leadT1ad

রাবির সেমিনারে শিশির-ফুয়াদ, ‘লাল কার্ডে’ প্রতিবাদ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২২: ৩২
অ্যাডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির ও ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। স্ট্রিম গ্রাফিক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) আয়োজিত সেমিনারে অংশ নিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির ও আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তবে তাদের অংশগ্রহণের প্রতিবাদে সোমবার (৬ এপ্রিল) ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে।

প্যারিস রোডের এই কর্মসূচির নেতৃত্বে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দেখা গেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে কর্মসূচি থেকে অ্যাডভোকেট শিশির মনির ও ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে প্রতীকী ‘লাল কার্ড’ দেখানো হয়।

Ad 300x250

সরেজমিন কর্মসূচিতে ছাত্রদলের মূল কমিটির কেউ ছিলেন না। তবে শহীদ হবিবুর রহমান হলের সভাপতি এবং রাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে নির্বাচন করা অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

‘গণভোটের রায়ে গড়িমসি’ শীর্ষক সেমিনার আয়োজন করে রাকসু। এতে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে সোমবার বক্তৃতা করেন শিশির মনির ও আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। রাবি ছাত্রদলের কর্মী মো. নাহিদ বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের ঘাতকদের আইনজীবী হিসেবে শিশির মনিরকে আখ্যা দিয়ে ঘোষণার পর আজ ‘লালকার্ড’ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন।

সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে ‘লাল কার্ড’ দেখানো হয়। তবে কর্মসূচির বেশির ভাগ অংশগ্রহণকারী ছিলেন ছাত্রদল সংশ্লিষ্ট। স্ট্রিম ছবি
সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে ‘লাল কার্ড’ দেখানো হয়। তবে কর্মসূচির বেশির ভাগ অংশগ্রহণকারী ছিলেন ছাত্রদল সংশ্লিষ্ট। স্ট্রিম ছবি

লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সাঈদ হাসান বলেন, আমন্ত্রিত অতিথি শিশির মনির আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় হাইকোর্টে অবস্থান নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। আরেক অতিথি (ব্যারিস্টার ফুয়াদ) বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও ১৯৭১ সালের শহীদদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের আয়োজনের প্রতিবাদ জানাতে আমরা প্রতীকী লাল কার্ড দেখিয়েছি।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। প্রয়োজনে পুলিশের সহযোগিতায় বিশৃঙ্খলাকারীর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে সেমিনার হওয়ার কথা থাকলেও পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ভেন্যু পরিবর্তন করে বুদ্ধিজীবী চত্বরে নেওয়া হয়। সেমিনার নিয়ে রাকসুর ভেতরেই মতবিরোধ দেখা দেয়। ছাত্রদল প্যানেল থেকে বিজয়ী রাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক এমকে নারগিস ফেসবুকে লিখেছেন, রাকসুর এমন আয়োজন সম্পাদক হিসেবেও আমি জানি না। রাকসুর আয়োজনে কর্মসূচি অথচ রাকসুর একজন সম্পাদক হিসেবে অবগত না করার জন্য বিষয়টি সরাসরি রাকসুর একাংশ হয়ে কাজ না করার স্পষ্টতা দেখছি।

তাঁর এর জবাবে বিতর্ক সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর ফেসবুকে লেখেন, নির্দিষ্ট দপ্তরের কর্মসূচি নির্দিষ্ট দপ্তরই ঠিক করবে। মাসিক পরিকল্পনা থেকে বার্ষিক পরিকল্পনা– সবকিছুই নির্দিষ্ট দপ্তরের স্ব স্ব সম্পাদক ঠিক করেন। নিকট অতীতে এর ব্যত্যয় তুমিও (এমকে নারগিস) করনি নিশ্চয়ই। তাহলে, এখন এই কথা কেন? আমার দপ্তরের কাজ তুমি ঠিক করে দেবে? তোমার দপ্তরের কাজ আমি ঠিক করে দিতে পারি?

রাকসুর সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক জাহিদ হাসান জোহা বলেছেন, শিশির মনির যখন বিএনপির তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবরদের হয়ে আইনি লড়াই করেছেন তখন তিনি ছিলেন পীর। কিন্তু যখন বিএনপির গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কণ্ঠ উঁচু করেছেন, তখন তিনি হয়ে গেছেন শহীদ আবরার ফাহাদের হত্যাকারীর আইনজীবী।

রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ফেসবুকে লিখেছেন, আদর্শকে আদর্শ দিয়ে প্রতিহত করতে হয়, গালাগালি করে নয়। যারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের জনরায় মানছেন না তারাও প্রয়োজনে সেমিনার করুন। অথবা বই লিখুক। বইয়ের নাম দেন ‘হ্যাঁ’ ভোটের জনরায়কে অস্বীকার করার ১০১টি (সাংবিধানিক) উপায়।

leadT1ad

সম্পর্কিত

leadT1ad
leadT1ad