গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির প্রতিবেদন

ব্যবসার নামে বাংলাদেশ থেকে পাচার ৮ লাখ কোটি টাকা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৭: ৩৭
গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি লোগো।

গত এক দশকে (২০১৩-২০২২) আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৬৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন (৬ হাজার ৮৩০ কোটি) ডলার পাচার হয়েছে। দেশীয় মুদ্রায় বর্তমান বাজারদরে (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) যার পরিমাণ প্রায় ৮ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা।

২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই)‘ট্রেড-রিলেটেড ইলিসিট ফাইন্যান্সিয়াল ফ্লোস ইন ডেভেলপিং এশিয়া (২০১৩-২০২২)’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচারের শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের নাম।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে পণ্যের প্রকৃত মূল্য গোপন করে ‘মিথ্যা ঘোষণার’ (ট্রেড মিস-ইনভয়েসিং) মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয়েছে। বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের গড়ে প্রায় ১৫ দশমিক ৮৬ শতাংশই এ ধরনের কারসাজির শিকার হয়েছে। বছরভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৩ সালে মোট বাণিজ্যের ১৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ, ২০১৫ সালে ১৫ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং ২০১৬ ও ২০১৭ সালে সর্বোচ্চ ১৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পর্যন্ত অর্থের গরমিল ছিল।

উন্নত দেশে গেছে ৪ লাখ কোটি টাকা

পাচার হওয়া অর্থের প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ৩৩ বিলিয়ন (৩ হাজার ২৮০ কোটি) ডলারই গেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ, যুক্তরাজ্য, জাপান প্রভৃতি উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোতে। জিএফআইয়ের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পশ্চিমা দেশগুলোতে তৈরি পোশাক (অ্যাপারেল) রপ্তানির ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও বিদেশি ক্রেতাদের যোগসাজশে ‘আন্ডার-ইনভয়েসিং’ বা রপ্তানিমূল্য কম দেখিয়ে এই অর্থ পাচার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মানি লন্ডারিংয়ের বড় মাধ্যম হিসেবে আমদানির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে ক্যাপিটাল মেশিনারি বা মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির নামে ‘ওভার-ইনভয়েসিং’ (আমদানিমূল্য বেশি দেখানো) করে অর্থ পাচার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মূলত ভর্তুকি হিসেবে পাওয়া ঋণ বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ধরনের অর্থ পাচার বাংলাদেশের মতো দেশের উন্নয়ন ও সুশাসনের জন্য বড় বাধা। এর ফলে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ ও কর রাজস্ব কমে যায়। ফলে জনসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পাওয়া যায় না।

পাচার ঠেকাতে জিএফআই বাংলাদেশ সরকারকে কাস্টমস বা শুল্ক বিভাগের আমূল সংস্কারের সুপারিশ করেছে। কাস্টমসের অদক্ষতা ও দুর্নীতি দূর করতে কর্মীদের নিয়মিত বদলি, তাদের পেছনের তথ্য যাচাই (ব্যাকগ্রাউন্ড চেক) এবং তথ্যপ্রদানকারীদের (হুইসেলব্লোয়ার) সুরক্ষার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া, তথ্যের ঘাটতি দূর করতে সার্কভুক্ত দেশ কিংবা ভারত ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে শুল্ক ও বাণিজ্য তথ্য দ্রুত আদান-প্রদানের তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি।

সম্পর্কিত