ইরানে হামলার ‘প্রস্তুতি চূড়ান্ত’, অপেক্ষা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১: ২৭
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইরানকে প্রতিনিয়ত কোনঠাসা করার চেষ্টা করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্ট্রিম গ্রাফিক

কূটনৈতিক আলোচনায় দ্বন্দ্ব মেটানোর কথা বলা হলেও ইরানে হামলা চালাতে সামরিক প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন ও সিবিএস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের সদরদপ্তর পেন্টাগন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানিয়েছে, তারা আগামী শনি অথবা রোববার ইরানে হামলা চালাতে পুরোপুরি প্রস্তুত।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার সব প্রস্তুতি শেষ হলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত নির্দেশ দেননি। তবে হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অনেক যুক্তি ও কারণ থাকলেও, কূটনীতিই সব সময় আমাদের প্রথম পছন্দ।’ ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে চুক্তি করাই ইরানের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে সতর্কও করেন তিনি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে তাদের উপস্থিতি দ্রুত বাড়াচ্ছে। উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, প্রায় ৮০টি যুদ্ধবিমানসহ বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ রোববার ইরানি উপকূল থেকে মাত্র ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। এ ছাড়া দ্বিতীয় রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডও এই অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

সিবিএস জানিয়েছে, ইরান পাল্টা হামলা চালালে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় পেন্টাগন ইতোমধ্যেই কাতার ও কুয়েতের ঘাঁটিগুলো থেকে কিছু মার্কিন সেনাকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

এদিকে মার্কিন হুমকির জবাবে ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামি বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘কোনো দেশই ইরানকে তার শান্তিপূর্ণ পরমাণু সমৃদ্ধকরণের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।’ তিনি দাবি করেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নিয়ম মেনেই চলছে এবং পরমাণু জ্বালানি উৎপাদন তাদের অবিচ্ছেদ্য অধিকার।

এর আগে মঙ্গলবার জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হলেও হোয়াইট হাউস জানায়, দু’পক্ষের অবস্থানে এখনও ‘বিশাল ব্যবধান’ রয়ে গেছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েল সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করবেন বলেও জানা গেছে।

গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে ট্রাম্প দাবি করেন। তবে গোয়েন্দা তথ্য বলছে, ক্ষতির পরিমাণ সামান্য এবং ইরান আবারও তাদের কার্যক্রম জোরদার করেছে। এ ছাড়া ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবস্থার ওপর চোখ পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের। ইরানের পরমাণু কর্মসূচির পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার আধুনিকায়নও বন্ধ করতে চায় দেশ দুটি।

সম্পর্কিত