স্ট্রিম সংবাদদাতা

যশোরের ঝিকরগাছার পৌর শহরের দক্ষিণের গ্রাম বড় কলসি। গ্রামটির বাজারে একটি চায়ের দোকানে সোমবার গোধূলিলগ্নে বসেছিলেন পাঁচ-সাতজন। উদ্দেশ্য চা পান হলেও সবার নজর ছিল দোকানে থাকা টেলিভিশনে, সেখানে চলছিল সন্ধ্যার খবর।
নির্বাচনী সংবাদ পাঠ চলার সময় একজন বলে উঠলেন- ‘আমাগের আসনে প্রার্থী কয়ডা?’ একজন জবাব দিলেন, ‘দাঁড়িপাল্লা, ধানের শীষের ক্যান্ডিডেট ছাড়া তো কাউরে দেখি নে।’ তখন আরেকজন বলে উঠলেন, ‘ক্যান নাঙ্গলও (জাতীয় পার্টির লাঙ্গল) তো দাঁড়ায়ছে।’
এ সময় আরেকজন বলে উঠলেন, ‘দাঁড়িপাল্লা আর ধানের শীষের ক্যান্ডিডেট ছাড়া তো কাউরে চিনি নে। এবার পোস্টার না থাকায় ক্যান্ডিডেট তো চিনতে পারতিছিনে।’
প্রার্থী না চেনার এই চিত্র পুরো যশোর জুড়েই। জেলার ছয়টি আসনে ৩৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রার্থীকে চেনেন না ভোটাররা। এই প্রার্থীদের কারও কারও আবার নির্বাচনী অফিসই নেই।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, যশোর-১ আসনে (শার্শা) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চারজন। বিএনপির নুরুজ্জামান ও জামায়াতের আজীজুর রহমানের জমজমাট প্রচার থাকলেও জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল ও ইসলামী আন্দোলন বক্তিয়ার রহমানকে তেমন দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে জাপার জাহাঙ্গীর চঞ্চল বলেন, ‘আমাদের কর্মী সমর্থক কম; যেটুকু পারছি প্রচার চালাচ্ছি।’
যশোর-২ আসনে (ঝিকরগাছা ও চৌগাছা) আটজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটারদের কাছে বড় দুই রাজনীতিক দল বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী ছাড়া বাকি ছয়জনই অপরিচিত। মাঠেও সরব বিএনপির সাবিরা সুলতানা ও জামায়াতের মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।
তবে বাকি ছয় প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের ইদ্রিস আলী, বাসসের ইমরান খান, স্বতন্ত্র মেহেদী হাসান, বিএনএফ শামছুল হক ও এবি পার্টির রিপন মাহমুদকে প্রচারে তেমন দেখা যায়নি। স্থানীয় ভোটাররা তাদের চেনেন না বলেও জানান। আর বিএনপি ‘বিদ্রোহী’ জহুরুল হক প্রচারের থাকলেও শেষপর্যন্ত দলীয় প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
যশোর-৩ (সদর) আসনে প্রার্থী হয়েছেন ছয়জন। এখানে বিএনপির অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জামায়াতের আব্দুল কাদের, ইসলামী আন্দোলন শোয়্ইব হোসেন ও কমিউনিস্ট পার্টির রাশেদ খানকে প্রচারে দেখা গেছে। তবে জাপার খবির গাজী ও জাগপার নিজামউদ্দিন অমিতকে গ্রামের ভোটাররা চেনেন না বললেই চলে। তাদের নির্বাচনী কার্যালয়ও দেখা যায়নি।
যশোর-৪ আসনে আট প্রার্থীর মধ্যে পরিচিত মুখ মূলত বিএনপির মতিয়ার ফারাজী ও জামায়াতের গোলাম রসুল। ইসলামী আন্দোলনের বায়েজিদ হোসাইন মাঝে মধ্যে প্রচার চালাতে দেখা গেলেও খেলাফত মজলিশের আলেক এলাহী, জাপার জহুরুল হক ও বিএমজেপির সুকৃতি মন্ডলকে মাঠে দেখা যায়নি। এসব প্রার্থীদের নিজ গ্রামে ছাড়া নির্বাচনী কার্যালয়ও চোখে পড়েনি।
বিএমজেপির সুকৃতি মন্ডল বলেন, তেমন একটা মাঠে যাওয়া হয়নি। এজন্য পরিচিতি কম। তবে প্রচার চলছে।
যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে ছয় প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে তিনজনই ‘অপরিচিত’। ভোটাররা চেনেন মূলত জামায়াতের গাজী এনামুল হক, বিএনপির রশীদ আহম্মাদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদ ইকবালকে। তাদের বাইরে জাপার এম এ হালিম, স্বতন্ত্র কামরুজ্জামান ও ইসলামী আন্দোলনের জয়নাল আবেদীন কর্মী সংকটে সব কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টও দিতে পারছেন না।
যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে প্রচারে আছেন শুধু বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ ও জামায়াতের মোক্তার আলী। জাপার জি এম হাসান, এবি পার্টির মাহমুদ হাসান ও ইসলামী আন্দোলনের শহিদুল ইসলাম মাঠে অপরিচিত মুখ। নির্বাচনী অফিসও দেখা যায়নি তাদের।
সচেতন নাগরিক কমিটির যশোরের সভাপতি পাভেল চৌধুরী বলেন, ‘যশোরে এক-তৃতীয়াংশ প্রার্থী অপরিচিত। অনেকেই প্রার্থী হয়েছেন নামকাওয়াস্তে। এসব প্রার্থীদের সাধারণ দুটি উদ্দেশ্য থাকে– একটি অসৎ, অন্যটি পরিচিত হওয়ার জন্য। আবেগের বশেও অনেকে প্রার্থী হন। এবার পোস্টার না থাকায় অপরিচিত প্রার্থীদের চিনতেও পারছেন না ভোটাররা।’
সাধারণ ভোটাররা বলছেন, যারা নির্বাচিত হবেন তারা দেশের জন্য আইন তৈরি করবেন। এলাকার উন্নয়নের দায়িত্বও তাদের কাঁধে। অথচ এবার নির্বাচনে এমন অনেকেই প্রার্থী হয়েছেন, যাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের পরিচয় নেই। ন্যূনতম যোগাযোগও নেই।

যশোরের ঝিকরগাছার পৌর শহরের দক্ষিণের গ্রাম বড় কলসি। গ্রামটির বাজারে একটি চায়ের দোকানে সোমবার গোধূলিলগ্নে বসেছিলেন পাঁচ-সাতজন। উদ্দেশ্য চা পান হলেও সবার নজর ছিল দোকানে থাকা টেলিভিশনে, সেখানে চলছিল সন্ধ্যার খবর।
নির্বাচনী সংবাদ পাঠ চলার সময় একজন বলে উঠলেন- ‘আমাগের আসনে প্রার্থী কয়ডা?’ একজন জবাব দিলেন, ‘দাঁড়িপাল্লা, ধানের শীষের ক্যান্ডিডেট ছাড়া তো কাউরে দেখি নে।’ তখন আরেকজন বলে উঠলেন, ‘ক্যান নাঙ্গলও (জাতীয় পার্টির লাঙ্গল) তো দাঁড়ায়ছে।’
এ সময় আরেকজন বলে উঠলেন, ‘দাঁড়িপাল্লা আর ধানের শীষের ক্যান্ডিডেট ছাড়া তো কাউরে চিনি নে। এবার পোস্টার না থাকায় ক্যান্ডিডেট তো চিনতে পারতিছিনে।’
প্রার্থী না চেনার এই চিত্র পুরো যশোর জুড়েই। জেলার ছয়টি আসনে ৩৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রার্থীকে চেনেন না ভোটাররা। এই প্রার্থীদের কারও কারও আবার নির্বাচনী অফিসই নেই।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, যশোর-১ আসনে (শার্শা) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চারজন। বিএনপির নুরুজ্জামান ও জামায়াতের আজীজুর রহমানের জমজমাট প্রচার থাকলেও জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল ও ইসলামী আন্দোলন বক্তিয়ার রহমানকে তেমন দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে জাপার জাহাঙ্গীর চঞ্চল বলেন, ‘আমাদের কর্মী সমর্থক কম; যেটুকু পারছি প্রচার চালাচ্ছি।’
যশোর-২ আসনে (ঝিকরগাছা ও চৌগাছা) আটজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটারদের কাছে বড় দুই রাজনীতিক দল বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী ছাড়া বাকি ছয়জনই অপরিচিত। মাঠেও সরব বিএনপির সাবিরা সুলতানা ও জামায়াতের মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।
তবে বাকি ছয় প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের ইদ্রিস আলী, বাসসের ইমরান খান, স্বতন্ত্র মেহেদী হাসান, বিএনএফ শামছুল হক ও এবি পার্টির রিপন মাহমুদকে প্রচারে তেমন দেখা যায়নি। স্থানীয় ভোটাররা তাদের চেনেন না বলেও জানান। আর বিএনপি ‘বিদ্রোহী’ জহুরুল হক প্রচারের থাকলেও শেষপর্যন্ত দলীয় প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
