স্ট্রিম প্রতিবেদক

গত পাঁচ বছরে দেশে রেস্তোরাঁ ও হোটেলে হাজারের বেশি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারির। রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে ঘটা ওই অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জন প্রাণ হারান। এরপরই সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের তদন্তে উঠে আসে, রাজধানীর অধিকাংশ ভবনে রেঁস্তোরা চলছে কোনো অনুমোদন ছাড়াই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দুই বছর আগের সেই চিত্রের কোনো বদল হয়নি।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দেশে কেবল রেস্তোরাঁ ও হোটেলেই ঘটেছে ১ হাজার ৭৭টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এরমধ্যে ২০২১ সালে ২৭৩টি, ২০২২ সালে ২৫৩টি এবং ২০২৩ সালে ২৪৬টি অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
এরপর ২০২৪ সালে ১৫০টি রেস্তোরাঁয় আগুন লাগে, যেখানে বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজসহ অন্যান্য ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪৭ জন। অগ্নিকাণ্ডের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত ছিল সর্বশেষ ২০২৫ সালেও। ওই বছর রেস্তোরাঁ ও হোটেলে ১৫৫টি আগুন লাগার ঘটনা ফায়ার সার্ভিস নথিভুক্ত করেছে।
রেস্তোরাঁগুলোতে আগুনের ঘটনাগুলোর পেছনে দুটি কারণকে দায়ী করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। রেস্তোরাঁয় অধিকাংশ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাই ঘটে গ্যাসের চুলা ও সিলিন্ডার গ্যাসের লিকেজ থেকে। এছাড়া অনেক ঘটনায় বৈদ্যুতিক গোলযোগ বা শর্টসার্কিটও আগুন লাগার পেছনে দায়ী থাকে। আবদ্ধ রান্নাঘরে নিম্নমানের হোস পাইপ বা রেগুলেটর থেকে গ্যাস লিক হয়ে জমে থাকছে এবং সামান্য আগুনের সংস্পর্শে এলেই তা ভয়াবহ বিস্ফোরণের রূপ নিচ্ছে বলে জানান তাঁরা।

২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি গ্রিন কোজি কটেজের ঘটনার পর রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ যৌথভাবে বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় অভিযান চালায়। পরে যদিও রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির আবেদনের কারণে আন্তমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে অভিযান স্থগিত করা হয়।
রাজউকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাজধানীতে যেসব বহুতল ভবনে রেস্তোরাঁ চলছে, তার অধিকাংশেরই সেখানে রেস্তোরাঁ বা বাণিজ্যিক রান্নাঘর চালানোর কোনো আইনি অনুমোদন (অকুপেন্সি সার্টিফিকেট) নেই। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে মূলত সাধারণ অফিস বা আবাসিক ব্যবহারের জন্য অনুমোদন নেওয়া ভবনগুলোকে অবৈধভাবে রেস্তোরাঁয় রূপান্তর করা হয়েছে। ফলে বাণিজ্যিক রান্নার জন্য ভবনে যে ধরনের ভেন্টিলেশন বা বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক, এসব ভবনের নকশায় তার অস্তিত্ব নেই।
ভবনগুলোতে রেস্তোরাঁ পরিচালনার ক্ষেত্রে অগ্নিনিরাপত্তার ন্যূনতম নিয়মও মানা হচ্ছে না। নিয়ম অনুযায়ী সিলিন্ডার নিরাপদ ও খোলামেলা স্থানে রাখার কথা থাকলেও, অধিকাংশ রেস্তোরাঁয় সিঁড়ির নিচে, চলাচলের সরু রাস্তায় বা সরাসরি চুলার পাশেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে সারি সারি গ্যাস সিলিন্ডার ফেলে রাখা হয়। গ্রিন কোজি কটেজের অগ্নিকাণ্ডের তদন্তেও দেখা গিয়েছিল, ভবনটির একমাত্র সিঁড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার রাখার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ নিচে নামতে পারেনি। এর পাশাপাশি ভারী বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারের কারণে শর্টসার্কিট হওয়া, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের অভাব এবং ফায়ার এক্সিট বা জরুরি নির্গমন পথ না থাকা এই অবহেলাকে আরও মারাত্মক রূপ দিয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটরন্যান্স) মো. মামুনুর রশিদ স্ট্রিমকে বলেন, ভবনগুলোতে এবং রেস্টুরেন্টের নিজস্ব ব্যবস্থাপনার অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব আছে৷ অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম, জরুরি বহির্গমণ ব্যবস্থা, সেফটি ইকুইপমেন্ট, মাঝেমধ্যে ইলেক্ট্রিসিটি ও গ্যাসের লাইন পরীক্ষা করা প্রয়োজন। যেটি কতটা মানা হয় তা নিয়ে প্রশ্ন আছে, আমরা চেষ্টা করছি নজরদারি করার।
নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান স্ট্রিমকে বলেন, অধিকাংশ রেস্টুরেন্ট ও হোটেল অনুমোদনহীন তো বটেই, ফায়ার সেফটির ন্যূনতম স্ট্যান্ডার্ডও সেখানে মানা হয় না। আমরা দেখি, অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে অগ্নিকাণ্ড তো লাগেই, ঘটনার পর বাঁচার জন্য এক্সিট রুটও পাওয়া যায় না। হোটেল-রেস্টুরেন্টের ডিমান্ড বেড়েছে, কিন্তু এর বিপরীতে পরিকল্পনায় তাল মেলানো হয়নি। পরিকল্পনামাফিক রেস্টুরেন্ট করতে হবে। সরকারিভাবে মনিটরিং বজায় রাখতে হবে।

