ফাবিহা বিনতে হক

একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের ইতিহাসে সেই দেশের স্বাধীনতা দিবসের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিবস কমই আছে। আজ ২৬ মার্চ, আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবস। ৫৫ বছর আগে এই দিনেই এদেশের মানুষ স্বাধীন একটি ভূখণ্ডের আশায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে।
সেসময় মানুষের যোগাযোগের মাধ্যম ছিল সীমিত। তারপরও মাতৃভূমির ডাকে ঘর ছেড়েছিল দেশের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। এই অকুতোভয় বীর যোদ্ধাদের দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমেই শত্রুমুক্ত হয় এদেশের মাটি।
একবার ভাবুন তো, ১৯৭১ সালে যদি আমাদের হাতে স্মার্টফোন থাকত? একাত্তরে ফেসবুক, টুইটার বা ইউটিউবের মতো সোশ্যাল মিডিয়া থাকলে আমাদের এই মুক্তিযুদ্ধ কেমন হতো?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে চোখের সামনে ভেসে উঠবে আবেগ আর বাস্তবতার অদ্ভুত মিশ্রণ, অতীত আর বর্তমানের জটিল সমীকরণ।
বাস্তবতা আমাদের শেখায়, জীবনে ‘যদি’ বা ‘কিন্তু’ আমাদের পরিস্থিতিকে খুব একটা পরিবর্তন করতে পারে না। কিন্তু কল্পনার ডানায় ভর করে একাত্তরের ভয়াবহতার সঙ্গে বর্তমান সময়কে মিলিয়ে কিছু ‘সম্ভাব্য দৃশ্যপটের’ ব্যাপারে ধারণা করা যায়।
ধরা যাক, ১৯৭১ সালে আমাদের হাতে ইন্টারনেট ছিল। ২৫ মার্চের সেই কালরাতে কী হতো তাহলে? হয়তো অনেকেই বাড়ির ছাদ বা জানালার ফাঁক দিয়ে সেই হত্যাযজ্ঞের দৃশ্য ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে শেয়ার করতো সোশাল মিডিয়ায়। মুহূর্তেই সেই নারকীয় তাণ্ডব ছড়িয়ে পড়ত সারা বিশ্বের মানুষের কাছে। বিশ্ববাসী স্ক্রিনে সরাসরি দেখত এক ঘুমন্ত জাতির ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কেমন নির্মমতা চালাচ্ছে।
আবার সোশ্যাল মিডিয়ার উপস্থিতি আমাদের তরুণ সমাজের ওপর কেমন প্রভাব ফেলত, সেটিও ভাবার বিষয়। এখানে দুটো সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তৈরি হতে পারত।
একটি হলো, সোশ্যাল মিডিয়া থাকলে আমরা অনেকেই হয়ত মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়তাম। চোখের সামনে পাকবাহিনীর নির্মমতা দেখে অনেকেই হয়ত সম্মুখ সমরে অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করতো। ফেসবুক ইনস্টাগ্রামে মুক্তিবাহিনী গঠন কিংবা পাকবাহিনীদের অত্যাচারের ভিডিও শেয়ার করে নিন্দা জানিয়েই কর্তব্য সারতাম কেউ কেউ।
প্রোফাইল পিকচার কালো করে হ্যাশট্যাগ দিয়ে লিখতাম ‘স্টপ জেনোসাইড ইন বেঙ্গল’। কিন্তু আমরা সরাসরি রণাঙ্গনে যেতাম না।
ঘরে বসে প্রতিবাদ জানানোর এই মিথ্যা তৃপ্তি হয়তো মুক্তিযুদ্ধের গতি কমিয়েও দিতে পারতো।
এমনটাই মনে করেন একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল চৌধুরী। তাঁর মতে, মুক্তিযুদ্ধের সময় সোশ্যাল মিডিয়া থাকলে মানুষ হয়ে উঠতো ফেসবুক যোদ্ধা। তাদের কারণে দেশ স্বাধীন হওয়া একপ্রকার অসম্ভব হয়ে উঠত।
তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা তরুণ প্রজন্ম বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের কাছে এই সোশ্যাল মিডিয়াই হয়তো হয়ে উঠত মুক্তিযুদ্ধে সবাইকে সংগঠিত করার প্রধান মাধ্যম। এ বিষয়ে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী পান্থ শাহরিয়ারের সঙ্গে। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘চোখের সামনে পাকিস্তানি বাহিনীর এমন নির্মমতা দেখে কখনোই চুপ থাকতে পারতো না তরুণেরা। আমাদের এই প্রজন্ম অন্যায় দেখে চুপচাপ মেনে নেওয়ার পাত্র নয়। এই সোশ্যাল মিডিয়া আমরা ব্যবহার করতাম মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করার কাজে। অন্তত আমার তাই মনে হয়।’
