ওলিউর রহমান

আজ ২৬ রমজান। সূর্যাস্তের পর থেকেই শুরু হবে ২৭ রমজান। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে এ রাতটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে শবে কদর হিসেবে পালন করা হয়। এ রাতের প্রেক্ষাপট ও মহিমা বর্ণনা করে আল কোরআনে একটি স্বতন্ত্র সূরা নাযিল হয়েছে, যেখানে এ রাতকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
আল কোরআনের ত্রিশতম পারায় অবস্থিত সূরা কদরে এ রাতের মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য আল্লাহ তাআলা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, (অর্থ)—
‘নিশ্চয়ই আমি এ কুরআন নাযিল করেছি শবে কদরে। আপনি কি জানেন শবে কদর কী? শবে কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। সে রাতে ফেরেশতারা এবং রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের প্রতিপালকের নির্দেশে সকল ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কাজে। শান্তিই শান্তি সে রাত—ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত।’
এটা সর্বজনবিদিত যে, কুরআন নাযিল হয়েছে শবে কদরের রাতে। সুতরাং যে রাতে মানবতার মুক্তি ও হেদায়েতের জন্য কোরআনের নূর পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়েছে, সে রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম হওয়া স্বাভাবিক।
‘লাইলাতুল কদর’কে কদর বলা হয়েছে কয়েকটি কারণে। প্রথমত, এ রাতেই মানবজাতির ভাগ্যের এক ঐতিহাসিক মোড় পরিবর্তন ঘটে। পাপ-পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত মানবসভ্যতা এ রাতেই সত্য ও আলোর পথের সন্ধান লাভ করে। দ্বিতীয়ত, এ রাতে আগামী এক বছরের ব্যবস্থাপনাগত বিভিন্ন বিষয় নির্ধারণ করা হয় এবং তা ফেরেশতাদের কাছে অবহিত করা হয়।
লাইলাতুল কদরের নির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাফসিরকারক ইমাম কুরতুবী (রহ.) মত দিয়েছেন যে, রমজানের সাতাশ তারিখই সম্ভবত সেই বরকতময় রজনী।
তবে একাধিক সহিহ হাদিসে বলা হয়েছে, শবে কদর রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে অনুসন্ধান করতে হবে।
হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, এক বছর আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে রমজানের মাঝের দশকে ইতেকাফ করছিলাম। বিশ তারিখ সকালে তিনি খুতবা দিয়ে বললেন, আমাকে নির্দিষ্টভাবে শবে কদরের তারিখ জানানো হয়েছিল, কিন্তু পরে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তোমরা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে শবে কদর তালাশ করো। আমাকে দেখানো হয়েছিল, আমি কাদা-পানির মধ্যে সিজদা করছি।
এ হাদিসের আলোকে ইমাম কুরতুবী (রহ.) বলেন, শবে কদরের একটি আলামত হলো—পরদিন সূর্য তেজহীনভাবে উদিত হবে এবং রাতের আবহাওয়া থাকবে নাতিশীতোষ্ণ।
আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) বলেন, রাসূল (সা.)-এর কাছে শবে কদরের তারিখ ভুলিয়ে দেওয়াতে কোনো ত্রুটি নেই। বরং বান্দাদের কল্যাণের জন্যই আল্লাহ তা গোপন রেখেছেন। কারণ যদি নির্দিষ্ট দিন জানা থাকত, তাহলে মানুষ শুধু সেই রাতেই ইবাদতে মনোযোগ দিত এবং অন্য রাতগুলোতে অলস হয়ে পড়ত।
উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে শবে কদর অনুসন্ধান করো।’ এ হাদিস একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
শবে কদর সম্পর্কে সহিহ হাদিসে যে ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে, তা মুমিনদের ইবাদতের প্রতি আগ্রহ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সহিহ বুখারি ও মুসলিমে এসেছে—যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে এবং সওয়াবের আশায় শবে কদরে ইবাদত করবে, তার পূর্বের সকল গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) শবে কদরের অনুসন্ধানে অত্যন্ত তৎপর থাকতেন। প্রতিবছর তিনি রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফ করতেন। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রমজান শুরু হলেই রাসূল (সা.) ইবাদতে আরও বেশি মনোযোগী হয়ে উঠতেন। তিনি রাত্রি জাগরণ করতেন এবং পরিবারের সদস্যদেরও ইবাদতের জন্য জাগিয়ে তুলতেন।
সুতরাং আমাদের জন্যও উচিত—এ মহিমান্বিত রজনীর ব্যাপারে উদাসীন না থাকা। নবী মুহাম্মদ (সা.) আমাদের জন্য ইতেকাফের এক উত্তম আদর্শ রেখে গেছেন। রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফের মাধ্যমে আমরা সহজেই বরকতময় এ রাতের ফজিলত লাভের সুযোগ পেতে পারি।

