স্ট্রিম প্রতিবেদক

জ্বালানি ঘাটতির কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। ফলে গ্রীষ্মের শুরুতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে লোডশেডিং। উৎপাদন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে আশ্বস্ত করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক রাখা হলেও গ্রামে দিনে তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না।
এ দিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধসহ বেশ কিছু কৃচ্ছ্রসাধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আংশিকভাবে অনলাইনে পরিচালনার কথাও বিবেচনায় আছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির উৎপাদন ও চাহিদার পরিসংখ্যান বলছে, দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট। এবারের গ্রীষ্মে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা হতে পারে সাড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াট। বর্তমানে প্রতিদিন ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট চাহিদা থাকছে। তবে জ্বালানি (গ্যাস, কয়লা ও ফার্নেস অয়েল) সংকটের কারণে এ পরিমাণ বিদ্যুতও উৎপাদন করা যাচ্ছে না।
পিডিবি ও পিজিসিবির পরিসংখ্যান বলছে, বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে ব্যবধান দিন দিন বাড়ছে। পিজিসিবির ঘণ্টাসূচক (আওয়ারলি) উপাত্ত অনুযায়ী, গত রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পিক আওয়ারে দেশে সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৮২১ মেগাওয়াট। এক দিনের ব্যবধানে সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে লোডশেডিং বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৩ মেগাওয়াটে। এ সময় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৭৫০ মেগাওয়াট, আর উৎপাদন করা সম্ভব হয় ১৩ হাজার ৬১৬ মেগাওয়াট।
পিডিবির মঙ্গলবারের (৭ এপ্রিল) পূর্বাভাস বলছে, দিনের বেলায় বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৪ হাজার মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৯৮০ মেগাওয়াটে। এমনকি সকালেও বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে। যেমন মঙ্গলবার সকাল ১০টায় দেশজুড়ে ৩৯৩ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে, জ্বালানি নেই
পিজিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ এপ্রিল রাতে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় (রাত ৯টায়) গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ মিলেছে মাত্র ৪ হাজার ৯৭৬ মেগাওয়াট। অথচ এগুলোর সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। ওই সময় কয়লা থেকে ৪ হাজার ১৩২ মেগাওয়াট এবং তরল জ্বালানি (ফার্নেস অয়েল) থেকে ২ হাজার ৭৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন মূলত গ্যাস, কয়লা ও ফার্নেস অয়েলের ওপর নির্ভরশীল। আর এই তিন ধরনের জ্বালানিই আমদানিনির্ভর। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গ্যাস ও কয়লা সংকটের পাশাপাশি আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহে ধসের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। লোডশেডিংমুক্ত সরবরাহের জন্য দৈনিক ১২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হলেও পেট্রোবাংলা দিচ্ছে গড়ে মাত্র ৯৩ কোটি ঘনফুট। আর ভারতে থাকা আদানির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ আছে। কয়লার অভাবে মাতারবাড়ী ও পটুয়াখালীর কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না।
পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, কিছুটা লোডশেডিং হচ্ছে কারণ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে জ্বালানির সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। আমাদের ব্যবহৃত কয়লার বড় অংশই আমদানি করতে হয়, গ্যাসও আমদানি করতে হয়। কিন্তু অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কয়লার ঘাটতির কারণে বন্ধ রয়েছে। আদানির একটি ইউনিটও বন্ধ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘গ্যাসের সমস্যা রিকভার করা গেছে। কয়লা আমরা আমদানি করি না, এটা সরাসরি পাওয়ার প্ল্যান্টের মালিকরা আমদানি করে, তো তারা আমাদের বলেছে যে এ মাসের ১৫ তারিখের দিকে কয়লা তারা আনতে পারবে। ফলে যেসব পাওয়ার প্ল্যান্টে ফুয়েল লোড না করতে পারায় বন্ধ আছে সেগুলো চালু করা গেলে আমরা আশা করি চাহিদার জোগান দিতে পারব।
গ্রামে ভোগান্তি
বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে দেশজুড়ে লোডশেডিং করা হলেও শহর ও গ্রামের বৈষম্য রয়েছে। ঢাকার বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ডিপিডিসি ও ডেসকোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানীতে চাহিদার প্রায় পুরো বিদ্যুৎই তারা পাচ্ছেন। ফলে ঢাকায় লোডশেডিং নেই বললেই চলে।
