স্ট্রিম ডেস্ক

গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার ধানমন্ডি লেক এলাকায় পুলিশ আকস্মিক অভিযান চালায়। পরদিন একই ধরনের ঘটনা দেখা যায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং ঢাকার বাইরে চাঁদপুরেও। মাদকবিরোধী অভিযানের নামে সাধারণ শিক্ষার্থী, পথচারী এবং বিনোদনপ্রেমীদের যেভাবে জেরা, তল্লাশি এবং ক্ষেত্রবিশেষে লাঠিপেটা করা হয়েছে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, পুলিশ সদস্যদের কেউ কেউ নাগরিকদের মানিব্যাগ, পকেট এবং মোবাইল ফোন চেক করছেন কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই।
এমনকি এক শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ‘ভদ্রলোক ইফতারের পর এখানে আসে না’ বলে মন্তব্য করে মারধর করার দৃশ্যও ভাইরাল হয়েছে। ‘অযাচিত ঘোরাঘুরি’ করলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, শিক্ষামন্ত্রী এ এন এম এহসানুল হক মিলনের এমন ঘোষণার পরপরই এই অভিযানগুলো শুরু হয়েছে।
এই ঘটনাগুলো আমাদের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন দাঁড় করিয়েছে—আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে পুলিশ আসলে কতদূর যেতে পারে? একজন নাগরিক হিসেবে রাস্তায় চলাফেরা করার সময় আপনার গোপনীয়তা ও সম্মানের অধিকার কতটুকু সুরক্ষিত? তল্লাশি, জেরা এবং মোবাইল ফোন চেক করার আইনি ভিত্তিই বা কি?
রাস্তায় পুলিশ কাউকে থামালে বা প্রশ্ন করলে অনেকেই ঘাবড়ে যান। তবে পুলিশ আইন ১৮৬১-এর ২৩ ধারা অনুযায়ী, অপরাধ প্রতিরোধ এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। ফৌজদারি কার্যবিধির (CrPC) ১৬১ ধারা পুলিশকে যেকোনো ব্যক্তিকে তদন্তের স্বার্থে মৌখিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করার ক্ষমতা দিয়েছে।
তবে এই ক্ষমতার একটি সীমারেখা আছে। পুলিশ আপনাকে থামিয়ে আপনার পরিচয় বা গন্তব্য জানতে চাইতে পারে, কিন্তু আপনাকে উত্তর দিতে বাধ্য করতে পারে না যদি সেই উত্তর আপনাকে কোনো অপরাধে ফাঁসিয়ে দেয়। অর্থাৎ ‘সেলফ-ইনক্রিমিনেশন’ বা নিজেকে দোষী সাব্যস্ত করার মতো কোনো কথা বলার বিরুদ্ধে আপনার আইনি সুরক্ষা রয়েছে।
সন্দেহভাজন না হলে বা কোনো অপরাধ সংঘটনের বিশ্বাসযোগ্য কারণ না থাকলে পুলিশ অকারণে কাউকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেরা করতে পারে না। ধানমন্ডি বা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যেভাবে ঢালাওভাবে সাধারণ মানুষকে জেরা করা হয়েছে, তা নিয়ে আইনজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফারান মো. আরাফ স্ট্রিমকে বলেন, পুলিশের ক্ষমতা নিরঙ্কুশ নয়; প্রতিটি পদক্ষেপের পেছনে অবশ্যই আইনি যুক্তি থাকতে হবে।
কাউকে তল্লাশি করার প্রক্রিয়া ফৌজদারি কার্যবিধি এবং পুলিশ রেগুলেশনস বেঙ্গল (পিআরবি) দ্বারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। চাইলেই একজন কনস্টেবল বা কর্মকর্তা কারও পকেটে হাত ঢোকাতে পারেন না।
সাধারণ নিয়ম হলো, কোনো বদ্ধ স্থান বা ব্যক্তির দেহ তল্লাশির জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের সার্চ ওয়ারেন্ট লাগে (ধারা ৯৪ ও ৯৬)। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা যদি মনে করেন ওয়ারেন্ট আনতে গেলে আলামত নষ্ট হবে, তবে তিনি কারণ লিপিবদ্ধ করে (ধারা ১৬৫) তাৎক্ষণিক তল্লাশি চালাতে পারেন।
ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩ ধারা অনুযায়ী, তল্লাশি হতে হবে স্বচ্ছ। পুলিশ যখন কাউকে তল্লাশি করবে, তখন স্থানীয় দুই বা ততোধিক গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে রাখতে হবে। কিন্তু সাম্প্রতিক অভিযানে দেখা গেছে, পুলিশ একাই তল্লাশি চালাচ্ছে, যা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২ ধারা অনুযায়ী, কোনো নারীকে তল্লাশি করতে হলে অবশ্যই একজন নারী পুলিশ সদস্যের সাহায্য নিতে হবে। পুরুষ পুলিশ সদস্যের কোনো নারীর দেহ স্পর্শ করার বা তল্লাশি করার এখতিয়ার নেই।
বর্তমান সময়ে পুলিশের হাতে হেনস্তার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে মোবাইল ফোন চেক করা। রাস্তায় থামিয়ে গ্যালারি বা মেসেজ চেক করার যে সংস্কৃতি চালু হয়েছে, তা সংবিধান ও মানবাধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৩(খ) অনুচ্ছেদ প্রত্যেক নাগরিককে তার চিঠিপত্র ও যোগাযোগের গোপনীয়তা রক্ষার গ্যারান্টি দিয়েছে। মোবাইল ফোন এখন ব্যক্তিগত জীবনের ডিজিটাল ডায়েরি। কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা বা আদালতের নির্দেশ ছাড়া পুলিশ কারও ফোন চেক করতে পারে না। সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ বা অন্য কোনো আইনেও পুলিশকে এমন ‘র্যান্ডম চেক’ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ সোলায়মান তুষার স্ট্রিমকে বলেন, ‘মোবাইল ফোন চেক করা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মারাত্মক লঙ্ঘন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দোহাই দিয়ে বিনা কারণে কারও ব্যক্তিগত ডিভাইসে প্রবেশ করা বেআইনি।’
উচ্চ আদালতও বিভিন্ন রায়ে বলেছে, তদন্তের স্বার্থে ডিভাইস জব্দ করতে হলে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে পাসওয়ার্ড চাওয়া বা জোর করে ফোন খুলে দেখা পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশ এক শিক্ষার্থীকে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছে। এটি কি আইনসম্মত? উত্তর হলো—না। বাংলাদেশের কোনো আইনেই পুলিশকে সন্দেহভাজন বা আটক ব্যক্তিকে মারধর করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, পুলিশি হেফাজতে কাউকে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। যদি কোনো কর্মকর্তার নির্যাতনে কারও মৃত্যু হয়, তবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে। এমনকি ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬ থেকে ৫৩ ধারা অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের সময় যতটুকু বলপ্রয়োগ প্রয়োজন (পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে), তার বেশি শক্তি প্রয়োগ করা যাবে না। অর্থাৎ, কেউ যদি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে, তবে তাকে চড়-থাপ্পড় বা লাঠিপেটা করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
সংবিধানের ৩৫(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেওয়া বা নিষ্ঠুর অমানবিক দণ্ড দেওয়া যাবে না। অথচ সাম্প্রতিক অভিযানে দেখা গেছে, পুলিশ বিচারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে নিজেই ‘শাস্তি’ দিচ্ছে, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ।
