ফারুক হোসাইন

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষা খাতের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে রদবদল আনা হয়। অন্যান্য খাতের মতো শিক্ষায় সংস্কার কমিশন করা হয়নি। তবে শিক্ষার সংস্কারে স্তরভিত্তিক দুটি পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়। উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে ঢেলে সাজিয়ে উচ্চশিক্ষা কমিশন গঠনের প্রক্রিয়াও চলছে। তবে এসব সংস্কার উদ্যোগের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত শুধু ব্যক্তিরই পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের পর কাঠামোগত পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি। গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তনের রূপরেখার জন্য সংস্কার কমিশনের প্রয়োজন ছিল।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী স্ট্রিমকে বলেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, শিক্ষাটা অগ্রাধিকারের জায়গা থেকে দূরে সরে গেছে। অথচ সংস্কারের ভিত হচ্ছে শিক্ষা। এতগুলো সংস্কার কমিশন হলো, কিন্তু সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য তো শিক্ষিত জনগোষ্ঠী দরকার।
২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মানোন্নয়নে পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদকে এ কমিটির প্রধান করা হয়। গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি এ কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
কমিটি প্রাথমিক শিক্ষার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কিছু সুপারিশ দিয়েছে। এতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন দেওয়াসহ একটি স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। সহকারী শিক্ষকদের বেতনগ্রেড উন্নীত করা ও প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির কথাও বলা হয়েছে। এসব সুপারিশের বাস্তবায়ন নেই। বরং এসব দাবিতেই কিছুদিন আগে পাঠদান বন্ধ রেখে আন্দোলন করলেন প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকেরা।
এ কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করে প্রাথমিকে বৃত্তি পরীক্ষা আবারও ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।
রাশেদা কে চৌধূরী বলছেন, প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বৈষম্যমূলক। এটি শিক্ষার্থীদের কাজে লাগে না। যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ফলে অন্তর্বর্তী সরকার এল, সেই সরকার এসে আবার কোটা পদ্ধতি চালু করল। এর মাধ্যমে কোচিং সেন্টার ও বিশেষ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা লাভবান হবে।
প্রাথমিকের কনসালটেশন কমিটির সদস্য ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহবুব মোর্শেদ। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, আমাদের তিনটি লেভেলের সুপারিশ ছিল। মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী সুপারিশ বাস্তবায়ন করাটা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। আশু সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ এই সরকার নেবে বলে ধরেছিলাম, যা পরবর্তী সরকার কন্টিনিউ করবে। প্রাথমিকের শিক্ষকদের স্বল্পমেয়াদে গ্রেডের উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। শুনেছি সরকারি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংস্কার কমিশন হলে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার প্রত্যাশিত পরিবর্তনের রূপরেখা পাওয়া যেত। কমিশন হওয়ার চেয়ে সুপারিশ বাস্তবায়ন করাটা জরুরি বলেও মনে করেন তিনি।
প্রাথমিকের পর মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য কনসালটেশন কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত বছরের ২১ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক অফিস আদেশে এ কমিটি গঠন করে। এ কমিটিরও প্রধান অধ্যাপক মনজুর আহমেদ।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান, ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিখন-শেখানো কার্যক্রমে উৎকর্ষ সাধনে প্রয়োজনীয় সংস্কারের চাহিদা নিরূপণ হলো এ কমিটির মূল কাজ।
কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্ট্রিমকে জানান, সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ইতিমধ্যে কর্মশালা হয়েছে। আলাপ-আলোচনা চলছে। শিগগিরই কমিটির সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগ পাওয়া স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষরা একে একে পদত্যাগ করতে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এসব পদে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রথম পাঁচ মাসে অন্তত ৪০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দেয় সরকার। এসব পদে আওয়ামী লীগপন্থীদের সরিয়ে নতুন করে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ আছে।
প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ শেষে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দিতে সার্চ কমিটি গঠন করে সরকার। ২০২৫ সালের ১৮ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে পাঁচ সদস্যের ওই সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি হলেন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার। সদস্য হিসেবে আছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান ও মো. সাইদুর রহমান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সালেহ হাসান নকীব এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফেরদৌস আজিম।
সার্চ কমিটি উপাচার্য নিয়োগের জন্য যোগ্য ব্যক্তিদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ ও তা যাচাই-বাছাই করে তিনজনকে নির্বাচন করবে। এরপর ওই তিনজনের একজনকে মনোনয়নের জন্য রাষ্ট্রপতি ও আচার্যের অনুমোদন চেয়ে সরকারের কাছে সুপারিশও পাঠাবে এই কমিটি। উপাচার্য ছাড়াও সার্চ কমিটি উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষেত্রেও একই দায়িত্ব পালন করবে।