আজ ২৬ রমজান। সূর্যাস্তের পর থেকেই শুরু হবে ২৭ রমজান। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে এ রাতটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে শবে কদর হিসেবে পালন করা হয়। এ রাতের প্রেক্ষাপট ও মহিমা বর্ণনা করে আল কোরআনে একটি স্বতন্ত্র সূরা নাযিল হয়েছে, যেখানে এ রাতকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
আল কোরআনের ত্রিশতম পারায় অবস্থিত সূরা কদরে এ রাতের মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য আল্লাহ তাআলা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, (অর্থ)—
‘নিশ্চয়ই আমি এ কুরআন নাযিল করেছি শবে কদরে। আপনি কি জানেন শবে কদর কী? শবে কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। সে রাতে ফেরেশতারা এবং রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের প্রতিপালকের নির্দেশে সকল ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কাজে। শান্তিই শান্তি সে রাত—ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত।’
এটা সর্বজনবিদিত যে, কুরআন নাযিল হয়েছে শবে কদরের রাতে। সুতরাং যে রাতে মানবতার মুক্তি ও হেদায়েতের জন্য কোরআনের নূর পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়েছে, সে রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম হওয়া স্বাভাবিক।
‘লাইলাতুল কদর’কে কদর বলা হয়েছে কয়েকটি কারণে। প্রথমত, এ রাতেই মানবজাতির ভাগ্যের এক ঐতিহাসিক মোড় পরিবর্তন ঘটে। পাপ-পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত মানবসভ্যতা এ রাতেই সত্য ও আলোর পথের সন্ধান লাভ করে। দ্বিতীয়ত, এ রাতে আগামী এক বছরের ব্যবস্থাপনাগত বিভিন্ন বিষয় নির্ধারণ করা হয় এবং তা ফেরেশতাদের কাছে অবহিত করা হয়।
লাইলাতুল কদরের নির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাফসিরকারক ইমাম কুরতুবী (রহ.) মত দিয়েছেন যে, রমজানের সাতাশ তারিখই সম্ভবত সেই বরকতময় রজনী।
তবে একাধিক সহিহ হাদিসে বলা হয়েছে, শবে কদর রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে অনুসন্ধান করতে হবে।
হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, এক বছর আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে রমজানের মাঝের দশকে ইতেকাফ করছিলাম। বিশ তারিখ সকালে তিনি খুতবা দিয়ে বললেন, আমাকে নির্দিষ্টভাবে শবে কদরের তারিখ জানানো হয়েছিল, কিন্তু পরে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তোমরা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে শবে কদর তালাশ করো। আমাকে দেখানো হয়েছিল, আমি কাদা-পানির মধ্যে সিজদা করছি।
এ হাদিসের আলোকে ইমাম কুরতুবী (রহ.) বলেন, শবে কদরের একটি আলামত হলো—পরদিন সূর্য তেজহীনভাবে উদিত হবে এবং রাতের আবহাওয়া থাকবে নাতিশীতোষ্ণ।
আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) বলেন, রাসূল (সা.)-এর কাছে শবে কদরের তারিখ ভুলিয়ে দেওয়াতে কোনো ত্রুটি নেই। বরং বান্দাদের কল্যাণের জন্যই আল্লাহ তা গোপন রেখেছেন। কারণ যদি নির্দিষ্ট দিন জানা থাকত, তাহলে মানুষ শুধু সেই রাতেই ইবাদতে মনোযোগ দিত এবং অন্য রাতগুলোতে অলস হয়ে পড়ত।
উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে শবে কদর অনুসন্ধান করো।’ এ হাদিস একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
শবে কদর সম্পর্কে সহিহ হাদিসে যে ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে, তা মুমিনদের ইবাদতের প্রতি আগ্রহ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সহিহ বুখারি ও মুসলিমে এসেছে—যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে এবং সওয়াবের আশায় শবে কদরে ইবাদত করবে, তার পূর্বের সকল গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) শবে কদরের অনুসন্ধানে অত্যন্ত তৎপর থাকতেন। প্রতিবছর তিনি রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফ করতেন। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রমজান শুরু হলেই রাসূল (সা.) ইবাদতে আরও বেশি মনোযোগী হয়ে উঠতেন। তিনি রাত্রি জাগরণ করতেন এবং পরিবারের সদস্যদেরও ইবাদতের জন্য জাগিয়ে তুলতেন।
সুতরাং আমাদের জন্যও উচিত—এ মহিমান্বিত রজনীর ব্যাপারে উদাসীন না থাকা। নবী মুহাম্মদ (সা.) আমাদের জন্য ইতেকাফের এক উত্তম আদর্শ রেখে গেছেন। রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফের মাধ্যমে আমরা সহজেই বরকতময় এ রাতের ফজিলত লাভের সুযোগ পেতে পারি।

রমজান বিদায় নিয়েছে। কিন্তু ইবাদতের দরজা তো বন্ধ হয়নি। একজন মুমিনের জন্য ইবাদত কোনো নির্দিষ্ট মাসে সীমাবদ্ধ নয়। বছরজুড়েই তা অব্যাহত থাকে। শাওয়ালের ৬ রোজা, জিলহজের আরাফার রোজা, মুহাররমের আশুরার রোজা, প্রতি মাসের আইয়ামে বীজ– এসব নফল রোজা যেন মুমিনের জীবনে তাকওয়ার ধারা সচল রাখার বিভিন্ন ধাপ।
৪ দিন আগে
ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। আর সেই আনন্দের সবচেয়ে প্রাণবন্ত প্রকাশ ঘটে ঈদের জামাতে। সকালে নতুন জামা পরে আতরের সুগন্ধ মেখে, বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঈদগাহের পথে হাঁটতে শুরু করে।
৯ দিন আগে
ঈদের ছুটি ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মানুষ ফিরতে শুরু করেছে নিজ নিজ বাড়িতে। এই সময় সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীদের চাপ বেড়ে যায়।
১১ দিন আগে
সমাপ্তির পথে এ বছরের রমজান। আর মাত্র দুই দিন বা তিন দিন পরই শেষ হবে এই বরকতময় মাস। প্রকৃতির বসন্ত যেমন একসময় ফুরিয়ে যায়, তেমনি মানুষের অন্তরের বসন্তও দীর্ঘস্থায়ী হয় না। একজন মুমিনের জন্য অন্তরের সেই বসন্তের নাম—‘রমজান’।
১৩ দিন আগে