স্ট্রিম প্রতিবেদক

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি)। গত এক বছর এনসিপির জন্য ছিল নাটকীয়তা, দলত্যাগ, সমালোচনা এবং নির্বাচনী সাফল্যের সংমিশ্রণ। অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দলটির এক বছর পূর্তিতে এখন প্রশ্ন—তারা কি পেরেছে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে, নাকি পুরোনো রাজনীতির আবর্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে।
অভ্যুত্থান থেকে রাজনৈতিক মঞ্চ
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা শাসনের পতনের পর ওই বছর ৮ সেপ্টেম্বর ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’ গঠিত হয়। এই কমিটির নেতারাই পরে ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি গঠন করেন রাজনৈতিক দল এনসিপি। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সে সময় বলেছিলেন, ‘বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলো যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী নিজেদের সংস্কার করতে পারত, তবে এনসিপির প্রয়োজন হতো না। সাত মাস অপেক্ষা করার পর যখন দেখলাম, তারা পুরোনো দলাদলিতেই ব্যস্ত, তখনই আমরা দল গঠনের সিদ্ধান্ত নিই।’
নির্বাচনী সাফল্য ও ‘জামায়াত’ বিতর্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি চমক দেখায়। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে শরিক হয়ে তারা ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবং ৬টি আসনে জেতে। দলটির শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, হান্নান মাসউদের মতো আলোচিত মুখ এখন সংসদের সদস্য। নাহিদ ইসলাম পেয়েছেন প্রধান বিরোধী দলীয় চিফ হুইপের দায়িত্ব।
তবে জামায়াতের সঙ্গে জোট করা নিয়ে দলটির ভেতর ও বাইরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা, তাজনূভা জাবীন, আজাদ খান ভাসানী, আরিফ সোহেলসহ অনেকেই জোটের বিরোধিতায় দল ছাড়েন। পদত্যাগের পর তাজনূভা জাবীন আক্ষেপ করে লিখেছিলেন, ‘এই জোট হজম করে মরতেও পারব না আমি।’
ভাঙন ও আদর্শিক সংঘাত
এক বছরের মাথায় এনসিপি কয়েক দফা ভাঙনের মুখে পড়েছে। শুরুতে ছাত্র শিবিরের সাবেক নেতারা দল থেকে সরে যান। পরে বামপন্থীদের একটি অংশও বেরিয়ে যায়। সবশেষ জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী জোট হওয়ায় দল থেকে এক ডজনের ওপর নেতা পদত্যাগ করেন। এসময় কেউ কেউ আবার স্বতন্ত্র নির্বাচনের ঘোষণাও দেন।
গত এক বছরের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে নেতাদের পদত্যাগের বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত বলেন, ‘পুরো এস্টাবলিশমেন্ট আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। মিডিয়া ও সুশীল সমাজ আমাদের চাপে রাখতে চেয়েছে। আমাদের ৬টি আসন পাওয়া প্রপাগান্ডাকারীদের জন্য বড় জবাব। জনগণ আমাদের প্রত্যাখ্যান করেনি।’
বিশ্লেষকদের চোখে এনসিপি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক কে এম মহিউদ্দিন মনে করেন, এনসিপি সম্পর্কে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন। তিনি বলেন, ‘তরুণদের এই দলটির অভিজ্ঞতার অভাব থাকলেও তরুণদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা আছে।’
আরেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক শামসুল আলম মনে করেন, এনসিপিকে টিকে থাকতে হলে জামায়াতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব শক্তিতে দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, ‘জনগণ চায় এনসিপি তার স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখুক।’
আগামীর পথচলা
এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনের মতে, এনসিপি কখনোই ‘কিংস পার্টি’ ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমরা স্ট্রাগল করেই বড় হয়েছি। মানুষ পরিবর্তন চায়, আর সেই পরিবর্তনের বিকল্প হিসেবে এনসিপি নিজেদের তৈরি করছে। ৩০০ আসনে অবস্থান না থাকায় হয়তো আমরা বড় বিজয় পাইনি, কিন্তু আগামীতে এনসিপিই হবে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি।’
এনসিপি এখন সংসদে ও রাজপথে ‘সংস্কার’ বাস্তবায়নে সোচ্চার হতে চায়। জামায়াতের সাথে জোটবদ্ধতা আপাতত বহাল থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাদের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল রয়েছে। অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাই এখন এনসিপির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি)। গত এক বছর এনসিপির জন্য ছিল নাটকীয়তা, দলত্যাগ, সমালোচনা এবং নির্বাচনী সাফল্যের সংমিশ্রণ। অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দলটির এক বছর পূর্তিতে এখন প্রশ্ন—তারা কি পেরেছে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে, নাকি পুরোনো রাজনীতির আবর্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে।
অভ্যুত্থান থেকে রাজনৈতিক মঞ্চ
