দশম গ্রেড বাস্তবায়নসহ ৩ দাবি

তিন দাবিতে শনিবার আন্দোলনে নামছেন প্রাথমিকের শিক্ষকেরা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২৫, ১৭: ৩৭
প্রাথমিকের শিক্ষকদের চারটি সংগঠন এ কর্মসূচিতে থাকবে। স্ট্রিম গ্রাফিক

এবার দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা আন্দোলনে নামছেন। প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকের চাকরি দশম গ্রেডে উন্নীত করাসহ তিন দাবিতে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালনের কথা জানিয়েছেন তাঁরা।

আগামীকাল শনিবার (৮ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ কর্মসূচি শুরু করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রাথমিকের শিক্ষকদের চারটি সংগঠন এ কর্মসূচিতে থাকবে। তাঁরা ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ ব্যানারে কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। সংগঠন চারটি হলো বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (শাহিন-লিপি), বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (কাশেম-শাহিন), বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি এবং সহকারী শিক্ষক দশম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ।

দশম গ্রেডসহ তাঁদের বাকি দাবি দুটি হলো—চাকরির ১০ ও ১৬ বছরে উচ্চতর গ্রেড পাওয়া নিয়ে জটিলতা নিরসন এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা।

এসব দাবি জানিয়ে গত ৩০ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশ করেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে আশ্বাস দেওয়া হলে তাঁরা ঘরে ফিরে যান।

দেশে বর্তমানে ৬৫ হাজার ৫৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন ৩ লাখ ৮৪ হাজার শিক্ষক। চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এক আদেশে ১১তম গ্রেডে বেতন পাওয়া প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে এবং ১৩তম গ্রেডে বেতন পাওয়া শিক্ষকদের বেতন ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার কথা জানায়। যদিও তাতে সন্তুষ্ট নন সহকারী শিক্ষকেরা।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (শাহিন-লিপি) সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি বলেন, দশম গ্রেডে বেতন, উচ্চতর গ্রেড ও পদোন্নতির অধিকার আদায়ে আমরা আগামীকাল (শনিবার) শহীদ মিনারে অবস্থান নেব। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলবে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, নানা অজুহাতে সরকার আমাদের দাবি পূরণে বিলম্ব করছে। সে কারণে আন্দোলনে নামা ছাড়া বিকল্প দেখছি না।

আগে থেকেই আন্দোলনে তিন পক্ষ

প্রাথমিকের শিক্ষকেরা আগামীকাল (শনিবার) অবস্থান কর্মসূচি শুরু করলেও আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষকেরা পৃথক দাবিতে আন্দোলন করছেন। অন্যদিকে, গত মাসেই আন্দোলন করে ঘরে ফিরেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা।

টানা ১০ দিন অবস্থান কর্মসূচিসহ আট দিনের কর্মবিরতির পর গত ২২ অক্টোবর ক্লাসে ফেরেন দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়াসহ তিন দাবিতে রাজধানীতে জড়ো হয়ে আন্দোলন করছিলেন তাঁরা। অবশেষে সরকার ১৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া দেওয়ার ঘোষণা দিলে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের আন্দোলন শুরু হওয়ার পরদিন থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকেরা। তাঁদের দাবি হলো অনুদানবিহীন সকল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার জাতীয়করণ। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করে যাচ্ছেন ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকেরা।

অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক-কর্মচারীরা এমপিওভুক্তির দাবি তুলেছেন। এ দাবিতে গত ২৬ অক্টোবর থেকে প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী।

এছাড়া গত ২ নভেম্বর প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা। তাঁরা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির দাবি করছেন।

সম্পর্কিত