ওলিউর রহমান

প্রতি বছর রমজান শুরু হওয়ার আগে বাজারে এক অদৃশ্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ তাকিয়ে থাকে পণ্যের দামের দিকে—আজ কত বাড়ল? কাল কত বাড়বে?
কোনো উৎসব উপলক্ষে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ব্যবহার্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া আমাদের দেশে একদম স্বাভাবিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। তবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সবচেয়ে মারাত্মক ঘটনাটি ঘটে প্রতি বছর রমজান উপলক্ষে৷
রমজানের শুরুতে ছোলা, মাছ, মাংসের দাম বেড়ে যায়৷ লেবু, শসাসহ অন্য ইফতার উপকরণের দাম কখনো দ্বিগুণ, তিনগুণও বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
অথচ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জিনিসপত্রের দাম বাড়ানো সামাজিকভাবে গর্হিত এবং ঘৃণিত কাজ তো বটেই, ইসলামেও এটিকে সুস্পষ্ট হারাম ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাসূল (সা.) বলেছেন, পাপী ব্যক্তি ছাড়া কেউ খাদ্য ( দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে) গুদামজাত করে রাখে না৷ ( মুসলিম)
সিন্ডিকেট করে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি করা স্বাভাবিক সময়েই যেখানে নিন্দনীয় কাজ, রমজানে সেটি আরও মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনে। খাদ্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে সারাদিন রোজা থাকার পরে নিম্ন আয়ের এমনকি মোটামুটি সচ্ছল মানুষও ইফতার, সেহরিতে তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে পারে না।
রমজান উপলক্ষে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করাকে ন্যক্কারজনক আখ্যা দিয়ে এটিকে হারাম বলে ফতোয়া দিয়েছে মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মতত্ত্ব বিভাগ।
মুসলমানদের জন্য রমজান হলো সংযম, সহমর্মিতার মাস৷ হাদিসে এ মাসে অধীনস্থদের কাজের চাপ কমিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাসূল (সা.) রমজানে নিজে প্রচুর দান করতেন এবং বাকিদেরকেও দান করতে উৎসাহ দিতেন৷
এসব কিছুর উদ্দেশ্যে মানুষের কষ্ট লাঘব করা৷ মানুষ যেন স্বাচ্ছন্দ্যে রোজার মতো কঠিন ইবাদতটি পালন করতে পারে৷
কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ী চক্র মানুষের ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে রমজানকেই তাদের অর্থ কামানোর মোক্ষম সময় মনে করে৷ রাষ্ট্রের উঁচু থেকে নিচু পর্যায় পর্যন্ত দফায় দফায় চলে মূল্যবৃদ্ধির কারসাজি। আমদানিকৃত পণ্য জাহাজ থেকে খালাস হয়ে খুচরা বাজারে পৌঁছা পর্যন্ত প্রত্যেকেই নিজের হিসসা অগ্রিম ঈদ বোনাসসহ আদায় করে নেয়।
রাসূল (সা.) যেখানে রমজানে অন্যকে এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও ইফতার করাতে উৎসাহ দিয়েছেন, কারসাজি করে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ানো সেখানে প্রকারান্তরে অন্যের ইফতার কেড়ে নেওয়া৷ তার সেহেরি হরণ করা৷ এটা সুস্পষ্ট জুলুম। আর জুলুম কেয়ামতের দিন জালেমের জন্য ভীষণ অন্ধকার রূপে হাজির হবে৷
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অনেক দেশে রমজানে বিশেষ তৎপরতায় বাজার মনিটরিং করা হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত গালফ নিউজের খবরে বলা হয়েছে, আরব আমিরাতের সুপারশপগুলোতে প্রতি বছর রমজান উপলক্ষে বিশেষ মূল্যছাড় দেওয়া হয়।
বাজার মনিটরিং করা এবং সিন্ডিকেট ভেঙে দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ রাখা মূলত সরকারের কর্তব্য। কিন্তু সরকারের অগোচরে কি কোনো সিন্ডিকেট সচল থাকতে পারে? নাকি এই সিন্ডিকেট ভাঙ্গার কোনো সদিচ্ছাই সরকারের নেই?

