স্ট্রিম প্রতিবেদক

বর্তমান পটভূমিতে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের দিকে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা খুবই খারাপ। বর্তমান সরকার আগের সরকারের কাছ থেকে যে দুরবস্থায় অর্থনীতিকে পেয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে পারলে এলডিসি নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হবে।
রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে বহুপক্ষীয় পরামর্শ সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই গত ফেব্রুয়ারিতে এলডিসি উত্তরণ পেছাতে জাতিসংঘকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে। সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) অধীন কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) চেয়ারম্যান হোসে আন্তোনিও ওকাম্পোর কাছে একটি চিঠি পাঠান।
চিঠিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে এলডিসি উত্তরণ প্রস্তুতির সময় ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়। আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ হবে চলতি বছরের ২৪ নভেম্বর। চূড়ান্ত উত্তরণের আগে তৃতীয় পর্যালোচনার প্রক্রিয়া চলমান।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরা হয়। টেকসইভাবে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ নিশ্চিত করতে সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্যমনে করেন আমির খসরু। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রস্তুতি এখনো অসম্পূর্ণ এবং বাস্তবসম্মত উত্তরণের জন্য প্রায় তিন বছরের একটি কৌশলগত সময় প্রয়োজন।
এর আগে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), ইউএন-ওএইচআরএলএলএস এবং জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কের কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে বহুপক্ষীয় পরামর্শ সভা হয়।
সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ইউএনওএইচআরএলএলএসের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতিমা, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি বাস্তবসম্মত উত্তরণের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। কারণ সরকারকে এখন প্রতিদিনের সংকট মোকাবিলায় ‘ফায়ারফাইটিং মোডে’ কাজ করতে হচ্ছে। দেশের অর্থনীতি বর্তমানে সংকটে রয়েছে, যেখানে অধিকাংশ প্রধান অর্থনৈতিক সূচক নিম্নমু। এই পরিস্থিতিতে সরকার অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম দ্বিগুণ হয়েছে। শ্রীলঙ্কায় ২৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। বিপরীতে বাংলাদেশ সরকার এখনো দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। তবে এই ধরনের আর্থিক চাপ দীর্ঘদিন বহন করা সম্ভব নয়।
অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কৌশল তিনটি মূল ভিত্তির ওপর গড়ে উঠেছে। প্রথমত, দেশীয় প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য সক্ষমতা বৃদ্ধি। দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে নীতিমালার সমন্বয়। তৃতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ কোনো নির্ধারিত বিষয় নয়, বরং এটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল। তিন বছরের মধ্যে মৌলিক অর্থনৈতিক সূচক শক্তিশালী করা হবে। প্রয়োজনীয় সংস্কার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রকৃত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের মাধ্যমে এলডিসি উত্তরণকে বাস্তবসম্মত ও টেকসই লক্ষ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে।
এলডিসি কী, উত্তরণ কীভাবে
উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে যারা একটু পিছিয়ে আছে, তাদের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকায় রাখে জাতিসংঘ। এসব দেশ যাতে এলডিসি উত্তরণ হতে পারে, সে জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে নানা ধরনের সাহায্য ও সহযোগিতা দেওয়া হয়।
এলডিসি থেকে কোন দেশ বের হবে, সে বিষয়ে সুপারিশ করে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) অধীন কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)।
তিন বছর পরপর এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর ত্রিবার্ষিক মূল্যায়ন করা হয়। মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা– এই তিন সূচকের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়, কোনো দেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্য কি না। যেকোনো দুটি সূচকে উত্তীর্ণ হতে হয় অথবা মাথাপিছু আয় নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণ হতে হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব মানদণ্ড অবশ্য পরিবর্তিত হয়।
