স্ট্রিম ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী অভিযান চালিয়ে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনার দুই মাস না পেরোতে ভেনেজুয়েলার পরিবেশ যেন আমূল বদলে গেছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদুরোর অনুপস্থিতিতে সাবেক ডেপুটি ডেলসি রদ্রিগেজ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। তিনি কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতিতে পরিবর্তন আনেন। ফলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় কাটতে শুরু করেছে। জনগণের মধ্যে নতুন এক আশা ও উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
২০১৬ সালে কারাকাসে বসবাস শুরু করেন সাংবাদিক স্টেফানো পোজ্জেবন। তিনি গত এক দশকে দেশটির উত্থান-পতনের অসংখ্য অধ্যায় দেখেছেন। ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে লাখো মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে, সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে মানুষ। টিয়ার গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেটে সেসব দমন দেখেছেন। সবকিছুর পরও ক্ষমতার শীর্ষে ছিলেন মাদুরো।
প্রতি বছর নির্বাচন হলেও বাস্তবে খুব পরিবর্তন আসেনি। অর্থনীতি টালমাটাল অবস্থায় থেকেছে। অতি-মুদ্রাস্ফীতি ঠেকাতে মুদ্রা থেকে শূন্য বাদ দেওয়া হয়েছে, এমনকি ‘পেত্রো’ নামে ক্রিপ্টোকারেন্সিও চালু হয়েছিল। তবু সংকট কমেনি।
গত ৩ জানুয়ারি পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। মার্কিন বাহিনীর অভিযানে মাদুরোকে তাঁর প্রাসাদ থেকে তুলে নেওয়া হয় নিউইয়র্কে। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে বিচার চলছে। মাদুরোকে তুলে নেওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কারাকাস সফর করেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট। ১৯৯৭ সালের পর দেশটির এত উচ্চপর্যায়ের কেউ ভেনেজুয়েলা সফর করেননি।
শেভরন পরিচালিত একটি তেলক্ষেত্র পরিদর্শনে রদ্রিগেজ ও ক্রিস রাইটের একসঙ্গে উপস্থিতি ছিল দুদেশের দীর্ঘ বৈরিতার পর নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত। নতুন প্রশাসন পশ্চিমা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে। সম্প্রতি একাধিক ট্যাঙ্কার ভেনেজুয়েলার বন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ও লুইজিয়ানা অভিমুখে রওনা দিয়েছে।
হোয়াইট হাউসের তথ্যে, যুক্তরাষ্ট্র শত শত মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিক্রির মধ্যস্থতা করছে, যার প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারেও পড়ছে। স্থানীয়ভাবে মূল্যস্ফীতিও কিছুটা কমেছে বলে অনেকে মনে করছেন। তবে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। শেভরনের তেলক্ষেত্র বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৪০ হাজার ব্যারেল উৎপাদন করছে যদিও তাদের সক্ষমতা কয়েক গুণ বেশি।
অন্যদিকে, কারাকাসসহ বিভিন্ন শহরে ছাত্রদের একাংশ রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এখনো শত শত মানুষ কারাবন্দি। তরুণ রাজনীতিক সুয়ারেজ বলছেন, এটাই সময় রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের।
বিরোধী নেতারাও আগের চেয়ে সরব। কারাবন্দি থেকে মুক্তির পরপরই আবার গৃহবন্দি হওয়া নেতাদের ঘটনা দেখিয়েছে পরিবর্তন এলেও পুরোনো কাঠামো পুরোপুরি ভাঙেনি। বিরোধী দলের শীর্ষ নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো মনে করেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পর আন্তর্জাতিক চাপ ভেনেজুয়েলার গণতান্ত্রিক রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করতে পারে। তবে তিনি দেশে ফিরতে পারবেন কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
কূটনীতিকরা বলছেন, মাদুরোবিহীন ভেনেজুয়েলা ছোট ছোট পদক্ষেপে এগোচ্ছে। যেমন তাড়াহুড়ো নেই, তেমনি স্থবিরতা ঠেকাতে তৎপর প্রশাসন। বিদেশি হস্তক্ষেপ নিয়ে আশঙ্কা থাকলেও এখন পর্যন্ত বড় রক্তক্ষয় ঘটেনি। ক্ষমতার ভরে সেনাবাহিনী না আসায় কিছুটা শঙ্কামুক্ত দেশ।
তবে মাদুরোর একযুগের শাসনের ছাপ এখনো স্পষ্ট। দেশের অর্থনীতি এখনো ভঙ্গুর। দীর্ঘ অচলাবস্থার পর যে মানসিক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, তা অস্বীকার করা কঠিন। কারাকাসের বাসিন্দাদের অনেকেই ভাবতে শুরু করেছেন– গতকালের চেয়ে আজ ভালো, আগামীকাল হয়তো আরও ভালো হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী অভিযান চালিয়ে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনার দুই মাস না পেরোতে ভেনেজুয়েলার পরিবেশ যেন আমূল বদলে গেছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদুরোর অনুপস্থিতিতে সাবেক ডেপুটি ডেলসি রদ্রিগেজ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। তিনি কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতিতে পরিবর্তন আনেন। ফলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় কাটতে শুরু করেছে। জনগণের মধ্যে নতুন এক আশা ও উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