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা শাসনের পতনের পর ওই বছর ৮ সেপ্টেম্বর ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’ গঠিত হয়। এই কমিটির নেতারাই পরে ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি গঠন করেন রাজনৈতিক দল এনসিপি। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সে সময় বলেছিলেন, ‘বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলো যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী নিজেদের সংস্কার করতে পারত, তবে এনসিপির প্রয়োজন হতো না। সাত মাস অপেক্ষা করার পর যখন দেখলাম, তারা পুরোনো দলাদলিতেই ব্যস্ত, তখনই আমরা দল গঠনের সিদ্ধান্ত নিই।’
নির্বাচনী সাফল্য ও ‘জামায়াত’ বিতর্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি চমক দেখায়। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে শরিক হয়ে তারা ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবং ৬টি আসনে জেতে। দলটির শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, হান্নান মাসউদের মতো আলোচিত মুখ এখন সংসদের সদস্য। নাহিদ ইসলাম পেয়েছেন প্রধান বিরোধী দলীয় চিফ হুইপের দায়িত্ব।
তবে জামায়াতের সঙ্গে জোট করা নিয়ে দলটির ভেতর ও বাইরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা, তাজনূভা জাবীন, আজাদ খান ভাসানী, আরিফ সোহেলসহ অনেকেই জোটের বিরোধিতায় দল ছাড়েন। পদত্যাগের পর তাজনূভা জাবীন আক্ষেপ করে লিখেছিলেন, ‘এই জোট হজম করে মরতেও পারব না আমি।’
ভাঙন ও আদর্শিক সংঘাত
এক বছরের মাথায় এনসিপি কয়েক দফা ভাঙনের মুখে পড়েছে। শুরুতে ছাত্র শিবিরের সাবেক নেতারা দল থেকে সরে যান। পরে বামপন্থীদের একটি অংশও বেরিয়ে যায়। সবশেষ জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী জোট হওয়ায় দল থেকে এক ডজনের ওপর নেতা পদত্যাগ করেন। এসময় কেউ কেউ আবার স্বতন্ত্র নির্বাচনের ঘোষণাও দেন।
গত এক বছরের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে নেতাদের পদত্যাগের বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত বলেন, ‘পুরো এস্টাবলিশমেন্ট আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। মিডিয়া ও সুশীল সমাজ আমাদের চাপে রাখতে চেয়েছে। আমাদের ৬টি আসন পাওয়া প্রপাগান্ডাকারীদের জন্য বড় জবাব। জনগণ আমাদের প্রত্যাখ্যান করেনি।’
বিশ্লেষকদের চোখে এনসিপি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক কে এম মহিউদ্দিন মনে করেন, এনসিপি সম্পর্কে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন। তিনি বলেন, ‘তরুণদের এই দলটির অভিজ্ঞতার অভাব থাকলেও তরুণদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা আছে।’
আরেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক শামসুল আলম মনে করেন, এনসিপিকে টিকে থাকতে হলে জামায়াতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব শক্তিতে দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, ‘জনগণ চায় এনসিপি তার স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখুক।’
আগামীর পথচলা
এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনের মতে, এনসিপি কখনোই ‘কিংস পার্টি’ ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমরা স্ট্রাগল করেই বড় হয়েছি। মানুষ পরিবর্তন চায়, আর সেই পরিবর্তনের বিকল্প হিসেবে এনসিপি নিজেদের তৈরি করছে। ৩০০ আসনে অবস্থান না থাকায় হয়তো আমরা বড় বিজয় পাইনি, কিন্তু আগামীতে এনসিপিই হবে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি।’
এনসিপি এখন সংসদে ও রাজপথে ‘সংস্কার’ বাস্তবায়নে সোচ্চার হতে চায়। জামায়াতের সাথে জোটবদ্ধতা আপাতত বহাল থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাদের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল রয়েছে। অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাই এখন এনসিপির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

ঢাকার দুটিসহ (উত্তর ও দক্ষিণ) পাঁচ সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রোববার (২৯ মার্চ) রাতে রাজধানীর বাংলামটরে অস্থায়ী কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।
১১ ঘণ্টা আগে
ঘোষণার পরও সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ছায়া মন্ত্রিসভা দিতে পারেনি। দেরি করার পেছনে দলটির নেতারা বলছেন, আইনি কাঠামো ছাড়া ছায়া মন্ত্রিসভা কার্যকর হবে না। এজন্য ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের পরে সরকারের কাছে তারা ‘এক্সেস টু মিনিস্ট্রি’ বিষয়ে আইনি ভিত্তি চাইবেন।
১২ ঘণ্টা আগে
সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ বিষয়ে রোববার (২৯ মার্চ) রাত ৯টায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে।
১ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রতিদিন রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হলে দলের বদনাম হবে। মানুষেরও কষ্ট হবে। শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়া বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উদ্দেশে একথা বলেন তিনি।
১ দিন আগে