রোহিঙ্গা ও স্থানীয় কৃষকদের জন্য সাড়ে ৬ মিলিয়ন ডলার দিল জাপান

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬, ১৭: ৪০
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প। ছবি: আশরাফুল আলম

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র কৃষকদের খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা জোরদারে ৬ দশমিক ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৮১ কোটি ৬০ লাখ টাকা) অনুদান দিয়েছে জাপান। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিকে (ডব্লিউএফপি) ওই অর্থ দিয়েছে জাপান সরকার।

বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডব্লিউএফপি জানায়, ওই অর্থে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে জীবনরক্ষাকারী খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। পাশাপাশি গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য পুষ্টি সেবা আরও জোরদার করা হবে।

এই অর্থায়নের একটি অংশ কক্সবাজারের আশপাশের স্থানীয় ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তায় ব্যয় করা হবে। ডব্লিউএফপির ‘অ্যাগ্রিগেশন সেন্টার’ মডেলের মাধ্যমে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্য একত্র করে সহজে বাজারে বিক্রি করতে পারবেন এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন। এর ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শাকসবজি, ডিম ও চালের মতো পণ্য রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর কাছেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় কৃষি অবকাঠামো পুনর্গঠনে সহায়তা করা হবে। পাশাপাশি অ্যাগ্রিগেশন সেন্টারগুলোতে কোল্ড স্টোরেজ ও আধুনিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা স্থাপন করা হবে, যা স্থানীয় কৃষিপণ্যের গুণগত মান ও বাজারমূল্য বাড়াতে সহায়ক হবে।

২০২৪ সালের শুরু থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা বাড়ায় নতুন করে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে। এতে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ১২ লাখে। চাহিদা বাড়লেও অবশ্য রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা ক্রমেই কমে আসছে।

ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিলে ১৫০ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণ না হলে আগামী এপ্রিল থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।

২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর থেকে জাপান নিয়মিত সহায়তা দিয়ে আসছে। সবশেষ অনুদানসহ ডব্লিউএফপি ও অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটে জাপানের মোট সহায়তা ২৬০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

সম্পর্কিত