২০১৬ সালে কারাকাসে বসবাস শুরু করেন সাংবাদিক স্টেফানো পোজ্জেবন। তিনি গত এক দশকে দেশটির উত্থান-পতনের অসংখ্য অধ্যায় দেখেছেন। ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে লাখো মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে, সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে মানুষ। টিয়ার গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেটে সেসব দমন দেখেছেন। সবকিছুর পরও ক্ষমতার শীর্ষে ছিলেন মাদুরো।
প্রতি বছর নির্বাচন হলেও বাস্তবে খুব পরিবর্তন আসেনি। অর্থনীতি টালমাটাল অবস্থায় থেকেছে। অতি-মুদ্রাস্ফীতি ঠেকাতে মুদ্রা থেকে শূন্য বাদ দেওয়া হয়েছে, এমনকি ‘পেত্রো’ নামে ক্রিপ্টোকারেন্সিও চালু হয়েছিল। তবু সংকট কমেনি।
গত ৩ জানুয়ারি পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। মার্কিন বাহিনীর অভিযানে মাদুরোকে তাঁর প্রাসাদ থেকে তুলে নেওয়া হয় নিউইয়র্কে। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে বিচার চলছে। মাদুরোকে তুলে নেওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কারাকাস সফর করেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট। ১৯৯৭ সালের পর দেশটির এত উচ্চপর্যায়ের কেউ ভেনেজুয়েলা সফর করেননি।
শেভরন পরিচালিত একটি তেলক্ষেত্র পরিদর্শনে রদ্রিগেজ ও ক্রিস রাইটের একসঙ্গে উপস্থিতি ছিল দুদেশের দীর্ঘ বৈরিতার পর নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত। নতুন প্রশাসন পশ্চিমা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে। সম্প্রতি একাধিক ট্যাঙ্কার ভেনেজুয়েলার বন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ও লুইজিয়ানা অভিমুখে রওনা দিয়েছে।
হোয়াইট হাউসের তথ্যে, যুক্তরাষ্ট্র শত শত মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিক্রির মধ্যস্থতা করছে, যার প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারেও পড়ছে। স্থানীয়ভাবে মূল্যস্ফীতিও কিছুটা কমেছে বলে অনেকে মনে করছেন। তবে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। শেভরনের তেলক্ষেত্র বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৪০ হাজার ব্যারেল উৎপাদন করছে যদিও তাদের সক্ষমতা কয়েক গুণ বেশি।
অন্যদিকে, কারাকাসসহ বিভিন্ন শহরে ছাত্রদের একাংশ রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এখনো শত শত মানুষ কারাবন্দি। তরুণ রাজনীতিক সুয়ারেজ বলছেন, এটাই সময় রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের।
বিরোধী নেতারাও আগের চেয়ে সরব। কারাবন্দি থেকে মুক্তির পরপরই আবার গৃহবন্দি হওয়া নেতাদের ঘটনা দেখিয়েছে পরিবর্তন এলেও পুরোনো কাঠামো পুরোপুরি ভাঙেনি। বিরোধী দলের শীর্ষ নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো মনে করেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পর আন্তর্জাতিক চাপ ভেনেজুয়েলার গণতান্ত্রিক রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করতে পারে। তবে তিনি দেশে ফিরতে পারবেন কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
কূটনীতিকরা বলছেন, মাদুরোবিহীন ভেনেজুয়েলা ছোট ছোট পদক্ষেপে এগোচ্ছে। যেমন তাড়াহুড়ো নেই, তেমনি স্থবিরতা ঠেকাতে তৎপর প্রশাসন। বিদেশি হস্তক্ষেপ নিয়ে আশঙ্কা থাকলেও এখন পর্যন্ত বড় রক্তক্ষয় ঘটেনি। ক্ষমতার ভরে সেনাবাহিনী না আসায় কিছুটা শঙ্কামুক্ত দেশ।
তবে মাদুরোর একযুগের শাসনের ছাপ এখনো স্পষ্ট। দেশের অর্থনীতি এখনো ভঙ্গুর। দীর্ঘ অচলাবস্থার পর যে মানসিক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, তা অস্বীকার করা কঠিন। কারাকাসের বাসিন্দাদের অনেকেই ভাবতে শুরু করেছেন– গতকালের চেয়ে আজ ভালো, আগামীকাল হয়তো আরও ভালো হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের জ্বালানি তেলের নিয়ন্ত্রণ নিতে চান। সেই সঙ্গে দেশটির খার্গ দ্বীপেও কর্তৃত্ব চান। রোববার (২৯ মার্চ) ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন তিনি। খবর বিবিসির।
১০ মিনিট আগে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ‘দ্রুত ও স্থায়ী’ সমাধান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে চার শক্তিধর রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র
১০ ঘণ্টা আগে
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২৫০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত হয়েছেন। এই সময়ে দেশটির অন্তত ৬০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
১২ ঘণ্টা আগে
ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে একসময় পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিকভাবে একপ্রকার একঘরে করে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেই পাকিস্তান এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
১৪ ঘণ্টা আগে