পুলিশের সামনে দাঁড়ালে ভয় পাওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু আইন জানা থাকলে আপনি নিজেকে রক্ষা করতে পারেন। যদি পুলিশ আপনাকে রাস্তায় আটকায় বা তল্লাশি করতে চায়: পুলিশের কাছে তার নাম, পদবি এবং কোন থানার অধীনে তিনি কর্মরত তা জানতে চান। সাদা পোশাকে থাকলে আইডি কার্ড দেখতে চাওয়া আপনার অধিকার। কেন আপনাকে জেরা বা তল্লাশি করা হচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে চান। তল্লাশির সময় আশেপাশে উপস্থিত সাধারণ মানুষকে সাক্ষী হিসেবে থাকার অনুরোধ করুন।
পুলিশ ফোন চেক করতে চাইলে ভদ্রভাবে বলুন যে এটি আপনার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং কোনো মামলা ছাড়া এটি চেক করা সংবিধানবিরোধী। পুলিশ যদি আপনার কোনো মালামাল (যেমন ফোন বা মানিব্যাগ) নিয়ে যায়, তবে অবশ্যই একটি জব্দ তালিকা বা সিজার লিস্ট (Seizure List) বুঝে নিন।
মাদক নির্মূল বা কিশোর অপরাধ দমন—রাষ্ট্রের এই উদ্দেশ্যগুলো মহৎ। কিন্তু সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের পথে যদি সাধারণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার ভূলুণ্ঠিত হয়, তবে তা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য শুভলক্ষণ নয়। শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা বা অভিভাবকদের উদ্বেগের দোহাই দিয়ে পুলিশ যদি আইনি প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে ‘হিল টার্ন’ নেয় বা খলনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তবে জনমনে আস্থার সংকট তৈরি হবে।
অপরাধ দমনে পুলিশের কঠোর হওয়া প্রয়োজন, কিন্তু সেই কঠোরতা হতে হবে আইনের চৌহদ্দির ভেতরে। বিনা ওয়ারেন্টে তল্লাশি, মোবাইল চেক করা বা গায়ে হাত তোলা—এগুলো পেশাদার বাহিনীর কাজ নয়। আইনের রক্ষক হয়ে আইন ভঙ্গ করা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করে তোলে। তাই এখনই সময়, পুলিশ বাহিনীকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার ধানমন্ডি লেক এলাকায় পুলিশ আকস্মিক অভিযান চালায়। পরদিন একই ধরনের ঘটনা দেখা যায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং ঢাকার বাইরে চাঁদপুরেও। মাদকবিরোধী অভিযানের নামে সাধারণ শিক্ষার্থী, পথচারী এবং বিনোদনপ্রেমীদের যেভাবে জেরা, তল্লাশি এবং ক্ষেত্রবিশেষে লাঠিপেটা করা হয়েছে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, পুলিশ সদস্যদের কেউ কেউ নাগরিকদের মানিব্যাগ, পকেট এবং মোবাইল ফোন চেক করছেন কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই।
এমনকি এক শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ‘ভদ্রলোক ইফতারের পর এখানে আসে না’ বলে মন্তব্য করে মারধর করার দৃশ্যও ভাইরাল হয়েছে। ‘অযাচিত ঘোরাঘুরি’ করলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, শিক্ষামন্ত্রী এ এন এম এহসানুল হক মিলনের এমন ঘোষণার পরপরই এই অভিযানগুলো শুরু হয়েছে।
এই ঘটনাগুলো আমাদের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন দাঁড় করিয়েছে—আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে পুলিশ আসলে কতদূর যেতে পারে? একজন নাগরিক হিসেবে রাস্তায় চলাফেরা করার সময় আপনার গোপনীয়তা ও সম্মানের অধিকার কতটুকু সুরক্ষিত? তল্লাশি, জেরা এবং মোবাইল ফোন চেক করার আইনি ভিত্তিই বা কি?
