leadT1ad

দুই কার্গো এলএনজি ও ১ লাখ টন ডিজেল কিনবে সরকার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২৩: ৫১
জ্বালানি তেল। সংগৃহীত ছবি

চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন উৎস হিসেবে কাজাখস্তান থেকে ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শনিবার (১ এপ্রিল) সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি জরুরি ভিত্তিতে এ আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

প্রস্তাবে বলা হয়, কাজাখস্তান থেকে প্রতি ব্যারেল ৭৫ দশমিক ০৬ ডলার মূল্যে ১ লাখ টন ডিজেল কেনা হবে।

Ad 300x250

এর আগে, গত সপ্তাহে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে ‘এক্সনমোবিল কাজাখস্তান ইনক’ থেকে আরও ১ লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছিল সরকার।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় মন্ত্রিসভা কমিটিকে জানিয়েছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নিয়মিত সরবরাহকারীরা নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি সরবরাহ করতে পারছে না। এতে দেশের জ্বালানি মজুতের পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে।

ইতোমধ্যে দুই প্রধান সরবরাহকারী– ইউনিপেক সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড ও পেটকো ট্রেডিং লাবুয়ান কোম্পানি এপ্রিলের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। এ অবস্থায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানির উৎস বহুমুখীকরণের ওপর জোর দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এছাড়া, বেশ কয়েকটি রপ্তানিকারক দেশ সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় বিশ্ববাজার সংকুচিত হয়েছে। এতে বাংলাদেশও আমদানির ক্ষেত্রে জটিল পরিস্থিতিতে পড়েছে।

অন্যদিকে, কাতার ও ওমান থেকে এলএনজি রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় ইউরোপে গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে। এ কারণে বিকল্প হিসেবে তরল জ্বালানির চাহিদা বাড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

এ অবস্থায় অনেক দেশই জ্বালানি রেশনিং এবং চাহিদা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারও জ্বালানি নিয়ে কিছু নির্দেশনা জারি করেছে এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করেছে।

ক্রয় কমিটি ‘আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড’ থেকে দুই কার্গো এলএনজি সংগ্রহের প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বৈঠকটি ভার্চুয়ালি হয় এবং এতে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমাদনি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দেশে জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সরকারের তরফে সংকট হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সাশ্রয়ের পথে হাঁটছে সরকার।

এমন পরিস্থিতিতে শুক্র ও শনিবার দুদিনে পৃথক দুই জাহাজে মোট ৬১ হাজার টন পরিশোধিত ডিজেল দেশে আসে। শুক্রবার ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে ‘এমটি ইউয়ান জিং হে’ নামে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার পর শনিবার ভোরে আসে ‘এমটি শান গ্যাং ফা শিয়ান‘ নামের জাহাজ। ৩৪ হাজার টন পরিশোধিত তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বর্হিনোঙ্গরে ভিড়ে জাহাজটি।

এর আগে গত মঙ্গলবারে ‘পিভিটি সোলানা’ নামে একটি জাহাজ ৩০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে বন্দরের ডলফিন জেটিতে এসেছিল।

বাংলাদেশে বছরে গড়ে ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেলের প্রয়োজন। চাহিদার ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আমদানি করা হয়। বাকি ৮০ শতাংশ জ্বালানি তেল পরিশোধিত অবস্থায় আনা হয় সিঙ্গাপুর, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ সাতটি দেশ থেকে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি এপ্রিলে দেশে ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৪ লাখ টন। এ মাসে আরও সোয়া ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা আছে।

ইতোমধ্যে ১ লাখ ৬৫ থেকে ৬৮ হাজার টন ডিজেল আসার নিশ্চয়তা পাওয়ার কথা বলেছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। এর বাইরে প্রায় দেড় লাখ টনের মতো ডিজেল মজুদ রয়েছে। নতুন করে ক্রয় কমিটি যেসব তেল কেনার অনুমোদন দিচ্ছে, তা আসতে আসতে মে-জুন লাগবে বলে মন্ত্রণালয়ের তরফে বলা হয়েছে।

ক্রয় কমিটিতে অনুমোদনের পর নিয়ম অনুযায়ী, কোম্পানিগুলো থেকে পারফরম্যান্স গ্যারান্টি (পিজি) নেয় বিপিসি। এরপর ঋণপত্র (এলসি) খুলে কোম্পানিগুলোকে কার্যাদেশ দেওয়ার পর আসতে মাস দুয়েক লেগে যায় সাধারণত।

Ad 300x250Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত
leadT1ad

সম্পর্কিত

leadT1ad
leadT1ad