leadT1ad

গরমে কেমন কাপড় ও রঙের পোশাক বেছে নিতে পারেন

সামনেই ভ্যাপসা গরম পড়বে। আর এই গরমে স্টাইল ও আরাম—এই দুইয়ের সমন্বয়ের জন্য ঢোলা বা অভারসাইজড পোশাক খুব ভালো অপশন। এখন আবার এই স্টাইলটাও বেশ ট্রেন্ডি হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৫: ২৯
অভারসাইজড পোশাকে ‘বডি পজিটিভিটি’? স্ট্রিম গ্রাফিক

ফ্যাশন কখনোই কোনো নিয়মে বাঁধা থাকে না। তাই আমাদের আলমারিতে নানা ধরনের পোশাক জমে যায়। তবে গ্রীষ্মকালের তীব্র গরম থেকে স্বস্তি পেতে শুধু ফ্যাশনের কথা ভাবলেই চলে না। পাশাপাশি আরামের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হয়। পোশাক স্বস্তিদায়ক হলে আপনার মেজাজ যেমন ঠিক থাকবে, তেমনি আপনার কাজেও মনোযোগ আসবে।

সামনেই ভ্যাপসা গরম পড়বে। আর এই গরমে স্টাইল ও আরাম—এই দুইয়ের সমন্বয়ের জন্য ঢোলা বা অভারসাইজড পোশাক খুব ভালো অপশন। এখন আবার এই স্টাইলটাও বেশ ট্রেন্ডি হয়ে উঠেছে।

Ad 300x250

অভারসাইজড পোশাকে ‘বডি পজিটিভিটি’?

Ad 300x250

গত কয়েক বছর ধরে ফ্যাশন দুনিয়ায় ‘অভারসাইজড’ বা ঢিলেঢালা পোশাকের জনপ্রিয়তা দেখা গেছে। এর পেছনে একটি বড় কারণ কোভিড-১৯ মহামারি। ফ্যাশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লকডাউনের সময় মানুষ মাসের পর মাস ঘরবন্দি ছিল। সে সময় ঘরে বসে কাজ করা বা ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ সংস্কৃতি মানুষের কর্মজীবনে বেশ বড় পরিবর্তন এনেছিল। তখন মানুষ পরার উপযোগী ঘরের পোশাক পরেই অফিসের কাজ করতে শুরু করে।

মৃত্যুপুরীতে পরিণত পৃথিবীতে টিকে থাকতে ফ্যাশনের চেয়ে সুস্থ থাকা আরও বেশি জরুরি হয়ে পড়ে। মহামারি শেষ হলেও এই অভ্যাস মানুষ আর ছাড়তে পারেনি। আরামদায়ক ঢিলেঢালা পোশাকই ধীরে ধীরে পরিণত হয় ফ্যাশনে।

শাড়িপ্রেমীরা এই গরমে বেছে নিতে পারেন টাঙ্গাইলের সুতি শাড়ি, কোটা, খাদি বা মসলিন। সংগৃহীত ছবি
শাড়িপ্রেমীরা এই গরমে বেছে নিতে পারেন টাঙ্গাইলের সুতি শাড়ি, কোটা, খাদি বা মসলিন। সংগৃহীত ছবি

গবেষনায় দেখা গেছে, অভারসাইজড পোশাকের সঙ্গে ‘বডি পজিটিভিটি’র মতো বিষয়ও জড়িত। বর্তমান প্রজন্ম পোশাকের ক্ষেত্রে ফিটিংয়ের সীমানা ভাঙতে চাইছে। নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই অভারসাইজড পোশাক তাই দারুণ ফ্যাশন হয়ে উঠেছে।

হলিউডের সিনেমা বা সিরিজেও এমন ট্রেন্ড স্পষ্ট। যেমন জনপ্রিয় সিরিজ ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এ আশির দশকের সেই ঢিলেঢালা শার্ট ও জ্যাকেটের ফ্যাশন নতুন প্রজন্মের কাছে দারুণ সাড়া ফেলেছে। এ ছাড়া পশ্চিমা পপ তারকা বিলি আইলিশের সিগনেচার স্টাইলই হলো অভারসাইজড পোশাক। মূলত বডি শেমিংয়ের প্রতিবাদ হিসেবে এ ধরনের পোশাক তিনি পরেন। কোরিয়ান ড্রামায় চরিত্রগুলোকে ফিটিং পোশাকের বদলে অভারসাইজড পোশাকে বেশি দেখা যায়।

এই গরমে মেয়েরা যে ধরণের পোশাক বেছে নিতে পারেন

ফ্যাশনের মূল শর্ত হওয়া উচিত আরাম। আবহাওয়া বুঝে পোশাক নির্বাচনই বুদ্ধিমানের কাজ। এই গরমে মেয়েরা কামিজ বা কুর্তির ক্ষেত্রে ‘এ-লাইন কাট’ বেছে নিতে পারেন। এতে শরীরে বাতাস চলাচলের সুযোগ বাড়ে। গতানুগতিক টাইট লেগিংস বা চুড়িদারের বদলে এখন পালাজো, ওয়াইড-লেগ প্যান্টস বেশ চলছে। এগুলো দেখতে যেমন স্টাইলিশ, পরতেও তেমনি আরাম।