সার্চ কমিটি গঠনের পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এবং বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য ৯৫ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কমেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ। আগের অর্থবছরের ৩৮ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৩৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে মন্ত্রণালয়টি।
জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কোর সুপারিশ হলো জিডিপির অন্তত ৪-৬ শতাংশ এবং জাতীয় বাজেটের ১৫-২০ শতাংশ শিক্ষায় বরাদ্দ দেওয়া।
তবে, এ বছর শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মোট বাজেটের ১২ দশমিক ১ শতাংশ, যা আগের বাজেটের চেয়ে শূন্য দশমিক ২৩ শতাংশ বেশি। শিক্ষায় বরাদ্দ জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ৭২ শতাংশ।
এসব বিষয়ে রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, এগুলো হতো না যদি যথাযথ সংস্কার কমিশন হতো। সরকার এখন সবকিছু অ্যাডহক বেসিসে করা হচ্ছে। ফলে শিক্ষা খাতে জগাখিচুড়ি অবস্থা। এভাবে জাতি গড়া যায় না। তার ফলাফল আমরা দেখতে পাচ্ছি। শিক্ষার্থীরা কিছুই শিখছে না। শিল্প-বাণিজ্য বা রাজনীতিতে যত সক্ষমতাই হোক, শিক্ষা ছাড়া আমরা হোঁচট খাব।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংস্কারের সুযোগ এসেছিল। কিন্তু সদ্ব্যবহার করতে পারলাম না। ঠিকভাবে সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হলে শিক্ষকদেরও আন্দোলনে নামতে হতো না।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বদলে ‘উচ্চশিক্ষা কমিশন’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ অধ্যাদেশের খসড়াও প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
খসড়া অধ্যাদেশ অনুযায়ী বর্তমান ইউজিসির চেয়ে শক্তিশালী হবে উচ্চশিক্ষা কমিশন। কমিশন সদস্যদের পদমর্যাদা বাড়ানোর পাশাপাশি কমিশনের কাজের পরিধিও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে অধ্যাদেশে।
জানতে চাইলে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ইউজিসি বর্তমানে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে। আশা করছি, উচ্চশিক্ষা কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা পাবে। আবার ইউজিসির ফাইন্যান্সিয়াল অটোনমি নেই। ইউজিসি সদস্য, চেয়ারম্যান ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে যাতে স্টেকহোল্ডাররা পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে কথা বলেন, সেই কর্মপরিবেশ থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষা খাতের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে রদবদল আনা হয়। অন্যান্য খাতের মতো শিক্ষায় সংস্কার কমিশন করা হয়নি। তবে শিক্ষার সংস্কারে স্তরভিত্তিক দুটি পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়। উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে ঢেলে সাজিয়ে উচ্চশিক্ষা কমিশন গঠনের প্রক্রিয়াও চলছে। তবে এসব সংস্কার উদ্যোগের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত শুধু ব্যক্তিরই পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের পর কাঠামোগত পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি। গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তনের রূপরেখার জন্য সংস্কার কমিশনের প্রয়োজন ছিল।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী স্ট্রিমকে বলেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, শিক্ষাটা অগ্রাধিকারের জায়গা থেকে দূরে সরে গেছে। অথচ সংস্কারের ভিত হচ্ছে শিক্ষা। এতগুলো সংস্কার কমিশন হলো, কিন্তু সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য তো শিক্ষিত জনগোষ্ঠী দরকার।
২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মানোন্নয়নে পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদকে এ কমিটির প্রধান করা হয়। গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি এ কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
কমিটি প্রাথমিক শিক্ষার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কিছু সুপারিশ দিয়েছে। এতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন দেওয়াসহ একটি স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। সহকারী শিক্ষকদের বেতনগ্রেড উন্নীত করা ও প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির কথাও বলা হয়েছে। এসব সুপারিশের বাস্তবায়ন নেই। বরং এসব দাবিতেই কিছুদিন আগে পাঠদান বন্ধ রেখে আন্দোলন করলেন প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকেরা।
এ কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করে প্রাথমিকে বৃত্তি পরীক্ষা আবারও ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।
রাশেদা কে চৌধূরী বলছেন, প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বৈষম্যমূলক। এটি শিক্ষার্থীদের কাজে লাগে না। যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ফলে অন্তর্বর্তী সরকার এল, সেই সরকার এসে আবার কোটা পদ্ধতি চালু করল। এর মাধ্যমে কোচিং সেন্টার ও বিশেষ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা লাভবান হবে।
প্রাথমিকের কনসালটেশন কমিটির সদস্য ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহবুব মোর্শেদ। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, আমাদের তিনটি লেভেলের সুপারিশ ছিল। মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী সুপারিশ বাস্তবায়ন করাটা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। আশু সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ এই সরকার নেবে বলে ধরেছিলাম, যা পরবর্তী সরকার কন্টিনিউ করবে। প্রাথমিকের শিক্ষকদের স্বল্পমেয়াদে গ্রেডের উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। শুনেছি সরকারি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংস্কার কমিশন হলে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার প্রত্যাশিত পরিবর্তনের রূপরেখা পাওয়া যেত। কমিশন হওয়ার চেয়ে সুপারিশ বাস্তবায়ন করাটা জরুরি বলেও মনে করেন তিনি।
