জ্বালানি সংকট
মাহবুবুল আলম তারেক

চলমান জ্বালানি সংকটে চাষিরা ঠিকমতো সেচ দিতে পারছেন না। তাদের অভিযোগ, অনেক সেচ পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। যেগুলো চালু, সেখানেও সেচ দিতে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। এতে বোরো মৌসুমের উৎপাদন ব্যাহতের আশঙ্কা করছেন তারা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ না থামলে জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে। এতে কৃষি পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, যা প্রভাব খাদ্যদ্রব্যের দামেও পড়বে। সেচের অভাবে জাতীয় পর্যায়ে বোরো উৎপাদন ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এতে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।
এ ব্যাপারে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ফিরোজ সরকার বলেছেন, সরকার জ্বালানি পরিস্থিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করলেও আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু হয়নি। খাদ্যের যথেষ্ট মজুদ রয়েছে; সংকটের শঙ্কা নেই।
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের জেরে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার পাম্পে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে। এটি হিতে বিপরীত হয়। পরে গত ১৫ মার্চ জ্বালানি তেলের রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেয় সরকার। তবে স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহ ব্যবস্থায় দুর্বলতার কারণে পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা এখনো তেল পাচ্ছেন না। বিশেষ করে ডিপো থেকে পাম্প এবং পাম্প থেকে কৃষক পর্যায়ে জ্বালানি পৌঁছাচ্ছে না। অনেক ফিলিং স্টেশন খোলা পাত্রে ডিজেল বিক্রি সীমিত বা বন্ধ করে দেওয়ায় কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, অনেক পাম্পে প্রতিদিন মুখ দেখে দেখে ২ থেকে ৫ লিটার ডিজেল দেওয়া হচ্ছে। তারা বাধ্য হয়ে খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি দামে তেল কিনছেন।
ডিসেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত বোরো মৌসুম সেচনির্ভর। দেশের মোট চাল উৎপাদনের প্রায় ৫৫ শতাংশ আসে বোরো ধান থেকে। আর বোরো জমির প্রায় ৬২ থেকে ৬৫ শতাংশে ডিজেলচালিত পাম্প দিয়ে সেচ দেওয়া হয়। এ অবস্থায় সময়মতো সেচ দিতে না পারলে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। পাটসহ অন্যান্য ফসলের আবাদও বাধাগ্রস্ত হবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
কোন অঞ্চলে প্রভাব বেশি
উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ১৬টির বেশি জেলা তীব্র জ্বালানি সংকটে ভুগছে। এর মধ্যে অন্যতম রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী, জামালপুর, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া, পাবনা, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়।
রাজশাহীর পুঠিয়ার ধোপাপাড়া গ্রামের কৃষক মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘আগে গ্রামের বাজারেই ডিজেল পেতাম। পাম্পে যেখানে প্রতিলিটার ১০০, সেখানে গ্রামে ৫-১০ টাকা বেশি নিত। এখন গ্রামে ডিজেল পাই না। ১০ কিলোমিটার দূরে পাম্প থেকে তেল আনতে ভাড়াই লাগে ১০০ টাকা।’ একই গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি দুই গ্রাম পরের বাজারে ডিজেল পেয়েছি। ১৫০ টাকা লিটার নিয়েছে।’
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের হরিপুর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, ‘ডিজেল না পেয়ে সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারছি না। ধানের চারা শুকিয়ে যাচ্ছে। এখন যদি পানি না দিই, পুরো ফসলই নষ্ট হয়ে যাবে।’
পাবনার হান্ডিয়াল এলাকার কৃষক আব্দুল হাকিমের আক্ষেপ, ‘গত বছর এক বিঘা জমির ধানে খরচ হয়েছিল ৩৫০ টাকা। এবার তো ৫০০ টাকাও কুলাবে না।’
চলনবিল অধ্যুষিত নাটোরের সিংড়ার বিয়াশ গ্রামের কৃষক আব্দুস সবুর বলেন, ‘এখন আবাদের মাঝামাঝি সময়ে তেল পাচ্ছি না। বেশি দামে তেল কিনলে উৎপাদন খরচ বাড়বে।’
