স্ট্রিম প্রতিবেদক

সারা দেশে সড়ক, সরকারি স্থাপনা বা জায়গায় থাকা গাছ কাটতে হলে নির্ধারিত কমিটির অনুমতি নিতে হবে। এমনকি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় থাকা গাছও এ নির্দেশনার বাইরে রাখা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাই কোর্ট।
সোমবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১৫ জানুয়ারি একটি রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি করে এ রায় দেন। সম্প্রতি রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশিত হয়েছে।
রায়ে আদালত নির্দেশনাটিকে কন্টিনিউয়িং ম্যান্ডামাস (চলমান নির্দেশনা) হিসেবে বহাল রেখেছেন। একই সঙ্গে আগামী ছয় মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
রায়ের পটভূমি সম্পর্কে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও পরিবেশ দূষণ থেকে মানুষের জীবন ও সুস্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন করা হয়েছিল।
মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে ২০২৪ সালে হাইকোর্টে ওই রিট করা হয়। এতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহর ও উপজেলায় সড়কের গাছকাটার আগে একটি নির্দিষ্ট কমিটির অনুমতি নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল।
রিটটির প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ২৮ জানুয়ারি হাইকোর্ট একটি রায় দেন। সে সময় আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, ব্যাপকভাবে গাছ কাটা হলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং তা মানুষের বেঁচে থাকার সাংবিধানিক অধিকারকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।
তবে ওই রায়ে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় থাকা গাছকে নির্দেশনার বাইরে রাখা হয়েছিল।
রিভিউ শুনানিতে আইনজীবীরা যুক্তি দেন, রিটের মূল বিষয় ছিল সরকারি সড়কের পাশের গাছ কাটার ঘটনা। সেই প্রেক্ষাপটে সরকারি প্রকল্পের গাছকে রায়ের বাইরে রাখা হলে রিটের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।
এ ছাড়া রায়ের পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন স্থানে কমিটি গঠনের কথা বলা হলেও নির্দেশনামূলক অংশে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কমিটির কথা উল্লেখ থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ফলে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কোনো কমিটি গঠিত হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে সরকারি প্রকল্পের গাছকে রায়ের বাইরে রাখার বিষয়টি বাতিল (এক্সপাঞ্জ) করার আবেদন জানিয়ে এইচআরপিবির পক্ষে রিভিউ আবেদন করা হয়।
রিভিউ শুনানি শেষে হাইকোর্ট আগের রায়ের ওই অংশ বাতিল করেন এবং স্পষ্টভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেন।
কমিটির কাঠামো
রায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের অধীনে সাত সদস্যের একটি কমিটি থাকবে। এতে পরিবেশবিদ, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের একজন অধ্যাপক অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
এ ছাড়া জেলা পর্যায়ে গাছ কাটার অনুমতির জন্য জেলা প্রশাসককে প্রধান করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করতে হবে। এতে জেলা পরিবেশ কর্মকর্তা, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, বন কর্মকর্তা, পরিবেশবিদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা সিভিল সার্জন সদস্য হিসেবে থাকবেন।
অন্যদিকে উপজেলা পর্যায়ে গঠিত সাত সদস্যের কমিটিতে থাকবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কলেজের অধ্যক্ষ, সমাজকর্মী, পরিবেশবাদী, সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী।
রিভিউ আবেদনে এইচআরপিবির পক্ষে আবেদনকারী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট এখলাস উদ্দিন ভূঁইয়া ও অ্যাডভোকেট রিপন বাড়ৈ।
আদালতে রিভিউ শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীমনজিল মোরসেদ। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মণ্ডল।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ শফিকুর রহমান ।
মামলায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, জনপ্রশাসন সচিব ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ মোট ১৫ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

সারা দেশে সড়ক, সরকারি স্থাপনা বা জায়গায় থাকা গাছ কাটতে হলে নির্ধারিত কমিটির অনুমতি নিতে হবে। এমনকি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় থাকা গাছও এ নির্দেশনার বাইরে রাখা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাই কোর্ট।
সোমবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১৫ জানুয়ারি একটি রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি করে এ রায় দেন। সম্প্রতি রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশিত হয়েছে।
