চট্টগ্রাম মেডিকেলে হামে আক্রান্ত ১০ শিশু, উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আরও কয়েকজন

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৯: ৪৪
চমেক হাসপাতালে ভর্তি দুই শিশু

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে ১০ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া হাম ও হামজনিত নিউমোনিয়ার লক্ষণ নিয়ে আরও কয়েকজনসহ মোট ১৪ শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন চমেক হাসপাতাল থেকে নিজ দায়িত্বে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর হয়েও চিকিৎসা নিচ্ছে বলেও ভর্তি রোগীদের অভিভাবকেরা জানিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে শিশু ওয়ার্ডে আলাদা একটি কর্নার করা হয়েছে, যেখানে শুধু হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের রাখা হচ্ছে। ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়া ছাড়াও কক্সবাজার অঞ্চলের রোগী রয়েছে। অধিকাংশ শিশুর বয়স ১৫ মাসের কম।

চমেক হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুছা মিঞা বলেন, ‘হামের উপসর্গ দেখা দিলে প্রাথমিকভাবে রোগ শনাক্ত করা হয়। পরে নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়। আক্রান্তদের মধ্যে ৬ মাসের কম বয়সী শিশুও রয়েছে।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) চট্টগ্রাম অঞ্চলের সার্ভেইল্যান্স টিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. খাদিজা আখি জানান, ভর্তি শিশুদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পরীক্ষার ফল পাওয়া যাবে এবং সিভিল সার্জনের মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, ‘এখনও নিশ্চিত করে সব রোগী হাম আক্রান্ত কিনা বলা যাচ্ছে না। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের আলাদা রাখা হয়েছে। ডেঙ্গু ওয়ার্ডকে সাময়িকভাবে হাম কর্নার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’

চমেক হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. জান্নাতুল আদম জানান, আক্রান্ত শিশুদের অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। অবস্থার অবনতি হলে তাদের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হবে। তিনি বলেন, ‘হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুরা সবসময় ঝুঁকিতে থাকে। শিশু ওয়ার্ডে বেড সংকট থাকায় একবেডে দুজন করে রোগী রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৯ জনেই নবজাতক তাদের হামের টিকা প্রদান করার বয়স হয়নি। এবং একজন একটি টিকা নিয়েছে৷’

অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক শিশুকে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেকে পাঠানো হয়েছে। বাঁশখালী থেকে আসা শারমিন আক্তার জানান, তার ছেলের জ্বর ও সর্দি-কাশি থাকায় প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়।

অন্যদিকে সাতকানিয়া থেকে আসা আসমা আক্তার বলেন, তার সন্তান অক্সিজেন সাপোর্টে রয়েছে এবং রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় এক বেডে একাধিক শিশুকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানান, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা কাশি-হাঁচির মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং পরবর্তীতে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি—এসবই হামের সাধারণ লক্ষণ। জটিলতা দেখা দিলে নিউমোনিয়াসহ গুরুতর সমস্যা হতে পারে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম হাম শনাক্ত হয়। এরপর ১০ জানুয়ারি জেলায় সতর্কতা জারি করে স্বাস্থ্য বিভাগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত এমএমআর টিকা গ্রহণই এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সম্পর্কিত