মুক্তিযুদ্ধের সময় শুধু যে সরাসরি যুদ্ধের মাধ্যমেই শত্রুর মোকাবিলা করা হয়েছে তা কিন্তু না। কেউ গান গেয়ে, কেউ গল্প-কবিতা লিখে, কেউ আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা দিয়ে দেশ স্বাধীন করার কাজে অংশ নিয়েছেন। তাঁদের অবদানকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।
একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত ফারহান তানভীর বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় সোশ্যাল মিডিয়া থাকলে একদল মানুষ সম্মুখ সমরে যেমন অংশ নিতেন, ঠিক তেমনি মুক্তিযুদ্ধের খবর সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতেন অনেকেই। মুক্তিযুদ্ধের সময় সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের উপকারে আসতো বলেই আমার মনে হয়। সর্বস্তরের মানুষের সর্বাত্মক সহায়তার মাধ্যমেই আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন দেশ, সার্বভৌম রাষ্ট্র। তাই কারো অবদানকেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই’।
সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধের ধরনও হয়তো পুরোপুরি বদলে যেত। ক্র্যাক প্লাটুন বা গেরিলা বাহিনীর হয়তো সিক্রেট হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থাকত। ‘পাকিস্তানি কনভয় আজ ওই রাস্তায় যাবে’—এমন খবর চোখের পলকে গ্রুপে চলে আসত। গুগল ম্যাপের লাইভ লোকেশন শেয়ার করে অ্যামবুশ করা অনেক সহজ হতো। তবে এই পদ্ধতিতে ঝুঁকিও অনেক বেশি। মোবাইলের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের লোকেশন ট্র্যাক করার ঝুঁকিও অনেক বেশি থাকার কারণে এই সুবিধা কতটুকু ফলপ্রসূ হতো, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।
অস্ত্রের পাশাপাশি অনলাইনে চলত ভয়ংকর এক তথ্যের যুদ্ধ। আমরা দেখেছি জরুরি অবস্থায় বিভিন্ন দেশের সরকার তথ্য গোপন রাখতে সারা দেশে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়। এমনটা ঘটতে পারতো আমাদের সঙ্গেও।
একাত্তরের সময় পাকিস্তানি জান্তা সরকার হয়তো দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিত। তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে ছড়াত ভুয়া খবর। রাজাকার বা আলবদররা হয়তো ফেক আইডি খুলে মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন অবস্থান ফাঁস করে দিত। যুগে যুগে মানুষের অপরাধের ধরন বদলালেও বদলায়নি অপরাধ করার প্রবণতা। তাই পাকহানাদার বাহিনী হোক কিংবা রাজাকার-আলবদর বাহিনী; তারা সোশ্যাল মিডিয়ার যুগের আগেও বাঙালি নিধন করেছে, সোশ্যাল মিডিয়া থাকলেও সে কাজই করার চেষ্টা করত।
সোশ্যাল মিডিয়া থাকলে হয়তো বিশ্ববাসীর সমর্থন পাওয়া অনেকখানি সহজ হতো বলেই মনে হয়। ১৯৭১ সালে জর্জ হ্যারিসন আর পণ্ডিত রবিশঙ্কর ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ করে বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়া থাকলে এই বিশ্বব্যাপী জনমত তৈরি হতো আরও অনেক দ্রুত। টুইটারে হয়তো প্রতিদিন ট্রেন্ডিং হতো #StandWithBangladesh, #StopGenocideInBengal বা #FreeBangladesh-এর মতো হ্যাশট্যাগ। বিশ্বের আনাচকানাচ থেকে সাধারণ মানুষ বাংলাদেশের পক্ষে আওয়াজ তুলত। টিকটক বা রিলসের মাধ্যমে তরুণরা পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার ছোট ছোট তথ্যচিত্র বানিয়ে ছড়িয়ে দিত সারা বিশ্বে। বিদেশি সাংবাদিকরা সাইমন ড্রিংয়ের মতো লুকিয়ে খবর না পাঠিয়ে হয়তো মুহূর্তেই লাইভে গিয়ে পৃথিবীর সামনে সত্যটা তুলে ধরতে পারতেন।
