স্টিভ সালগ্রা রেমা

ভোর ৬টা ২০ মিনিটের দিকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ চত্বরে নামতে শুরু করে মানুষের ঢল। কারও হাতে গাঁদা আর রজনীগন্ধা ফুলের তোড়া, কারও সঙ্গে ছোট সন্তান, কেউ আবার দল বেঁধে এগোচ্ছেন শহীদ বেদির দিকে। পায়ের শব্দ, ফুলের সুবাস আর সকালের নরম আলোয় কিছুক্ষণের মধ্যেই শ্রদ্ধার ফুলে ভরে ওঠে স্মৃতিসৌধের বেদি। এখানে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা আছে ঠিকই, তবে তার চেয়েও বেশি আছে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত আবেগ ও অনুভূতি।

মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন এসেছেন স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে। সন্তানদের বয়স তিন ও চার বছর। তিনি কেবল আনুষ্ঠানিকতা করতে আসেননি; এসেছেন সন্তানদের ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে। শাহাদাত হোসেন বলেন, “আমি চাই আমার সন্তানরা বড় হয়ে এই স্মৃতিসৌধকে চিনুক এবং এর গুরুত্ব বুঝুক। স্বাধীনতা মানে স্বৈরাচার থেকে মুক্ত থাকা এবং দেশ যেন ভালোভাবে চলে। আমার স্বপ্নের বাংলাদেশ এমন হবে, যেখানে সব মানুষ সুন্দর ও স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবে।”

মাইন উদ্দিন আহমেদ ডালিমের কণ্ঠে স্বাধীনতা ধরা দেয় ভিন্ন এক গভীরতায়। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর থেকে আসা এই মানুষটি দুর্ঘটনায় হাত-পা হারিয়ে বর্তমানে সিআরপিতে চিকিৎসাধীন। তিনি আজ প্রায় ৪০ জন সহযোদ্ধাকে নিয়ে স্মৃতিসৌধে এসেছেন। ডালিম আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেন, “ভাবিনি এই পঙ্গু শরীর নিয়ে কোনো দিন এখানে আসতে পারব। আমাদের পূর্বপুরুষেরা অনেক কষ্টে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে তা রক্ষা করা বেশি কঠিন। আমাদের উচিত দেশকে নিজের মা-বাবার মতো ভালোবাসা।”
মোসাম্মৎ আদরি বেগমের কণ্ঠে স্বাধীনতা মানে এক বাস্তব চাওয়া। সিআরপির মাধ্যমে আসা এই নারী চান দেশে যেন দুর্নীতি না থাকে এবং মানুষ সৎ পথে চলে। তিনি বলেন, “শিক্ষিত হোক বা অশিক্ষিত—দুর্ঘটনায় অচল হয়ে যাওয়া মানুষদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা থাকা উচিত। পিছিয়ে পড়া মানুষ যেন অবহেলিত না থাকে, সেটিই হবে প্রকৃত স্বাধীনতা।”

জনসমাগমের ভেতর ছিল শিশু মাস্তুরাও। মা-বাবার সঙ্গে আসা এই শিশু বলে, তার কাছে স্বাধীনতার মানে ৩০ লক্ষ শহীদের মৃত্যু এবং তাঁদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানানো। আগামী বাংলাদেশ নিয়ে তার প্রত্যাশা খুব সরল—“সবকিছু যেন ভালো হয়, দেশে যেন গণ্ডগোল না হয়।”
অন্যদিকে আবিদুল্লাহ আফিফের কণ্ঠে এ দিনের স্মরণ জড়িয়ে আছে অধিকারবোধের সঙ্গে। ‘অদম্য ২৪’ ও ‘অদম্য কালচার সেন্টার’-এর এই সদস্য বলেন, “আমরা শহীদদের জন্য দোয়া করতে এবং ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবি জানাতে এসেছি। পাকিস্তান থেকে মুক্ত হলেও মানুষ কি সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে? দ্রব্যমূল্য, বাকস্বাধীনতা আর অধিকার আদায়ের লড়াই আজও শেষ হয়নি।”

শহীদ বেদির সামনে ফুলে ফুলে ভরে উঠছিল, মানুষের স্রোতও থামছিল না। দিনশেষে সবচেয়ে বেশি মনে থাকে মানুষের বলা এই কথাগুলো। কেউ স্বাধীনতাকে দেখেছেন প্রজন্মের হাতে ইতিহাস তুলে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে, আবার কেউবা নিরাপত্তা, অধিকার আর মর্যাদার প্রশ্নে।

ভোর ৬টা ২০ মিনিটের দিকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ চত্বরে নামতে শুরু করে মানুষের ঢল। কারও হাতে গাঁদা আর রজনীগন্ধা ফুলের তোড়া, কারও সঙ্গে ছোট সন্তান, কেউ আবার দল বেঁধে এগোচ্ছেন শহীদ বেদির দিকে। পায়ের শব্দ, ফুলের সুবাস আর সকালের নরম আলোয় কিছুক্ষণের মধ্যেই শ্রদ্ধার ফুলে ভরে ওঠে স্মৃতিসৌধের বেদি। এখানে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা আছে ঠিকই, তবে তার চেয়েও বেশি আছে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত আবেগ ও অনুভূতি।

মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন এসেছেন স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে। সন্তানদের বয়স তিন ও চার বছর। তিনি কেবল আনুষ্ঠানিকতা করতে আসেননি; এসেছেন সন্তানদের ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে। শাহাদাত হোসেন বলেন, “আমি চাই আমার সন্তানরা বড় হয়ে এই স্মৃতিসৌধকে চিনুক এবং এর গুরুত্ব বুঝুক। স্বাধীনতা মানে স্বৈরাচার থেকে মুক্ত থাকা এবং দেশ যেন ভালোভাবে চলে। আমার স্বপ্নের বাংলাদেশ এমন হবে, যেখানে সব মানুষ সুন্দর ও স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবে।”

মাইন উদ্দিন আহমেদ ডালিমের কণ্ঠে স্বাধীনতা ধরা দেয় ভিন্ন এক গভীরতায়। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর থেকে আসা এই মানুষটি দুর্ঘটনায় হাত-পা হারিয়ে বর্তমানে সিআরপিতে চিকিৎসাধীন। তিনি আজ প্রায় ৪০ জন সহযোদ্ধাকে নিয়ে স্মৃতিসৌধে এসেছেন। ডালিম আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেন, “ভাবিনি এই পঙ্গু শরীর নিয়ে কোনো দিন এখানে আসতে পারব। আমাদের পূর্বপুরুষেরা অনেক কষ্টে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে তা রক্ষা করা বেশি কঠিন। আমাদের উচিত দেশকে নিজের মা-বাবার মতো ভালোবাসা।”
মোসাম্মৎ আদরি বেগমের কণ্ঠে স্বাধীনতা মানে এক বাস্তব চাওয়া। সিআরপির মাধ্যমে আসা এই নারী চান দেশে যেন দুর্নীতি না থাকে এবং মানুষ সৎ পথে চলে। তিনি বলেন, “শিক্ষিত হোক বা অশিক্ষিত—দুর্ঘটনায় অচল হয়ে যাওয়া মানুষদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা থাকা উচিত। পিছিয়ে পড়া মানুষ যেন অবহেলিত না থাকে, সেটিই হবে প্রকৃত স্বাধীনতা।”

জনসমাগমের ভেতর ছিল শিশু মাস্তুরাও। মা-বাবার সঙ্গে আসা এই শিশু বলে, তার কাছে স্বাধীনতার মানে ৩০ লক্ষ শহীদের মৃত্যু এবং তাঁদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানানো। আগামী বাংলাদেশ নিয়ে তার প্রত্যাশা খুব সরল—“সবকিছু যেন ভালো হয়, দেশে যেন গণ্ডগোল না হয়।”
অন্যদিকে আবিদুল্লাহ আফিফের কণ্ঠে এ দিনের স্মরণ জড়িয়ে আছে অধিকারবোধের সঙ্গে। ‘অদম্য ২৪’ ও ‘অদম্য কালচার সেন্টার’-এর এই সদস্য বলেন, “আমরা শহীদদের জন্য দোয়া করতে এবং ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবি জানাতে এসেছি। পাকিস্তান থেকে মুক্ত হলেও মানুষ কি সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে? দ্রব্যমূল্য, বাকস্বাধীনতা আর অধিকার আদায়ের লড়াই আজও শেষ হয়নি।”

শহীদ বেদির সামনে ফুলে ফুলে ভরে উঠছিল, মানুষের স্রোতও থামছিল না। দিনশেষে সবচেয়ে বেশি মনে থাকে মানুষের বলা এই কথাগুলো। কেউ স্বাধীনতাকে দেখেছেন প্রজন্মের হাতে ইতিহাস তুলে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে, আবার কেউবা নিরাপত্তা, অধিকার আর মর্যাদার প্রশ্নে।

সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক আদর্শ থাকলেও রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তা কোনো প্রভাব ফেলবে না।
৫ ঘণ্টা আগে
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে আলোচনার জন্য বিরোধীদলীয় নেতার দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে আগামী মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুই ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা হবে। তবে এর আগে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা নিয়ে সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে অনির্ধারিত বিতর্ক হয়েছে।
৫ ঘণ্টা আগে
ইন্দোবাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস সংগ্রাম পরিষদের টানা দুই দিনের সর্বাত্মক কর্মবিরতির মুখে নতি স্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ। আন্দোলনের মুখে চারজন শ্রমিকের ছাঁটাই আদেশ প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবি মেনে নিয়েছে মালিকপক্ষ।
৬ ঘণ্টা আগে
লিবিয়ায় বন্দিশালায় (গেমঘর) দালালের নির্যাতনে মাদারীপুরের দুই যুবক নিহত হয়েছেন। সপ্তাহখানেক আগে মৃত্যু হলেও তা পরিবারের কাছে গোপন রাখা হয়।
৬ ঘণ্টা আগে