খুলনা, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, শরীয়তপুর, মেহেরপুর, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, মাগুরা, মানিকগঞ্জ এবং গোপালগঞ্জেও তেল সংকট দেখা দিয়েছে। ঝিনাইদহ সদরের বেলেখাল গ্রামের কৃষক রইচ উদ্দীন বলেন, ‘এ বছর সার, বীজের দাম আগেই বেশি। এখন ডিজেলের দামও চড়া। এভাবে চাষ করে কৃষক বাঁচবে না।’ জেলার শৈলকুপার ভাটই গ্রামের কৃষক বদর মৃধা বলেন, ‘পাম্পে ডিজেল নাই। খুচরা দোকানে গেলে দাম দ্বিগুণ। তেলের অভাবে সেচ মেশিন বন্ধ। ধান গাছ লাল হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চললে সব ফসল মাঠে মারা যাবে।’
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ জানান, সংকট মোকাবেলায় তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।
মাগুরা সদরের নালিয়ার ডাঙ্গি গ্রামের কৃষক আক্কাস খান বলেন, ‘জমিতে পানি না পেয়ে ধানক্ষেত শুকিয়ে যাচ্ছে। মাটি ফেটে চৌচির। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও ডিজেল পাচ্ছি না। পানির অভাবে ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাট ও তিলের বীজ বপন করতে পারছি না।’
মেহেরপুরে তেল সংকটের ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক সঞ্জীব কুমার গোস্বামী বলেন, ‘কৃষক কার্ড দেখিয়ে চাষিরা পাম্পে গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল নিতে পারবেন।’
ফেনীতে অকটেনচালিত পাম্প নিয়ে সংকটে পড়েছেন চাষিরা। সদরের কালিদহ ইউনিয়নের বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘আমার পাম্পটি অকটেনচালিত। তেলের অভাবে মেশিন চালাতে পারছি না। ফলে ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাম্পগুলো বোতলে তেল বিক্রি করছে না। ২০০ টাকা অটোরিকশা ভাড়া দিয়ে পাম্পে সেচের মেশিন নিয়ে এসেছি।’
নরসিংদিতেও ডিজেল সংকটে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। জেলার সদর, পলাশ ও শিবপুর উপজেলার আবদুল আজিজ, রহিম, কুদ্দুসসহ একাধিক কৃষক জানান, ডিজেলের অভাবে তারা খুব সমস্যায় পড়েছেন। ধানক্ষেতে পানি দিতে পারছেন না। অন্যান্য ফসলও বুনতে পারছেন না।
সংকট মানতে নারাজ কর্মকর্তারা
সারা দেশে সংকট থাকলেও তা মানতে নারাজ সরকারি কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, সামগ্রিকভাবে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং বড় ধরনের কোনো সংকট সৃষ্টি হয়নি। চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন চালান পৌঁছানোসহ মজুদ বাড়ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেচ কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং অধিকাংশ জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে। কিছু এলাকায় কৃষকেরা জ্বালানি পেতে ভোগান্তির কথা জানালে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা ঠিক করা হয়েছে।
জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, কিছু জেলায় পাম্প পর্যায়ে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও খোলাপাত্রে বিক্রি বন্ধের নির্দেশনা থাকায় সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন নজরদারি ও নিয়মিত তেল মজুদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দাবি, বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন নেই এবং লক্ষ্যমাত্রার ৫ দশমিক ০৫ মিলিয়ন হেক্টরের মধ্যে ৯৭ শতাংশ জমিতে চাষ হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল-ই মোহামেদ বলেন, জেলা-উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কৃষকদের ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। সারা দেশেই এখন প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। এটি আল্লাহর বিশেষ রহমত বলতে হবে। অভিযান আতঙ্কে তেল মজুদদারী ব্যবস্থা ভেঙে গেছে। এরপরও শুধু কৃষিখাতের জন্য আলাদা ৩ লাখ টন ডিজেল আনা হচ্ছে।
(প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন স্ট্রিমের সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা সংবাদদাতা)

চলমান জ্বালানি সংকটে চাষিরা ঠিকমতো সেচ দিতে পারছেন না। তাদের অভিযোগ, অনেক সেচ পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। যেগুলো চালু, সেখানেও সেচ দিতে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। এতে বোরো মৌসুমের উৎপাদন ব্যাহতের আশঙ্কা করছেন তারা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ না থামলে জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে। এতে কৃষি পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, যা প্রভাব খাদ্যদ্রব্যের দামেও পড়বে। সেচের অভাবে জাতীয় পর্যায়ে বোরো উৎপাদন ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এতে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।