তবে ভুলে গেলে চলবে না, সোশ্যাল মিডিয়া হয়তো যুদ্ধকে বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিত ঠিকই, কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর বিপক্ষে লড়তে হতো আমাদেরই। সোশ্যাল মিডিয়া মুক্তিযুদ্ধের গতিকে বাড়াতো না কমাত, সেই বিতর্কের ঊর্ধ্বে গিয়ে আমরা স্মরণ করি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ৩০ লাখ মানুষকে, স্মরণ করি দেশমাতৃকার ডাকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া সেই অকুতোভয় যোদ্ধাদের; যাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণে আমরা পেয়েছি আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।

একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের ইতিহাসে সেই দেশের স্বাধীনতা দিবসের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিবস কমই আছে। আজ ২৬ মার্চ, আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবস। ৫৫ বছর আগে এই দিনেই এদেশের মানুষ স্বাধীন একটি ভূখণ্ডের আশায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে।
সেসময় মানুষের যোগাযোগের মাধ্যম ছিল সীমিত। তারপরও মাতৃভূমির ডাকে ঘর ছেড়েছিল দেশের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। এই অকুতোভয় বীর যোদ্ধাদের দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমেই শত্রুমুক্ত হয় এদেশের মাটি।
একবার ভাবুন তো, ১৯৭১ সালে যদি আমাদের হাতে স্মার্টফোন থাকত? একাত্তরে ফেসবুক, টুইটার বা ইউটিউবের মতো সোশ্যাল মিডিয়া থাকলে আমাদের এই মুক্তিযুদ্ধ কেমন হতো?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে চোখের সামনে ভেসে উঠবে আবেগ আর বাস্তবতার অদ্ভুত মিশ্রণ, অতীত আর বর্তমানের জটিল সমীকরণ।
বাস্তবতা আমাদের শেখায়, জীবনে ‘যদি’ বা ‘কিন্তু’ আমাদের পরিস্থিতিকে খুব একটা পরিবর্তন করতে পারে না। কিন্তু কল্পনার ডানায় ভর করে একাত্তরের ভয়াবহতার সঙ্গে বর্তমান সময়কে মিলিয়ে কিছু ‘সম্ভাব্য দৃশ্যপটের’ ব্যাপারে ধারণা করা যায়।
ধরা যাক, ১৯৭১ সালে আমাদের হাতে ইন্টারনেট ছিল। ২৫ মার্চের সেই কালরাতে কী হতো তাহলে? হয়তো অনেকেই বাড়ির ছাদ বা জানালার ফাঁক দিয়ে সেই হত্যাযজ্ঞের দৃশ্য ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে শেয়ার করতো সোশাল মিডিয়ায়। মুহূর্তেই সেই নারকীয় তাণ্ডব ছড়িয়ে পড়ত সারা বিশ্বের মানুষের কাছে। বিশ্ববাসী স্ক্রিনে সরাসরি দেখত এক ঘুমন্ত জাতির ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কেমন নির্মমতা চালাচ্ছে।
আবার সোশ্যাল মিডিয়ার উপস্থিতি আমাদের তরুণ সমাজের ওপর কেমন প্রভাব ফেলত, সেটিও ভাবার বিষয়। এখানে দুটো সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তৈরি হতে পারত।
একটি হলো, সোশ্যাল মিডিয়া থাকলে আমরা অনেকেই হয়ত মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়তাম। চোখের সামনে পাকবাহিনীর নির্মমতা দেখে অনেকেই হয়ত সম্মুখ সমরে অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করতো। ফেসবুক ইনস্টাগ্রামে মুক্তিবাহিনী গঠন কিংবা পাকবাহিনীদের অত্যাচারের ভিডিও শেয়ার করে নিন্দা জানিয়েই কর্তব্য সারতাম কেউ কেউ।
