স্ট্রিম প্রতিবেদক

সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে বাংলাদেশের ভোটাররা বিএনপিকে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়েছেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে দেশটিতে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল। ২০২৪ সালে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটি এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। তবে নতুন সরকারের সামনে এখন বড় বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
বিএনপির বিজয় নিয়ে সংশয় না থাকলেও জয়ের ব্যবধান অনেককে বিস্মিত করেছে। ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, দীর্ঘ কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর মানুষ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আস্থা রেখেছে। এর আগে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার টানা ১৫ বছর দেশ শাসন করে। ২০২৪ সালের আগস্টে এক গণঅভ্যুত্থানে সেই সরকার উৎখাত হয়। এবারের নির্বাচনে দলটিকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। এদেশের মানুষ মূলত এমন একটি জাতীয়তাবাদী দলকে বেছে নিয়েছে, যারা অতীতেও দেশ শাসন করেছে এবং শেখ হাসিনার আমলে চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পরাজয়কে ধর্মভিত্তিক রক্ষণশীল রাজনীতির প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভোটাররা প্রধানমন্ত্রীর দুই মেয়াদের সীমা নির্ধারণ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন এবং নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির মতো সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের রাজনীতি মূলত দুটি পরিবার এবং দুই নারী নেত্রীর হাতে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন ভারতে নির্বাসনে এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তিনি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত। অন্যদিকে বিএনপি নেত্রী ও দুইবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গত ডিসেম্বরে মারা গেছেন। বর্তমানে দলটির নেতৃত্বে আছেন তাঁর ছেলে তারেক রহমান।
সুশাসন ও অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ
স্বেচ্ছানির্বাসন শেষে দেশে ফিরে তারেক রহমান এখন নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। একনায়কতন্ত্রের পতনের পর ‘জেন-জি’ বিদ্রোহ দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে দিয়েছে। নতুন সরকারের জন্য এখন বড় পরীক্ষা হলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে সুশাসন নিশ্চিত করা। গণভোটে অনুমোদিত সংবিধান সংস্কারের প্যাকেজ এই সমস্যা সমাধানে সহায়ক হতে পারে।
দীর্ঘ অস্থিরতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ একসময় এই অঞ্চলের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি ছিল। তবে গত কয়েক বছরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলেছে। তৈরি পোশাক খাত সংকটের মুখে এবং বেকারত্ব বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে প্রকট হয়েছে। এই অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করাই সরকারের প্রধান কাজ। নতুন প্রধানমন্ত্রী সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির প্রভাব কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
আঞ্চলিক কূটনীতি ও ভারত-চীন ভারসাম্য
সংসদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও স্থিতিশীলতা ফেরানো সহজ হবে না। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকলেও তারা এখনো একটি বড় রাজনৈতিক শক্তি। ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা তাঁর সমর্থকদের নির্দেশনা দিচ্ছেন এবং এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর প্রত্যর্পণের বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি জটিল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতবেষ্টিত বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দিল্লির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি দিল্লির জন্য বড় ধাক্কা। বর্তমানে পানি বণ্টন ও সীমান্ত হত্যার মতো অমীমাংসিত ইস্যুগুলো সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটিয়েছে।
বাংলাদেশের মানুষ এখন এমন একটি পররাষ্ট্রনীতি চায় যা দিল্লির ওপর নির্ভরশীল নয়। গত কয়েক বছরে চীন বাংলাদেশের বড় বাণিজ্য ও অবকাঠামো সহযোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ভারতের সঙ্গে টানাপড়েনের কারণে বাংলাদেশ আরও বেশি চীনের দিকে ঝুঁকতে পারে। অন্যদিকে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দ্রুত উন্নত হয়েছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও সরাসরি বিমান চলাচল এর প্রমাণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। জাতীয় স্বার্থকে সবার উপরে রেখে সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাই তাঁর লক্ষ্য। একটি গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ পুরো অঞ্চলের শান্তির জন্য ইতিবাচক সংকেত।
লেখক: পাকিস্তানি লেখক ও সাংবাদিক
(পাকিস্তানের দ্য ডন পত্রিকায় প্রকাশিত ইংরেজি নিবন্ধ থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন মাহবুবুল আলম তারেক)

সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে বাংলাদেশের ভোটাররা বিএনপিকে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়েছেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে দেশটিতে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল। ২০২৪ সালে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটি এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। তবে নতুন সরকারের সামনে এখন বড় বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
বিএনপির বিজয় নিয়ে সংশয় না থাকলেও জয়ের ব্যবধান অনেককে বিস্মিত করেছে। ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, দীর্ঘ কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর মানুষ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আস্থা রেখেছে। এর আগে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার টানা ১৫ বছর দেশ শাসন করে। ২০২৪ সালের আগস্টে এক গণঅভ্যুত্থানে সেই সরকার উৎখাত হয়। এবারের নির্বাচনে দলটিকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। এদেশের মানুষ মূলত এমন একটি জাতীয়তাবাদী দলকে বেছে নিয়েছে, যারা অতীতেও দেশ শাসন করেছে এবং শেখ হাসিনার আমলে চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পরাজয়কে ধর্মভিত্তিক রক্ষণশীল রাজনীতির প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভোটাররা প্রধানমন্ত্রীর দুই মেয়াদের সীমা নির্ধারণ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন এবং নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির মতো সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের রাজনীতি মূলত দুটি পরিবার এবং দুই নারী নেত্রীর হাতে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন ভারতে নির্বাসনে এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তিনি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত। অন্যদিকে বিএনপি নেত্রী ও দুইবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গত ডিসেম্বরে মারা গেছেন। বর্তমানে দলটির নেতৃত্বে আছেন তাঁর ছেলে তারেক রহমান।
সুশাসন ও অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ
স্বেচ্ছানির্বাসন শেষে দেশে ফিরে তারেক রহমান এখন নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। একনায়কতন্ত্রের পতনের পর ‘জেন-জি’ বিদ্রোহ দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে দিয়েছে। নতুন সরকারের জন্য এখন বড় পরীক্ষা হলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে সুশাসন নিশ্চিত করা। গণভোটে অনুমোদিত সংবিধান সংস্কারের প্যাকেজ এই সমস্যা সমাধানে সহায়ক হতে পারে।
দীর্ঘ অস্থিরতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ একসময় এই অঞ্চলের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি ছিল। তবে গত কয়েক বছরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলেছে। তৈরি পোশাক খাত সংকটের মুখে এবং বেকারত্ব বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে প্রকট হয়েছে। এই অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করাই সরকারের প্রধান কাজ। নতুন প্রধানমন্ত্রী সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির প্রভাব কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
আঞ্চলিক কূটনীতি ও ভারত-চীন ভারসাম্য
সংসদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও স্থিতিশীলতা ফেরানো সহজ হবে না। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকলেও তারা এখনো একটি বড় রাজনৈতিক শক্তি। ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা তাঁর সমর্থকদের নির্দেশনা দিচ্ছেন এবং এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর প্রত্যর্পণের বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি জটিল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতবেষ্টিত বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দিল্লির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি দিল্লির জন্য বড় ধাক্কা। বর্তমানে পানি বণ্টন ও সীমান্ত হত্যার মতো অমীমাংসিত ইস্যুগুলো সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটিয়েছে।
বাংলাদেশের মানুষ এখন এমন একটি পররাষ্ট্রনীতি চায় যা দিল্লির ওপর নির্ভরশীল নয়। গত কয়েক বছরে চীন বাংলাদেশের বড় বাণিজ্য ও অবকাঠামো সহযোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ভারতের সঙ্গে টানাপড়েনের কারণে বাংলাদেশ আরও বেশি চীনের দিকে ঝুঁকতে পারে। অন্যদিকে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দ্রুত উন্নত হয়েছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও সরাসরি বিমান চলাচল এর প্রমাণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। জাতীয় স্বার্থকে সবার উপরে রেখে সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাই তাঁর লক্ষ্য। একটি গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ পুরো অঞ্চলের শান্তির জন্য ইতিবাচক সংকেত।
লেখক: পাকিস্তানি লেখক ও সাংবাদিক
(পাকিস্তানের দ্য ডন পত্রিকায় প্রকাশিত ইংরেজি নিবন্ধ থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন মাহবুবুল আলম তারেক)

বিশ্ব রাজনীতি কখনো কখনো ব্যক্তির হাতে বন্দি হয়ে পড়ে। তখন নীতি হারায়; প্রাধান্য পায় মেজাজ। প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়; ব্যক্তিত্ব ফুলে ওঠে। এই বাস্তবতা নতুন নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তা আরও নগ্নভাবে সামনে এসেছে।
৯ ঘণ্টা আগে
একুশ শতকের তৃতীয় দশকে বিশ্বরাজনীতি এক অভূতপূর্ব সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে ইউক্রেন থেকে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশগুলো তাদের অস্ত্রের ভান্ডার ও অর্থনীতিকে বিসর্জন দিচ্ছে। একদিকে কামানের গর্জন আর ক্ষেপণাস্ত্রের ঝিলিক যখন পরাশক্তিগুলোকে যুদ্ধের চোরাবালিতে নিমজ্জিত করছে, ঠিক তখনই হয়তো বেইজিংয়
১৭ ঘণ্টা আগে
আমরা এখন পারস্য উপসাগরের নীল জলে। কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশ মিলিটারি কনটিনজেন্টের একদল সামরিক কর্মকর্তা ফেরিতে করে কুয়েত থেকে ২০ কিলোমিটার দূরবর্তী ফাইলাকা দ্বীপে ভ্রমণে চলেছি। ২০১০-এর জানুয়ারি। আমাদের পূর্ব দিকে ইরান। সেই দেশ থেকে উড়ে এসে একদল সাদা সীগাল আমাদের স্বাগত জানায়।
১ দিন আগে
‘সত্যেন’ নামের আক্ষরিক অর্থ—সত্যের প্রতি নিষ্ঠাবান ব্যক্তি; যিনি সত্যকে ধারণ করেন কিংবা যাঁর কাছে সত্যই পরম আরাধ্য। আমাদের সত্যেন সেন তাঁর নামের এই আক্ষরিক অর্থের এক জীবন্ত ও মূর্ত উদাহরণ।
২ দিন আগে