বিএনপি ক্ষমতায় এলে গুম-খুন ও জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে: রিজভী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪: ৫৭
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন রুহুল কবির রিজভী

জনগণের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করলে বিগত সময়ে গুম, খুন এবং সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্বাসন করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘এ জাতি শহীদদের রক্তের ঋণে আবদ্ধ। এই ঋণ আমাদের শোধ করতে হবে।’

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’ এর আয়োজনে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গুম-খুন হওয়া স্বজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা হয়।

অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে যারা প্রাণ হারিয়েছেন বা গুম হয়েছেন, তাদের বাদ দিয়ে কোনো অর্জন সম্ভব নয়। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এই পরিবারগুলোর সামাজিক প্রতিষ্ঠা ও মূল্যায়নের যে প্রতিশ্রুতি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান দিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন করা হবে।’

দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মানবিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, ‘২০০৯-১০ সাল থেকে যারা গুম, ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন, তারেক রহমান অত্যন্ত গোপনে সেসব পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সহায়তা করেছেন। দলের অনেক নেতাকর্মীও এসব জানতেন না। ২০২৪ সালে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সেল গঠনের মাধ্যমে এই সহায়তা একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারেক রহমান সুদূর লন্ডন থেকেও দেশের প্রতিটি ঘটনার ওপর নিবিড় নজর রাখেন। আমরা খবরের কাগজ পড়ার আগেই তিনি সংবাদ পেয়ে আমাদের নির্দেশ দেন—বরিশাল, বরগুনা বা দিনাজপুরে ছুটে যেতে। তার এই উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘শেখ হাসিনা তারেক রহমানের নিজের কথা বলাও নিষিদ্ধ করেছিলেন। মায়ের কোল থেকে সন্তানকে, স্ত্রীর কাছ থেকে স্বামীকে তুলে নিয়ে গুম করা হয়েছে। ইলিয়াস আলীর মতো নেতাকে গুম করা হয়েছে। মানুষকে গুলি করে পাটক্ষেত, বাঁশঝাড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। নিজের চোখে আমরা সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখেছি।’

বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘যাকে দমন করা যায়নি, যার মাথা নত করা যায়নি; সেই নেত্রী আজ আমাদের মাঝে সক্রিয় নেই। কিন্তু তার সেই পতাকা আজ তারেক রহমান শক্তভাবে ধরেছেন। এই পতাকা যাতে নুয়ে না পড়ে, সেজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

সম্পর্কিত