ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন

হোল্ডিং ট্যাক্সের লক্ষ্যমাত্রা ৬০০ কোটি, ৯ মাসে আদায় মাত্র ২৯০

প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৩: ৫৪
ডিএসসিসির লোগো

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবৃদ্ধি হঠাৎ থমকে গেছে। আগের টানা তিন অর্থবছর ধরে বাড়তে থাকা এই আয়ে গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) ধাক্কা লাগে। প্রায় ৪০ কোটি টাকা কমে যায় রাজস্ব। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৬০০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা অর্জন নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে শঙ্কা কাটছে না।

ডিএসসিসির বাজেট বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, ২০২১–২০২২ অর্থবছরে হোল্ডিং ট্যাক্স থেকে আদায় হয়েছিল ৩২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। পরবর্তী বছর ২০২২–২০২৩ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮৭ কোটি ২৫ লাখ টাকায়। একই ধারা অব্যাহত থেকে ২০২৩–২০২৪ অর্থবছরে আদায় আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৪০০ কোটি ৩৭ লাখ টাকায় পৌঁছায়, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

Ad 300x250

তবে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় কমে দাঁড়ায় ৩৬০ কোটি ১৮ লাখ টাকায়, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪০ কোটি টাকা কম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নগর ভবন তালাবদ্ধ করে আন্দোলন, বকেয়া কর আদায়ে ধীরগতি, করদাতাদের অনাগ্রহ এবং দীর্ঘদিন মেয়র না থাকায় প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে এ পতন ঘটতে পারে।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৮৮১ জন গ্রাহকের কাছ থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মার্চ পর্যন্ত গত ৯ মাসে করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী আদায় হয়েছে মাত্র ২৯০ কোটি টাকা, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে সদ্য অবসরে যাওয়া এক রাজস্ব কর্মকর্তা জানান, অর্থবছরের শুরু থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করলে করদাতাদের ১০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়। এ কারণে অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই বিপুলসংখ্যক করদাতা তাদের কর পরিশোধ করেন। তবে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে কর আদায়ের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং ফেব্রুয়ারি থেকে তা আবার ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে। এই মৌসুমি প্রবণতাও রাজস্ব আদায়ের ধারাবাহিকতায় প্রভাব ফেলে। তবে জুন মাসেও বেশ ভালো কর আদায় হয় বলেন জানান এই কর্মকর্তা।

এদিকে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত অর্থবছরে রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ার পেছনে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অস্থিরতাও বড় ভূমিকা রেখেছে। মেয়র হিসেবে বর্তমান সরকারের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের শপথগ্রহণের দাবিতে তার সমর্থকরা ২০২৫ সালের ১৪ মে আন্দোলন শুরু করেন। পরদিন ১৫ মে থেকে নগর ভবনের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এতে করে ডিএসসিসির নাগরিক সেবা কার্যক্রমের পাশাপাশি রাজস্ব আদায় কার্যক্রমও কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। টানা এক মাসের বেশি সময় এ পরিস্থিতি চলার পর সমালোচনার মুখে ২৩ জুন তালা খুলে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে প্রশাসকের দপ্তরের কার্যক্রমও স্বাভাবিক হয়।

এছাড়া ১৯ আগস্ট ২০২৪ তারিখে সারা দেশের ১২ সিটিতে মেয়রদের অপসারণ করা হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মহ. শের আলীকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক করা হয়। রাজনৈতিক প্রশাসক না থাকাও হোল্ডিং টেক্স কম আদায়ের কারণ হিসেবে অনেকেই বলছেন।

প্রশাসনিক অচলাবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মৌসুমি কর প্রদানের প্রবণতা—এই তিনটি প্রধান কারণে ডিএসসিসির হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে ধাক্কা লেগেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমান অর্থবছরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তাই বাড়তি উদ্যোগ ও কার্যকর কৌশল গ্রহণ ছাড়া বিকল্প নেই বলেও মনে করছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগ স্ট্রিমকে বলেন, ‘রাজস্ব আদায় যেন সন্তোষজনক হয়, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।’

এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘লক্ষ্যমাত্রা এবং আদায়ের একটা বিশাল গ্যাপ আছে। আমরা চেষ্টা করছি যেন কর আদায় আরও বাড়ানো যায়। রাজস্ব আদায় বৃদ্ধিতে গতিশীলতা আনয়নের জন্য দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই রাজস্ব বিভাগের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় হয়েছে, যেন এটা আরও বাড়ে। এই সমস্ত পদক্ষেপগুলো আমরা নিয়েছি।’

leadT1ad

সম্পর্কিত

leadT1ad
leadT1ad