ওলিউর রহমান

রমজানের শেষ দশ দিনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল হলো ইতেকাফ। দুনিয়ার যাবতীয় ব্যস্ততা থেকে নিজেকে কিছু সময়ের জন্য সরিয়ে রেখে একান্তই আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ করার সুযোগ ঘটে ইতেকাফের মাধ্যমে। তবে ইতেকাফ নিয়ে অনেক ধরনের রেওয়াজ প্রচলিত আছে সমাজে। মানুষের সঙ্গে কথা বলা, যোগাযোগ রক্ষা করা ইত্যাদি বিষয়ে কেউ কেউ খুবই কঠোরতা করেন, আবার কেউ ইতেকাফ অবস্থাতেও মসজিদে খোশগল্পে মেতে থাকেন।
তাই আমাদের জানা প্রয়োজন রা ( সা.) এর ইতেকাফ কেমন ছিল? তিনি কীভাবে এই ইবাদত আদায় করতেন?
হাদিসের বর্ণনা থেকে নবীজির ইতেকাফের একটি অত্যন্ত সুন্দর, ভারসাম্যপূর্ণ এবং মানবিক চিত্র আমাদের সামনে ফুটে ওঠে।
রাসূল (সা.) রমজানের শেষ দশ দিন নিয়মিত ইতেকাফ করতেন। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি (সা.) জীবনের শেষ পর্যন্ত প্রতি রমজানের শেষ দশ দিন ইতেকাফ করেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রীরাও এই আমল চালু রেখেছিলেন।
তবে শুরুতে তিনি লাইলাতুল কদরের সন্ধানে রমজানের প্রথম দশকে এবং পরে মধ্য দশকেও ইতেকাফ করেছিলেন। পরে যখন বুঝতে পারলেন যে লাইলাতুল কদর শেষ দশকের মধ্যেই রয়েছে, তখন থেকে তিনি শেষ দশকেই ইতেকাফ করতেন। (বুখারি, মুসলিম)
সাধারণত নবীজি (সা.) রমজানের শেষ দশ দিন ইতেকাফ করতেন। কিন্তু জীবনের শেষ রমজানে তিনি বিশ দিন ইতেকাফ করেছিলেন।
আলেমরা বলেন, সে বছর রমজানে হজরত জিবরাইল (আ.) নবীজির সঙ্গে কোরআন দুইবার পর্যালোচনা করেছিলেন। অন্য বছর একবার করতেন৷ কেউ কেউ বলেন, হয়ত তিনি অনুভব করেছিলেন তাঁর জীবনের সময় ঘনিয়ে এসেছে—তাই তিনি ইবাদতে আরও বেশি সময় ব্যয় করেছিলেন। তবে সবচেয়ে বিশুদ্ধ মত হলো, পূর্ববর্তী বছর একটি যুদ্ধের সফরে থাকার কারণে তিনি ইতেকাফ করতে পারেননি৷ তাই পরবর্তী বছরে দশ দিন অতিরিক্ত ইতেকাফ করেছেন।
ইতেকাফের সময় নবী (সা.) মসজিদেই অবস্থান করতেন। তিনি প্রয়োজন ছাড়া মসজিদ থেকে বের হতেন না। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, তিনি কেবল প্রাকৃতিক প্রয়োজনের জন্যই মসজিদ থেকে বের হতেন।
এ থেকে বোঝা যায়, ইতেকাফের মূল পরিবেশ ছিল মসজিদের ভেতরে অবস্থান করে ইবাদতে নিমগ্ন থাকা।
নবী (সা.) ইতেকাফের সময় মসজিদের ভেতরে তাঁর জন্য একটি ছোট তাঁবু বা আচ্ছাদিত জায়গা তৈরি করতে বলতেন। সেখানে তিনি নির্জনে অবস্থান করতেন। অধিকাংশ সময় কাটত কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া ও নফল ইবাদতে।
প্রখ্যাত আলেম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন, ইতেকাফের উদ্দেশ্যই হলো মানুষের ভিড় ও কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে হৃদয়কে আল্লাহর সঙ্গে যুক্ত করা।
ইতেকাফ মানে অগোছালো বা অস্বাভাবিক জীবন নয়। নবীজি (সা.) এ সময়ও পরিচ্ছন্নতার প্রতি যত্নবান ছিলেন। তিনি মসজিদ থেকে মাথা বের করে দিতেন, আর হজরত আয়েশা (রা.) তাঁর চুল ধুয়ে দিতেন বা আচড়ে দিতেন।
এটি প্রমাণ করে—ইতেকাফ অবস্থায়ও মানুষ স্বাভাবিকভাবে পরিচ্ছন্ন থাকতে পারে।
ইতেকাফের সময় নবী (সা.) অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যেতেন না এবং জানাজায় অংশ নিতেন না—যাতে