এ ব্যাপারে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ফিরোজ সরকার বলেছেন, সরকার জ্বালানি পরিস্থিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করলেও আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু হয়নি। খাদ্যের যথেষ্ট মজুদ রয়েছে; সংকটের শঙ্কা নেই।
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের জেরে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার পাম্পে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে। এটি হিতে বিপরীত হয়। পরে গত ১৫ মার্চ জ্বালানি তেলের রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেয় সরকার। তবে স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহ ব্যবস্থায় দুর্বলতার কারণে পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা এখনো তেল পাচ্ছেন না। বিশেষ করে ডিপো থেকে পাম্প এবং পাম্প থেকে কৃষক পর্যায়ে জ্বালানি পৌঁছাচ্ছে না। অনেক ফিলিং স্টেশন খোলা পাত্রে ডিজেল বিক্রি সীমিত বা বন্ধ করে দেওয়ায় কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, অনেক পাম্পে প্রতিদিন মুখ দেখে দেখে ২ থেকে ৫ লিটার ডিজেল দেওয়া হচ্ছে। তারা বাধ্য হয়ে খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি দামে তেল কিনছেন।
ডিসেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত বোরো মৌসুম সেচনির্ভর। দেশের মোট চাল উৎপাদনের প্রায় ৫৫ শতাংশ আসে বোরো ধান থেকে। আর বোরো জমির প্রায় ৬২ থেকে ৬৫ শতাংশে ডিজেলচালিত পাম্প দিয়ে সেচ দেওয়া হয়। এ অবস্থায় সময়মতো সেচ দিতে না পারলে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। পাটসহ অন্যান্য ফসলের আবাদও বাধাগ্রস্ত হবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
কোন অঞ্চলে প্রভাব বেশি
উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ১৬টির বেশি জেলা তীব্র জ্বালানি সংকটে ভুগছে। এর মধ্যে অন্যতম রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী, জামালপুর, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া, পাবনা, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়।
রাজশাহীর পুঠিয়ার ধোপাপাড়া গ্রামের কৃষক মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘আগে গ্রামের বাজারেই ডিজেল পেতাম। পাম্পে যেখানে প্রতিলিটার ১০০, সেখানে গ্রামে ৫-১০ টাকা বেশি নিত। এখন গ্রামে ডিজেল পাই না। ১০ কিলোমিটার দূরে পাম্প থেকে তেল আনতে ভাড়াই লাগে ১০০ টাকা।’ একই গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি দুই গ্রাম পরের বাজারে ডিজেল পেয়েছি। ১৫০ টাকা লিটার নিয়েছে।’
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের হরিপুর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, ‘ডিজেল না পেয়ে সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারছি না। ধানের চারা শুকিয়ে যাচ্ছে। এখন যদি পানি না দিই, পুরো ফসলই নষ্ট হয়ে যাবে।’
পাবনার হান্ডিয়াল এলাকার কৃষক আব্দুল হাকিমের আক্ষেপ, ‘গত বছর এক বিঘা জমির ধানে খরচ হয়েছিল ৩৫০ টাকা। এবার তো ৫০০ টাকাও কুলাবে না।’
চলনবিল অধ্যুষিত নাটোরের সিংড়ার বিয়াশ গ্রামের কৃষক আব্দুস সবুর বলেন, ‘এখন আবাদের মাঝামাঝি সময়ে তেল পাচ্ছি না। বেশি দামে তেল কিনলে উৎপাদন খরচ বাড়বে।’
খুলনা, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, শরীয়তপুর, মেহেরপুর, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, মাগুরা, মানিকগঞ্জ এবং গোপালগঞ্জেও তেল সংকট দেখা দিয়েছে। ঝিনাইদহ সদরের বেলেখাল গ্রামের কৃষক রইচ উদ্দীন বলেন, ‘এ বছর সার, বীজের দাম আগেই বেশি। এখন ডিজেলের দামও চড়া। এভাবে চাষ করে কৃষক বাঁচবে না।’ জেলার শৈলকুপার ভাটই গ্রামের কৃষক বদর মৃধা বলেন, ‘পাম্পে ডিজেল নাই। খুচরা দোকানে গেলে দাম দ্বিগুণ। তেলের অভাবে সেচ মেশিন বন্ধ। ধান গাছ লাল হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চললে সব ফসল মাঠে মারা যাবে।’
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ জানান, সংকট মোকাবেলায় তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।
