পাকিস্তানি পাসপোর্ট ছিড়ে ফেলে দুই বাঙালি চিকিৎসক মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসায় আসেন শরণার্থী শিবিরে১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল। লন্ডনের বিখ্যাত হাইড পার্কে ঘটে এক অভূতপূর্ব ঘটনা। পাকিস্তানি বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে বিলাতের নিশ্চিত ও নিরাপদ জীবনের হাতছানি উপেক্ষা করে দুই বাঙালি তরুণ চিকিৎসক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও ডা. এম এ মবিন নিজেদের পাকিস্তানি পাসপোর্ট ছিড়ে আগুনে পুড়িয়ে দেন।
মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা: দোদুল্যমান সরকার কিন্তু অটল জনসমর্থন১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিশ্ব রাজনীতির পরাশক্তিগুলোর ভূমিকা ছিল স্পষ্ট ও বিভাজিত। একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সরাসরি পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিল, অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারত দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশের পাশে।
১৯৭১: চীন যে কারণে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিল১৯৭১ সালে বিশ্ব ছিল স্নায়ু যুদ্ধের টানাপোড়েনে ঝুঁকিপূর্ণ এক অবস্থায়। বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলো তখন পৃথিবীজুড়ে ভূরাজনৈতিক কৌশলগত দাবা খেলায় লিপ্ত ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা আজকের বাংলাদেশ এক গভীর সংকটের দিকে এগোচ্ছিল।
স্টেনগান টু জায়নামাজ: একাত্তরে যুদ্ধ করেছিলেন সুফি সাধক, পীর-মাশায়েখ ও দরবেশেরা‘আজান হয়েছে, আমাকে দুই রাকাত ফজরের নামাজ পড়তে দাও।’ একাত্তরের রমজান মাসে পাকিস্তানিদের কাছে শেষবারের মতো মিনতি করেছিলেন পীর বেলায়েত হোসেন। কিন্তু পাকিস্তানিরা তাঁকে সেই সুযোগ দেয়নি। ব্রাশফায়ারে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয় তাঁর দেহ। সঙ্গে তাঁর পরিবারের আরও ১০ সদস্যের।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কেন ইতিহাসের ভুল দিকে ছিল মধ্যপ্রাচ্যবাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ইতিহাসের ভুল দিকে অবস্থান নিয়েছিল। ধর্মীয় সংহতি, রাজনৈতিক স্বার্থ ও পরাশক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে তারা ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকা পালন করে।
একাত্তরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা: কৌশলগত স্বার্থের কাছে হেরেছিল মানবতা১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল সুপরিকল্পিত কৌশলগত স্বার্থরক্ষার এক নির্মম উদাহরণ। সে সময় মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চেয়ে স্নায়ুযুদ্ধের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ বড় হয়ে দেখা দিয়েছিল।
জহির রায়হানকে নিয়ে স্মৃতিলেখা: সুতোর টানআজ দশ বছর হতে চললো জহির নেই। দীর্ঘ দশটি বছর, অথচ মনে হয় এইতো সেদিনের কথা। এ. জে. করদারের সহকারী হিশেবে কাজ করছে জহির রায়হান। প্রথমে পরিচয়। তারপর ঘনিষ্ঠতা। পঞ্চাশের শেষের দিকেই হবে সম্ভবত। জহির তুমুল উৎসাহে স্ক্রিপ্ট করছে, ‘‘কখনো আসেনি’’-র স্ক্রিপ্ট। ছবি হবে।
একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর কাদের হারিয়েছে বাংলাদেশ‘ঠক ঠক, ঠক ঠক! স্যার একটু বাইরে আসবেন?’—এই কথাটি কানে এলেই আমাদের মনে পড়ে একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বরের কথা। বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি দুঃখজনক অধ্যায়। এই দিনেই আলবদর বাহিনী বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের তালিকা করে হত্যা করেছিল। কারণ, তারা চেয়েছিল বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করে দিতে।