রাস্তায় পুলিশ কাউকে থামালে বা প্রশ্ন করলে অনেকেই ঘাবড়ে যান। তবে পুলিশ আইন ১৮৬১-এর ২৩ ধারা অনুযায়ী, অপরাধ প্রতিরোধ এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। ফৌজদারি কার্যবিধির (CrPC) ১৬১ ধারা পুলিশকে যেকোনো ব্যক্তিকে তদন্তের স্বার্থে মৌখিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করার ক্ষমতা দিয়েছে।
তবে এই ক্ষমতার একটি সীমারেখা আছে। পুলিশ আপনাকে থামিয়ে আপনার পরিচয় বা গন্তব্য জানতে চাইতে পারে, কিন্তু আপনাকে উত্তর দিতে বাধ্য করতে পারে না যদি সেই উত্তর আপনাকে কোনো অপরাধে ফাঁসিয়ে দেয়। অর্থাৎ ‘সেলফ-ইনক্রিমিনেশন’ বা নিজেকে দোষী সাব্যস্ত করার মতো কোনো কথা বলার বিরুদ্ধে আপনার আইনি সুরক্ষা রয়েছে।
সন্দেহভাজন না হলে বা কোনো অপরাধ সংঘটনের বিশ্বাসযোগ্য কারণ না থাকলে পুলিশ অকারণে কাউকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেরা করতে পারে না। ধানমন্ডি বা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যেভাবে ঢালাওভাবে সাধারণ মানুষকে জেরা করা হয়েছে, তা নিয়ে আইনজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফারান মো. আরাফ স্ট্রিমকে বলেন, পুলিশের ক্ষমতা নিরঙ্কুশ নয়; প্রতিটি পদক্ষেপের পেছনে অবশ্যই আইনি যুক্তি থাকতে হবে।
কাউকে তল্লাশি করার প্রক্রিয়া ফৌজদারি কার্যবিধি এবং পুলিশ রেগুলেশনস বেঙ্গল (পিআরবি) দ্বারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। চাইলেই একজন কনস্টেবল বা কর্মকর্তা কারও পকেটে হাত ঢোকাতে পারেন না।
সাধারণ নিয়ম হলো, কোনো বদ্ধ স্থান বা ব্যক্তির দেহ তল্লাশির জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের সার্চ ওয়ারেন্ট লাগে (ধারা ৯৪ ও ৯৬)। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা যদি মনে করেন ওয়ারেন্ট আনতে গেলে আলামত নষ্ট হবে, তবে তিনি কারণ লিপিবদ্ধ করে (ধারা ১৬৫) তাৎক্ষণিক তল্লাশি চালাতে পারেন।
ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩ ধারা অনুযায়ী, তল্লাশি হতে হবে স্বচ্ছ। পুলিশ যখন কাউকে তল্লাশি করবে, তখন স্থানীয় দুই বা ততোধিক গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে রাখতে হবে। কিন্তু সাম্প্রতিক অভিযানে দেখা গেছে, পুলিশ একাই তল্লাশি চালাচ্ছে, যা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২ ধারা অনুযায়ী, কোনো নারীকে তল্লাশি করতে হলে অবশ্যই একজন নারী পুলিশ সদস্যের সাহায্য নিতে হবে। পুরুষ পুলিশ সদস্যের কোনো নারীর দেহ স্পর্শ করার বা তল্লাশি করার এখতিয়ার নেই।
বর্তমান সময়ে পুলিশের হাতে হেনস্তার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে মোবাইল ফোন চেক করা। রাস্তায় থামিয়ে গ্যালারি বা মেসেজ চেক করার যে সংস্কৃতি চালু হয়েছে, তা সংবিধান ও মানবাধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৩(খ) অনুচ্ছেদ প্রত্যেক নাগরিককে তার চিঠিপত্র ও যোগাযোগের গোপনীয়তা রক্ষার গ্যারান্টি দিয়েছে। মোবাইল ফোন এখন ব্যক্তিগত জীবনের ডিজিটাল ডায়েরি। কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা বা আদালতের নির্দেশ ছাড়া পুলিশ কারও ফোন চেক করতে পারে না। সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ বা অন্য কোনো আইনেও পুলিশকে এমন ‘র্যান্ডম চেক’ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ সোলায়মান তুষার স্ট্রিমকে বলেন, ‘মোবাইল ফোন চেক করা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মারাত্মক লঙ্ঘন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দোহাই দিয়ে বিনা কারণে কারও ব্যক্তিগত ডিভাইসে প্রবেশ করা বেআইনি।’
