স্ট্রিম ডেস্ক

মাইক্রোফোন হাতে তাঁরা একসময় মঞ্চ কাঁপিয়েছেন। শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে তুলে ধরেছেন সমাজের নানা অসঙ্গতি। তাঁদের গানের তালে মেতেছে তরুণ প্রজন্ম। সেই র্যাপাররা সামলাচ্ছেন রাষ্ট্রের গুরুদায়িত্ব। ২৭ মার্চ নেপালের প্রধানমন্ত্রীর শপথ নিয়েছেন বালেন্দ্র শাহ। অন্যদিকে জানুয়ারির ১ তারিখ নিউইয়র্কের মেয়রের চেয়ারে বসেছেন জোহরান মামদানি। দুজনের ভৌগোলিক অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। দুজন দুই গোলার্ধের মানুষ। তারপরও রাজনীতির মাঠে তাঁরা নিয়ে এসেছেন সম্পূর্ণ নতুন আলোচনা। জোহরান মামদানিকে নিয়ে আলোচনা আরও বহুদূর গড়িয়েছে। অনেকেই ধারণা করছেন, তিনি সামনের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও বড় চমক হিসেবে আবির্ভূত হবেন।
প্রতিবাদের ভাষা যখন হিপহপ
হিপহপ বা র্যাপ গান সব সময়ই প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে পরিচিত। সমাজের অবহেলিত মানুষের ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে এই শিল্পের জন্ম। বালেন্দ্র শাহ নেপালের কাঠমান্ডুর রাস্তায় পরিচিত ছিলেন আন্ডারগ্রাউন্ড র্যাপার হিসেবে। জোহরান মামদানিও ‘মিস্টার কার্ডামম’ ছদ্মনামে র্যাপ করতেন। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন, এখনকার রাজনীতিতে যোগাযোগের ধরন বদলে গেছে। তরুণ ভোটাররা এখন আর লম্বা প্রতিশ্রুতি শুনতে চায় না। তারা চায় এমন নেতা যে তাদের ভাষায় কথা বলবে।
কাঠমান্ডুর মেয়র থেকে নেপালের প্রধানমন্ত্রী
বালেন্দ্র শাহ পেশায় একজন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার। ২০২২ সালে তিনি কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন। কোনো বড় দলের সমর্থন তাঁর ছিল না। স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে তিনি জয়ী হন। চোখে কালো চশমা পরা এই তরুণ দ্রুতই মানুষের মন জয় করেন। মুখে সব সময় দৃঢ় প্রতিজ্ঞা। তিনি দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেন। তাঁর কাজের ধরন ছিল সরাসরি ও স্বচ্ছ। নেপালের মানুষ প্রথাগত রাজনীতিকদের ওপর চরম বিরক্ত ছিল। বালেন্দ্র তাদের সামনে আশার আলো হয়ে আসেন। মেয়র হিসেবে তাঁর অভাবনীয় সাফল্য তাঁকে আরও বড় স্বপ্ন দেখায়। ২০২৫ সালে নেপালের জেন-জি গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন করে আবার আলোচনায় আসেন তিনি। পরবর্তী দৃশ্যপটে ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। তাঁর উত্থান প্রমাণ করে মানুষ এখন কথার চেয়ে কাজের নেতা বেশি পছন্দ করে। দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক মতামতে রাজনৈতিক বিশ্লেষক লোকরাজ বড়াল বলেন, নেপালের রাজনীতিতে বালেন্দ্র শাহ একটি ভূমিকম্পের নাম। তিনি প্রমাণ করেছেন পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর দিন ফুরিয়ে আসছে।
কুইন্স থেকে নিউইয়র্কের সিটি হল
জোহরান মামদানির গল্পটাও কম আকর্ষণীয় নয়। উগান্ডান-ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই আমেরিকান তরুণ একজন ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট। তিনি নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য ছিলেন। আবাসন সংকট ও গণপরিবহন নিয়ে তিনি সব সময় সরব ছিলেন। তাঁর র্যাপ গান ‘নানি’ তাঁকে ব্যাপক পরিচিতি দেয়। তবে তিনি শুধু গানেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। তিনি মানুষের দ্বারে দ্বারে গেছেন। নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে তিনি প্রগতিশীলদের নিরঙ্কুশ সমর্থন পান। তিনি প্রতিষ্ঠিত ও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের হারিয়ে মেয়রের চেয়ারে বসেন। তাঁর রাজনৈতিক স্টাইল একেবারে সাধারণ মানুষের মতো। তিনি মেট্রোতে ঘোরেন। রাস্তায় নেমে মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।