মাগুরা সদরের নালিয়ার ডাঙ্গি গ্রামের কৃষক আক্কাস খান বলেন, ‘জমিতে পানি না পেয়ে ধানক্ষেত শুকিয়ে যাচ্ছে। মাটি ফেটে চৌচির। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও ডিজেল পাচ্ছি না। পানির অভাবে ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাট ও তিলের বীজ বপন করতে পারছি না।’
মেহেরপুরে তেল সংকটের ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক সঞ্জীব কুমার গোস্বামী বলেন, ‘কৃষক কার্ড দেখিয়ে চাষিরা পাম্পে গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল নিতে পারবেন।’
ফেনীতে অকটেনচালিত পাম্প নিয়ে সংকটে পড়েছেন চাষিরা। সদরের কালিদহ ইউনিয়নের বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘আমার পাম্পটি অকটেনচালিত। তেলের অভাবে মেশিন চালাতে পারছি না। ফলে ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাম্পগুলো বোতলে তেল বিক্রি করছে না। ২০০ টাকা অটোরিকশা ভাড়া দিয়ে পাম্পে সেচের মেশিন নিয়ে এসেছি।’
নরসিংদিতেও ডিজেল সংকটে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। জেলার সদর, পলাশ ও শিবপুর উপজেলার আবদুল আজিজ, রহিম, কুদ্দুসসহ একাধিক কৃষক জানান, ডিজেলের অভাবে তারা খুব সমস্যায় পড়েছেন। ধানক্ষেতে পানি দিতে পারছেন না। অন্যান্য ফসলও বুনতে পারছেন না।
সংকট মানতে নারাজ কর্মকর্তারা
সারা দেশে সংকট থাকলেও তা মানতে নারাজ সরকারি কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, সামগ্রিকভাবে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং বড় ধরনের কোনো সংকট সৃষ্টি হয়নি। চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন চালান পৌঁছানোসহ মজুদ বাড়ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেচ কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং অধিকাংশ জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে। কিছু এলাকায় কৃষকেরা জ্বালানি পেতে ভোগান্তির কথা জানালে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা ঠিক করা হয়েছে।
জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, কিছু জেলায় পাম্প পর্যায়ে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও খোলাপাত্রে বিক্রি বন্ধের নির্দেশনা থাকায় সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন নজরদারি ও নিয়মিত তেল মজুদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দাবি, বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন নেই এবং লক্ষ্যমাত্রার ৫ দশমিক ০৫ মিলিয়ন হেক্টরের মধ্যে ৯৭ শতাংশ জমিতে চাষ হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল-ই মোহামেদ বলেন, জেলা-উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কৃষকদের ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। সারা দেশেই এখন প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। এটি আল্লাহর বিশেষ রহমত বলতে হবে। অভিযান আতঙ্কে তেল মজুদদারী ব্যবস্থা ভেঙে গেছে। এরপরও শুধু কৃষিখাতের জন্য আলাদা ৩ লাখ টন ডিজেল আনা হচ্ছে।
(প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন স্ট্রিমের সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা সংবাদদাতা)

ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম একলাফে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৭২৮ টাকা করা হয়েছে।
১ দিন আগে
দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত আছে বলে দাবি করেছেন জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।
২ দিন আগে
ভ্যাট অডিট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ৬০০টি প্রতিষ্ঠানকে অডিটের জন্য নির্বাচন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ই-ভ্যাট সিস্টেমে নতুনভাবে সংযোজিত ‘অটোমেটেড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট মডিউল’ ব্যবহারের মাধ্যমে এই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়
২ দিন আগে
সদ্য বিদায়ী মার্চে প্রবাসী আয়ে (রেমিট্যান্স) নতুন রেকর্ড হয়েছে। এই মাসে দেশে ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন বা ৩৭৫ কোটি মার্কিন ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৬ হাজার ১১৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা) প্রবাসী আয় এসেছে, যা এযাবৎকালের সর্বোচ্চ।
২ দিন আগে