রামপুরায় কার্নিশে থাকা তরুণকে গুলি: প্রসিকিউশনের আবেদনে রায় স্থগিত

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬, ১২: ১২
রামপুরায় কার্নিশে থাকা তরুণকে গুলি। সংগৃহীত ছবি

চব্বিশে জুলাই-আগস্ট আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলি ও দুজনকে হত্যা মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল আজ বুধবার (৪ মার্চ)। তবে প্রসিকিউশনের আবেদনে তা স্থগিত করা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, আজ মামলাটির রায় ঘোষণার তারিখ থাকলেও ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ পড়েছে’ উল্লেখ করে রায় ঘোষণা চার সপ্তাহ পেছানোর আবেদন জানায় প্রসিকিউশন টিম। আবেদনে বলা হয়েছে, আমির হোসেনকে গুলি ও দুই জনকে হত্যায় যে পুলিশ কর্মকর্তা নির্দেশ দিয়েছিলেন, তার কল রেকর্ডে পাওয়ার পরও মামলায় তার নাম আসেনি। ফলে রায় ঘোষণা স্থগিত রাখতে আবেদন জানিয়েছেন তারা।

আজ বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আবেদন গ্রহণ করে রায় ঘোষণা স্থগিত করেছেন।

নবনিযুক্ত চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম আবেদনের বিষয়ে বলেন, ‘আমরা এই মামলায় বেশ কিছু ডিজিটাল এভিডেন্সের খোঁজ পেয়েছি। এগুলো এই সময়ের আগেই আদালতে সাবমিট করব।’

এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দিসহ নথিপত্রে পাঁচ আসামির সম্পৃক্ততা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেছিল প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও নিজেদের মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করে বেকসুর খালাস চেয়েছেন।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল-১। এ মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট আসামি পাঁচজন। এর মধ্যে গ্রেফতার রয়েছেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার।

পলাতক অন্য আসামিরা হলেন— খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

এ মামলায় হাবিবসহ পলাতক চারজনের পক্ষে লড়ছেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেন।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের হামলা থেকে প্রাণ বাঁচাতে রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের পাশে থাকা একটি নির্মাণাধীন ভবনে ওঠেন আমির হোসেন নামের এক তরুণ। ওই সময় পুলিশও তার পিছু পিছু যায়। একপর্যায়ে ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকলেও তার ওপর ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন এক পুলিশ সদস্য। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। একই দিন বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন নাদিম ও মায়া ইসলাম।

এ মামলায় ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

সম্পর্কিত