দুই নেতার রাজনীতির নতুন স্টাইল
বালেন্দ্র শাহ এবং জোহরান মামদানির রাজনৈতিক যাত্রাপথ ভিন্ন হলেও তাঁদের কাজের ধরন ও কৌশলে কিছু মিল রয়েছে। এই মিলগুলোই তাঁদের প্রথাগত রাজনীতিকদের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।
প্রথমত, দুজনেরই বড় শক্তি হলো তাঁদের ‘অ্যান্টি-এস্টাবলিশমেন্ট’ বা এস্টাবলিশমেন্ট-বিরোধী অবস্থান। বালেন্দ্র শাহ নেপালের পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে একজন স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছেন। অন্যদিকে, জোহরান মামদানি আমেরিকার ডেমোক্রেটিক পার্টির মূলধারার নেতৃত্বের বিরোধিতা করে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট হিসেবে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। দুজনেই প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক অভিজাতদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের সমর্থন আদায় করেছেন।
দ্বিতীয়ত, তাঁদের প্রধান ভোটব্যাংক হলো তরুণ সমাজ। বালেন্দ্র শাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও তাঁর সংস্কারমুখী বার্তার মাধ্যমে কাঠমান্ডুর শহুরে তরুণদের বিপুল সমর্থন পেয়েছিলেন। অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তাই তরুণদের মূল পছন্দের রাজনীতিবিদে পরিণত হন বালেন্দ্র শাহ। যার ফল দেখা গেছে ভোটের বাক্সে। জোহরানও নিউইয়র্কের কুইন্সের মতো বৈচিত্র্যময় এলাকায় তরুণ ও প্রগতিশীল ভোটারদের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হতে পেরেছেন।
তৃতীয়ত, তাঁদের যোগাযোগের ধরন বা কমিউনিকেশন স্টাইল। বালেন্দ্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি এবং সাহসী বক্তব্য দিয়ে নাগরিকদের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। জোহরানও তাঁর অ্যাক্টিভিস্ট-স্টাইলের বার্তার মাধ্যমে জটিল নীতিগুলো খুব সহজে মানুষের কাছে পৌঁছে দেন। প্রথাগত রাজনৈতিক বাগাড়ম্বরের চেয়ে তাঁরা সরাসরি এবং স্পষ্ট কথা বলতেই বেশি পছন্দ করেন।
চতুর্থত, দুজনেই সংস্কারমুখী মানসিকতা বা রিফর্ম-ওরিয়েন্টেড মাইন্ডসেট ধারণ করেন। বালেন্দ্রর ফোকাস মূলত সুশাসন, দুর্নীতি দমন এবং কাজের দক্ষতার ওপর। আর জোহরানের ফোকাস কাঠামোগত সংস্কার, বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ওপর।
এই এতসব মিলের মাঝেও তাঁদের রাজনৈতিক দর্শনে একটি বড় পার্থক্য রয়েছে। বালেন্দ্র শাহ মূলত একজন ‘টেকনোক্র্যাট’ এবং সুশাসন-কেন্দ্রিক নেতা, যার গায়ে কোনো নির্দিষ্ট আদর্শিক তকমা বা লেবেল নেই। অন্যদিকে, জোহরান মামদানির রাজনীতি স্পষ্টভাবে আদর্শিক (ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট) এবং তিনি আমেরিকার একটি বৃহত্তর প্রগতিশীল রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জোহরানের সম্ভাবনা
নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে জোহরান মামদানির সাফল্য তাঁকে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে। আমেরিকার রাজনীতিতে এখন ডেমোক্র্যাট দলের ভেতর নতুন নেতৃত্বের খোঁজ চলছে। প্রগতিশীল অংশ একজন তরুণ ও ক্যারিশম্যাটিক নেতা খুঁজছে। জোহরান মামদানি সেই শূন্যস্থান খুব সহজেই পূরণ করতে পারেন। তিনি অভিবাসী পরিবারের সন্তান। আমেরিকার বর্তমান ডেমোগ্রাফিক বা জনসংখ্যার চিত্রে এই পরিচয়গুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন জোহরান সামনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠবেন। তিনি হয়তো শুরুতেই সরাসরি প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হবেন না। তবে তিনি ডেমোক্র্যাট দলের প্রাইমারি নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারবেন। জেন-জি ভোটাররা তাঁর পক্ষে কাজ করবে। তাঁর র্যাপার ইমেজ এবং সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারা তরুণদের প্রবলভাবে আকৃষ্ট করে।
বিশ্ব রাজনীতি এখন পরিবর্তনের প্রবল হাওয়ায় দুলছে। পুরোনো রাজনৈতিক ধ্যানধারণা ভেঙে পড়ছে। মানুষ এখন আর স্যুট-টাই পরা কেতাদুরস্ত নেতাদের ওপর ভরসা রাখতে পারছে না। তারা খুঁজছে এমন কাউকে যে তাদের কথা বুঝবে। বালেন্দ্র শাহ এবং জোহরান মামদানি সেই নতুন দিনের উজ্জ্বল প্রতিনিধি। র্যাপ গানের মঞ্চ থেকে তাঁরা উঠে এসেছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী জায়গায়। তাঁদের যাত্রা প্রমাণ করে, সাধারণ মানুষ চাইলে যেকোনো কাঠামো ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরি করতে পারে।

মাইক্রোফোন হাতে তাঁরা একসময় মঞ্চ কাঁপিয়েছেন। শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে তুলে ধরেছেন সমাজের নানা অসঙ্গতি। তাঁদের গানের তালে মেতেছে তরুণ প্রজন্ম। সেই র্যাপাররা সামলাচ্ছেন রাষ্ট্রের গুরুদায়িত্ব। ২৭ মার্চ নেপালের প্রধানমন্ত্রীর শপথ নিয়েছেন বালেন্দ্র শাহ। অন্যদিকে জানুয়ারির ১ তারিখ নিউইয়র্কের মেয়রের চেয়ারে বসেছেন জোহরান মামদানি। দুজনের ভৌগোলিক অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। দুজন দুই গোলার্ধের মানুষ। তারপরও রাজনীতির মাঠে তাঁরা নিয়ে এসেছেন সম্পূর্ণ নতুন আলোচনা। জোহরান মামদানিকে নিয়ে আলোচনা আরও বহুদূর গড়িয়েছে। অনেকেই ধারণা করছেন, তিনি সামনের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও বড় চমক হিসেবে আবির্ভূত হবেন।
প্রতিবাদের ভাষা যখন হিপহপ
হিপহপ বা র্যাপ গান সব সময়ই প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে পরিচিত। সমাজের অবহেলিত মানুষের ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে এই শিল্পের জন্ম। বালেন্দ্র শাহ নেপালের কাঠমান্ডুর রাস্তায় পরিচিত ছিলেন আন্ডারগ্রাউন্ড র্যাপার হিসেবে। জোহরান মামদানিও ‘মিস্টার কার্ডামম’ ছদ্মনামে র্যাপ করতেন। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন, এখনকার রাজনীতিতে যোগাযোগের ধরন বদলে গেছে। তরুণ ভোটাররা এখন আর লম্বা প্রতিশ্রুতি শুনতে চায় না। তারা চায় এমন নেতা যে তাদের ভাষায় কথা বলবে।
কাঠমান্ডুর মেয়র থেকে নেপালের প্রধানমন্ত্রী
বালেন্দ্র শাহ পেশায় একজন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার। ২০২২ সালে তিনি কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন। কোনো বড় দলের সমর্থন তাঁর ছিল না। স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে তিনি জয়ী হন। চোখে কালো চশমা পরা এই তরুণ দ্রুতই মানুষের মন জয় করেন। মুখে সব সময় দৃঢ় প্রতিজ্ঞা। তিনি দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেন। তাঁর কাজের ধরন ছিল সরাসরি ও স্বচ্ছ। নেপালের মানুষ প্রথাগত রাজনীতিকদের ওপর চরম বিরক্ত ছিল। বালেন্দ্র তাদের সামনে আশার আলো হয়ে আসেন। মেয়র হিসেবে তাঁর অভাবনীয় সাফল্য তাঁকে আরও বড় স্বপ্ন দেখায়। ২০২৫ সালে নেপালের