ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের সাক্ষাৎকার

ভোটাররা ব্যক্তির চেয়ে দলীয় প্রতীক এবং আদর্শকেই বেশি মূল্যায়ন করবেন

দেশজুড়ে বইছে নির্বাচনের হাওয়া। সমসাময়িক রাজনীতি, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন পথচলা এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে ঢাকা স্ট্রিমের সঙ্গে কথা বলেছেন বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন স্ট্রিমের রাজনৈতিক প্রতিবেদক মিরহাজুল শিবলী

বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। স্ট্রিম ছবি

ঢাকা স্ট্রিম: তারেক রহমানের নির্বাচনী সফর এবং তাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের ব্যাপক আগ্রহ তৃণমূল নেতাকর্মীদের আত্মবিশ্বাসে কতটা প্রভাব ফেলছে?

ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম: তারেক রহমানের পরিচয় শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান। জিয়া পরিবার এদেশের মানুষের আবেগের নাম। ৭ই নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মতো এক কঠিন সময়েও এই পরিবারই জাতির হাল ধরেছিল। দীর্ঘ প্রবাস জীবনের পর তারেক রহমান যখন নতুনভাবে জনগণের সামনে আসছেন, তখন মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা প্রমাণ করে তিনি জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরী। ২৫শে ডিসেম্বরের পর থেকে জনগণের এই আস্থা ও নির্ভরতা বহুগুণ বেড়েছে। তারেক রহমান এখন শুধু একজন নেতা নন, তিনি শোষিত মানুষের ভরসার প্রতীক। জনজোয়ার দেখে অনেকেই অবশ্য অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে ভুগছেন। আমি মনে করি প্রতিপক্ষ যত দুর্বলই হোক না কেন, তাদের হালকা ভাবে নেয়া উচিত নয়।

ঢাকা স্ট্রিম: বিএনপির ৩১ দফা সংস্কারের রূপরেখা কি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কোনো গুণগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে?

ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম: ১৫ বছর স্বৈরাচারী শাসনের ফলে দেশে এক ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। তারেক রহমান দীর্ঘ সময় আধুনিক গণতন্ত্রের দেশে ছিলেন সেখান থেকে তিনি যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রয়োগ করতে চান। তার দলের ৩১ দফা রূপরেখা মূলত একটি সুন্দর, বৈষম্যহীন এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন। তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না, বরং সব দলকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখছেন।

ঢাকা স্ট্রিম: আমরা দেখছি, এবার অর্ধশতাধিক আসনে বিএনপির প্রভাবশালী বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এটি দলের জয়ের ক্ষেত্রে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি?

ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম: বিএনপি একটি বিশাল রাজনৈতিক দল। একটি আসনে একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকা স্বাভাবিক। তবে মনে রাখতে হবে, দল ব্যক্তির থেকেও বড়। যারা দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে দল ব্যবস্থা নিচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, মাঠ পর্যায়ের ভোটাররা ব্যক্তির চেয়ে দলীয় প্রতীক ও আদর্শকেই বেশি মূল্যায়ন করবেন। শেষ পর্যন্ত দলের ঐক্যই জয়ী হবে।

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম এবং স্ট্রিমের রাজনৈতিক প্রতিবেদক মিরহাজুল শিবলী। স্ট্রিম ছবি
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম এবং স্ট্রিমের রাজনৈতিক প্রতিবেদক মিরহাজুল শিবলী। স্ট্রিম ছবি

ঢাকা স্ট্রিম: মিত্রদের জন্য বেশ কিছু আসন ছেড়ে দেওয়ায় মাঠ পর্যায়ের শক্তিশালী নেতাকর্মীদের মধ্যে যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, বিএনপি তা কীভাবে সামাল দিচ্ছে?

ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম: রাজনীতির প্রয়োজনে আপস করতে হয়। জোটের মিত্রদের সম্মান জানানো আমাদের দায়িত্ব। হয়তো কোনো কোনো এলাকায় নেতাকর্মীদের সাময়িক কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থে তারা দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন। আমাদের মূল লক্ষ্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার। সিট ভাগাভাগি এখানে গৌণ বিষয়।

ঢাকা স্ট্রিম: আপনার নিজ জেলাতেও মনোনয়ন নিয়ে বিতর্ক দেখা গেছে। সদ্য দলে যোগ দেয়া দুজনকে প্রার্থী করেছে বিএনপি। এ বিষয়ে কী বলবেন?

ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম: আমি একজন শিক্ষক হিসেবে এলাকার মানুষের অফুরন্ত ভালোবাসা পেয়েছি। আমি মনোনয়ন চেয়েছিলাম, কিন্তু দল যাকে যোগ্য মনে করেছে তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আমি দলের একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে এই সিদ্ধান্তে শ্রদ্ধাশীল। ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে দল ও দেশের স্বার্থই আমার কাছে প্রধান।

ঢাকা স্ট্রিম: বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে বিএনপির পরিকল্পনা কী? বিশেষ করে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রসারে বিএনপির ভিশন কী?

ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম: গত ১৭ বছরে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। কেবল পাসের হার বাড়ানো আর সনদ বিতরণই ছিল লক্ষ্য। তারেক রহমান ‘আউটকাম বেসড’ বা ফলপ্রসূ শিক্ষার কথা বলছেন। তার পরিকল্পনা হচ্ছে- প্রত্যেক শিক্ষার্থী যেন অন্তত একটি কারিগরি বিষয়ে দক্ষ হয়ে বের হয়। আমরা চাই না উচ্চশিক্ষিত হয়ে যুবকরা বেকার থাকুক। আমরা কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটাবো, যাতে আমাদের জনশক্তি বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারে। ভাষা শিক্ষা ও আইটির মাধ্যমে আমরা বিদেশে দক্ষ কর্মী পাঠাবো, যাতে তারা ভারত বা পাকিস্তানের চেয়েও বেশি রেমিট্যান্স আয় করতে পারে।

ঢাকা স্ট্রিম: বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় শিক্ষকদের প্রভাব নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। সম্প্রতি ডাকসু ভিপি সাদেক কায়েমও একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন। একজন উপাচার্য ও শিক্ষক নেতা হিসেবে আপনি বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম: সাদিক কায়েম একজন ছাত্রনেতা, তার মতামত দেওয়ার অধিকার আছে। তবে শিক্ষক রাজনীতি মানেই অনিয়ম নয়। আমি মনে করি, একজন শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে কোনো আদর্শের অনুসারী হতে পারেন। যখন তিনি প্রশাসনিক চেয়ারে বসেন বা খাতা দেখেন, তখন তাকে হতে হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। আমি নিজেও এখন উপাচার্যের দায়িত্বে আছি। আমি মনে করি, ন্যায়কে ন্যায় ও অন্যায়কে অন্যায় বলাই হলো প্রকৃত শিক্ষা। প্রশাসনিক চেয়ারে বসে দলীয় প্রভাব খাটানো উচিত নয়। আমরা মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে চাই।

ঢাকা স্ট্রিম: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম: আপনাকেও ধন্যবাদ। ঢাকা স্ট্রিমের পাঠকদের জন্য শুভকামনা।

সম্পর্কিত