গত পাঁচ বছরে দেশে রেস্তোরাঁ ও হোটেলে হাজারের বেশি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারির। রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে ঘটা ওই অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জন প্রাণ হারান। এরপরই সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের তদন্তে উঠে আসে, রাজধানীর অধিকাংশ ভবনে রেঁস্তোরা চলছে কোনো অনুমোদন ছাড়াই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দুই বছর আগের সেই চিত্রের কোনো বদল হয়নি।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দেশে কেবল রেস্তোরাঁ ও হোটেলেই ঘটেছে ১ হাজার ৭৭টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এরমধ্যে ২০২১ সালে ২৭৩টি, ২০২২ সালে ২৫৩টি এবং ২০২৩ সালে ২৪৬টি অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
এরপর ২০২৪ সালে ১৫০টি রেস্তোরাঁয় আগুন লাগে, যেখানে বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজসহ অন্যান্য ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪৭ জন। অগ্নিকাণ্ডের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত ছিল সর্বশেষ ২০২৫ সালেও। ওই বছর রেস্তোরাঁ ও হোটেলে ১৫৫টি আগুন লাগার ঘটনা ফায়ার সার্ভিস নথিভুক্ত করেছে।
রেস্তোরাঁগুলোতে আগুনের ঘটনাগুলোর পেছনে দুটি কারণকে দায়ী করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। রেস্তোরাঁয় অধিকাংশ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাই ঘটে গ্যাসের চুলা ও সিলিন্ডার গ্যাসের লিকেজ থেকে। এছাড়া অনেক ঘটনায় বৈদ্যুতিক গোলযোগ বা শর্টসার্কিটও আগুন লাগার পেছনে দায়ী থাকে। আবদ্ধ রান্নাঘরে নিম্নমানের হোস পাইপ বা রেগুলেটর থেকে গ্যাস লিক হয়ে জমে থাকছে এবং সামান্য আগুনের সংস্পর্শে এলেই তা ভয়াবহ বিস্ফোরণের রূপ নিচ্ছে বলে জানান তাঁরা।