বাংলাদেশ ২০১৮ ও ২০২১ সালের ত্রিবার্ষিক মূল্যায়নে তিনটি সূচকেই উত্তীর্ণ হয়। ২০২১ সালেই চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হবে। তবে করোনার কারণে প্রস্তুতির জন্য দুই বছর সময় বাড়ানো হয়। এ বছরের (২০২৬ সাল) নভেম্বরে এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা ঠিক করা আছে।
১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকাভুক্ত হয়। এলডিসিভুক্ত থাকার সুবাদে পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত–সুবিধাসহ নানা সুযোগ পেয়ে এসেছে।
কেন পেছাতে চায়, জানালেন অর্থমন্ত্রী
এ বিষয়ে আজ অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতির অস্থিরতা কাটানোর জন্য সরকার সংকট মোকাবিলা করে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করতে হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উচ্চ মূল্যে জ্বালানি আমদানি করছে সরকার। ফলে বাংলাদেশের রিজার্ভে প্রভাব পড়ছে।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অস্থিরতা ছাড়াও দেশের অনেক ঋণ আছে। ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করা বড় সমস্যা। ভবিষ্যতে ঋণ ব্যয়ের বিষয়টি মাথায় রেখে আমাদের অর্থায়নের চিন্তা করতে হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করে এবং দেশের সক্ষমতা তৈরির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে, কখন এলডিসি উত্তরণের দিকে যাওয়া হবে। জনগণের কাছে নির্বাচনী ইশতেহারের মাধ্যমে যে ওয়াদা করা হয়েছে, তা সময়মতো বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসহ আমরা কিছু কাজ বাস্তবায়ন করেছি। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে সক্ষমতা তৈরির পর আমরা এলডিসি উত্তরণের দিকে যাব। কিন্তু এই মুহূর্তে এলডিসি উত্তরণের দিকে যাওয়ার সুযোগ নেই।

বর্তমান পটভূমিতে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের দিকে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা খুবই খারাপ। বর্তমান সরকার আগের সরকারের কাছ থেকে যে দুরবস্থায় অর্থনীতিকে পেয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে পারলে এলডিসি নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হবে।
রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে বহুপক্ষীয় পরামর্শ সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই গত ফেব্রুয়ারিতে এলডিসি উত্তরণ পেছাতে জাতিসংঘকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে। সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) অধীন কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) চেয়ারম্যান হোসে আন্তোনিও ওকাম্পোর কাছে একটি চিঠি পাঠান।
চিঠিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে এলডিসি উত্তরণ প্রস্তুতির সময় ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়। আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ হবে চলতি বছরের ২৪ নভেম্বর। চূড়ান্ত উত্তরণের আগে তৃতীয় পর্যালোচনার প্রক্রিয়া চলমান।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরা হয়। টেকসইভাবে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ নিশ্চিত করতে সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্যমনে করেন আমির খসরু। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রস্তুতি এখনো অসম্পূর্ণ এবং বাস্তবসম্মত উত্তরণের জন্য প্রায় তিন বছরের একটি কৌশলগত সময় প্রয়োজন।
এর আগে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), ইউএন-ওএইচআরএলএলএস এবং জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কের কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে বহুপক্ষীয় পরামর্শ সভা হয়।
সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ইউএনওএইচআরএলএলএসের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতিমা, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি বাস্তবসম্মত উত্তরণের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। কারণ সরকারকে এখন প্রতিদিনের সংকট মোকাবিলায় ‘ফায়ারফাইটিং মোডে’ কাজ করতে হচ্ছে। দেশের অর্থনীতি বর্তমানে সংকটে রয়েছে, যেখানে অধিকাংশ প্রধান অর্থনৈতিক সূচক নিম্নমু। এই পরিস্থিতিতে সরকার অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম দ্বিগুণ হয়েছে। শ্রীলঙ্কায় ২৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। বিপরীতে বাংলাদেশ সরকার এখনো দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। তবে এই ধরনের আর্থিক চাপ দীর্ঘদিন বহন করা সম্ভব নয়।
অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কৌশল তিনটি মূল ভিত্তির ওপর গড়ে উঠেছে। প্রথমত, দেশীয় প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য সক্ষমতা বৃদ্ধি। দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে নীতিমালার সমন্বয়। তৃতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ কোনো নির্ধারিত বিষয় নয়, বরং এটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল। তিন বছরের মধ্যে মৌলিক অর্থনৈতিক সূচক শক্তিশালী করা হবে। প্রয়োজনীয় সংস্কার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রকৃত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের মাধ্যমে এলডিসি উত্তরণকে বাস্তবসম্মত ও টেকসই লক্ষ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে।
এলডিসি কী, উত্তরণ কীভাবে
উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে যারা একটু পিছিয়ে আছে, তাদের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকায় রাখে জাতিসংঘ। এসব দেশ যাতে এলডিসি উত্তরণ হতে পারে, সে জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে নানা ধরনের সাহায্য ও সহযোগিতা দেওয়া হয়।
এলডিসি থেকে কোন দেশ বের হবে, সে বিষয়ে সুপারিশ করে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) অধীন কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)।
তিন বছর পরপর এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর ত্রিবার্ষিক মূল্যায়ন করা হয়। মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা– এই তিন সূচকের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়, কোনো দেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্য কি না। যেকোনো দুটি সূচকে উত্তীর্ণ হতে হয় অথবা মাথাপিছু আয় নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণ হতে হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব মানদণ্ড অবশ্য পরিবর্তিত হয়।
বাংলাদেশ ২০১৮ ও ২০২১ সালের ত্রিবার্ষিক মূল্যায়নে তিনটি সূচকেই উত্তীর্ণ হয়। ২০২১ সালেই চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হবে। তবে করোনার কারণে প্রস্তুতির জন্য দুই বছর সময় বাড়ানো হয়। এ বছরের (২০২৬ সাল) নভেম্বরে এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা ঠিক করা আছে।
১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকাভুক্ত হয়। এলডিসিভুক্ত থাকার সুবাদে পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত–সুবিধাসহ নানা সুযোগ পেয়ে এসেছে।
কেন পেছাতে চায়, জানালেন অর্থমন্ত্রী
এ বিষয়ে আজ অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতির অস্থিরতা কাটানোর জন্য সরকার সংকট মোকাবিলা করে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করতে হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উচ্চ মূল্যে জ্বালানি আমদানি করছে সরকার। ফলে বাংলাদেশের রিজার্ভে প্রভাব পড়ছে।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অস্থিরতা ছাড়াও দেশের অনেক ঋণ আছে। ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করা বড় সমস্যা। ভবিষ্যতে ঋণ ব্যয়ের বিষয়টি মাথায় রেখে আমাদের অর্থায়নের চিন্তা করতে হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করে এবং দেশের সক্ষমতা তৈরির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে, কখন এলডিসি উত্তরণের দিকে যাওয়া হবে। জনগণের কাছে নির্বাচনী ইশতেহারের মাধ্যমে যে ওয়াদা করা হয়েছে, তা সময়মতো বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসহ আমরা কিছু কাজ বাস্তবায়ন করেছি। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে সক্ষমতা তৈরির পর আমরা এলডিসি উত্তরণের দিকে যাব। কিন্তু এই মুহূর্তে এলডিসি উত্তরণের দিকে যাওয়ার সুযোগ নেই।
ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় মার্চে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে। মূলত খাদ্যদ্রব্যের দামের নিম্নগতির কারণেই এই কমতি এসেছে।
৪ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি সব খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার শঙ্কা তুলে ধরেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
৮ ঘণ্টা আগে
ইরানযুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করলেও বাংলাদেশে আপাতত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবিলায় বড় পরিসরে জরুরি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার আওতায় প্রায় ১৭ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
১১ ঘণ্টা আগে
চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন উৎস হিসেবে কাজাখস্তান থেকে ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শনিবার (১ এপ্রিল) সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি জরুরি ভিত্তিতে এ আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
১ দিন আগে