দ্য গার্ডিয়ানের সম্পাদকীয়
স্ট্রিম ডেস্ক

‘ডেইজি মিলার’ উপন্যাসে হেনরি জেমস লিখেছিলেন, ‘মেয়েটি এখন আর কোনোভাবেই তাঁকে চমকাতে পারে না। অথচ এই মেয়ের অপ্রত্যাশিত আচরণে একসময় কতই না চমকেছেন তিনি। এখন এই অপ্রত্যাশিত ব্যাপারটিই যেন প্রত্যাশিত হয়ে গেছে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বিশ্বনেতারা নিশ্চয়ই এই অনুভূতির সঙ্গে খুব ভালোভাবে পরিচিত। জেমসের উপন্যাসের সেই আমেরিকান তরুণী ইউরোপে এসে খেই হারিয়ে ফেলেছিল, নানা কুসংস্কারের শিকার হয়েছিল। অন্যদিকে ট্রাম্প হলেন বাস্তব পৃথিবীর এক জলজ্যান্ত সমস্যা। এবার ইউরোপ খোদ এই আমেরিকান নেতার কুসংস্কার ও প্রতিহিংসার আঘাতে জর্জরিত হচ্ছে।
চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জনসমক্ষে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এবং সে দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে ‘দুর্বল’ বলে ঠাট্টা করেছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্টকে তাঁর বিয়ে নিয়ে খোঁটা দিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে নিজে আগুন জ্বালিয়ে এখন মিত্রদের বলছেন, নিজেদের তেলের ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে। তিনি আরও বলেছেন, ন্যাটো ছাড়ার কথা গুরুত্বের সঙ্গেই ভাবছেন। ট্রাম্পের অলীক কল্পনা আর বাস্তবতার বড় এক ধাক্কা লেগেছে ইরানে। তিনি এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মিলে যে যুদ্ধ শুরু করেছেন, তা সহজে থামার নয়।
এর ফলে ট্রাম্প হতাশ হয়ে পড়েছেন। দেশের রাজনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ভয় তাঁকে তাড়া করছে। তিনি জনগণের মনোযোগ অন্যদিকে ঘোরাতে চাইছেন। যে মিত্ররা তাঁর এই অযৌক্তিক যুদ্ধে যোগ দিতে অস্বীকার করেছে, তাদের প্রতি তাঁর ক্ষোভের মাত্রা এখন চরমে।
তবে ট্রাম্পের এসব মন্তব্যে ইউরোপের নেতারা খুব একটা অবাক হননি। ট্রাম্পের আচরণের এই অনিশ্চয়তা যেন তাঁর স্বভাবের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদার আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা এবং ঐতিহ্যবাহী জোট, বিশেষ করে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর উল্টো পথে হাঁটার বিষয়টি এখন সবার জানা।
শুধু খাতায়-কলমে ন্যাটোর সদস্য হিসেবে থাকা আর জোটকে সত্যিকার অর্থে টিকিয়ে রাখা এক বিষয় নয়। ট্রাম্প ন্যাটোকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলে এর যৌথ নিরাপত্তার গ্যারান্টিকে আরও দুর্বল করে দিয়েছেন।
ইউরোপের অনেকেই এখনো আশায় আছেন, ট্রাম্পের এই আচরণ হয়তো সাময়িক একটা ভুল। যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের একটি অংশও ভাবে, কয়েক বছর পর হয়তো ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক আবার আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তবে ট্রাম্পকে শান্ত রাখার এই কৌশলের পেছনে অন্য উদ্দেশ্য হলো, ইউক্রেনের জন্য সময় কেনা এবং ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ার দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া।
তবে এই চুপচাপ সয়ে যাওয়ার বাইরেও সাম্প্রতিক বিভিন্ন বার্তায় ইউরোপের নেতাদের বিরক্তি স্পষ্ট। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, ‘প্রতিদিন আগের দিনের কথার ঠিক উল্টো কথা বলে আপনি সিরিয়াস হতে পারবেন না।’ কিন্তু যুক্তরাজ্যের অবস্থা ফ্রান্সের মতো নয়। তারা আমেরিকার নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। তাছাড়া ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