বুদ্ধিজীবী কারা, একাত্তরে কীভাবে হত্যা করা হয়েছিল তাঁদেরমুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের ঠিক আগমুহূর্তে যখন পুরো জাতি স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর, ঠিক তখনই বাংলাদেশের বুকে নেমে আসে এক ভয়াল অন্ধকার। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং তাদের দোসররা মিলে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করেছিল এদেশের সূর্যসন্তানদের।
নির্বাচনী ডামাডোলে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের ওপর হামলার যত ঘটনাবিশ্ব রাজনীতির দিকে তাকালে দেখা যায় নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যে হামলার শিকার হয়েছেন অনেক গুরুত্বপূর্ন নেতারাও। কোথাও জনসমাগমে দাঁড়িয়ে গুলি ছোড়া হয়েছে, কোথাও বিস্ফোরণে থেমে গেছে এক নেতার প্রচারণা, কোথাও আবার র্যালির মাঝেই ভেঙে পড়েছে রাজনৈতিক নিরাপত্তার দেয়াল। যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাকিস্তান, ভারত থেকে জাপ
মুক্তিযুদ্ধ, মওলানা ভাসানী ও মাও সেতুংআজ মওলানা ভাসানীর জন্মদিন। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পরপরই ১৯৭১ সালের ২১ এপ্রিল মওলানা ভাসানী চীনের কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান মাও সেতুং, প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাই এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের কাছে অত্যন্ত আবেগময় ও যুক্তিপূর্ণ বার্তা পাঠান। এই বার্তাগুলোর উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বনেতাদের কাছে পাকিস্তান
১১০ বছর আগে রাজশাহী শহরে ঘুরে বেড়াত চিতাবাঘজেনে অবাক হবেন যে রাজশাহীর জঙ্গলে শেষ বাঘটি দেখা যায় ১২৫ বছর আগে। আর কোন কোন বন্যপ্রাণী সেখানে ছিল? নদী, জলাভূমি ও পুকুরে কী কী মাছ পাওয়া যেত? কী কী পাখি দেখা যেত? ১৯১৬ সালে প্রকাশিত এল এস এস ওম্যালি-এর বেঙ্গল ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার (রাজশাহী) থেকে অনুবাদ করেছেন ভূ-পর্যটক তারেক অণু।
মজলুমের মন থেকে মোছা যায়নি যে মওলানার নামআজ এক ‘অগ্নিপুরুষ’-এর জন্মদিন। ইতিহাসের পাতায় যার নাম লেখা আছে ‘মজলুম জননেতা’ হিসেবে, কিন্তু শোষকের কলিজা কাঁপাতে তিনি ছিলেন সাক্ষাৎ দাবানল। তিনি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
জেনারেল যখন নিজেই ধর্ষক: বাংকারের অন্ধকূপে নারী নির্যাতনের গোপন দলিল১৯৭১ সালের রণক্ষেত্র। চারদিকে লুটপাট আর নারী নির্যাতনের মহোৎসব। সাধারণ সৈনিকরা নিজেদের মধ্যে ফিসফিস করে কথা বলছে। তাদেরই একজন প্রশ্ন তুলল— ‘আমাদের কমান্ডার (জেনারেল নিয়াজী) নিজেই তো একজন ধর্ষক। তাহলে আমাদের থামাবে কে?’
তেলিয়াপাড়া চা-বাগানের ম্যানেজার বাংলোতেই ঠিক হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল১৯৭১ সালের ৪ঠা এপ্রিল সামরিক বাহিনীর বাঙালি কর্মকর্তারা সিলেটের হবিগঞ্জের তেলিয়াপাড়া চা বাগানে এক বৈঠকে মিলিত হন। সেখানেই প্রণীত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল, যা তেলিয়াপাড়া স্ট্র্যাটেজি নামে পরিচিত। অসংগঠিত ও বিচ্ছিন্নভাবে শুরু হওয়া এই যুদ্ধকে সংগঠিতভাবে পরিচালনা করার জন্য তেলিয়াপাড়া বৈঠকের আয়োজন করা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত যেভাবে মানবাধিকার দিবসের জন্ম দিলআজ ১০ ডিসেম্বর, বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। ১৯৪৮ সালের এই দিনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়। ১৯৫০ সালে এই দিনটিকে জাতিসংঘ বিশ্ব মানবাধিকার দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়। সেই থেকে বিশ্বজুড়ে এ দিনটি পালিত হচ্ছে।
মুক্তিযুদ্ধে কাদার ভূমিকামুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পর্যালোচনায় সাধারণত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, গেরিলা কৌশল কিংবা আধুনিক সমরাস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে বিশদ আলোচনা হলেও প্রকৃতির নীরব অথচ বিধ্বংসী ভূমিকা অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়।