leadT1ad

বৈশাখের ফ্যাশনে দেশি ব্র্যান্ডের আধিপত্য

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

দেশিদশের আউটলেটে পোশাক দেখছেন ক্রেতা। ছবি: সংগৃহীত

বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ। একসময় গ্রামীণ মেলা আর হালখাতার উৎসবে সীমাবদ্ধ থাকলেও সময়ের বিবর্তনে বৈশাখী রঙে লেগেছে আধুনিকতা ও বাণিজ্যিকীকরণের ছোঁয়া। এবারের বৈশাখী আয়োজনে আভিজাত্যের সঙ্গে ঐতিহ্যের সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো।

সরেজমিনে রাজধানীর বসুন্ধরা শপিং সেন্টারের ‘দেশীদশ’ ও আড়ংয়ের আউটলেটগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, বৈশাখী সংগ্রহে গ্রাম বাংলার চিরায়ত আবহকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগে বৈশাখী পোশাক মানেই ছিল লাল আর সাদা রঙের প্রাধান্য, তবে এখন নীল, সবুজ, বাসন্তী ও ল্যাভেন্ডারের মতো রঙগুলোকেও বৈশাখের ফ্যাশনের অংশ করেছে ব্র্যান্ডগুলো।

Ad 300x250

ডিজাইনের ক্ষেত্রে এবার প্রধান উপজীব্য হিসেবে উঠে এসেছে লোকজ মোটিফ। আধুনিক পোশাকে রিকশা পেইন্ট, নকশিকাঁথার ফোঁড়, টেরাকোটা, আলপনা এবং শীতলপাটির বুননশৈলীকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কোনো কোনো ব্র্যান্ড তাদের শাড়ির আঁচল ও পাঞ্জাবিতে ফুটিয়ে তুলেছে প্রাচীন লোকগাথা কিংবা বৈশাখী মেলার দৃশ্য।

ফ্যাশন হাউস ‘রঙ বাংলাদেশ’-এর মিডিয়া ও কমিউনিকেশন বিভাগ জানায়, এবারের সংগ্রহ সাজানো হয়েছে দুটি বিশেষ থিমে—‘বৈশাখী মেলা’ এবং শিল্পগুরু সফিউদ্দিন আহমেদের শিল্পকর্ম। গরমের আবহ বিবেচনায় রেখে আরামদায়ক সুতি কাপড় ও উজ্জ্বল রঙের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে শাড়ি, পাঞ্জাবি, কামিজ ও শিশুদের পোশাক।

‘দেশাল’-এর ম্যানেজার খাইরুল ইসলাম জানান, তাঁরা শতভাগ দেশি কাপড় নিয়ে কাজ করছেন এবং পোশাকে দেশীয় ঐতিহ্যকেই আভিজাত্যের সঙ্গে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন।

উত্তরা থেকে আসা ক্রেতা শিলু ভৌমিক বলেন, ‘বৈশাখী আমেজও থাকবে, আবার গরমেও আরাম পাওয়া যাবে—এমন উজ্জ্বল পোশাকই আমাদের প্রধান পছন্দ। আমরা এমন পোশাক কিনতে চাই, যা সারা বছরই ব্যবহার করা যায়।’

বৈশাখী অর্থনীতির এই বিবর্তন নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগে বৈশাখী অর্থনীতির মূল ভিত্তি ছিল কৃষি ও গ্রামীণ কারুশিল্প। হালখাতা আর গ্রামীণ খেলার মেলা ছিল এর প্রাণ। সে সময় বৈশাখে পান্তা-ইলিশ বা পোশাক কেনার এমন ধুম ছিল না। বর্তমানে বৈশাখ উৎসব করপোরেট ও শহরকেন্দ্রিক রূপ নিয়েছে। সরকারি উৎসব ভাতা ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ছাড়ের ফলে এখন বৈশাখকে কেন্দ্র করে কেনাকাটা বহুগুণ বেড়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনছে।’

leadT1ad

সম্পর্কিত

leadT1ad
leadT1ad