কিয়ার স্টারমার যুক্তরাজ্যকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন সেতু গড়ার চেয়ে তা পুড়িয়ে দিতেই বেশি পছন্দ করে। চলতি মাসের শেষের দিকে ওয়াশিংটনে ব্রিটিশ রাজার রাষ্ট্রীয় সফরের কোনো ইতিবাচক দিক দেখা যাচ্ছে না। উল্টো এই সফর কূটনৈতিক বিপর্যয়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আজকের এই অনিশ্চিত পৃথিবীতে পুরোনো কাঠামোগুলো ভেঙে পড়ছে। এমন সময়ে ইউরোপকে নিজেদের প্রতিশ্রুতি আরও শক্ত করতে হবে। আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়তে হলে কেবল নিজেদের দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে কাড়ি কাড়ি টাকা ঢাললেই চলবে না। এর জন্য প্রয়োজন সত্যিকারের সহযোগিতা। দেরি করার মতো কোনো সময় হাতে নেই।

‘ডেইজি মিলার’ উপন্যাসে হেনরি জেমস লিখেছিলেন, ‘মেয়েটি এখন আর কোনোভাবেই তাঁকে চমকাতে পারে না। অথচ এই মেয়ের অপ্রত্যাশিত আচরণে একসময় কতই না চমকেছেন তিনি। এখন এই অপ্রত্যাশিত ব্যাপারটিই যেন প্রত্যাশিত হয়ে গেছে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বিশ্বনেতারা নিশ্চয়ই এই অনুভূতির সঙ্গে খুব ভালোভাবে পরিচিত। জেমসের উপন্যাসের সেই আমেরিকান তরুণী ইউরোপে এসে খেই হারিয়ে ফেলেছিল, নানা কুসংস্কারের শিকার হয়েছিল। অন্যদিকে ট্রাম্প হলেন বাস্তব পৃথিবীর এক জলজ্যান্ত সমস্যা। এবার ইউরোপ খোদ এই আমেরিকান নেতার কুসংস্কার ও প্রতিহিংসার আঘাতে জর্জরিত হচ্ছে।
চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জনসমক্ষে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এবং সে দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে ‘দুর্বল’ বলে ঠাট্টা করেছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্টকে তাঁর বিয়ে নিয়ে খোঁটা দিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে নিজে আগুন জ্বালিয়ে এখন মিত্রদের বলছেন, নিজেদের তেলের ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে। তিনি আরও বলেছেন, ন্যাটো ছাড়ার কথা গুরুত্বের সঙ্গেই ভাবছেন। ট্রাম্পের অলীক কল্পনা আর বাস্তবতার বড় এক ধাক্কা লেগেছে ইরানে। তিনি এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মিলে যে যুদ্ধ শুরু করেছেন, তা সহজে থামার নয়।
এর ফলে ট্রাম্প হতাশ হয়ে পড়েছেন। দেশের রাজনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ভয় তাঁকে তাড়া করছে। তিনি জনগণের মনোযোগ অন্যদিকে ঘোরাতে চাইছেন। যে মিত্ররা তাঁর এই অযৌক্তিক যুদ্ধে যোগ দিতে অস্বীকার করেছে, তাদের প্রতি তাঁর ক্ষোভের মাত্রা এখন চরমে।
তবে ট্রাম্পের এসব মন্তব্যে ইউরোপের নেতারা খুব একটা অবাক হননি। ট্রাম্পের আচরণের এই অনিশ্চয়তা যেন তাঁর স্বভাবের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদার আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা এবং ঐতিহ্যবাহী জোট, বিশেষ করে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর উল্টো পথে হাঁটার বিষয়টি এখন সবার জানা।
শুধু খাতায়-কলমে ন্যাটোর সদস্য হিসেবে থাকা আর জোটকে সত্যিকার অর্থে টিকিয়ে রাখা এক বিষয় নয়। ট্রাম্প ন্যাটোকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলে এর যৌথ নিরাপত্তার গ্যারান্টিকে আরও দুর্বল করে দিয়েছেন।