প্রোফাইল পিকচার কালো করে হ্যাশট্যাগ দিয়ে লিখতাম ‘স্টপ জেনোসাইড ইন বেঙ্গল’। কিন্তু আমরা সরাসরি রণাঙ্গনে যেতাম না।
ঘরে বসে প্রতিবাদ জানানোর এই মিথ্যা তৃপ্তি হয়তো মুক্তিযুদ্ধের গতি কমিয়েও দিতে পারতো।
এমনটাই মনে করেন একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল চৌধুরী। তাঁর মতে, মুক্তিযুদ্ধের সময় সোশ্যাল মিডিয়া থাকলে মানুষ হয়ে উঠতো ফেসবুক যোদ্ধা। তাদের কারণে দেশ স্বাধীন হওয়া একপ্রকার অসম্ভব হয়ে উঠত।
তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা তরুণ প্রজন্ম বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের কাছে এই সোশ্যাল মিডিয়াই হয়তো হয়ে উঠত মুক্তিযুদ্ধে সবাইকে সংগঠিত করার প্রধান মাধ্যম। এ বিষয়ে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী পান্থ শাহরিয়ারের সঙ্গে। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘চোখের সামনে পাকিস্তানি বাহিনীর এমন নির্মমতা দেখে কখনোই চুপ থাকতে পারতো না তরুণেরা। আমাদের এই প্রজন্ম অন্যায় দেখে চুপচাপ মেনে নেওয়ার পাত্র নয়। এই সোশ্যাল মিডিয়া আমরা ব্যবহার করতাম মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করার কাজে। অন্তত আমার তাই মনে হয়।’
মুক্তিযুদ্ধের সময় শুধু যে সরাসরি যুদ্ধের মাধ্যমেই শত্রুর মোকাবিলা করা হয়েছে তা কিন্তু না। কেউ গান গেয়ে, কেউ গল্প-কবিতা লিখে, কেউ আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা দিয়ে দেশ স্বাধীন করার কাজে অংশ নিয়েছেন। তাঁদের অবদানকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।
একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত ফারহান তানভীর বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় সোশ্যাল মিডিয়া থাকলে একদল মানুষ সম্মুখ সমরে যেমন অংশ নিতেন, ঠিক তেমনি মুক্তিযুদ্ধের খবর সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতেন অনেকেই। মুক্তিযুদ্ধের সময় সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের উপকারে আসতো বলেই আমার মনে হয়। সর্বস্তরের মানুষের সর্বাত্মক সহায়তার মাধ্যমেই আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন দেশ, সার্বভৌম রাষ্ট্র। তাই কারো অবদানকেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই’।
সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধের ধরনও হয়তো পুরোপুরি বদলে যেত। ক্র্যাক প্লাটুন বা গেরিলা বাহিনীর হয়তো সিক্রেট হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থাকত। ‘পাকিস্তানি কনভয় আজ ওই রাস্তায় যাবে’—এমন খবর চোখের পলকে গ্রুপে চলে আসত। গুগল ম্যাপের লাইভ লোকেশন শেয়ার করে অ্যামবুশ করা অনেক সহজ হতো। তবে এই পদ্ধতিতে ঝুঁকিও অনেক বেশি। মোবাইলের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের লোকেশন ট্র্যাক করার ঝুঁকিও অনেক বেশি থাকার কারণে এই সুবিধা কতটুকু ফলপ্রসূ হতো, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।
অস্ত্রের পাশাপাশি অনলাইনে চলত ভয়ংকর এক তথ্যের যুদ্ধ। আমরা দেখেছি জরুরি অবস্থায় বিভিন্ন দেশের সরকার তথ্য গোপন রাখতে সারা দেশে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়। এমনটা ঘটতে পারতো আমাদের সঙ্গেও।
