আজ বাংলাদেশিদের উত্তর মেরু জয়ের দিন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০০: ৩৭
উত্তর মেরুতে বাংলাদেশি পতাকা হাতে অণু তারেক। অণু তারেকের থেকে পাওয়া ছবি

আজ বাংলাদেশিদের উত্তর মেরু যাওয়ার দিন। ২০০৭ সালের ৮ এপ্রিল উত্তর মেরুর বিন্দু ৯০ ডিগ্রি নর্থ ভ্রমণ করেন বাংলাদেশের দুই ভ্রমণ পিপাসু। তাঁরা হলেন তারেক অণু এবং ইনাম আল হক।

এই ভ্রমণ নিয়ে লিখেন তারেক অণু ফেসবুকে লেখেন, ‘উত্তর মেরু যাওয়ার পরিকল্পনার শুরুতেই জানা গেল, উত্তর মেরু যাওয়া স্বাভাবিক কারণেই অত্যন্ত ব্যয়বহুল। গুটিকয়েক কোম্পানি প্রতিবছর এপ্রিলে অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় ভ্রমণপিপাসুদের নিয়ে যায়, আর সেই খরচটাও আকাশছোঁয়া। কেবল মেরুতে দুদণ্ড দাঁড়াবার জন্য খরচ করতে হয় বারো থেকে পনের হাজার ইউরো। বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ১৫ লাখ টাকা। তার ওপর বিমানের টিকিট, ঠান্ডার পোশাক, বিশেষ জুতোসহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিক খরচ তো আছেই।’

Ad 300x250

তারেক অণু লেখেন, ‘উত্তর মেরু যাবার সম্ভাবনা যখন সুদূর পরাহত তখনই খোঁজ মিলল নর্থ পোল ম্যারাথনের। এই প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের সর্ব উত্তরের শীতলতম ম্যারাথনের আয়োজন করে। যা বিশ্বে সবচেয়ে কঠিন ও ব্যয়বহুল ম্যারাথনও! ম্যারাথন হয় বেস ক্যাম্প বার্নেওতে যা সুমেরু বিন্দু থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে। ম্যারাথনের পরে তারা প্রতিযোগীদের হেলিকপ্টারে করে মেরুতে নিয়ে যায়! ইনাম ভাই আর আমি তো একপায়ে খাড়া। ম্যারাথন করতে যতই কষ্ট হোক অবশ্যই করব। তাতেও যদি সুমেরু যেতে পারি, কেন নয়?’

২০০৭ সালের ২ এপ্রিল নরওয়ের রাজধানী অসলোতে শুরু হল তাদের মেরু অভিযান শুরু হয়। নিজের অনুভুতি প্রকাশ করে অণু লেখেন, ‘ক্যাম্প বার্নেও থেকে হেলিকপ্টারে ওঠার সাথেসাথে এক অজানা রোমাঞ্চে মন দুলে উঠল। অবশেষে মনের কোণে আশৈশব লালিত স্বপ্ন সত্যি হতে যাচ্ছে, আর ৩০ মিনিটের মধ্যেই আমরা পৌছে যাব আমাদের গ্রহের সর্ব উত্তরের প্রান্তসীমায়। সারা পৃথিবীর সমস্ত ভ্রমণপিপাসু আর রোমাঞ্চপ্রিয়দের কয়েকশ বছর ধরে সমান রকম রহস্যের হাতছানি।’

তিনি লেখেন, ‘বরফাচ্ছাদিত প্রান্তরের অল্প ওপর দিয়েই উড়তে থাকল হেলিকপ্টার। বিশাল সফেদ এই ক্যানভাসের ওপর দিয়ে আধা ঘণ্টার ভ্রমণ শেষে যখন আমাদের আধুনিক রথ থামল তখন পাইলট রুমের জি পি এস-এ বলছে, আমাদের অবস্থান অক্ষাংশ ৮৯ ডিগ্রি ৫৯,৯৭৬ মিনিট, অর্থাৎ মেরু বিন্দু থেকে আমরা মাত্র কয়েক মিটার দূরে।’

তারেক আরো লেখেন, ‘মোহাবিষ্টের মত কপ্টার থেকে বাহির হয়ে চির বরফের রাজ্যে পদচিহ্ন একে দিলাম সবাই, নিশিতে পাওয়া মানুষের মতো গেলাম আরো কয়েক মিটার উত্তরে, এই গ্রহে কেবল মাত্র দুইটি মেরু—সুমেরু ও কুমেরু, আর আমরা এখন সুমেরুতে। ২০০৭ সালের ৮ এপ্রিল, রবিবার, বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬.১৫, গ্রিনিচ সময় দুপুর ১২.১৫-তে আমরা দুই বঙ্গসন্তান আমাদের গন্তব্য ৯০ ডিগ্রি উত্তরে পৌছালাম, উড়ল সেখানে প্রথমবারের মত লাল-সবুজ পতাকা।’

তাঁদের এই ভ্রমণ বিষয়ে স্ট্রিমকে তাঁরেক অণু বলেন, ‘আমরা ছোটবেলা থেকে যে সমস্ত জায়গার কথা শুনে বড় হয়েছি এবং অত্যন্ত দুর্গম বলে জানি, ওই রকম একটা জায়গায় যে সেই সময় যেতে পেরেছিলাম, কিছু অ্যাডভেঞ্চার করেছিলাম, আমি পিছনের কথা মনে করি, নিজের কাছে খুব স্বপ্ন বলে মনে হয়। এবং আমি আশা করি ভবিষ্যতে আরও অনেক ভ্রমণপিপাসু, অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয়, বিশেষ করে বাংলাদেশের এখন যারা শিশু কিশোর, তারাও কোনোদিন এই জায়গাগুলোতে যাবে।’

leadT1ad

সম্পর্কিত

leadT1ad
leadT1ad