কেরানীগঞ্জে মাদ্রাসায় বিস্ফোরণে শিশুসহ আহত ৪, বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকার উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় বিস্ফোরণে নারী-শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে হাসনাবাদ এলাকার উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ তিন নারীকে আটক করে।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল আলমের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের বোমা ডিসপোজাল ইউনিট চারটি ককটেল, দাহ্য পদার্থ, একটি ল্যাপটপ, দুটি মনিটর ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় একটি জিডি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ক্রাইম সিন দল ও বোমা ডিসপোজাল ইউনিট কাজ করছে।

এদিকে, কেরানীগঞ্জ থানা থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিস্ফোরণের ঘটনায় তিন নারীকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন– আছিয়া বেগম (২৮), তাঁর বড় ভাইয়ের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার (৩০) ও আসমানি খাতুন (৩৪)।

বিস্ফোরণে ভেঙ্গে পড়েছে ভবনের দেয়াল। সংগৃহীত ছবি
বিস্ফোরণে ভেঙ্গে পড়েছে ভবনের দেয়াল। সংগৃহীত ছবি

স্থানীয়রা জানান, মাদ্রাসা পরিচালনার জন্য ভবনটি ভাড়া নেন মাওলানা হারুন। তবে প্রতিষ্ঠানটি দেখভাল করেন তাঁর শ্যালক শেখ আল আমিন (৩২)। ভবনে কক্ষ চারটি। এর মধ্যে এক পাশে তিনটি কক্ষে মাদ্রাসার কার্যক্রম হতো। অন্য পাশের একটি কক্ষে আল আমিন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করেন।

তিন বছর ধরে আল আমিন এ বাড়িতেই আছেন। বিস্ফোরণে আল আমিন, তাঁর স্ত্রী আছিয়া বেগম এবং তিন সন্তানের মধ্যে দুই ছেলে উমায়ের (১০) ও আবদুর রহমান (২) আহত হয়েছে। দুই শিশুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকে পলাতক আল আমিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় সাতটি মামলা রয়েছে। ২০১৭ ও ২০২০ সালে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। আটক তিন নারীর মধ্যে রাজধানীর বাসাব থেকে আটক আসমানির বিরুদ্ধেও একাধিক থানায় মামলা রয়েছে।

সিড়িতে পড়ে আসে বিস্ফোরিত ভবনের ইট। সংগৃহীত ছবি
সিড়িতে পড়ে আসে বিস্ফোরিত ভবনের ইট। সংগৃহীত ছবি

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, একতলা ভবনের একপাশের দেয়াল ভেঙে পড়ে রয়েছে। ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো। বিস্ফোরণে পাশের ভবনের দেয়ালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সিআইডি ও ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান, প্রথমে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের দাবি করা হয়। তবে ভবনে থাকা দুটি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

মাদ্রাসায় অন্তত ৩০ শিক্ষার্থী রয়েছে। অনাবাসিক হওয়ায় শুক্রবার বন্ধ ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ রোকন স্ট্রিমকে জানান, শুক্রবার দুপুরের দিকে হঠাৎ তিনি বিকট আওয়াজ শুনতে পান। আশেপাশের ভবনে কেঁপে ওঠে, ভূমিকম্পের মতো। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, বিস্ফোরণে ভবনে চারপাশের দেয়াল উড়ে গেছে। একতলা ভবনের দুটি কক্ষের দেয়াল সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। ছাদ ও বিমে ফাটল দেখা দিয়েছে।

আরেক বাসিন্দা আবদুল্লাহ সুমন জানান, বিস্ফোরণে পাশের ভবনের দেয়াল ও জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি ভবনের সামনে গ্যারেজের ছাদ ও দেয়াল উড়ে গেছে।

ভবনের মালিক পারভীন বেগম স্ট্রিমকে জানান, তিন বছর আগে তিনি বাড়িটা নির্মাণ করেন। এরপর মাওলানা হারুণ ভাড়া নিয়ে মাদ্রাসা চালাছিলেন। হারুন এখানে থাকেন না, মাঝেমধ্যে আসেন। মাদ্রাসাটি দেখভাল করেন তাঁর শ্যালক আল আমিন।

তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসায় মাঝে মাঝে ভাড়া নিতে আসি। তারা ঠিক মতো ভাড়া দিতে পারে না। খুব গরিবানা হালে থাকে। তবে তাদের ব্যবহার খুব ভালো। এলাকার লোকদের সঙ্গে তেমন সম্পর্ক ছিল না।’

সম্পর্কিত