সম্পূর্ণ মনোযোগ ইবাদতে থাকে। তবে তাঁর স্ত্রীরা মাঝে মাঝে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসতেন।
একবার তাঁর স্ত্রী হজরত সাফিয়্যা (রা.) রাতে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এলে তিনি তাঁকে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিলেন। এতে বোঝা যায়, ইতেকাফ মানুষের স্বাভাবিক সম্পর্ককে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয় না।
সবকিছু মিলিয়ে নবীজির (সা.) ইতেকাফ ছিল অত্যন্ত সহজ, স্বাভাবিক এবং ভারসাম্যপূর্ণ। এতে ছিল গভীর ইবাদত, নির্জনতা এবং আল্লাহর স্মরণ। কিন্তু ছিল না কোনো অপ্রয়োজনীয় কঠোরতা।
আজকের ব্যস্ত জীবনে ইতেকাফ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষের জীবনে এমন কিছু সময় দরকার, যখন সে সব ব্যস্ততা থেকে দূরে গিয়ে নিজের রবের সামনে দাঁড়াবে, নিজের হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করবে এবং নতুন করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসবে। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।

রমজানের শেষ দশ দিনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল হলো ইতেকাফ। দুনিয়ার যাবতীয় ব্যস্ততা থেকে নিজেকে কিছু সময়ের জন্য সরিয়ে রেখে একান্তই আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ করার সুযোগ ঘটে ইতেকাফের মাধ্যমে। তবে ইতেকাফ নিয়ে অনেক ধরনের রেওয়াজ প্রচলিত আছে সমাজে। মানুষের সঙ্গে কথা বলা, যোগাযোগ রক্ষা করা ইত্যাদি বিষয়ে কেউ কেউ খুবই কঠোরতা করেন, আবার কেউ ইতেকাফ অবস্থাতেও মসজিদে খোশগল্পে মেতে থাকেন।
তাই আমাদের জানা প্রয়োজন রা ( সা.) এর ইতেকাফ কেমন ছিল? তিনি কীভাবে এই ইবাদত আদায় করতেন?
হাদিসের বর্ণনা থেকে নবীজির ইতেকাফের একটি অত্যন্ত সুন্দর, ভারসাম্যপূর্ণ এবং মানবিক চিত্র আমাদের সামনে ফুটে ওঠে।
রাসূল (সা.) রমজানের শেষ দশ দিন নিয়মিত ইতেকাফ করতেন। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি (সা.) জীবনের শেষ পর্যন্ত প্রতি রমজানের শেষ দশ দিন ইতেকাফ করেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রীরাও এই আমল চালু রেখেছিলেন।
তবে শুরুতে তিনি লাইলাতুল কদরের সন্ধানে রমজানের প্রথম দশকে এবং পরে মধ্য দশকেও ইতেকাফ করেছিলেন। পরে যখন বুঝতে পারলেন যে লাইলাতুল কদর শেষ দশকের মধ্যেই রয়েছে, তখন থেকে তিনি শেষ দশকেই ইতেকাফ করতেন। (বুখারি, মুসলিম)
সাধারণত নবীজি (সা.) রমজানের শেষ দশ দিন ইতেকাফ করতেন। কিন্তু জীবনের শেষ রমজানে তিনি বিশ দিন ইতেকাফ করেছিলেন।
আলেমরা বলেন, সে বছর রমজানে হজরত জিবরাইল (আ.) নবীজির সঙ্গে কোরআন দুইবার পর্যালোচনা করেছিলেন। অন্য বছর একবার করতেন৷ কেউ কেউ বলেন, হয়ত তিনি অনুভব করেছিলেন তাঁর জীবনের সময় ঘনিয়ে এসেছে—তাই তিনি ইবাদতে আরও বেশি সময় ব্যয় করেছিলেন। তবে সবচেয়ে বিশুদ্ধ মত হলো, পূর্ববর্তী বছর একটি যুদ্ধের সফরে থাকার কারণে তিনি ইতেকাফ করতে পারেননি৷ তাই পরবর্তী বছরে দশ দিন অতিরিক্ত ইতেকাফ করেছেন।
ইতেকাফের সময় নবী (সা.) মসজিদেই অবস্থান করতেন। তিনি প্রয়োজন ছাড়া মসজিদ থেকে বের হতেন না। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, তিনি কেবল প্রাকৃতিক প্রয়োজনের জন্যই মসজিদ থেকে বের হতেন।
এ থেকে বোঝা যায়, ইতেকাফের মূল পরিবেশ ছিল মসজিদের ভেতরে অবস্থান করে ইবাদতে নিমগ্ন থাকা।