প্রাথমিকের পর মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য কনসালটেশন কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত বছরের ২১ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক অফিস আদেশে এ কমিটি গঠন করে। এ কমিটিরও প্রধান অধ্যাপক মনজুর আহমেদ।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান, ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিখন-শেখানো কার্যক্রমে উৎকর্ষ সাধনে প্রয়োজনীয় সংস্কারের চাহিদা নিরূপণ হলো এ কমিটির মূল কাজ।
কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্ট্রিমকে জানান, সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ইতিমধ্যে কর্মশালা হয়েছে। আলাপ-আলোচনা চলছে। শিগগিরই কমিটির সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগ পাওয়া স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষরা একে একে পদত্যাগ করতে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এসব পদে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রথম পাঁচ মাসে অন্তত ৪০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দেয় সরকার। এসব পদে আওয়ামী লীগপন্থীদের সরিয়ে নতুন করে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ আছে।
প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ শেষে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দিতে সার্চ কমিটি গঠন করে সরকার। ২০২৫ সালের ১৮ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে পাঁচ সদস্যের ওই সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি হলেন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার। সদস্য হিসেবে আছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান ও মো. সাইদুর রহমান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সালেহ হাসান নকীব এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফেরদৌস আজিম।
সার্চ কমিটি উপাচার্য নিয়োগের জন্য যোগ্য ব্যক্তিদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ ও তা যাচাই-বাছাই করে তিনজনকে নির্বাচন করবে। এরপর ওই তিনজনের একজনকে মনোনয়নের জন্য রাষ্ট্রপতি ও আচার্যের অনুমোদন চেয়ে সরকারের কাছে সুপারিশও পাঠাবে এই কমিটি। উপাচার্য ছাড়াও সার্চ কমিটি উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষেত্রেও একই দায়িত্ব পালন করবে।
সার্চ কমিটি গঠনের পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এবং বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য ৯৫ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কমেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ। আগের অর্থবছরের ৩৮ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৩৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে মন্ত্রণালয়টি।
জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কোর সুপারিশ হলো জিডিপির অন্তত ৪-৬ শতাংশ এবং জাতীয় বাজেটের ১৫-২০ শতাংশ শিক্ষায় বরাদ্দ দেওয়া।
তবে, এ বছর শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মোট বাজেটের ১২ দশমিক ১ শতাংশ, যা আগের বাজেটের চেয়ে শূন্য দশমিক ২৩ শতাংশ বেশি। শিক্ষায় বরাদ্দ জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ৭২ শতাংশ।
এসব বিষয়ে রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, এগুলো হতো না যদি যথাযথ সংস্কার কমিশন হতো। সরকার এখন সবকিছু অ্যাডহক বেসিসে করা হচ্ছে। ফলে শিক্ষা খাতে জগাখিচুড়ি অবস্থা। এভাবে জাতি গড়া যায় না। তার ফলাফল আমরা দেখতে পাচ্ছি। শিক্ষার্থীরা কিছুই শিখছে না। শিল্প-বাণিজ্য বা রাজনীতিতে যত সক্ষমতাই হোক, শিক্ষা ছাড়া আমরা হোঁচট খাব।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংস্কারের সুযোগ এসেছিল। কিন্তু সদ্ব্যবহার করতে পারলাম না। ঠিকভাবে সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হলে শিক্ষকদেরও আন্দোলনে নামতে হতো না।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বদলে ‘উচ্চশিক্ষা কমিশন’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ অধ্যাদেশের খসড়াও প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
খসড়া অধ্যাদেশ অনুযায়ী বর্তমান ইউজিসির চেয়ে শক্তিশালী হবে উচ্চশিক্ষা কমিশন। কমিশন সদস্যদের পদমর্যাদা বাড়ানোর পাশাপাশি কমিশনের কাজের পরিধিও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে অধ্যাদেশে।
জানতে চাইলে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ইউজিসি বর্তমানে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে। আশা করছি, উচ্চশিক্ষা কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা পাবে। আবার ইউজিসির ফাইন্যান্সিয়াল অটোনমি নেই। ইউজিসি সদস্য, চেয়ারম্যান ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে যাতে স্টেকহোল্ডাররা পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে কথা বলেন, সেই কর্মপরিবেশ থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক আদর্শ থাকলেও রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তা কোনো প্রভাব ফেলবে না।
৭ ঘণ্টা আগে
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে আলোচনার জন্য বিরোধীদলীয় নেতার দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে আগামী মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুই ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা হবে। তবে এর আগে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা নিয়ে সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে অনির্ধারিত বিতর্ক হয়েছে।
৭ ঘণ্টা আগে
ইন্দোবাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস সংগ্রাম পরিষদের টানা দুই দিনের সর্বাত্মক কর্মবিরতির মুখে নতি স্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ। আন্দোলনের মুখে চারজন শ্রমিকের ছাঁটাই আদেশ প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবি মেনে নিয়েছে মালিকপক্ষ।
৮ ঘণ্টা আগে
লিবিয়ায় বন্দিশালায় (গেমঘর) দালালের নির্যাতনে মাদারীপুরের দুই যুবক নিহত হয়েছেন। সপ্তাহখানেক আগে মৃত্যু হলেও তা পরিবারের কাছে গোপন রাখা হয়।
৮ ঘণ্টা আগে