প্রতি বছর রমজান শুরু হওয়ার আগে বাজারে এক অদৃশ্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ তাকিয়ে থাকে পণ্যের দামের দিকে—আজ কত বাড়ল? কাল কত বাড়বে?
কোনো উৎসব উপলক্ষে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ব্যবহার্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া আমাদের দেশে একদম স্বাভাবিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। তবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সবচেয়ে মারাত্মক ঘটনাটি ঘটে প্রতি বছর রমজান উপলক্ষে৷
রমজানের শুরুতে ছোলা, মাছ, মাংসের দাম বেড়ে যায়৷ লেবু, শসাসহ অন্য ইফতার উপকরণের দাম কখনো দ্বিগুণ, তিনগুণও বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
অথচ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জিনিসপত্রের দাম বাড়ানো সামাজিকভাবে গর্হিত এবং ঘৃণিত কাজ তো বটেই, ইসলামেও এটিকে সুস্পষ্ট হারাম ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাসূল (সা.) বলেছেন, পাপী ব্যক্তি ছাড়া কেউ খাদ্য ( দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে) গুদামজাত করে রাখে না৷ ( মুসলিম)
সিন্ডিকেট করে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি করা স্বাভাবিক সময়েই যেখানে নিন্দনীয় কাজ, রমজানে সেটি আরও মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনে। খাদ্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে সারাদিন রোজা থাকার পরে নিম্ন আয়ের এমনকি মোটামুটি সচ্ছল মানুষও ইফতার, সেহরিতে তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে পারে না।
রমজান উপলক্ষে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করাকে ন্যক্কারজনক আখ্যা দিয়ে এটিকে হারাম বলে ফতোয়া দিয়েছে মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মতত্ত্ব বিভাগ।
মুসলমানদের জন্য রমজান হলো সংযম, সহমর্মিতার মাস৷ হাদিসে এ মাসে অধীনস্থদের কাজের চাপ কমিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাসূল (সা.) রমজানে নিজে প্রচুর দান করতেন এবং বাকিদেরকেও দান করতে উৎসাহ দিতেন৷
এসব কিছুর উদ্দেশ্যে মানুষের কষ্ট লাঘব করা৷ মানুষ যেন স্বাচ্ছন্দ্যে রোজার মতো কঠিন ইবাদতটি পালন করতে পারে৷
কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ী চক্র মানুষের ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে রমজানকেই তাদের অর্থ কামানোর মোক্ষম সময় মনে করে৷ রাষ্ট্রের উঁচু থেকে নিচু পর্যায় পর্যন্ত দফায় দফায় চলে মূল্যবৃদ্ধির কারসাজি। আমদানিকৃত পণ্য জাহাজ থেকে খালাস হয়ে খুচরা বাজারে পৌঁছা পর্যন্ত প্রত্যেকেই নিজের হিসসা অগ্রিম ঈদ বোনাসসহ আদায় করে নেয়।
রাসূল (সা.) যেখানে রমজানে অন্যকে এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও ইফতার করাতে উৎসাহ দিয়েছেন, কারসাজি করে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ানো সেখানে প্রকারান্তরে অন্যের ইফতার কেড়ে নেওয়া৷ তার সেহেরি হরণ করা৷ এটা সুস্পষ্ট জুলুম। আর জুলুম কেয়ামতের দিন জালেমের জন্য ভীষণ অন্ধকার রূপে হাজির হবে৷
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অনেক দেশে রমজানে বিশেষ তৎপরতায় বাজার মনিটরিং করা হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত গালফ নিউজের খবরে বলা হয়েছে, আরব আমিরাতের সুপারশপগুলোতে প্রতি বছর রমজান উপলক্ষে বিশেষ মূল্যছাড় দেওয়া হয়।
বাজার মনিটরিং করা এবং সিন্ডিকেট ভেঙে দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ রাখা মূলত সরকারের কর্তব্য। কিন্তু সরকারের অগোচরে কি কোনো সিন্ডিকেট সচল থাকতে পারে? নাকি এই সিন্ডিকেট ভাঙ্গার কোনো সদিচ্ছাই সরকারের নেই?

রমজান বিদায় নিয়েছে। কিন্তু ইবাদতের দরজা তো বন্ধ হয়নি। একজন মুমিনের জন্য ইবাদত কোনো নির্দিষ্ট মাসে সীমাবদ্ধ নয়। বছরজুড়েই তা অব্যাহত থাকে। শাওয়ালের ৬ রোজা, জিলহজের আরাফার রোজা, মুহাররমের আশুরার রোজা, প্রতি মাসের আইয়ামে বীজ– এসব নফল রোজা যেন মুমিনের জীবনে তাকওয়ার ধারা সচল রাখার বিভিন্ন ধাপ।
৪ দিন আগে
ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। আর সেই আনন্দের সবচেয়ে প্রাণবন্ত প্রকাশ ঘটে ঈদের জামাতে। সকালে নতুন জামা পরে আতরের সুগন্ধ মেখে, বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঈদগাহের পথে হাঁটতে শুরু করে।
৯ দিন আগে
ঈদের ছুটি ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মানুষ ফিরতে শুরু করেছে নিজ নিজ বাড়িতে। এই সময় সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীদের চাপ বেড়ে যায়।
১২ দিন আগে
সমাপ্তির পথে এ বছরের রমজান। আর মাত্র দুই দিন বা তিন দিন পরই শেষ হবে এই বরকতময় মাস। প্রকৃতির বসন্ত যেমন একসময় ফুরিয়ে যায়, তেমনি মানুষের অন্তরের বসন্তও দীর্ঘস্থায়ী হয় না। একজন মুমিনের জন্য অন্তরের সেই বসন্তের নাম—‘রমজান’।
১৩ দিন আগে