leadT1ad

দ্য গার্ডিয়ানের সম্পাদকীয়

বন্ধনের পক্ষে যুক্তরাজ্য, ট্রাম্পের পছন্দ ছাই

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৯: ১৮
স্ট্রিম গ্রাফিক

‘ডেইজি মিলার’ উপন্যাসে হেনরি জেমস লিখেছিলেন, ‘মেয়েটি এখন আর কোনোভাবেই তাঁকে চমকাতে পারে না। অথচ এই মেয়ের অপ্রত্যাশিত আচরণে একসময় কতই না চমকেছেন তিনি। এখন এই অপ্রত্যাশিত ব্যাপারটিই যেন প্রত্যাশিত হয়ে গেছে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বিশ্বনেতারা নিশ্চয়ই এই অনুভূতির সঙ্গে খুব ভালোভাবে পরিচিত। জেমসের উপন্যাসের সেই আমেরিকান তরুণী ইউরোপে এসে খেই হারিয়ে ফেলেছিল, নানা কুসংস্কারের শিকার হয়েছিল। অন্যদিকে ট্রাম্প হলেন বাস্তব পৃথিবীর এক জলজ্যান্ত সমস্যা। এবার ইউরোপ খোদ এই আমেরিকান নেতার কুসংস্কার ও প্রতিহিংসার আঘাতে জর্জরিত হচ্ছে।

মিত্রদের প্রতি ট্রাম্পের বিদ্রূপ ও ন্যাটো নিয়ে সংশয়

চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জনসমক্ষে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এবং সে দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে ‘দুর্বল’ বলে ঠাট্টা করেছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্টকে তাঁর বিয়ে নিয়ে খোঁটা দিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে নিজে আগুন জ্বালিয়ে এখন মিত্রদের বলছেন, নিজেদের তেলের ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে। তিনি আরও বলেছেন, ন্যাটো ছাড়ার কথা গুরুত্বের সঙ্গেই ভাবছেন। ট্রাম্পের অলীক কল্পনা আর বাস্তবতার বড় এক ধাক্কা লেগেছে ইরানে। তিনি এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মিলে যে যুদ্ধ শুরু করেছেন, তা সহজে থামার নয়।

Ad 300x250

এর ফলে ট্রাম্প হতাশ হয়ে পড়েছেন। দেশের রাজনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ভয় তাঁকে তাড়া করছে। তিনি জনগণের মনোযোগ অন্যদিকে ঘোরাতে চাইছেন। যে মিত্ররা তাঁর এই অযৌক্তিক যুদ্ধে যোগ দিতে অস্বীকার করেছে, তাদের প্রতি তাঁর ক্ষোভের মাত্রা এখন চরমে।

তবে ট্রাম্পের এসব মন্তব্যে ইউরোপের নেতারা খুব একটা অবাক হননি। ট্রাম্পের আচরণের এই অনিশ্চয়তা যেন তাঁর স্বভাবের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদার আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা এবং ঐতিহ্যবাহী জোট, বিশেষ করে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর উল্টো পথে হাঁটার বিষয়টি এখন সবার জানা।

শুধু খাতায়-কলমে ন্যাটোর সদস্য হিসেবে থাকা আর জোটকে সত্যিকার অর্থে টিকিয়ে রাখা এক বিষয় নয়। ট্রাম্প ন্যাটোকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলে এর যৌথ নিরাপত্তার গ্যারান্টিকে আরও দুর্বল করে দিয়েছেন।

ইউরোপের ভাবনা ও যুক্তরাজ্যের অবস্থান

ইউরোপের অনেকেই এখনো আশায় আছেন, ট্রাম্পের এই আচরণ হয়তো সাময়িক একটা ভুল। যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের একটি অংশও ভাবে, কয়েক বছর পর হয়তো ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক আবার আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তবে ট্রাম্পকে শান্ত রাখার এই কৌশলের পেছনে অন্য উদ্দেশ্য হলো, ইউক্রেনের জন্য সময় কেনা এবং ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ার দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া।

তবে এই চুপচাপ সয়ে যাওয়ার বাইরেও সাম্প্রতিক বিভিন্ন বার্তায় ইউরোপের নেতাদের বিরক্তি স্পষ্ট। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, ‘প্রতিদিন আগের দিনের কথার ঠিক উল্টো কথা বলে আপনি সিরিয়াস হতে পারবেন না।’ কিন্তু যুক্তরাজ্যের অবস্থা ফ্রান্সের মতো নয়। তারা আমেরিকার নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। তাছাড়া ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি নাজুক অবস্থায় রয়েছে।

কিয়ার স্টারমার যুক্তরাজ্যকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন সেতু গড়ার চেয়ে তা পুড়িয়ে দিতেই বেশি পছন্দ করে। চলতি মাসের শেষের দিকে ওয়াশিংটনে ব্রিটিশ রাজার রাষ্ট্রীয় সফরের কোনো ইতিবাচক দিক দেখা যাচ্ছে না। উল্টো এই সফর কূটনৈতিক বিপর্যয়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আজকের এই অনিশ্চিত পৃথিবীতে পুরোনো কাঠামোগুলো ভেঙে পড়ছে। এমন সময়ে ইউরোপকে নিজেদের প্রতিশ্রুতি আরও শক্ত করতে হবে। আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়তে হলে কেবল নিজেদের দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে কাড়ি কাড়ি টাকা ঢাললেই চলবে না। এর জন্য প্রয়োজন সত্যিকারের সহযোগিতা। দেরি করার মতো কোনো সময় হাতে নেই।

Ad 300x250Ad 300x250
leadT1ad

সম্পর্কিত

leadT1ad
leadT1ad