জেন-জি গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন করে আবার আলোচনায় আসেন তিনি। পরবর্তী দৃশ্যপটে ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। তাঁর উত্থান প্রমাণ করে মানুষ এখন কথার চেয়ে কাজের নেতা বেশি পছন্দ করে। দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক মতামতে রাজনৈতিক বিশ্লেষক লোকরাজ বড়াল বলেন, নেপালের রাজনীতিতে বালেন্দ্র শাহ একটি ভূমিকম্পের নাম। তিনি প্রমাণ করেছেন পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর দিন ফুরিয়ে আসছে।
কুইন্স থেকে নিউইয়র্কের সিটি হল
জোহরান মামদানির গল্পটাও কম আকর্ষণীয় নয়। উগান্ডান-ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই আমেরিকান তরুণ একজন ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট। তিনি নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য ছিলেন। আবাসন সংকট ও গণপরিবহন নিয়ে তিনি সব সময় সরব ছিলেন। তাঁর র্যাপ গান ‘নানি’ তাঁকে ব্যাপক পরিচিতি দেয়। তবে তিনি শুধু গানেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। তিনি মানুষের দ্বারে দ্বারে গেছেন। নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে তিনি প্রগতিশীলদের নিরঙ্কুশ সমর্থন পান। তিনি প্রতিষ্ঠিত ও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের হারিয়ে মেয়রের চেয়ারে বসেন। তাঁর রাজনৈতিক স্টাইল একেবারে সাধারণ মানুষের মতো। তিনি মেট্রোতে ঘোরেন। রাস্তায় নেমে মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।
দুই নেতার রাজনীতির নতুন স্টাইল
বালেন্দ্র শাহ এবং জোহরান মামদানির রাজনৈতিক যাত্রাপথ ভিন্ন হলেও তাঁদের কাজের ধরন ও কৌশলে কিছু মিল রয়েছে। এই মিলগুলোই তাঁদের প্রথাগত রাজনীতিকদের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।
প্রথমত, দুজনেরই বড় শক্তি হলো তাঁদের ‘অ্যান্টি-এস্টাবলিশমেন্ট’ বা এস্টাবলিশমেন্ট-বিরোধী অবস্থান। বালেন্দ্র শাহ নেপালের পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে একজন স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছেন। অন্যদিকে, জোহরান মামদানি আমেরিকার ডেমোক্রেটিক পার্টির মূলধারার নেতৃত্বের বিরোধিতা করে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট হিসেবে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। দুজনেই প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক অভিজাতদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের সমর্থন আদায় করেছেন।
দ্বিতীয়ত, তাঁদের প্রধান ভোটব্যাংক হলো তরুণ সমাজ। বালেন্দ্র শাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও তাঁর সংস্কারমুখী বার্তার মাধ্যমে কাঠমান্ডুর শহুরে তরুণদের বিপুল সমর্থন পেয়েছিলেন। অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তাই তরুণদের মূল পছন্দের রাজনীতিবিদে পরিণত হন বালেন্দ্র শাহ। যার ফল দেখা গেছে ভোটের বাক্সে। জোহরানও নিউইয়র্কের কুইন্সের মতো বৈচিত্র্যময় এলাকায় তরুণ ও প্রগতিশীল ভোটারদের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হতে পেরেছেন।
তৃতীয়ত, তাঁদের যোগাযোগের ধরন বা কমিউনিকেশন স্টাইল। বালেন্দ্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি এবং সাহসী বক্তব্য দিয়ে নাগরিকদের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। জোহরানও তাঁর অ্যাক্টিভিস্ট-স্টাইলের বার্তার মাধ্যমে জটিল নীতিগুলো খুব সহজে মানুষের কাছে পৌঁছে দেন। প্রথাগত রাজনৈতিক বাগাড়ম্বরের চেয়ে তাঁরা সরাসরি এবং স্পষ্ট কথা বলতেই বেশি পছন্দ করেন।