ইউরোপের অনেকেই এখনো আশায় আছেন, ট্রাম্পের এই আচরণ হয়তো সাময়িক একটা ভুল। যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের একটি অংশও ভাবে, কয়েক বছর পর হয়তো ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক আবার আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তবে ট্রাম্পকে শান্ত রাখার এই কৌশলের পেছনে অন্য উদ্দেশ্য হলো, ইউক্রেনের জন্য সময় কেনা এবং ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ার দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া।
তবে এই চুপচাপ সয়ে যাওয়ার বাইরেও সাম্প্রতিক বিভিন্ন বার্তায় ইউরোপের নেতাদের বিরক্তি স্পষ্ট। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, ‘প্রতিদিন আগের দিনের কথার ঠিক উল্টো কথা বলে আপনি সিরিয়াস হতে পারবেন না।’ কিন্তু যুক্তরাজ্যের অবস্থা ফ্রান্সের মতো নয়। তারা আমেরিকার নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। তাছাড়া ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
কিয়ার স্টারমার যুক্তরাজ্যকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন সেতু গড়ার চেয়ে তা পুড়িয়ে দিতেই বেশি পছন্দ করে। চলতি মাসের শেষের দিকে ওয়াশিংটনে ব্রিটিশ রাজার রাষ্ট্রীয় সফরের কোনো ইতিবাচক দিক দেখা যাচ্ছে না। উল্টো এই সফর কূটনৈতিক বিপর্যয়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আজকের এই অনিশ্চিত পৃথিবীতে পুরোনো কাঠামোগুলো ভেঙে পড়ছে। এমন সময়ে ইউরোপকে নিজেদের প্রতিশ্রুতি আরও শক্ত করতে হবে। আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়তে হলে কেবল নিজেদের দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে কাড়ি কাড়ি টাকা ঢাললেই চলবে না। এর জন্য প্রয়োজন সত্যিকারের সহযোগিতা। দেরি করার মতো কোনো সময় হাতে নেই।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হলো। জুলাই সনদ হলো। সেই সনদের বৈধতা নিশ্চিত করতে গণভোট হলো। প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ বললেন। অর্থাৎ জনগণ সরাসরি মত দিল। কিন্তু এখন সেই গণভোট সংক্রান্ত অধ্যাদেশ কার্যত বাতিলের পথে। একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ বা ‘জনস্বার্থে’ নির্বাহী আদেশে বরখাস্ত করার বিধান রেখে
৩ ঘণ্টা আগে
হিমালয়কন্যা নেপাল তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার বিস্ময়কর পালাবদলের সাক্ষী হয়েছে। ২০০৮ সালে দীর্ঘ ২৪০ বছরের রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে একটি হিন্দু রাষ্ট্র থেকে আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্রে রূপান্তর ছিল নেপালের ইতিহাসের প্রথম বড় সন্ধিক্ষণ।
৪ ঘণ্টা আগে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই—বর্তমান সময়ের প্রযুক্তিগত বিপ্লবের এক বিস্ময়কর উদ্ভাবন। এটি মূলত কম্পিউটারের এমন একটি কৃত্রিম ক্ষমতা, যার মাধ্যমে যন্ত্র মানুষের মতো যৌক্তিক চিন্তা করতে, অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
৪ ঘণ্টা আগে
২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা স্ট্রিম আয়োজিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি বিষয়ক একটি সময়োপযোগী গোলটেবিল আলোচনার পর এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, বাংলাদেশের নদীকূটনীতি এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। ‘গঙ্গা টক: ইউএন ওয়াটার কনভেনশন ১৯৯৪’ শীর্ষক এই আলোচনায় আইন, কৌশলগত বিশ্লেষণ, পরিবেশ এবং নাগরিক সমাজবিষয়ক
৫ ঘণ্টা আগে