২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি গ্রিন কোজি কটেজের ঘটনার পর রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ যৌথভাবে বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় অভিযান চালায়। পরে যদিও রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির আবেদনের কারণে আন্তমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে অভিযান স্থগিত করা হয়।
রাজউকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাজধানীতে যেসব বহুতল ভবনে রেস্তোরাঁ চলছে, তার অধিকাংশেরই সেখানে রেস্তোরাঁ বা বাণিজ্যিক রান্নাঘর চালানোর কোনো আইনি অনুমোদন (অকুপেন্সি সার্টিফিকেট) নেই। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে মূলত সাধারণ অফিস বা আবাসিক ব্যবহারের জন্য অনুমোদন নেওয়া ভবনগুলোকে অবৈধভাবে রেস্তোরাঁয় রূপান্তর করা হয়েছে। ফলে বাণিজ্যিক রান্নার জন্য ভবনে যে ধরনের ভেন্টিলেশন বা বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক, এসব ভবনের নকশায় তার অস্তিত্ব নেই।
ভবনগুলোতে রেস্তোরাঁ পরিচালনার ক্ষেত্রে অগ্নিনিরাপত্তার ন্যূনতম নিয়মও মানা হচ্ছে না। নিয়ম অনুযায়ী সিলিন্ডার নিরাপদ ও খোলামেলা স্থানে রাখার কথা থাকলেও, অধিকাংশ রেস্তোরাঁয় সিঁড়ির নিচে, চলাচলের সরু রাস্তায় বা সরাসরি চুলার পাশেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে সারি সারি গ্যাস সিলিন্ডার ফেলে রাখা হয়। গ্রিন কোজি কটেজের অগ্নিকাণ্ডের তদন্তেও দেখা গিয়েছিল, ভবনটির একমাত্র সিঁড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার রাখার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ নিচে নামতে পারেনি। এর পাশাপাশি ভারী বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারের কারণে শর্টসার্কিট হওয়া, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের অভাব এবং ফায়ার এক্সিট বা জরুরি নির্গমন পথ না থাকা এই অবহেলাকে আরও মারাত্মক রূপ দিয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটরন্যান্স) মো. মামুনুর রশিদ স্ট্রিমকে বলেন, ভবনগুলোতে এবং রেস্টুরেন্টের নিজস্ব ব্যবস্থাপনার অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব আছে৷ অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম, জরুরি বহির্গমণ ব্যবস্থা, সেফটি ইকুইপমেন্ট, মাঝেমধ্যে ইলেক্ট্রিসিটি ও গ্যাসের লাইন পরীক্ষা করা প্রয়োজন। যেটি কতটা মানা হয় তা নিয়ে প্রশ্ন আছে, আমরা চেষ্টা করছি নজরদারি করার।
নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান স্ট্রিমকে বলেন, অধিকাংশ রেস্টুরেন্ট ও হোটেল অনুমোদনহীন তো বটেই, ফায়ার সেফটির ন্যূনতম স্ট্যান্ডার্ডও সেখানে মানা হয় না। আমরা দেখি, অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে অগ্নিকাণ্ড তো লাগেই, ঘটনার পর বাঁচার জন্য এক্সিট রুটও পাওয়া যায় না। হোটেল-রেস্টুরেন্টের ডিমান্ড বেড়েছে, কিন্তু এর বিপরীতে পরিকল্পনায় তাল মেলানো হয়নি। পরিকল্পনামাফিক রেস্টুরেন্ট করতে হবে। সরকারিভাবে মনিটরিং বজায় রাখতে হবে।

সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক আদর্শ থাকলেও রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তা কোনো প্রভাব ফেলবে না।
১০ ঘণ্টা আগে
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে আলোচনার জন্য বিরোধীদলীয় নেতার দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে আগামী মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুই ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা হবে। তবে এর আগে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা নিয়ে সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে অনির্ধারিত বিতর্ক হয়েছে।
১০ ঘণ্টা আগে
ইন্দোবাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস সংগ্রাম পরিষদের টানা দুই দিনের সর্বাত্মক কর্মবিরতির মুখে নতি স্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ। আন্দোলনের মুখে চারজন শ্রমিকের ছাঁটাই আদেশ প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবি মেনে নিয়েছে মালিকপক্ষ।
১১ ঘণ্টা আগে
লিবিয়ায় বন্দিশালায় (গেমঘর) দালালের নির্যাতনে মাদারীপুরের দুই যুবক নিহত হয়েছেন। সপ্তাহখানেক আগে মৃত্যু হলেও তা পরিবারের কাছে গোপন রাখা হয়।
১১ ঘণ্টা আগে