যশোর-৩ (সদর) আসনে প্রার্থী হয়েছেন ছয়জন। এখানে বিএনপির অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জামায়াতের আব্দুল কাদের, ইসলামী আন্দোলন শোয়্ইব হোসেন ও কমিউনিস্ট পার্টির রাশেদ খানকে প্রচারে দেখা গেছে। তবে জাপার খবির গাজী ও জাগপার নিজামউদ্দিন অমিতকে গ্রামের ভোটাররা চেনেন না বললেই চলে। তাদের নির্বাচনী কার্যালয়ও দেখা যায়নি।
যশোর-৪ আসনে আট প্রার্থীর মধ্যে পরিচিত মুখ মূলত বিএনপির মতিয়ার ফারাজী ও জামায়াতের গোলাম রসুল। ইসলামী আন্দোলনের বায়েজিদ হোসাইন মাঝে মধ্যে প্রচার চালাতে দেখা গেলেও খেলাফত মজলিশের আলেক এলাহী, জাপার জহুরুল হক ও বিএমজেপির সুকৃতি মন্ডলকে মাঠে দেখা যায়নি। এসব প্রার্থীদের নিজ গ্রামে ছাড়া নির্বাচনী কার্যালয়ও চোখে পড়েনি।
বিএমজেপির সুকৃতি মন্ডল বলেন, তেমন একটা মাঠে যাওয়া হয়নি। এজন্য পরিচিতি কম। তবে প্রচার চলছে।
যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে ছয় প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে তিনজনই ‘অপরিচিত’। ভোটাররা চেনেন মূলত জামায়াতের গাজী এনামুল হক, বিএনপির রশীদ আহম্মাদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদ ইকবালকে। তাদের বাইরে জাপার এম এ হালিম, স্বতন্ত্র কামরুজ্জামান ও ইসলামী আন্দোলনের জয়নাল আবেদীন কর্মী সংকটে সব কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টও দিতে পারছেন না।
যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে প্রচারে আছেন শুধু বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ ও জামায়াতের মোক্তার আলী। জাপার জি এম হাসান, এবি পার্টির মাহমুদ হাসান ও ইসলামী আন্দোলনের শহিদুল ইসলাম মাঠে অপরিচিত মুখ। নির্বাচনী অফিসও দেখা যায়নি তাদের।
সচেতন নাগরিক কমিটির যশোরের সভাপতি পাভেল চৌধুরী বলেন, ‘যশোরে এক-তৃতীয়াংশ প্রার্থী অপরিচিত। অনেকেই প্রার্থী হয়েছেন নামকাওয়াস্তে। এসব প্রার্থীদের সাধারণ দুটি উদ্দেশ্য থাকে– একটি অসৎ, অন্যটি পরিচিত হওয়ার জন্য। আবেগের বশেও অনেকে প্রার্থী হন। এবার পোস্টার না থাকায় অপরিচিত প্রার্থীদের চিনতেও পারছেন না ভোটাররা।’
সাধারণ ভোটাররা বলছেন, যারা নির্বাচিত হবেন তারা দেশের জন্য আইন তৈরি করবেন। এলাকার উন্নয়নের দায়িত্বও তাদের কাঁধে। অথচ এবার নির্বাচনে এমন অনেকেই প্রার্থী হয়েছেন, যাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের পরিচয় নেই। ন্যূনতম যোগাযোগও নেই।

ঢাকার দুটিসহ (উত্তর ও দক্ষিণ) পাঁচ সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রোববার (২৯ মার্চ) রাতে রাজধানীর বাংলামটরে অস্থায়ী কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।
৮ ঘণ্টা আগে
ঘোষণার পরও সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ছায়া মন্ত্রিসভা দিতে পারেনি। দেরি করার পেছনে দলটির নেতারা বলছেন, আইনি কাঠামো ছাড়া ছায়া মন্ত্রিসভা কার্যকর হবে না। এজন্য ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের পরে সরকারের কাছে তারা ‘এক্সেস টু মিনিস্ট্রি’ বিষয়ে আইনি ভিত্তি চাইবেন।
৯ ঘণ্টা আগে
সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ বিষয়ে রোববার (২৯ মার্চ) রাত ৯টায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে।
১৯ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রতিদিন রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হলে দলের বদনাম হবে। মানুষেরও কষ্ট হবে। শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়া বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উদ্দেশে একথা বলেন তিনি।
১ দিন আগে