রায়ে আদালত নির্দেশনাটিকে কন্টিনিউয়িং ম্যান্ডামাস (চলমান নির্দেশনা) হিসেবে বহাল রেখেছেন। একই সঙ্গে আগামী ছয় মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
রায়ের পটভূমি সম্পর্কে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও পরিবেশ দূষণ থেকে মানুষের জীবন ও সুস্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন করা হয়েছিল।
মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে ২০২৪ সালে হাইকোর্টে ওই রিট করা হয়। এতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহর ও উপজেলায় সড়কের গাছকাটার আগে একটি নির্দিষ্ট কমিটির অনুমতি নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল।
রিটটির প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ২৮ জানুয়ারি হাইকোর্ট একটি রায় দেন। সে সময় আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, ব্যাপকভাবে গাছ কাটা হলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং তা মানুষের বেঁচে থাকার সাংবিধানিক অধিকারকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।
তবে ওই রায়ে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় থাকা গাছকে নির্দেশনার বাইরে রাখা হয়েছিল।
রিভিউ শুনানিতে আইনজীবীরা যুক্তি দেন, রিটের মূল বিষয় ছিল সরকারি সড়কের পাশের গাছ কাটার ঘটনা। সেই প্রেক্ষাপটে সরকারি প্রকল্পের গাছকে রায়ের বাইরে রাখা হলে রিটের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।
এ ছাড়া রায়ের পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন স্থানে কমিটি গঠনের কথা বলা হলেও নির্দেশনামূলক অংশে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কমিটির কথা উল্লেখ থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ফলে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কোনো কমিটি গঠিত হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে সরকারি প্রকল্পের গাছকে রায়ের বাইরে রাখার বিষয়টি বাতিল (এক্সপাঞ্জ) করার আবেদন জানিয়ে এইচআরপিবির পক্ষে রিভিউ আবেদন করা হয়।
রিভিউ শুনানি শেষে হাইকোর্ট আগের রায়ের ওই অংশ বাতিল করেন এবং স্পষ্টভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেন।
কমিটির কাঠামো
রায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের অধীনে সাত সদস্যের একটি কমিটি থাকবে। এতে পরিবেশবিদ, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের একজন অধ্যাপক অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
এ ছাড়া জেলা পর্যায়ে গাছ কাটার অনুমতির জন্য জেলা প্রশাসককে প্রধান করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করতে হবে। এতে জেলা পরিবেশ কর্মকর্তা, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, বন কর্মকর্তা, পরিবেশবিদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা সিভিল সার্জন সদস্য হিসেবে থাকবেন।
অন্যদিকে উপজেলা পর্যায়ে গঠিত সাত সদস্যের কমিটিতে থাকবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কলেজের অধ্যক্ষ, সমাজকর্মী, পরিবেশবাদী, সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী।
রিভিউ আবেদনে এইচআরপিবির পক্ষে আবেদনকারী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট এখলাস উদ্দিন ভূঁইয়া ও অ্যাডভোকেট রিপন বাড়ৈ।
আদালতে রিভিউ শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীমনজিল মোরসেদ। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মণ্ডল।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ শফিকুর রহমান ।
মামলায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, জনপ্রশাসন সচিব ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ মোট ১৫ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক আদর্শ থাকলেও রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তা কোনো প্রভাব ফেলবে না।
৮ ঘণ্টা আগে
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে আলোচনার জন্য বিরোধীদলীয় নেতার দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে আগামী মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুই ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা হবে। তবে এর আগে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা নিয়ে সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে অনির্ধারিত বিতর্ক হয়েছে।
৮ ঘণ্টা আগে
ইন্দোবাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস সংগ্রাম পরিষদের টানা দুই দিনের সর্বাত্মক কর্মবিরতির মুখে নতি স্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ। আন্দোলনের মুখে চারজন শ্রমিকের ছাঁটাই আদেশ প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবি মেনে নিয়েছে মালিকপক্ষ।
৯ ঘণ্টা আগে
লিবিয়ায় বন্দিশালায় (গেমঘর) দালালের নির্যাতনে মাদারীপুরের দুই যুবক নিহত হয়েছেন। সপ্তাহখানেক আগে মৃত্যু হলেও তা পরিবারের কাছে গোপন রাখা হয়।
৯ ঘণ্টা আগে