ইরান যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় তেলের দাম ছাড়াল ১১৫ ডলার

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ১০: ৩৫
জ্বালানি তেল। সংগৃহীত ছবি

ইরান যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ায় সোমবার সকালে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। খবর বিবিসির।

বিবিসি জানায়, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার অতিক্রম করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১০৩ ডলারে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে, সপ্তাহের শুরুতেই এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলো ছিল নিম্নমুখী। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক প্রায় ৪ শতাংশ কমে যায়।

ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতির হামলা যুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একই সঙ্গে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও স্থাপনাকে লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক হামলা আরও বাড়ানো হতে পারে।

এ পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানের তেল দখল করতে পারে এবং দেশটির প্রধান জ্বালানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে। দ্বীপটির প্রতিরক্ষা নিয়ে প্রশ্নে তিনি দাবি করেন, তাদের তেমন কোনো প্রতিরক্ষা নেই, আমরা খুব সহজেই এটি দখল করতে পারি।

এদিকে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার সতর্ক করে বলেছেন, তাঁদের বাহিনী আমেরিকান সেনাদের জন্য প্রস্তুত। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত ৩ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করেছে।

হরমুজ প্রণালি ঘিরেও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরান ওই পথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলার হুমকি দেওয়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা চরমে উঠেছে। বর্তমানে সেখানে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি হুতিদের হামলার কারণে ইয়েমেনের কাছে বাব আল-মান্দেব প্রণালিও ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে যৌথ হামলার আগে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ব্রেন্ট ক্রডের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৭২ ডলার। পরে তা দ্রুত বেড়ে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ১১৯ দশমকি ৫০ ডলারে পৌঁছে, যা ২০২২ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ।

সম্পর্কিত