ইসিতে আরও ২৪ জনের আপিল খারিজ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

নির্বাচন কমিশন

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২৪ জনের আপিল খারিজ হয়েছে। তৃতীয় দিন সোমবার (১২ জানুয়ারি) সবচেয়ে বেশি আপিল বাতিল করল নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এদিন শুনানিতে ৭১ জনের মধ্যে ২৪টি আপিল বাতিল করে ইসি। এছাড়া রোববারের একজন বিবেচনাধীন থাকাসহ ৪১ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। সোমবার চারজনের আপিল বিবেচনাধীন রাখা হয়েছে।

খারিজ আপিলের মধ্যে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের জটিলতা, মামলার তথ্য দাখিল না করা ও ঋণখেলাপিই বেশি। এ ছাড়া দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতায় চট্টগ্রাম-৯ আসনের জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হকের আপিল বাতিল করা হয়। তবে একই কারণে বিএনপির শেরপুর-২ আসনের প্রার্থী ফাহিম চৌধুরীর আপিল বিবেচনাধীন রেখেছে ইসি।

চট্টগ্রাম-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শাকিলা ফারজানা তাঁর আবেদন প্রত্যাহার করে নেন। পাবনা-২ আসনের নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় আবেদনটির শুনানি হয়নি।

ইসির তথ্যে, সোমবার জাতীয় পার্টির তিন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক জোটের এক, গণঅধিকার পরিষদের চার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এক, গণফ্রন্টের দুই, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) এক, জনতার দলের এক, গণঅধিকার পরিষদের এক, গণফোরামের এক, গণসংহতি আন্দোলনের এক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তিন, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) তিন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের এক, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) এক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির এক, নাগরিক ঐক্যের এক, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির এক, এনপিপির এক ও বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির একটি আপিল মঞ্জুর করে ইসি। প্রার্থিতা ফিরে পাওয়াদের মধ্যে স্বতন্ত্রসহ অন্যান্য দলের ১০ জন রয়েছেন।

এবার মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। বাছাইয়ে ৭২৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। প্রার্থিতা পেতে ৬৪৫টি আপিল ইসিতে জমা পড়ে। আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল নিষ্পত্তি করবে ইসি। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত। ২১ জানুয়ারি প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ হবে।

রিটার্নিং কর্মকর্তারা বড় দলগুলোর প্রভাবে প্রভাবিত: হাসনাত কাইয়ূম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিয়োগপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা বড় দলগুলোর প্রভাবে প্রভাবিত বলে অভিযোগ করেছেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে তৃতীয় দিনের আপিল শুনানিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন তিনি।

হাসনাত কাইয়ূম বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত করতে চাইনি। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও আমাদের দলকে নিবন্ধন দেওয়া হয়নি। তবুও তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত আমরা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক বক্তব্য দিইনি। কারণ দলীয় স্বার্থের চেয়ে জাতীয় স্বার্থ বড়। নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করা জরুরি।

তিনি বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নিয়ে দেখেছি, তাদের অভিজ্ঞতা আমার চেয়েও ভয়াবহ। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে বাদ দিতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করা হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক আপিল ও আপিল মঞ্জুরের হার দেখলেই বোঝা যায় স্থানীয় রিটার্নিং কর্মকর্তারা বড় দলগুলোর প্রভাবে কতটা প্রভাবিত! এ ধরনের কর্মকর্তাদের দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করলে কোনোভাবেই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়।

সম্পর্কিত