তবে গ্রামের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) অধীনে থাকা এলাকাগুলোতে দিনে কয়েক দফায় লোডশেডিং হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে গড়ে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে সেচ কার্যক্রম ও দৈনন্দিন জীবনে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, ‘বর্তমান সরকার জ্বালানি খাতের এই সংকট উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। এর সঙ্গে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি যুক্ত হয়েছে। তবে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে বারবার দাম বাড়ানো বা ভর্তুকির ওপর নির্ভর না করে বিদ্যুৎ খাতের লুণ্ঠনমূলক ব্যয় ও অনিয়ম কমিয়ে ঘাটতি সমন্বয় করতে হবে।’
এম শামসুল আলম স্ট্রিমকে বলেন, চাহিদার সমপরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যে পরিমাণ আর্থিক সক্ষমতা থাকা দরকার সেটি বর্তমানে বাংলাদেশের নেই। ফলে উৎপাদন পর্যাপ্ত হবে না এবং লোডশেডিং বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, সামনে গরম পড়লে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়বে। জ্বালানির দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ছে। তাই স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কম জ্বালানি কেনা সম্ভব হবে, যেহেতু বৈদেশিক মুদ্রা অতটা নেই। তাই লোডশেডিং অনিবার্য হয়ে গেছে। কিন্তু লোডশেডিং ডিস্ট্রিবিউশনে ইক্যুইটি মেইনটেইন করা হয় না। বিরাট এক অসমতা রয়ে গেছে, গ্রামে ঝুঁকি বা প্রতিবাদ কম হওয়ায় সেখানে লোডশেডিং বেশি। এই অসমতা বেদনাদায়ক।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে বকেয়ার পরিমাণ অনেক। জ্বালানি সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি থাকলেও পরিস্থিতি খুব নাজুক নয়।

জ্বালানি ঘাটতির কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। ফলে গ্রীষ্মের শুরুতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে লোডশেডিং। উৎপাদন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে আশ্বস্ত করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক রাখা হলেও গ্রামে দিনে তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না।
এ দিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধসহ বেশ কিছু কৃচ্ছ্রসাধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আংশিকভাবে অনলাইনে পরিচালনার কথাও বিবেচনায় আছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির উৎপাদন ও চাহিদার পরিসংখ্যান বলছে, দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট। এবারের গ্রীষ্মে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা হতে পারে সাড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াট। বর্তমানে প্রতিদিন ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট চাহিদা থাকছে। তবে জ্বালানি (গ্যাস, কয়লা ও ফার্নেস অয়েল) সংকটের কারণে এ পরিমাণ বিদ্যুতও উৎপাদন করা যাচ্ছে না।
পিডিবি ও পিজিসিবির পরিসংখ্যান বলছে, বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে ব্যবধান দিন দিন বাড়ছে। পিজিসিবির ঘণ্টাসূচক (আওয়ারলি) উপাত্ত অনুযায়ী, গত রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পিক আওয়ারে দেশে সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৮২১ মেগাওয়াট। এক দিনের ব্যবধানে সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে লোডশেডিং বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৩ মেগাওয়াটে। এ সময় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৭৫০ মেগাওয়াট, আর উৎপাদন করা সম্ভব হয় ১৩ হাজার ৬১৬ মেগাওয়াট।
পিডিবির মঙ্গলবারের (৭ এপ্রিল) পূর্বাভাস বলছে, দিনের বেলায় বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৪ হাজার মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৯৮০ মেগাওয়াটে। এমনকি সকালেও বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে। যেমন মঙ্গলবার সকাল ১০টায় দেশজুড়ে ৩৯৩ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে, জ্বালানি নেই
পিজিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ এপ্রিল রাতে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় (রাত ৯টায়) গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ মিলেছে মাত্র ৪ হাজার ৯৭৬ মেগাওয়াট। অথচ এগুলোর সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। ওই সময় কয়লা থেকে ৪ হাজার ১৩২ মেগাওয়াট এবং তরল জ্বালানি (ফার্নেস অয়েল) থেকে ২ হাজার ৭৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন মূলত গ্যাস, কয়লা ও ফার্নেস অয়েলের ওপর নির্ভরশীল। আর এই তিন ধরনের জ্বালানিই আমদানিনির্ভর। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গ্যাস ও কয়লা সংকটের পাশাপাশি আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহে ধসের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। লোডশেডিংমুক্ত সরবরাহের জন্য দৈনিক ১২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হলেও পেট্রোবাংলা দিচ্ছে গড়ে মাত্র ৯৩ কোটি ঘনফুট। আর ভারতে থাকা আদানির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ আছে। কয়লার অভাবে মাতারবাড়ী ও পটুয়াখালীর কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না।
পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, কিছুটা লোডশেডিং হচ্ছে কারণ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে জ্বালানির সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। আমাদের ব্যবহৃত কয়লার বড় অংশই আমদানি করতে হয়, গ্যাসও আমদানি করতে হয়। কিন্তু অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কয়লার ঘাটতির কারণে বন্ধ রয়েছে। আদানির একটি ইউনিটও বন্ধ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘গ্যাসের সমস্যা রিকভার করা গেছে। কয়লা আমরা আমদানি করি না, এটা সরাসরি পাওয়ার প্ল্যান্টের মালিকরা আমদানি করে, তো তারা আমাদের বলেছে যে এ মাসের ১৫ তারিখের দিকে কয়লা তারা আনতে পারবে। ফলে যেসব পাওয়ার প্ল্যান্টে ফুয়েল লোড না করতে পারায় বন্ধ আছে সেগুলো চালু করা গেলে আমরা আশা করি চাহিদার জোগান দিতে পারব।
গ্রামে ভোগান্তি
বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে দেশজুড়ে লোডশেডিং করা হলেও শহর ও গ্রামের বৈষম্য রয়েছে। ঢাকার বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ডিপিডিসি ও ডেসকোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানীতে চাহিদার প্রায় পুরো বিদ্যুৎই তারা পাচ্ছেন। ফলে ঢাকায় লোডশেডিং নেই বললেই চলে।
তবে গ্রামের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) অধীনে থাকা এলাকাগুলোতে দিনে কয়েক দফায় লোডশেডিং হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে গড়ে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে সেচ কার্যক্রম ও দৈনন্দিন জীবনে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, ‘বর্তমান সরকার জ্বালানি খাতের এই সংকট উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। এর সঙ্গে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি যুক্ত হয়েছে। তবে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে বারবার দাম বাড়ানো বা ভর্তুকির ওপর নির্ভর না করে বিদ্যুৎ খাতের লুণ্ঠনমূলক ব্যয় ও অনিয়ম কমিয়ে ঘাটতি সমন্বয় করতে হবে।’
এম শামসুল আলম স্ট্রিমকে বলেন, চাহিদার সমপরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যে পরিমাণ আর্থিক সক্ষমতা থাকা দরকার সেটি বর্তমানে বাংলাদেশের নেই। ফলে উৎপাদন পর্যাপ্ত হবে না এবং লোডশেডিং বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, সামনে গরম পড়লে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়বে। জ্বালানির দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ছে। তাই স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কম জ্বালানি কেনা সম্ভব হবে, যেহেতু বৈদেশিক মুদ্রা অতটা নেই। তাই লোডশেডিং অনিবার্য হয়ে গেছে। কিন্তু লোডশেডিং ডিস্ট্রিবিউশনে ইক্যুইটি মেইনটেইন করা হয় না। বিরাট এক অসমতা রয়ে গেছে, গ্রামে ঝুঁকি বা প্রতিবাদ কম হওয়ায় সেখানে লোডশেডিং বেশি। এই অসমতা বেদনাদায়ক।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে বকেয়ার পরিমাণ অনেক। জ্বালানি সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি থাকলেও পরিস্থিতি খুব নাজুক নয়।

প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতেন শাহিনুর ইসলাম। এরপর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘনিষ্ঠ হতেন। আর সেই দৃশ্য গোপনে ভিডিও করে রাখতেন। পরে সেই ভিডিও অনলাইনে ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাবমেইল করতে শাহিনুর।
১ ঘণ্টা আগে
তামাক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-কে দ্রুত আইনে রূপান্তরের দাবি জানিয়েছে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে এই দাবি জানায় ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি দল।
১ ঘণ্টা আগে
গাইবান্ধার ফুলছড়িতে ব্রহ্মপুত্র নদে অসময়ে ভাঙন দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে তীরবর্তী মানুষের মধ্যে। ঝুঁকিতে আছে দেড় শ কোটি টাকার বালাসী লঞ্চ টার্মিনাল। ভাঙনের স্থান থেকে মাত্র ১৫ মিটার দূরে অবস্থান করছে এই স্থাপনা। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) থেকে ব্লক ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করলেও, তা কাজে আসছে না।
২ ঘণ্টা আগে
প্রায় ২ বছর ধরে বন্ধ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। অন্তবর্তী সরকারের একাধিক চেষ্টায়ও বাজারটি চালু করতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। আবারো বাজারটি চালু করার চেষ্টায় নেমেছে বিএনপি সরকার। সেই আশায় মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ।
২ ঘণ্টা আগে