আর যদি আপনি পশ্চিমা পোশাক পছন্দ করেন, তাহলে অভারসাইজড টি-শার্ট বা শার্ট পরতে পারেন। এর সঙ্গে জিন্সের বদলে সুতির ব্যাগি প্যান্ট দারুণ মানাবে। এ ছাড়া লং ম্যাক্সি ড্রেস বা ফ্লোরাল প্রিন্টের স্কার্টও গরমের জন্য চমৎকার।

অফিসে বা ফর্মাল কাজে যাওয়ার জন্য স্লিম-ফিট শার্টের বদলে রেগুলার ফিট বা কিছুটা ঢিলেঢালা লিনেন শার্ট পরতে পারেন। সংগৃহীত ছবি
অফিসে বা ফর্মাল কাজে যাওয়ার জন্য স্লিম-ফিট শার্টের বদলে রেগুলার ফিট বা কিছুটা ঢিলেঢালা লিনেন শার্ট পরতে পারেন। সংগৃহীত ছবি

শাড়িপ্রেমীরা এই গরমে বেছে নিতে পারেন টাঙ্গাইলের সুতি শাড়ি, কোটা, খাদি বা মসলিন। ভারী জামদানির বদলে হালকা কাজের সুতির শাড়ি কর্মজীবী নারীদের জন্য স্বস্তিদায়ক হতে পারে। গরমে খুব বেশি ভারী কাজের পোশাক এড়িয়ে চলাই ভালো।

ছেলেদের পোশাক

ছেলেদের গরমের ফ্যাশনেও এখন অভারসাইজড টি-শার্টের জয়জয়কার। ক্যাজুয়াল লুকের জন্য ঢিলেঢালা হাফহাতা টি-শার্ট আর সুতির প্যান্ট হতে পারে সেরা পছন্দ। অফিসে বা ফর্মাল কাজে যাওয়ার জন্য স্লিম-ফিট শার্টের বদলে রেগুলার ফিট বা কিছুটা ঢিলেঢালা লিনেন শার্ট পরতে পারেন। কলারলেস বা ম্যান্ডারিন কলারের শার্টও এখন বেশ ট্রেন্ডি।

প্যান্টের ক্ষেত্রে স্কিনি জিন্স একেবারেই বাদ দিতে পারেন। এর বদলে চিনোস বা স্ট্রেট-কাট প্যান্ট বেছে নিন। শুক্রবার বা ছুটির দিনে সুতির ঢিলেঢালা পাঞ্জাবি ও পায়জামা পরতে পারেন।

শিশুদের পোশাক

গরমের তীব্রতায় শিশুরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পায়। তাই তাদের পোশাক হতে হবে সবচেয়ে বেশি আরামদায়ক। শিশুদের জন্য এমন পোশাক কিনুন যা গায়ে পরানো ও খোলা সহজ। মেয়ে শিশুদের জন্য হাতাকাটা সুতির ফ্রক বা নিমা সবচেয়ে ভালো। ছেলে শিশুদের জন্য হাফপ্যান্ট ও পাতলা সুতির টি-শার্ট বেছে নিন।

মেয়ে শিশুদের জন্য হাতাকাটা সুতির ফ্রক বা নিমা সবচেয়ে ভালো। সংগৃহীত ছবি
মেয়ে শিশুদের জন্য হাতাকাটা সুতির ফ্রক বা নিমা সবচেয়ে ভালো। সংগৃহীত ছবি

শিশুদের পোশাকে কোনোভাবেই সিনথেটিক বা সিল্কের কাপড় ব্যবহার করবেন না। এতে ত্বকে র‍্যাশ বা ঘামাচি হতে পারে। পোশাকের ইলাস্টিক যেন খুব টাইট না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। বাইরে যাওয়ার সময় শিশুদের মাথায় সুতির টুপি বা হ্যাট পরিয়ে দিতে পারেন। এতে তারা সরাসরি রোদ থেকে রক্ষা পাবে।

কালো, গাঢ় নীল বা লাল রঙের পোশাক যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে পারেন

পোশাকের ডিজাইন যেমনই হোক, কাপড় আরামদায়ক না হলে গরমের সময় বেশ ঝামেলায় পড়তে হয়। এই সময়ে সুতি, লিনেন ও খাদি কাপড়ের কোনো বিকল্প নেই। সুতি কাপড় খুব সহজেই শরীরের ঘাম শুষে নেয়। লিনেন কাপড় শরীরে বাতাস চলাচলে দারুণ সাহায্য করে।

গরমে কোন রঙের পোশাক পরছেন—এই বিষয়টিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। গাঢ় রং তাপ বেশি শোষণ করে এবং হালকা রং তাপ প্রতিফলিত করে। তাই এই গরমে কালো, গাঢ় নীল বা লাল রঙের পোশাক যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত।

বরং বেছে নিন হালকা বা প্যাস্টেলজাতীয় রংগুলো। সাদা রঙের পোশাক গরমের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক। সাদার পাশাপাশি হালকা গোলাপি, পুদিনা সবুজ, হালকা নীল, ল্যাভেন্ডার বা হালকা হলুদ রঙের পোশাক পরতে পারেন। এই হালকা রংগুলো আপনার শরীরকে শীতল রাখতে সাহায্য করে।

leadT1ad

সম্পর্কিত

leadT1ad
leadT1ad