নবী (সা.) ইতেকাফের সময় মসজিদের ভেতরে তাঁর জন্য একটি ছোট তাঁবু বা আচ্ছাদিত জায়গা তৈরি করতে বলতেন। সেখানে তিনি নির্জনে অবস্থান করতেন। অধিকাংশ সময় কাটত কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া ও নফল ইবাদতে।
প্রখ্যাত আলেম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন, ইতেকাফের উদ্দেশ্যই হলো মানুষের ভিড় ও কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে হৃদয়কে আল্লাহর সঙ্গে যুক্ত করা।
ইতেকাফ মানে অগোছালো বা অস্বাভাবিক জীবন নয়। নবীজি (সা.) এ সময়ও পরিচ্ছন্নতার প্রতি যত্নবান ছিলেন। তিনি মসজিদ থেকে মাথা বের করে দিতেন, আর হজরত আয়েশা (রা.) তাঁর চুল ধুয়ে দিতেন বা আচড়ে দিতেন।
এটি প্রমাণ করে—ইতেকাফ অবস্থায়ও মানুষ স্বাভাবিকভাবে পরিচ্ছন্ন থাকতে পারে।
ইতেকাফের সময় নবী (সা.) অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যেতেন না এবং জানাজায় অংশ নিতেন না—যাতে
সম্পূর্ণ মনোযোগ ইবাদতে থাকে। তবে তাঁর স্ত্রীরা মাঝে মাঝে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসতেন।
একবার তাঁর স্ত্রী হজরত সাফিয়্যা (রা.) রাতে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এলে তিনি তাঁকে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিলেন। এতে বোঝা যায়, ইতেকাফ মানুষের স্বাভাবিক সম্পর্ককে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয় না।
সবকিছু মিলিয়ে নবীজির (সা.) ইতেকাফ ছিল অত্যন্ত সহজ, স্বাভাবিক এবং ভারসাম্যপূর্ণ। এতে ছিল গভীর ইবাদত, নির্জনতা এবং আল্লাহর স্মরণ। কিন্তু ছিল না কোনো অপ্রয়োজনীয় কঠোরতা।
আজকের ব্যস্ত জীবনে ইতেকাফ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষের জীবনে এমন কিছু সময় দরকার, যখন সে সব ব্যস্ততা থেকে দূরে গিয়ে নিজের রবের সামনে দাঁড়াবে, নিজের হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করবে এবং নতুন করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসবে। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।

রমজান বিদায় নিয়েছে। কিন্তু ইবাদতের দরজা তো বন্ধ হয়নি। একজন মুমিনের জন্য ইবাদত কোনো নির্দিষ্ট মাসে সীমাবদ্ধ নয়। বছরজুড়েই তা অব্যাহত থাকে। শাওয়ালের ৬ রোজা, জিলহজের আরাফার রোজা, মুহাররমের আশুরার রোজা, প্রতি মাসের আইয়ামে বীজ– এসব নফল রোজা যেন মুমিনের জীবনে তাকওয়ার ধারা সচল রাখার বিভিন্ন ধাপ।
৪ দিন আগে
ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। আর সেই আনন্দের সবচেয়ে প্রাণবন্ত প্রকাশ ঘটে ঈদের জামাতে। সকালে নতুন জামা পরে আতরের সুগন্ধ মেখে, বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঈদগাহের পথে হাঁটতে শুরু করে।
৯ দিন আগে
ঈদের ছুটি ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মানুষ ফিরতে শুরু করেছে নিজ নিজ বাড়িতে। এই সময় সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীদের চাপ বেড়ে যায়।
১১ দিন আগে
সমাপ্তির পথে এ বছরের রমজান। আর মাত্র দুই দিন বা তিন দিন পরই শেষ হবে এই বরকতময় মাস। প্রকৃতির বসন্ত যেমন একসময় ফুরিয়ে যায়, তেমনি মানুষের অন্তরের বসন্তও দীর্ঘস্থায়ী হয় না। একজন মুমিনের জন্য অন্তরের সেই বসন্তের নাম—‘রমজান’।
১৩ দিন আগে