চতুর্থত, দুজনেই সংস্কারমুখী মানসিকতা বা রিফর্ম-ওরিয়েন্টেড মাইন্ডসেট ধারণ করেন। বালেন্দ্রর ফোকাস মূলত সুশাসন, দুর্নীতি দমন এবং কাজের দক্ষতার ওপর। আর জোহরানের ফোকাস কাঠামোগত সংস্কার, বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ওপর।
এই এতসব মিলের মাঝেও তাঁদের রাজনৈতিক দর্শনে একটি বড় পার্থক্য রয়েছে। বালেন্দ্র শাহ মূলত একজন ‘টেকনোক্র্যাট’ এবং সুশাসন-কেন্দ্রিক নেতা, যার গায়ে কোনো নির্দিষ্ট আদর্শিক তকমা বা লেবেল নেই। অন্যদিকে, জোহরান মামদানির রাজনীতি স্পষ্টভাবে আদর্শিক (ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট) এবং তিনি আমেরিকার একটি বৃহত্তর প্রগতিশীল রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জোহরানের সম্ভাবনা
নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে জোহরান মামদানির সাফল্য তাঁকে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে। আমেরিকার রাজনীতিতে এখন ডেমোক্র্যাট দলের ভেতর নতুন নেতৃত্বের খোঁজ চলছে। প্রগতিশীল অংশ একজন তরুণ ও ক্যারিশম্যাটিক নেতা খুঁজছে। জোহরান মামদানি সেই শূন্যস্থান খুব সহজেই পূরণ করতে পারেন। তিনি অভিবাসী পরিবারের সন্তান। আমেরিকার বর্তমান ডেমোগ্রাফিক বা জনসংখ্যার চিত্রে এই পরিচয়গুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন জোহরান সামনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠবেন। তিনি হয়তো শুরুতেই সরাসরি প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হবেন না। তবে তিনি ডেমোক্র্যাট দলের প্রাইমারি নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারবেন। জেন-জি ভোটাররা তাঁর পক্ষে কাজ করবে। তাঁর র্যাপার ইমেজ এবং সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারা তরুণদের প্রবলভাবে আকৃষ্ট করে।
বিশ্ব রাজনীতি এখন পরিবর্তনের প্রবল হাওয়ায় দুলছে। পুরোনো রাজনৈতিক ধ্যানধারণা ভেঙে পড়ছে। মানুষ এখন আর স্যুট-টাই পরা কেতাদুরস্ত নেতাদের ওপর ভরসা রাখতে পারছে না। তারা খুঁজছে এমন কাউকে যে তাদের কথা বুঝবে। বালেন্দ্র শাহ এবং জোহরান মামদানি সেই নতুন দিনের উজ্জ্বল প্রতিনিধি। র্যাপ গানের মঞ্চ থেকে তাঁরা উঠে এসেছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী জায়গায়। তাঁদের যাত্রা প্রমাণ করে, সাধারণ মানুষ চাইলে যেকোনো কাঠামো ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরি করতে পারে।

গণতন্ত্রকে বিবেচনা করা হয় জনগণের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষার সর্বোচ্চ প্রতিফলন হিসেবে। জনগণের ম্যান্ডেট বা জনসমর্থনই হলো গণতান্ত্রিক ক্ষমতার মূল উৎস। কিন্তু একুশ শতকের বিশ্ব রাজনীতিতে এই দৃশ্যমান ক্ষমতার সমান্তরালে এক অদৃশ্য শক্তির সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যাকে বলা হয় ‘ডিপ স্টেট’ বা ‘রাষ্ট্রের অভ্যন্ত
১৫ ঘণ্টা আগে
১৯৯২ সালে জাইদি শিয়া মতাদর্শের পুনর্জাগরণ এবং সৌদি আরবের ওয়াহাবি প্রভাব মোকাবিলার জন্য হুসেইন বদরেদ্দীন আল-হুথি 'বিলিভিং ইয়ুথ' নামের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
১ দিন আগে
ট্রান্সআটলান্টিক বা আটলান্টিক পাড়ের দাস ব্যবসাকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এবং ক্ষতিপূরণের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে।
১ দিন আগে
প্রশ্ন উঠছে—ফেরিঘাটে এত মানুষের প্রাণহানির দায় কার? ঘাট কর্তৃপক্ষ, বাসের চালক, নাকি প্রচলিত আইনের প্রয়োগহীনতা?
২ দিন আগে