ইয়েমেনে সৌদি জোটের বিমান হামলায় নিহত ৭

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

ইয়েমেনের কোন অংশ কার নিয়ন্ত্রণে। ছবি: আল-জাজিরা

ইয়েমেনের হাদরামাউত প্রদেশে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও আমিরাত সমর্থিত এসটিসির মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। সৌদি সীমান্তের কাছে সরকারি বাহিনী ও ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) মধ্যে এই লড়াই চলছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত ও ২০ জনের বেশি আহত হয়েছে বলে এসটিসি দাবি করেছে।

এসটিসি জানিয়েছে, শুক্রবার (২ জানুয়ারি) হাদরামাউতের আল-খাশা সামরিক ঘাঁটিতে সৌদি জোটের বিমান হামলার শিকার হয় তারা। এসটিসির সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আল-নাকিব এই লড়াইকে তাঁদের জন্য ‘অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সৌদি জোট আল-কায়েদার মতো চরমপন্থীদের ব্যবহার করছে।

এদিকে, হাদরামাউতের গভর্নর সালেম আল-খানবাশি দাবি করেছেন, সরকারি বাহিনী এসটিসির কাছ থেকে আল-খাশা ঘাঁটিটি পুনরুদ্ধার করেছে। ইয়েমেন টিভি জানিয়েছে, এটি ওই প্রদেশের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি। সরকারি বাহিনী হাদরামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশ পুনর্দখলের লক্ষ্যে ‘সিস্টেমেটিক’ অভিযান চালাচ্ছে।

ইয়েমেনের সাংবাদিক ইউসুফ মাওরি আল জাজিরাকে জানান, এডেন বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ও সৌদি আরবের বিরুদ্ধে আকাশ অবরোধের অভিযোগ এনেছে এসটিসি।

বিশ্লেষক ইব্রাহিম জালাল বলেন, আমিরাতের পিছু হটা এসটিসির আকাশ সুরক্ষাকে দুর্বল করে দিয়েছে। ফলে সরকারি বাহিনীর পক্ষে হারানো এলাকা পুনরুদ্ধার করা এখন সময়ের ব্যাপারমাত্র।

বিশ্লেষক আলী হাশেম জানান, গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক সমীকরণ বদলে গেছে। সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যে পুরোনো মতবিরোধ এখন প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে।

ইয়েমেন সরকার এসটিসির পদক্ষেপকে ‘আত্মঘাতী’ আখ্যা দিয়েছে। অন্যদিকে এসটিসি মুখপাত্র আনোয়ার আল-তামিমি বলেছেন, এই হামলা প্রমাণ করে যে প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল ও আরব জোটের কার্যকারিতা শেষ হয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে গঠিত এসটিসি দক্ষিণ ইয়েমেনের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছে। আমিরাতের সমর্থনপুষ্ট এই গোষ্ঠী সম্প্রতি হাদরামাউত ও আল-মাহরার বিশাল অংশ দখল করে নিয়েছিল।

সূত্র: আল-জাজিরা

সম্পর্কিত