একাত্তরের সময় পাকিস্তানি জান্তা সরকার হয়তো দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিত। তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে ছড়াত ভুয়া খবর। রাজাকার বা আলবদররা হয়তো ফেক আইডি খুলে মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন অবস্থান ফাঁস করে দিত। যুগে যুগে মানুষের অপরাধের ধরন বদলালেও বদলায়নি অপরাধ করার প্রবণতা। তাই পাকহানাদার বাহিনী হোক কিংবা রাজাকার-আলবদর বাহিনী; তারা সোশ্যাল মিডিয়ার যুগের আগেও বাঙালি নিধন করেছে, সোশ্যাল মিডিয়া থাকলেও সে কাজই করার চেষ্টা করত।
সোশ্যাল মিডিয়া থাকলে হয়তো বিশ্ববাসীর সমর্থন পাওয়া অনেকখানি সহজ হতো বলেই মনে হয়। ১৯৭১ সালে জর্জ হ্যারিসন আর পণ্ডিত রবিশঙ্কর ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ করে বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়া থাকলে এই বিশ্বব্যাপী জনমত তৈরি হতো আরও অনেক দ্রুত। টুইটারে হয়তো প্রতিদিন ট্রেন্ডিং হতো #StandWithBangladesh, #StopGenocideInBengal বা #FreeBangladesh-এর মতো হ্যাশট্যাগ। বিশ্বের আনাচকানাচ থেকে সাধারণ মানুষ বাংলাদেশের পক্ষে আওয়াজ তুলত। টিকটক বা রিলসের মাধ্যমে তরুণরা পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার ছোট ছোট তথ্যচিত্র বানিয়ে ছড়িয়ে দিত সারা বিশ্বে। বিদেশি সাংবাদিকরা সাইমন ড্রিংয়ের মতো লুকিয়ে খবর না পাঠিয়ে হয়তো মুহূর্তেই লাইভে গিয়ে পৃথিবীর সামনে সত্যটা তুলে ধরতে পারতেন।
তবে ভুলে গেলে চলবে না, সোশ্যাল মিডিয়া হয়তো যুদ্ধকে বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিত ঠিকই, কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর বিপক্ষে লড়তে হতো আমাদেরই। সোশ্যাল মিডিয়া মুক্তিযুদ্ধের গতিকে বাড়াতো না কমাত, সেই বিতর্কের ঊর্ধ্বে গিয়ে আমরা স্মরণ করি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ৩০ লাখ মানুষকে, স্মরণ করি দেশমাতৃকার ডাকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া সেই অকুতোভয় যোদ্ধাদের; যাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণে আমরা পেয়েছি আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।

স্বাক্ষরটি বেশ বড়, স্পষ্ট আর নজরকাড়া। বহু বছর ধরেই তাঁর এই স্বাক্ষরটি মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করে আসছে। ট্রাম্প নিজেও নিজের স্বাক্ষর নিয়ে বেশ গর্বিত। ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সামরিক নেতাদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আমার স্বাক্ষর খুব ভালোবাসি, সত্যি বলছি। সবাই আমার স্বাক্ষর পছন্দ করে।
১২ ঘণ্টা আগে
কিছুদিন আগেই মাইগ্রেনের ব্যথায় মৃত্যুবরণ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইউএনও। মাইগ্রেন আর সাধারণ মাথাব্যথা যে এক জিনিস নয়, এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত হয়েছেন ঠিকই কিন্তু এই ব্যথা কেন হয় বা কীভাবে এই ব্যথাকে জীবন থেকে পুরোপুরি বিদায় করা যায়, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।
১৩ ঘণ্টা আগে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবট মানুষের একাকীত্ব কমাতে বেশ সাহায্য করে। বিশেষ করে যাদের আশেপাশে কথা বলার মতো কেউ নেই, তাদের জন্য এটি খুব উপকারী।
২ দিন আগে
আমাদের আশেপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা অন্যদের সঙ্গে মেলামেশা করতে কিংবা আড্ডা দিতে খুব পছন্দ করেন। এই মানুষদের আমরা ‘সামাজিক মানুষ’ বলে জানি। তাদের নিয়ে সাধারণত কারও কোনো দুশ্চিন্তা বা অভিযোগ থাকে না। কিন্তু যারা একটু চুপচাপ বা একা থাকতে ভালোবাসেন, তাদের নিয়ে আমাদের অনেকেরই অভিযোগের শেষ নেই।
২ দিন আগে