leadT1ad

এক দিনে হামে আরও ১০ মৃত্যু, ভর্তি ৬৫৪

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৯: ২৮
হাম আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে দিশাহারা স্বজন। ছবি: সংগৃহীত

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে ৯৭৪ জনের শরীরে এই রোগের লক্ষণ দেখা গেছে। রোববার (৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৪ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ৫ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে ৯৭৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগীকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ৫৪ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৬১০ জনে, যার মধ্যে নিশ্চিত শনাক্ত হয়েছেন ৯২৯ জন।

Ad 300x250

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত এই রোগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১৭ জনে। অন্যদিকে, উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ১০ জনকে নিয়ে দেশে ‘সন্দেহজনক হামে’ মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১১৩ জনে পৌঁছেছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৫৪ জন। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৪৭০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৯৩ জনসহ এ পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৩৮০ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

বিভাগীয় পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে কুষ্টিয়া জেলায়। তবে সংক্রমণের দিক দিয়ে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক ৩৯২ জন সন্দেহজনক রোগী পাওয়া গেছে এবং নিশ্চিত শনাক্ত হয়েছেন ৩৮ জন।

হামের এই ভয়াবহ বিস্তারের মধ্যেই আজ সকাল থেকে দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে হামের যে প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, তা করোনা মহামারির চেয়ে কোনোভাবেই কম উদ্বেগজনক নয়। অতীতের সরকারগুলোর ভুল ব্যবস্থাপনার কারণেই আজ এই সংকট তৈরি হয়েছে।’

প্রাথমিক পর্যায়ে আজ থেকে যে ৩০ উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চলছে, সেগুলো হলো—রাজশাহীর গোদাগাড়ী; ঢাকার নবাবগঞ্জ; মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, সদর ও শ্রীনগর; ঝালকাঠির নলছিটি; ময়মনসিংহের ত্রিশাল, সদর ও ফুলপুর; চাঁদপুরের হাইমচর ও সদর; বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ; পাবনার ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া ও বেড়া; নওগাঁর পোরশা; গাজীপুর সদর; নেত্রকোনার আটপাড়া; শরীয়তপুরের জাজিরা; বরগুনা সদর; মাদারীপুর সদর; কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু; চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট; নাটোর সদর এবং যশোর সদর।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ১২ এপ্রিল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগে বিশেষ টিকাদান চলবে। এরপর ৩ মে থেকে সারা দেশে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে পর্যায়ক্রমে সবাইকে টিকার আওতায় আনা হবে।

Ad 300x250Ad 300x250
leadT1ad

সম্পর্কিত

leadT1ad
leadT1ad