ফিলিং স্টেশন তদারকিতে ট্যাগ অফিসারদের দায়িত্ব নির্ধারণ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬, ২০: ০৩
একটি ফিলিং স্টেশনের চিত্র। স্ট্রিম ছবি

দেশের জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে নিয়োজিত ট্যাগ অফিসারদের জন্য বিস্তারিত কর্মপরিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) জারি করা এক নির্দেশনায় তাদের এই নতুন কার্যপরিধি স্পষ্ট করা হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জ্বালানি তেল সরবরাহ, মজুত ও বিক্রয় প্রক্রিয়াকে সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ রাখতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত দায়িত্ব অনুযায়ী, ট্যাগ অফিসারদের প্রতিদিন ফিলিং স্টেশনের প্রারম্ভিক মজুত যথাযথভাবে রেকর্ড করতে হবে। ডিপো থেকে সরবরাহ করা জ্বালানি তেল সরাসরি উপস্থিত থেকে মেপে গ্রহণ এবং পে-অর্ডার ও চালানের সঙ্গে পরিমাণ মিলিয়ে দেখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিপ-রড বা ডিপ-স্টিক ব্যবহার করে তেলের পরিমাণ নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া প্রতিদিনের প্রাপ্ত তেলের হিসাব ফিলিং স্টেশনের রেজিস্ট্রারে সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। ডিসপেন্সিং মেশিনের দৈনিক মিটার রিডিং যাচাই করে বিক্রির হিসাবের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা এবং দিনের শেষে সমাপনী মজুত পর্যালোচনাও ট্যাগ অফিসারদের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মেশিনের পরিমাপে কোনো অসংগতি আছে কি না তা নিয়মিত তদারকি করার পাশাপাশি, বিস্ফোরক পরিদপ্তর থেকে অনুমোদিত লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী মজুত ক্ষমতা যাচাই করতে হবে। ফিলিং স্টেশনের আশপাশে কোনো অননুমোদিত ট্যাংক বা স্থাপনা রয়েছে কি না, তাও পরীক্ষা করতে হবে। সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়াতে ডিপো থেকে পাম্প এবং পাম্প থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে দৃশ্যমান করার উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি ডিপো, ট্যাংকার, পাম্প ও খুচরা বিক্রির তথ্য সমন্বিতভাবে পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিটি পাম্পে দিনে অন্তত তিনবার—সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায়—স্টক আপডেট নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ডিপো থেকে জ্বালানি গ্রহণের এক ঘণ্টার মধ্যে খুচরা বিক্রি শুরু করা বাধ্যতামূলক। এটি না করলে আইন লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে প্রথমবার সতর্কতা, দ্বিতীয়বার ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) এবং তৃতীয়বার সাময়িক স্থগিতাদেশের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া ফিলিং স্টেশন খোলা আছে কি না, স্টক রেজিস্টারের যথার্থতা, ডিসপ্লে বোর্ডের উপস্থিতি, ক্যাশ মেমো প্রদান, নির্ধারিত সীমা অনুসরণ, কনটেইনারে অবৈধ বিক্রি এবং লাইনের সার্বিক চিত্র জিও-ট্যাগসহ প্রতিবেদন আকারে দাখিল করতে হবে।

প্রাসঙ্গিক তথ্যে জানা গেছে, দেশের জ্বালানি ব্যবস্থা আরও কার্যকরভাবে তদারকি ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে সব পেট্রোল পাম্পে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগের সিদ্ধান্ত গত শুক্রবার নেওয়া হয়েছিল।

বিষয়:

সম্পর্কিত