউনিয়নের কয়ারচর এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। তাঁর স্বামী জামাল সিকদার ওই এলাকার জাকির সিকদারের ছেলে। তবে স্বামী-স্ত্রী ঢাকায় থাকতেন। মা-মেয়ের হত্যাকাণ্ডের পরে তাঁরা বাড়িতে আসেন।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) মা-মেয়ের মরদেহ নাটোরে দাফন করা হয়েছে। হত্যার ঘটনায় করা মামলার এজাহারে বাসা থেকে মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ মূল্যবান জিনিস খোয়া যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

চার দিন আগে আয়েশা পরিচয় দিয়ে ওই বাসায় গৃহকর্মীর কাজ নেন। হত্যাকাণ্ডের পর নারীকে এই জোড়া খুনে জড়িত বলে সন্দেহ হয় স্বজনদের। ভবনের ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর এক নারী স্কুলড্রেস পরে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশের ধারণা, বাসার দামি জিনিসপত্র লুট করতে ওই নারী গৃহকর্মীর ছদ্মবেশ নিতে পারেন।

সম্পর্কিত