উচ্চ আদালতও বিভিন্ন রায়ে বলেছে, তদন্তের স্বার্থে ডিভাইস জব্দ করতে হলে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে পাসওয়ার্ড চাওয়া বা জোর করে ফোন খুলে দেখা পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশ এক শিক্ষার্থীকে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছে। এটি কি আইনসম্মত? উত্তর হলো—না। বাংলাদেশের কোনো আইনেই পুলিশকে সন্দেহভাজন বা আটক ব্যক্তিকে মারধর করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, পুলিশি হেফাজতে কাউকে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। যদি কোনো কর্মকর্তার নির্যাতনে কারও মৃত্যু হয়, তবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে। এমনকি ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬ থেকে ৫৩ ধারা অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের সময় যতটুকু বলপ্রয়োগ প্রয়োজন (পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে), তার বেশি শক্তি প্রয়োগ করা যাবে না। অর্থাৎ, কেউ যদি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে, তবে তাকে চড়-থাপ্পড় বা লাঠিপেটা করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
সংবিধানের ৩৫(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেওয়া বা নিষ্ঠুর অমানবিক দণ্ড দেওয়া যাবে না। অথচ সাম্প্রতিক অভিযানে দেখা গেছে, পুলিশ বিচারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে নিজেই ‘শাস্তি’ দিচ্ছে, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ।
পুলিশের সামনে দাঁড়ালে ভয় পাওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু আইন জানা থাকলে আপনি নিজেকে রক্ষা করতে পারেন। যদি পুলিশ আপনাকে রাস্তায় আটকায় বা তল্লাশি করতে চায়: পুলিশের কাছে তার নাম, পদবি এবং কোন থানার অধীনে তিনি কর্মরত তা জানতে চান। সাদা পোশাকে থাকলে আইডি কার্ড দেখতে চাওয়া আপনার অধিকার। কেন আপনাকে জেরা বা তল্লাশি করা হচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে চান। তল্লাশির সময় আশেপাশে উপস্থিত সাধারণ মানুষকে সাক্ষী হিসেবে থাকার অনুরোধ করুন।
পুলিশ ফোন চেক করতে চাইলে ভদ্রভাবে বলুন যে এটি আপনার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং কোনো মামলা ছাড়া এটি চেক করা সংবিধানবিরোধী। পুলিশ যদি আপনার কোনো মালামাল (যেমন ফোন বা মানিব্যাগ) নিয়ে যায়, তবে অবশ্যই একটি জব্দ তালিকা বা সিজার লিস্ট (Seizure List) বুঝে নিন।
মাদক নির্মূল বা কিশোর অপরাধ দমন—রাষ্ট্রের এই উদ্দেশ্যগুলো মহৎ। কিন্তু সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের পথে যদি সাধারণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার ভূলুণ্ঠিত হয়, তবে তা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য শুভলক্ষণ নয়। শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা বা অভিভাবকদের উদ্বেগের দোহাই দিয়ে পুলিশ যদি আইনি প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে ‘হিল টার্ন’ নেয় বা খলনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তবে জনমনে আস্থার সংকট তৈরি হবে।
অপরাধ দমনে পুলিশের কঠোর হওয়া প্রয়োজন, কিন্তু সেই কঠোরতা হতে হবে আইনের চৌহদ্দির ভেতরে। বিনা ওয়ারেন্টে তল্লাশি, মোবাইল চেক করা বা গায়ে হাত তোলা—এগুলো পেশাদার বাহিনীর কাজ নয়। আইনের রক্ষক হয়ে আইন ভঙ্গ করা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করে তোলে। তাই এখনই সময়, পুলিশ বাহিনীকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

গণতন্ত্রকে বিবেচনা করা হয় জনগণের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষার সর্বোচ্চ প্রতিফলন হিসেবে। জনগণের ম্যান্ডেট বা জনসমর্থনই হলো গণতান্ত্রিক ক্ষমতার মূল উৎস। কিন্তু একুশ শতকের বিশ্ব রাজনীতিতে এই দৃশ্যমান ক্ষমতার সমান্তরালে এক অদৃশ্য শক্তির সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যাকে বলা হয় ‘ডিপ স্টেট’ বা ‘রাষ্ট্রের অভ্যন্ত
১ দিন আগে
১৯৯২ সালে জাইদি শিয়া মতাদর্শের পুনর্জাগরণ এবং সৌদি আরবের ওয়াহাবি প্রভাব মোকাবিলার জন্য হুসেইন বদরেদ্দীন আল-হুথি 'বিলিভিং ইয়ুথ' নামের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
১ দিন আগে
ট্রান্সআটলান্টিক বা আটলান্টিক পাড়ের দাস ব্যবসাকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এবং ক্ষতিপূরণের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে।
২ দিন আগে
মাইক্রোফোন হাতে তাঁরা একসময় মঞ্চ কাঁপিয়েছেন। শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে তুলে ধরেছেন সমাজের নানা অসঙ্গতি। তাঁদের গানের তালে মেতেছে তরুণ প্রজন্ম। সেই র্যাপাররা সামলাচ্ছেন রাষ্ট্রের গুরুদায়িত্ব।
২ দিন আগে